হোম / ভোল বদলের পথে মেডিকেল কলেজ
ভাগ করে নিন

ভোল বদলের পথে মেডিকেল কলেজ

মেকওভার ’ হচ্ছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি , বছর ঘুরতে না -ঘুরতেই সুপার -স্পেশ্যালিটি বিভাগ থেকে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরি করে হাসপাতালের ভোল বদলে দেওয়া হবে৷

মেকওভার ’ হচ্ছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি , বছর ঘুরতে না -ঘুরতেই সুপার -স্পেশ্যালিটি বিভাগ থেকে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরি করে হাসপাতালের ভোল বদলে দেওয়া হবে৷

মেডিক্যাল কলেজের চওড়া নীল -সাদা মূল ফটকের গেট পেরিয়ে রোজই ঢুকছে বালির বস্তা বোঝাই ট্রাক৷ কোনও ট্রাক আবার বেরোচ্ছে রড খালি করে৷ কোথাও ঢালাই মেশিনের শব্দ তো কোথাও আবার ইট মাথায় করে ভারায় উঠছেন নির্মাণ শ্রমিকরা৷ এক প্রান্তে উঠছে দশতলা বিল্ডিং৷ তৈরি হচ্ছে সুবিশাল জলাধার৷ আর এক প্রান্তে তৈরি হচ্ছে হস্টেল৷ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে হবে সাবস্টেশন৷ আক্ষরিক অর্থেই সাজ সাজ রব৷

২০০৪ সালে এইমস স্তরে উন্নীত করার জন্য কেন্দ্র সরকারের বাছাই করা হাসপাতালগুলির মধ্যে একটি ছিল এই মেডিক্যাল কলেজই৷ সে প্রকল্প বাস্তবায়িত না -হলেও , গুলাম নবি আজাদ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সুরক্ষা যোজনার আওতায় ‘আপগ্রেডেশন ’-এর জন্য চড়ান্ত করা হয় এশিয়ার প্রাচীনতম মেডিক্যাল কলেজকেই৷ কিন্ত্ত , নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে তা হয়নি৷ সেখানেই এখন ভোলবদলের হাওয়া৷ উপাধ্যক্ষ শিখা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন , ‘প্রকল্পগুলো অনেক দিন ধরেই কোনও না কোনও কারণে থমকে ছিল৷ গত বছর থেকে সে দিকে নজর দেওয়া হয়েছে৷ আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যে এই হাসপাতালের চেহারা বদলে দিতে পারব আমরা৷ ’তারই অংশ হিসেবে তৈরি হচ্ছে ১০ তলা সুপারস্পেশ্যালিটি বিল্ডিং৷ যার একতলায় থাকবে কার্ডিয়োলজি , কার্ডিয়োথোরাসিক , প্লাস্টিক সার্জারি , নেফ্রোলজি , নিউরোসার্জারির মতো এক -একটি বিভাগ৷ বছর দশেক আগে মেডিক্যাল কলেজে এমন এক হাব তৈরির জন্যই ১২০ কোটি টাকা (যার মধ্যে ২০ কোটি দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যের ) বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র৷

নির্মাণকারী সংস্থা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দন্তরের লাল ফিতের ফাঁসের জেরে যা দিনের আলো দেখেনি ২০১২ পর্যন্ত৷ কেন্দ্রের তরফে বার বার ভত্র্‌সনা শোনার পর শেষমেষ নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে , নতুন সংস্থা বাছা হয়৷ খরচের বহরও বাড়ে তত দিনে৷ রাজ্যের অনুরোধে বরাদ্দ বাড়ানো হয় কেন্দ্রের তরফেও (১৫০ কোটি , যার মধ্যে ২৫ কোটি দেওয়ার কথা রাজ্যের )৷ হাসপাতালের প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের পর গতি আসে সুপার -স্পেশ্যালিটি বিল্ডিং তৈরির কাজে৷ মাস আষ্টেক আগে শুরু হয় কাজ৷ হাসপাতাল সূত্রে খবর , কাজ শেষ হবে বছরখানেকের মধ্যেই৷

তবে আটতলার মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরির ক্ষেত্রে কোনও রকম ঢিলেমি দেখায়নি স্বাস্থ্য দন্তর৷ কেন্দ্রীয় সরকারি বরাদ্দে এবং মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছায় রাজ্যের প্রথম মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব তৈরি হয়েছে এই মেডিক্যাল কলেজেই৷ শিশুমৃত্যু রোধে গঠিত স্বাস্থ্য দন্তরের টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান , ‘শিশুর চিকিত্সায় প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুপারস্পেশ্যালিটি থাকবে এই হাবে৷ ইডেন হাসপাতালে যে রকম গাইনি এবং প্রসূতি বিভাগ চলে সে রকম চলবে৷ সেখানকার এসএনসিইউটাও চলবে৷ এই হাবে নতুন করে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ফেসিলিটি তৈরি হয়েছে৷ ’ মৌখিক অনুমোদন মিলেছে ১৩ তলার অঙ্কোলজি হাবেরও৷ শিগগিরই শুরু হবে সে কাজ৷ তৈরি হচ্ছে ১০তলা হস্টেলও৷ যেখানে ছাত্রদের পাশাপাশি থাকবে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের ফ্ল্যাটও৷ তৈরি হচ্ছে রোগীদের জন্য রাত্রিনিবাস এবং দু’টি বসার জায়গা৷ হাসপাতালের জল আর বিদ্যুতের জোগান ঠিক রাখতে তৈরি হচ্ছে ৪ লক্ষ লিটার জলবহন ক্ষমতাসম্পন্ন রিজার্ভার এবং ৩৩ কেভিএ ’র আলাদা সাবস্টেশনও৷

উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে মেডিক্যাল কলেজ৷ রোগী পরিষেবাতেও পারবে তো ? উত্তর দেবে সময়ই৷

মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব ৷

সুত্র: এই সময়

Back to top