হোম / অসতর্কতায় থাবা বসাচ্ছে হেপাটাইটিস
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

অসতর্কতায় থাবা বসাচ্ছে হেপাটাইটিস

অনেক দিন ধরেই খাবারে অরুচি , ক্লান্তি আর গাঁটে ব্যথায় কাহিল ছিলেন তরুণ কাঞ্জিলাল৷ ওজনটাও কমে যাচ্ছিল৷ তিন জন ডাক্তার দেখিয়েও রোগ ধরা পড়েনি৷ শেষে ধরা যখন পড়ল , রোগটা তখন জাঁকিয়ে বসেছে শরীরে৷ রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেল , মাঝবয়সি ওই ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি -তে আক্রান্ত৷

অনেক দিন ধরেই খাবারে অরুচি , ক্লান্তি আর গাঁটে ব্যথায় কাহিল ছিলেন তরুণ কাঞ্জিলাল৷ ওজনটাও কমে যাচ্ছিল৷ তিন জন ডাক্তার দেখিয়েও রোগ ধরা পড়েনি৷ শেষে ধরা যখন পড়ল , রোগটা তখন জাঁকিয়ে বসেছে শরীরে৷ রক্ত পরীক্ষায় দেখা গেল , মাঝবয়সি ওই ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি -তে আক্রান্ত৷ বস্ত্তত , দীর্ঘ দিন ধরে যে তিনি বয়ে বেড়াচ্ছিলেন হেপাটাইটিস বি ভাইরাস , তা কেউ বোঝেনি৷ অর্থাত্, তিনি রোগটার বাহক ছিলেন অনেক আগে থেকেই৷ বছর পঁয়ত্রিশের নিখিল গিরির আবার কোনও উপসর্গই ছিল না৷ ফলে চিকিত্সকের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজনটাই হয়নি৷ যখন মাঝেমধ্যে গা -গুলোনোর সমস্যাটা নিয়মিত বমিতে বদলে গেল , পেটে আচমকা ব্যথা হতে শুরু করল , তখন ডাক্তার দেখালেন নিখিল৷ ততদিনে তিনি লিভার সিরোসিসের শিকার৷ রক্তপরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল , বহু আগে থেকেই হেপাটাইটিস সি ভাইরাস নীরবে কব্জা করে ফেলতে শুরু করেছিল তাঁর শরীরকে৷ কলেজপড়ুয়া অভিষেক রায় অবশ্য ভাগ্যবান৷ পরিচিত একজনকে রক্তদান করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন , তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে হেপাটাইটিস সি ভাইরাস৷ এবং নিঃশব্দে তা লিভারের ক্ষতি করে চলেছে৷ যদিও চিকিত্সক তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন , চিকিত্সায় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন অভিষেক৷ হেপাটাইটিস বি -র শিকার তরুণ কাঞ্জিলালকেও সুস্থ করে তোলার প্রতিশ্রীতি দিয়েছিলেন ডাক্তারবাবু৷ সঙ্গে অবশ্য এও জানিয়েছিলেন , ভাইরাসটাকে নির্মূল করা যাবে না বটে , কিন্ত্ত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁকে সুস্থ -স্বাভাবিক জীবন দেওয়া সম্ভব৷ তবে এর জন্য তরুণকে অন্তত পাঁচ -সাত বছর টানা চিকিত্সা করাতে হবে৷ রক্তবাহিত হেপাটাইটিস বি কিংবা সি ভাইরাসের কবলে পড়ে চিকিত্সকের দ্বারস্থ হওয়ার নজির কলকাতা ও শহরতলিতে ইদানীং বহুগুণে বেড়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা৷ এবং তাঁদের মতে , অসর্তকতার জেরেই এমন সঙ্কটে পড়ছেন রোগীরা৷ সচেতনতার অভাবে অসুরক্ষিত জীবনযাপনের পাশাপাশি ছোটখাটো সমস্যাকে আমল না -দেওয়ার মাসুল দিচ্ছেন তাঁরা৷ এ , বি , সি , ডি , ই ---পাঁচ রকমের হেপাটাইটিস ভাইরাসের মধ্যে এই দু’টি প্রজাতিই (বি , সি ) সবচেয়ে মারাত্মক ভাবে কাবু করে৷ এর মধ্যে জনসংখ্যার ৩ -৫ % বি -এর এবং সি -এর শিকার ১%৷ ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রাক্কালে চিকিত্সকরা জানাচ্ছেন , হেপাটাইটিস বি কিংবা সি -র ক্ষেত্রে লিভারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়৷ এবং সিংহভাগ ক্ষেত্রে তা হয় প্রায় অজান্তে , যা নিঃশব্দে লিভার সিরোসিস কিংবা লিভার ক্যান্সারের ডেকে আনে প্রায়শই৷ তাই এ রোগ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন রয়েছে আরও৷ বাইপাস লাগোয়া কর্পোরেট হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো -এন্টেরোলজিস্ট মহেশ গোয়েঙ্কার অভিজ্ঞতা , ‘রোগী বেড়েছে যেমন সত্যি , তেমন সচেতনতাও বেড়েছে , এটা মানতে হবে৷ আগে তো লোকে ডাক্তারের কাছেই আসতেন না৷ এখন তো তা -ও আসছেন৷ কয়েক বছর আগে যেখানে মাসে ১০ -১৫ জনের বেশি হেপাটাইটিস সি -এর রোগী পেতাম না , এখন সেখানে এই রোগ নিয়ে আমাদের ক্লিনিকে অন্তত ২৫ -৩০ জন রোগী আসেন মাসে৷ সি -এর মতো দ্বিগুণ বৃদ্ধি না -হলেও বি -এর রোগীর সংখ্যাও ঢের বেড়েছে আগের চেয়ে৷ ’ সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো -এন্টেরোলজিস্ট সুজিত চৌধুরীও একমত মহেশের সঙ্গে৷ তিনি জানান , উত্তর -পূর্ব ভারতে এই দুই রোগের প্রদুর্ভাব বরাবরই বেশি ছিল৷ এখন দেখা যাচ্ছে তা পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও ছড়াচ্ছে৷ ‘আজকাল প্রতি মাসে হেপাটাইটিস সি -র নতুন জনাপাঁচেক রোগী দেখতে হয়৷ তবে এখন যেহেতু খুব ভালো ওষুধ রয়েছে এবং তার দামওবেশি নয় , তাই ৮০ -৯০ % রোগীই খুব তাড়াতাড়ি সেরেউঠছেন ,’ অভিজ্ঞতা সুজিতের৷ কোন কোন অসতর্কতার মাসুল গুনছেন রোগীরা ? লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিত্ চৌধুরী জানান , হেপাটাইটিসবি কিংবা সি যেহেতু রক্তের মাধ্যমেই ছড়ায় , তাই রক্ত সঞ্চালন , চিকিত্সা কিংবা রক্ত পরীক্ষার সময়ে সিরিঞ্জের ব্যবহার , সেলুনেব্লেডের ব্যবহার , অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ এবং গর্ভাবস্থায় প্রসূতিরশরীরে এই রোগ রয়েছে কি না , সে সব সম্পর্কে সতর্ক থাকতেহবে৷ ‘যদিও যৌন সংসর্গের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি কিংবা সিসংক্রমণের হার বেশ কম , একেবারেই তা এইচআইভি -র মতোনয়৷ তবে গর্ভাবস্থায় প্রসূতির হেপাটাইটিস বি কিংবা সি -এরপরীক্ষা করা জরুরি৷ সে ক্ষেত্রে সদ্যোজাতের ব্যাপারে সতর্ক থাকাযায় ,’ মন্তব্য এসএসকেএমের হেপাটোলজি বিভাগের প্রধানচিকিত্সক অভিজিতের৷ পঞ্চসায়রের একটি বেসরকারি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো -এন্টেরোলজি ও লিভার রোগের প্রবীণ বিশেষজ্ঞ অশোকানন্দকোনার বলেন , ‘হেপাটাইটিস বি , সি ---দুটোরই প্রকোপ এখনপশ্চিমবঙ্গে যথেচ্ছ৷ কিন্ত্ত সি ভাইরাস যেহেতু একেবারেউপসর্গহীন ভাবে ক্ষতি করে চলে , তাই এই প্রজাতিটিকে নিয়েইচিন্তা বেশি৷ যদিও খুব দেরিতে ধরা না -পড়লে চিকিত্সায় পুরোসেরে যায় হেপাটাইটিস সি৷ উল্টো দিকে , হেপাটাইটিস বি -কেপুরো সারানো যায় না বটে , কিন্ত্ত ভাইরাল লোড নিয়ন্ত্রণ করেরোগীকে সুস্থ রাখা যায়৷ যদিও এ রোগ প্রতিষেধকের সাহায্যেষোলো আনা প্রতিরোধযোগ্য৷ ’ অভিজিত্ জানান , যতজনহেপাটাইটিস বি -এর জীবাণু বয়ে বেড়ান , তাঁদের মধ্যে ২০ % লোকেরই হেপাটাইটিস হয়৷ বাকিরা স্রেফ বাহক হয়েই থেকেযান৷ তবে তাঁদের থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে৷ তাই ছোট -বড়সকলকেই প্রতিষেধক নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি৷ মাসুল গুনছে মহানগর৷

সু্ত্র :এই সময়

Back to top