হোম / বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আকাল, তৈরি হচ্ছে না মেঘ, তাপপ্রবাহ অব্যাহত
ভাগ করে নিন

বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আকাল, তৈরি হচ্ছে না মেঘ, তাপপ্রবাহ অব্যাহত


বুধবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারের তুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এক ডিগ্রি কম ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অন্তত পাঁচ ডিগ্রি বেশি থাকলে আবহাওয়াগত বিচারে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি বলা হয়। এদিন কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে চার ডিগ্রি বেশি থাকায় তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি এখানে ছিল না। কিন্তু বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের একাংশসহ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে ঘোরাফেরা করছে। ওই এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর।
আজ, বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ফের কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা উষ্ণ ও শুকনো বাতাসের মাত্রা কিছুটা কমায় কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বুধবার এক ডিগ্রি নেমেছে। কিন্তু ফের গরম বাতাসের মাত্রা ফের বাড়তেই পারে।
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়ছে না। মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ২৩ শতাংশ। বুধবার তার কোনও হেরফের হয়নি। ফলে ফের কলকাতায় তাপপ্রবাহ চলতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্প কমে যাওয়ার কারণে উত্তর ভারত, বিহার, ঝাড়খণ্ডের মতো শুকনো গরম চলছে এখানে। এই ধরনের গরম পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের অন্যত্র খুব বেশি হয় না। বাইরে বের হলে গরম হাওয়া লেগে গা যেন পুড়ে যাচ্ছে। গরম থেকে বাঁচতে বহু মানুষকে মুখ ঢেকে রাস্তায় বের হতে দেখা যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরম সত্ত্বেও ঘাম বিশেষ হচ্ছে না। এই কারণে গরম বেশি থাকলেও অস্বস্তি সূচক সেরকম চড়া নয়। তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার ভিত্তিতে এই অস্বস্তি সূচক তৈরি হয়। মঙ্গলবার অস্বস্তি সূচক ছিল ৬৬.৬। বুধবার আপেক্ষিক আর্দ্রতা একই থাকলেও তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। এর সঙ্গে সংগতি রেখে অস্বস্তি সূচক কমে ৬২.৬ হয়েছে।
জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এত কমার কারণ কী? আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দখিনা বাতাস না আসার কারণে এটা হচ্ছে। এখন মূলত উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এবং কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে গরম হাওয়া আসছে। উত্তর-পশ্চিমে বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ওড়িশা, অন্ধ্র্রপ্রদেশ উত্তপ্ত হয়ে আছে। সেখান থেকে শুষ্ক গরম হাওয়া এদিকে আসছে। দখিনা বাতাস এলে তা বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প টেনে আনত। এর জেরে বায়ুমণ্ডলে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বাড়ত। সর্বনিম্ন আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৪০-এর বেশি হলে কালবৈশাখীর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়। জলীয় বাষ্প ঢোকার পাশাপাশি কালবৈশাখীর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় কোনও নিম্নচাপ তৈরি হতে হবে। সেরকম পরিস্থিতি এখনও নেই। ফলে কালবৈশাখী এসে কবে সাময়িক স্বস্তি দেবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আবহাওয়াবিদরা। তাঁরা বলছেন, গরমকালে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি উপরে ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১.৩ ডিগ্রি। অতীতে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়ানোর ঘটনাও একাধিকবার হয়েছে। কলকাতায় সর্বকালীন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩.৬ ডিগ্রি। এটা হয়েছিল ১৯২৬ সালের মে মাসে।

সুত্র: বর্তমান

Back to top