হোম / মহীন্দ্রার বাজি এ বার নুভোস্পোর্ট
ভাগ করে নিন

মহীন্দ্রার বাজি এ বার নুভোস্পোর্ট

বদলে যাওয়া আধুনিক ও শহুরে জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছোট ‘স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল’ (কমপ্যাক্ট এসইউভি)-এর দিকে ভারতীয় ক্রেতাদের ঝোঁক লক্ষ করতে দেরি করেনি মহীন্দ্রা গোষ্ঠী।

বদলে যাওয়া আধুনিক ও শহুরে জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ছোট ‘স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল’ (কমপ্যাক্ট এসইউভি)-এর দিকে ভারতীয় ক্রেতাদের ঝোঁক লক্ষ করতে দেরি করেনি মহীন্দ্রা গোষ্ঠী। পাশাপাশি, চার মিটারের থেকে ছোট গাড়িতে উৎপাদন শুল্কও কম পড়ে। তাই চার বছর আগে দেশের বাজারে প্রথম চার মিটারের চেয়ে ছোট কমপ্যাক্ট এসইউভি ‘কোয়ান্টো’ বাজারে আনলেও শেষ পর্যন্ত বাজারে তেমন সাড়া পায়নি সেটি। বরং পরে এসে সেই বাজার ধরে নিয়েছিল ফোর্ডের ইকোস্পোর্ট গাড়িটি। ঘুরে দাঁড়াতে নতুন কমপ্যাক্ট এসইউভি নুভোস্পোর্ট-এর ডিজেল মডেল বাজারে আনল তারা। প্রাক্তনী কোয়ান্টো-র সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও মহীন্দ্রা অ্যান্ড মহীন্দ্রার কর্তাদের দাবি, পুরোদস্তুর নতুন ‘প্ল্যাটফর্ম’-এ তৈরি হয়েছে এটি।

ইউটিলিটি ভেহিকল (ইউভি) বা কেজো ধরনের গাড়িই তৈরি করে আনন্দ মহীন্দ্রার এই সংস্থাটি। দেশে এ ধরনের গাড়ি বাজারের সিংহভাগ অংশীদারিই তাদের দখলে। এক সময়ে ভারতের বাজার হ্যাচব্যাক বা ছোট ধরনের গাড়িরই দখলে থাকলেও ক্রমশ বাড়ছে ইউভি বা এসইউভি-র চাহিদা। বিশেষ করে আধুনিক শহুরে জীবনে এ ধরনের গাড়ির চাহিদা গত কয়েক বছরে ক্রমশ বেড়েছে। গাড়ি শিল্পের হিসেবে, ২০১১-’১২ সালে মোট যাত্রী গাড়ির বাজারের ১৫% ইউভি-র দখলেও থাকলেও ২০১৫-’১৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৩%। এর মধ্যেই রয়েছে এসইউভি-ও, যে-বাজার ধরতে সম্প্রতি মারুতি-সুজুকি তাদের প্রথম এসইউভি ভিতারা ব্রেজা গাড়িটি এনেছে।

কিন্তু বড় এসইউভি-র চেয়ে আবার কমপ্যাক্ট-এসইউভির চাহিদা গত কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ইউভি-র মধ্যে তার অংশীদারিও প্রায় ৪২%। সেই বাজার ধরতেই সম্প্রতি কেইউভি১০০ এবং টিইউভি৩০০ নামে দু’টি গাড়ি বাজারে এনেছে সংস্থা। এ দিন এল টিইউভি-র চেয়ে দামি নুভোস্পোর্ট। দিল্লিতে শো-রুমের দাম শুরু ৭.৪২ লক্ষ টাকা থেকে। ২০১২-তে কোয়ান্টো আনলেও সেটি যে বাজার ধরতে পারেনি, তা এ দিন স্বীকার করে নেন সংস্থার প্রেসিডেন্ট এবং সিইও (অটোমোটিভ) প্রবীণ শাহ। মাত্র ১৮ মাসে সেটি তৈরি করলেও, গাড়িটি কিছুটা ‘কম্প্রোমাইজ্‌ড প্রডাক্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। তবে আপস করার কারণ ব্যাখ্যা করেননি তিনি। উল্লেখ্য, নুভোস্পোর্ট উৎপাদন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কোয়ান্টো গাড়িটির উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছে মহীন্দ্রা।

দু’বছর ধরে নুভোস্পোর্ট তৈরি করতে ১১৫ কোটি টাকা ঢেলেছে সংস্থা। গাড়ি তৈরি হবে নাসিকের কারখানায়। নতুন প্রজন্মের স্করপিও-র প্ল্যাটফর্মে। উৎপাদন ক্ষমতা মাসে ১৫০০টি। গাড়িটির নকশা তৈরি করেছেন চেন্নাইয়ে সংস্থাটির গবেষণা কেন্দ্রের কর্মীরা। সংস্থার দাবি, কোয়োন্টো-র সঙ্গে এটির মিল কার্যত নেই। বিশেষ করে বাইরের দিকটি একেবারেই ভিন্ন। পাশাপাশি, আধুনিক যুব সম্প্রদায়ের কথা মাথায় রেখে একগুচ্ছ সুবিধা মিলবে এই গাড়িটিতে। যেমন, অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন-এর সুবিধা। সাত আসন বিশিষ্ট হলেও মাঝের আসনের একাংশ মুড়ে দিয়ে বাড়তি জায়গা মিলবে। নিরাপত্তার বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকবে এবিএস এবং ইবিডি, দু’টি এয়ারব্যাগ ইত্যাদি।

 

সুত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Back to top