হোম / কম বৃষ্টিতে মার খাবে খরিফ চাষ
ভাগ করে নিন

কম বৃষ্টিতে মার খাবে খরিফ চাষ

এ বছর সারা দেশে ভালো বৃষ্টির পূর্বাভাস এপ্রিলে দিয়েছিল মৌসম ভবন৷ সারা দেশে পর্যান্ত বৃষ্টি হলেও , কোনও কোনও এলাকায় কম বৃষ্টির আশঙ্কার কথা অবশ্য শুনিয়েছিল সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট আউটলুক ফোরাম (এসএসিওএফ )৷

এ বছর সারা দেশে ভালো বৃষ্টির পূর্বাভাস এপ্রিলে দিয়েছিল মৌসম ভবন৷ সারা দেশে পর্যান্ত বৃষ্টি হলেও , কোনও কোনও এলাকায় কম বৃষ্টির আশঙ্কার কথা অবশ্য শুনিয়েছিল সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট আউটলুক ফোরাম (এসএসিওএফ )৷ বুধবার একই আশঙ্কার কথাই শোনা গেল আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে কাজ করা একটি বেসরকারি সংস্থার তরফেও৷ যার নিট ফল , এই বর্ষায় রাজ্যে চাষের পক্ষে সুসংবাদ শোনাতে পারল না কেউই৷

গত বছরও প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় ভুগেছে এ রাজ্য৷ জুলাইয়ের শেষ থেকে অগস্টের প্রথম দিকের মধ্যে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যে , তাতে ১২ জেলাকে বন্যা কবলিত বলে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছিল রাজ্য সরকার৷ কিন্ত্ত মাস দুয়েক কাটতেই অনাবৃষ্টির ফলে রাজ্যে , বিশেষত পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিকে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ এ বারও আবহাওয়া নিয়ে যে পূর্বাভাস এখনও পর্যন্ত মিলছে , তাতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে৷ এদিন বেসরকারি কোম্পানির পক্ষে ক্লাইমেট সায়েন্টিস্ট কান্তি প্রসাদ জানান , এ বার পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ বৃষ্টি হবে তার বেশির ভাগটাই হওয়ার কথা জুন এবং জুলাই মাসেই৷ সেই তুলনায় অগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে এই এলাকায় তুলনায় অনেক কম বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে৷

এই পূর্বাভাস যদি মিলে যায় , তবে এই মরসুমে চাষের ক্ষেত্রে বিপদ রয়েছে এ রাজ্যের৷ কারণ , জুন -জুলাইয়ে অতিবৃষ্টিতে যেমন বন্যার আশঙ্কা থাকছে , তেমনই অগস্ট -সেপ্টেম্বরের কম বৃষ্টিতে চাষের যথেষ্ট ক্ষতির আশঙ্কাই থাকছে৷ অথচ , এ রাজ্যের খরিফ মরসুমের চাষ মোটের ওপর বর্ষার বৃষ্টির ওপরেই নির্ভরশীল৷

রাজ্যের কৃষি দন্তর অবশ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপত্কালীন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে জানা গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার জানান , এ দিনই আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আপত্কালীন পরিস্থিতি নিয়ে একটি বৈঠক করা হয়েছে৷ দুই ধরনের পরিস্থিতির উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি রাখা হচ্ছে৷ আবহাওয়া দন্তরের আগের পূর্বাভাষ অনুযায়ী , এবার রাজ্যে বর্ষা আসতে খানিক বিলম্ব হতে পারে৷ সেক্ষেত্রে কম সময়ে যে ধরণের ধান চাষ হয় তার প্রস্ত্ততি সেরে রাখা হচ্ছে৷ আর যদি চার মাসের প্রথম দুই মাসেই বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত হয় ? সেক্ষেত্রে বৃষ্টির শুরুতেই খরিফের ধান বোনার কাজ শুরু করতে হবে৷ যাতে জুনের শেষ কিংবা জুলাইয়ে যদি প্রবল বৃষ্টিপাত হয় , তবে সে সময়ের মধ্যেই চারা গাছগুলি বেশ খানিকটা বড় হয়ে উঠতে পারে৷ তাতেও অবশ্য কাটছে না বিপদ৷ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে , ধানের রোয়া বপনের সময় যেমন জল দরকার হয় , তেমনই সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেও বৃষ্টিপাত প্রয়োজন৷ তা না -হলে ধানগুলি পুষ্ট হয় না৷ খোসা তৈরি হলেও ভেতরে চাল তৈরি হবে না৷ তেমনটা হলে মার খাবে উত্পাদন৷

সারা বছরের খাবারের জন্যই শুধু নয় , রাজ্যের খাদ্যসাথী প্রকল্প, স্কুলে মিডডে মিল -সহ অন্যান্য প্রয়োজনের চালের বেশির ভাগটাই উত্পাদন হয় খরিফ মরসুমেই৷ গ্রামাঞ্চলের মানুষেরও আয়েরও একটি বড় উত্সই খরিফের ধান চাষ থেকেই৷ রাজ্যের কৃষি দন্তরের হিসাব অনুযায়ী , ২০১৪ -১৫ আর্থিক বছরে রাজ্যে ধান উত্পাদন হয়েছিল ২৪০ লক্ষ মেট্রিক টন৷ গত বছর প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় উত্পাদন খানিকটা মার খেলেও শেষ পর্যন্ত কত উত্পাদন হয়েছে তার পরিপূর্ণ হিসাব এখনও তৈরি করা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রদীপ মজুমদার৷ কারণ , বোরোর হিসেব এখনও এসে পৌঁছায়নি৷ তবে , গত বছর ধানের উত্পাদন ১০ লক্ষ মেট্রিক টন মার খেতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান রাজ্যের কৃষি দন্তরের৷

এপ্রিলের পূর্বাভাসেই মৌসম ভবন জানিয়েছিল , গড়ে এ বার দেশে বৃষ্টি হবে ১০৬ শতাংশ৷ বেসরকারি সংস্থা স্কাইমেটের পূর্বাভাসেও এ বার দেশে ১০৯ শতাংশ বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে৷ কিন্ত্ত এপ্রিলের পূর্বাভাসের সময়েই মৌসম ভবনের ডিরেক্টর জেনারেল এলএস রাঠোর জানান , এসএসিওএফ -র পূর্বাভাসে সারা দেশে ভালো বৃষ্টি হলেও উত্তর পূর্ব ভারতে কম বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে৷ আবহাওয়া দন্তরের উত্তর পূর্ব ভারতের এলাকাতেই পশ্চিমবঙ্গ , বিহার , ঝাড়খণ্ড ছাড়াও রয়েছে উত্তর -পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিও৷ এ দিন বেসরকারি সংস্থাটির তরফেও এই বর্ষায় বৃষ্টিপাতের মধ্যে অসাম্যের আশঙ্কাই করা হয়েছে৷ সারা দেশের জন্য সামগ্রিক পূর্বাভাস করলেও , এলাকাভিত্তিক পূর্বাভাস অবশ্য এখনও করেনি মৌসম ভবন৷ সেই পূর্বাভাস তাদের করার কথা জুন এবং জুলাই মাসের পূর্বাভাসে৷ এখন আবহাওয়া দন্তর কোন বার্তা শোনায় , সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব মহলেরই৷

আশঙ্কায় প্রস্ত্ততি শুরু রাজ্যের৷

সুত্র: এই সময়

Back to top