হোম / জুনে খুলছে মুখোশ গ্যালারি
ভাগ করে নিন

জুনে খুলছে মুখোশ গ্যালারি

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় জাদুঘরে নতুন করে খুলতে চলেছে মুখোশ বীথি৷

জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় জাদুঘরে নতুন করে খুলতে চলেছে মুখোশ বীথি৷ দেশ -বিদেশের কমবেশি ৮০টি মুখোশ রাখা থাকবে এই বীথিতে৷ এ কথা জানিয়েছেন ভারতীয় জাদুঘরের নির্দেশক জয়ন্ত সেনগুন্ত৷ তিনি বলেন , ‘যখনই কাজ শেষ হচ্ছে আমরা তখনই সেই বীথি খুলে দিচ্ছি৷ সম্প্রতি (১৮ মে ) আমরা আর্ট গ্যালারি খুলেছি৷ আশা করছি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়েই খোলা হবে মুখোশ গ্যালারি৷ তবে এখনও দিন স্থির হয়নি৷ ’২০০৪ -০৫ সালে এই বীথি তৈরি শুরু হলেও , পরিকাঠামোগত কাজ শেষ হওয়ার পরে কাজ থমকে যায়৷ ২০১০ সালে জাদুঘরের অছি পরিষদ এই বীথি খোলার অনুমতি দেয়৷ কিন্ত্ত প্রবেশ পথের সমস্যার কারণে অনেক দর্শকই বুঝে উঠতে পারতেন না কী ভাবে মুখোশ বীথিতে যেতে হবে৷ পাঁচতলায় উঠতে হলে মূল প্রবেশপথের বদলে অন্য সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হত৷ সেটা দর্শকরা সবসময় বুঝতে পারতেন না৷ অনেক সময় এই বীথি বন্ধও থাকত পর্যান্ত কর্মী না থাকার জন্য৷ গ্রন্থাগারের পথ ধরে যেতে গিয়ে অনেক সময় ফিরতে হয়েছে দর্শকদের৷ এ বার সেই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ৷ এখনও পর্যন্ত স্থির হয়েছে , ডেকরেটিভ আর্ট বীথির একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে , সেখান দিয়ে সহজেই যাওয়া যাবে নতুন করে খুলতে চলা মুখোশ বীথিতে৷

২০১৪ সালে জাদুঘর বন্ধ রেখে যখন কাজ চলছিল , তখন প্রবল বৃষ্টিতে ছাদ চুঁয়ে জল পড়ে মুখোশ বীথির ক্ষতি হয়েছিল৷ ভারতীয় জাদুঘরের ২০০ বছর উপলক্ষে জাদুঘরের দরজা তখন সাধারণের জন্য বন্ধ ছিল৷ তারপরে জাদুঘর খুলে গেলেও , বন্ধ বীথির তালিকায় এটিও ছিল৷ জাদুঘরের সংগ্রহে মোট ২০০টি মতো মুখোশ আছে৷ তার মধ্যে কমবেশি ৮০টি প্রদর্শিত হবে৷ আগে যে সব মুখোশ ছিল , এ বার তার কয়েকটি বদল করা হয়েছে৷ ২০১০ সালে সংগ্রহ করা ঘানার একটি মুখোশ থাকছে৷ তবে তার চেয়েও বড় আকর্ষণ নিউগিনির মুখোশটি৷ ভারতীয় জাদুঘরের ডেপুটি কিপার (নৃতত্ব বিভাগ ) মিতা চক্রবর্তী বলেন , ‘১৮৯০ সালে ঔপনিবেশিক সময়ের সংগ্রহ নিউগিনির মুখোশটি৷ ঘানার মুখোশটি আমরা ঘানায় গিয়ে সংগ্রহ করিনি৷ জায়গায় গিয়ে (ফিল্ড কালেকশন ) আমরা শেষ ২০০৭ সালে মুখোশ সংগ্রহ করেছি কটক থেকে৷ ’ ভারতীয় জাদুঘরে রয়েছে বিহার , ওড়িশা , অসম , ছত্তিশগড় ও কর্নাটকের মুখোশ৷ এগুলি বেশিরভাগই উত্সব ও ধর্মানুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত৷

ভোপালে ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মানব সংগ্রহালয় মূলত নৃতত্ব বিষয়ক সংগ্রহশালা , এখানে মুখোশের সংগ্রহ রয়েছে৷ গুয়াহাটির শংকরদেব কলা কেন্দ্রে মুখোশের যে সংগ্রহ রয়েছে তা মূলত অসমের বিভিন্ন অঞ্চলের৷ ভারতীয় জাদুঘরে সংগ্রহ প্রদর্শিত হবে তিনটি ভাগে --- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মুখোশ , বিভিন্ন রাজ্যের মুখোশ ও বিদেশি মুখোশ৷ পুরুলিয়ার চড়িদার ছৌ , ডুমুরডিহির দুন্দুভি , ভুটানের থ্রোবাপ ও অস্ত্রবা , অসমের সত্রিয় মুখোশ প্রভৃতি প্রদর্শিত হবে এখানে৷ প্রবেশপথের শুরুতেই থাকছে অসমের মুখোশ৷ কাগজ , কাঠ , ধাতু ও পোড়ামাটি --- এই চার ধরনের জিনিসের মুখোশে সাজানো হচ্ছে বীথি৷ একই সঙ্গে বীথির পরিচয়জ্ঞাপক লেখা ও অনুবাদের কাজও হচ্ছে৷ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের ধারনা , কয়েক দিনের মধ্যেই সে কাজও শেষ হয়ে যাবে৷

মুখোশের কারিগর কারা ? এ প্রসঙ্গে মিতা চক্রবর্তী জানান , কোথাও সূত্রধররা (ছুতোর ) এ কাজ করেন , কোথাও আবার বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকই এগুলি বানান৷ যেমন সত্রিয় মুখোশ বানান বৈষ্ণব সত্রের লোকজন৷১৮৯০ সালে সংগ্রহ করা নিউগিনির মুখোশ৷

সুত্র:এই সময়

Back to top