হোম / রাজধানীর রাস্তায় আজ থেকে নিষিদ্ধ পেট্রল এবং ডিজেল ট্যাক্সি
ভাগ করে নিন

রাজধানীর রাস্তায় আজ থেকে নিষিদ্ধ পেট্রল এবং ডিজেল ট্যাক্সি

নিষিদ্ধ পেট্রল এবং ডিজেল ট্যাক্সি

আজ থেকে দিল্লি ও এনসিআর এলাকার রাস্তায় নিষিদ্ধ ডিজেল ও পেট্রল চালিত ট্যাক্সি৷ ডিজেল ট্যাক্সিগুলিকে সিএনজি -র সাহায্যে চালানোর ব্যবস্থা করার জন্য ট্যাক্সি মালিকদের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, তা আর বাড়ানো হবে না বলে শনিবার জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ৷ তবে যে সব যানবাহনের অল ইন্ডিয়া পারমিট আছে , সেগুলি এই আওতার বাইরে থাকছে৷ সুপ্রিম কোর্টে শনিবার দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার বিশেষ শুনানি ছিল৷ সেখানে রাজধানী অঞ্চলের রাস্তায় ডিজেল ও পেট্রল চালিত ট্যাক্সি চলার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুর, বিচারপতি এ কে সিক্রি এবং বিচারপতি আর বানুমতির বেঞ্চ বলে , ‘ডিজেল থেকে সিএনজি চালিত গাড়িতে পরিণত করার জন্য আমরা বেসরকারি ট্যাক্সি মালিকদের যথেষ্ট সময় দিয়েছি৷ ওই সময়সীমা আর বাড়াচ্ছি না৷ ’ প্রসঙ্গত , দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় ক্রমশ বেড়ে চলা বায়ুদূষণে লাগাম পরাতে প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের পয়লা মার্চের মধ্যে ডিজেল ট্যাক্সিগুলিকে সিএনজি চালিত করে নিতে বলে৷ এর আগে দু’দফায় ৩১ মার্চ ও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল৷ কিন্ত্ত এর পর আর অতিরিক্ত সময় দিতে রাজি নয় শীর্ষ আদালত৷ শনিবার কয়েক জন ট্যাক্সি মালিকের হয়ে আদালতের কাছে ফের সময় চেয়ে আর্জি জানান সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্যাম দিওয়ান৷ তিনি দাবি করেন , ডিজেল চালিত গাড়িকে সিএনজি চালিত গাড়িতে পরিণত করার মতো কোনও প্রযুক্তি নেই৷ তাই শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ কার্যকরী হলে ট্যাক্সি মালিকদের উপার্জনের রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে৷ অনেকেই ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ট্যাক্সি কেনেন৷ ব্যাঙ্ককে পাওনা মেটাতেও সমস্যায় পড়বেন তাঁরা৷ কিন্ত্ত বিচারপতিরা সেই আর্জি নাকচ করে দিয়েছেন৷ এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে ৯ মে৷ ফলে রবিবার , ১ মে থেকে রাস্তায় ডিজেল ও পেট্রল চালিত ট্যাক্সি নামাতে পারবেন না মালিকরা৷ যার প্রভাব পড়বে গণপরিবহণ ব্যবস্থাতেও৷

তবে ট্যাক্সি মালিকদের বিষয়ে অনড় অবস্থান নিলেও দিল্লি জলবোর্ড ও দিল্লি পুলিশের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ তাদের নতুন দু হাজার সিসি -র বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল চালিত ইঞ্জিন -সহ গাড়িগুলি পরিবহণ দন্তরে নথিভুক্ত হবে৷ তবে তার পূর্বশর্ত হিসেবে গাড়ির দামের ৩০ শতাংশ ‘পরিবেশ ক্ষতিপূরণ চার্জ’ (ইসিসি ) বা গ্রিন সেস হিসেবে জমা দিতে হবে৷ নাগরিকদের জল সরবরাহ করবে বলে দিল্লি জলবোর্ডের ২৫০টি ট্যাঙ্কারকে অবশ্য এই সেস থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে যাওয়া , অস্ত্র পরিবহণ এবং জল সরবরাহের জন্য দিল্লি জলবোর্ড ও দিল্লি পুলিশ ওই গাড়িগুলি ব্যবহার করবে৷ এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল , দু হাজার সিসি -র বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল চালিত গাড়ির নতুন করে রেজিস্ট্রেশন হবে না৷ সেই নির্দেশ বদলানোর আবেদন জানিয়ে জলবোর্ডের হয়ে সওয়াল করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইন্দিরা জয়সিং৷ একইসঙ্গে দিল্লি পুলিশের হয়ে আবেদন জানান অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পিঙ্কি আনন্দ৷ দিল্লি পুলিশকে নতুন করে আরও প্রায় ১৯০টি গাড়ি কিনতে হবে বলেও জানান আনন্দ৷ গ্রিন সেসের বিনিময়ে সেই গাড়িগুলিকে নথিভুক্ত করা যাবে৷

সূত্র :এই সময়

Back to top