হোম / হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ ফেরাতে নতুন উদ্যোগ

রুই, কাতলা , পাবদা , ভেটকির জোগান থাকলেও ধীরে ধীরে বাঙালির পাত থেকে হারিয়ে গিয়েছে চাঁদা , খলসে , বেলে , পাঁকাল , চ্যাং , চ্যালা , ন্যাদোস , ফলুই, কাঞ্চন পুঁটি , তিতা পুঁটি , বক , রাসভরা , বট কইয়ের মতো অসংখ্য দেশি মাছ৷

রুই, কাতলা , পাবদা , ভেটকির জোগান থাকলেও ধীরে ধীরে বাঙালির পাত থেকে হারিয়ে গিয়েছে চাঁদা , খলসে , বেলে , পাঁকাল , চ্যাং , চ্যালা , ন্যাদোস , ফলুই, কাঞ্চন পুঁটি , তিতা পুঁটি , বক , রাসভরা , বট কইয়ের মতো অসংখ্য দেশি মাছ৷ রোজকার ব্যস্ত জীবনে তাদের কথা ভাবার অবকাশ না -থাকলেও , ছুটিছাটার দিনে কিংবা ঘরোয়া রান্নায় সে সব দেশি মাছের অভাব অনুভব করেন অনেক বাঙালিই৷ জীব বৈচিত্র্যের দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ৷ এ নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও সেগুলি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তেমন সংগঠিত কোনও উদ্যোগ নেই এযাবত্৷ অবশেষে সুখবর মিলতে চলেছে মাছপ্রিয় বাঙালিদের জন্য৷ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (আইসিএআর ) সহযোগিতায় হারিয়ে যেতে চলা সেই সব ছোট মাছের চাষের উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্যের মত্স্য দন্তর৷ ‘নিউট্রি ভিলেজ ’ নামে নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামেগঞ্জে সেই সব মাছের চাষ শুরু হতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতেই৷

আইসিএআর -এর সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ফিশারিজ এডুকেশনের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট বিকে মহাপাত্র জানান , পুঁটি , চাঁদা , খলসে , দেশি ট্যাংরা , ন্যাদোস , দেশি শিঙি , দেশি মাগুর , রাসভোরা , দাঁড়কে , মৌরলা , বট কই, পাঁকাল , ফলুই, শরপুঁটি , কাঞ্চন পুঁটি, তিতা পুঁটি , ফুল পুঁটি , হাই ফিন বার্বের মতো মাছগুলির বংশ বিস্তার নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে৷ মত্স্যবিজ্ঞানীরা জানান , স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে মাছগুলি সংগ্রহ করে প্রথমে তাদের কৃত্রিম পরিবেশে রাখা হয়৷ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থাটিকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় অ্যাক্লেমেটাইজ করা৷ এর পর ওই কৃত্রিম পরিবেশে তাদের বড় করা হয়৷ এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ক্যাপটিভ ম্যাচুইরিটি৷ তার পরের ধাপ ব্রিডিং বা প্রজনন৷ যার মাধ্যমে মাছের ডিম এবং পরে মাছের পোনা তৈরি হয়৷ তার পরে সেগুলিকে সরবরাহ করা হবে চাষের জন্য৷

হারিয়ে যেতে চলা মাছগুলির চাষ বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়স্তরে ইতিমধ্যেই কিছু কাজ শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত পরিকল্পিত কোনও উদ্যোগ ছিল না৷ অথচ , বড় কোনও কোনও উদ্যোগ ছাড়া দেশি ওই সমস্ত মাছগুলির উত্পাদন বাড়ানো কঠিন৷ গত চার বছরে রাজ্যে মাছের বার্ষিক উত্পাদন ১৪ লাখ ৭২ হাজার টন থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন৷ যদিও তার বেশির ভাগই মেজর কার্প৷ অবশেষে ছোট মাছের উত্পাদন বাড়াতে বড় করেই ভাবছে রাজ্যের মত্স্য দন্তর৷ সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট ফর ফিশারিজ এডুকেশনের সহযোগিতায় ছোট মাছের ওপর যে কাজ চলছে , সেই মাছগুলিই ‘নিউট্রি ভিলেজ ’ নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে চাষের উদ্যোগ নিচ্ছে মত্স্য দন্তর৷ যার মাধ্যমে গ্রামেগঞ্জে শুধুমাত্র এই মাছগুলি চাষেই উত্সাহিত করা হবে মাছ চাষীদের৷ রাজ্যের জীব বৈচিত্র্য পর্ষদের চেয়ারম্যান অশোককান্তি সান্যালও জানান , রাজ্য জুড়ে যে বায়ো ডাইভার্সিটি ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলি (বিএমসি ) তৈরি হয়েছে , তাদের মাধ্যমেও ছোট মাছচাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ এ বিষয়ে একদিকে যেমন মত্স্য দন্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে , তেমনই আগ্রহী বেশ কয়েকটি বিএমসির সঙ্গেও কথা চলছে৷

কিন্ত্ত কী ভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি ছোট মাছের এই প্রজাতিগুলি ? বিকে মহাপাত্র জানান , প্রথমত , রুই, কাতলা , মৃগেলের মতো মেজর কার্পগুলির ডিম আগে যখন চাষের জন্য সংগ্রহ করা হত , তখন তা আনা হত গঙ্গা বা নদী থেকে৷ যখন চাষের জন্য সেগুলি ছাড়া হত , তার সঙ্গে ছোট মাছও চলে আসত৷ বংশবিস্তার হত তাদেরও৷ কিন্ত্ত , এখন হ্যাচারির ডিম ব্যবহার করার ফলে সেই সুযোগ থাকছে না৷ শুধু তাই নয় , বিভিন্ন এলাকাতেই জলাশয় বুজিয়ে ফেলা , জলজ উদ্ভিদ কেটে ফেলার ফলে মাছের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে৷ বর্ষায় মাঠেঘাটে ডিম পাড়া ছাড়াও চাষের জমিতেই বড় হত কই, শিঙি , মাগুর , ল্যাটা , শাল , শোলের মতো মাছগুলি৷ এখন বর্ষায় তাদের শিকারও করা হচ্ছে৷ একই সঙ্গে চাষের জমিতে ব্যাপক হারে কীটনাশক , রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলেও তারা মারা পড়ছে৷

তবে , কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ছোট দেশি মাছের চাষ বাড়ানোর চেষ্টা হলে তা তাদের জেনেটিক ডাইভার্সিটি নষ্ট করবে বলেই মনে করেন বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিলাঞ্জন ভট্টাচার্য৷ তিনি বলেন , কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করানো হলে তা দেশি ছোট মাছগুলির জেনেটিক ডাইভার্সিটি নষ্ট করবে৷ তবে রাজ্য জুড়ে এই সরকার যে ‘জল ধরো , জল ভরো ’ কর্মসূচি নিয়েছে , তার মাধ্যমে কাটা পুকুরগুলিকে এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে বলেই জানান তিনি৷ তিনি জানান , তবে মাছের স্বাভাবিক বংশ বিস্তারের জন্য সেই পুকুরগুলির ঢাল এবং জলজ উদ্ভিদ থাকা প্রয়োজন৷

গবেষণাগারে দেখানো হচ্ছে হারিয়ে যাওয়া ছোট দেশি মাছ চাষের রকম সকম৷

সু্ত্র: এই সময়

Back to top