হোম / ১০০ বছর পার করা জীবনে সুস্থতার পাঠই দিয়ে গিয়েছেন বিশ্বশ্রী
ভাগ করে নিন

১০০ বছর পার করা জীবনে সুস্থতার পাঠই দিয়ে গিয়েছেন বিশ্বশ্রী

নিয়মিত ওষুধ : নেইসুগার : নেইব্লাড প্রেশার : স্বাভাবিকথাইরয়েডের সমস্যা : নেইহূদযন্ত্র : মোটের উপর স্বাভাবিকউপরের এই নীরোগ শরীরের বর্ণনা যাঁর , তিনি ১০৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রবিবার৷ কিন্ত্ত তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ সফর যেন একটাও চান্স না -দেওয়া সেঞ্চুরির মতোই৷

নিয়মিত ওষুধ : নেইসুগার : নেইব্লাড প্রেশার : স্বাভাবিকথাইরয়েডের সমস্যা : নেইহূদযন্ত্র : মোটের উপর স্বাভাবিকউপরের এই নীরোগ শরীরের বর্ণনা যাঁর , তিনি ১০৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রবিবার৷ কিন্ত্ত তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ সফর যেন একটাও চান্স না -দেওয়া সেঞ্চুরির মতোই৷ অন্তত সেঞ্চুরি হাঁকানোর দিনগুলি পর্যন্ত রোগভোগের তেমন বালাই ছিল না৷ মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তাঁর প্রেসক্রিপশনে পরিচিত রোগের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ এমনকি , মৃত্যুর দিন পর্যন্ত অনেকেই জানতেও পারেননি গত মাস দেড়েকে শরীরটা ধীরে ধীরে জবাব দিয়ে যাচ্ছিল বিশ্বশ্রী মনোহর আইচের৷ তা বলে , ঘন ঘন হাসপাতালে ভর্তি কিংবা নিত্য বাড়িতে ডাক্তারের আগমন ? নাহ ! তা-ও করতে হয়নি পরিবারকে৷ কোন জাদুবলে শতবর্ষের পরও সুস্থতার চাবিকাঠি পকেটে পুরে রেখেছিলেন মনোহর আইচ ? সংযমী জীবনযাপন আর তুখোড় জিন --- এই যুগলবন্দিকেই সেঞ্চুরি পেরোনো বিশ্বশ্রীর জীবনীশক্তির মূলমন্ত্র বলছেন বিশেষজ্ঞরা৷

জেপি রোডের তিনতলা সাদা বাড়িটার বাইরে তখন থিকথিকে ভিড়৷ কয়েক ঘণ্টা আগে প্রয়াত হয়েছেন মনোহর আইচ৷ দোতলার পূর্ব দিকের ঘরটার ভিড় আর স্পর্শ করছে না তাঁকে৷ পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভাঙার পর থেকে এই ঘরেই দিন -রাত কাটত মনোহরের৷ বছর দু’য়েক আগেও কিন্ত্ত ছবিটা ছিল একদম অন্য রকম৷ বড় ছেলে বিষ্ণু আইচ জানান , ‘একশো বছর হয়ে যাওয়ার পরেও বাবা দিব্যি চলাফেরা করতেন৷ ১০১ বছর বয়সেও কল্যাণী , নৈহাটিতে সংবর্ধনা নিতে গিয়েছেন৷ শরীরচর্চা করেছেন৷ আর তার আগে তো দিনে ৮ -১০ ঘণ্টা শরীরচর্চা করতেন৷ একদম বাঁধাধরা রুটিন ছিল বাবার৷ ’ সেটা কী রকম ? কাঁটায় কাঁটায় ভোর সাড়ে চারটেয় বিছানা ছাড়তেন৷ নিজেই জল বসিয়ে তাতে দুটো ডিম আধ -সেদ্ধ করে রেখে , সোজা নীচের জিমখানায়৷ ঘণ্টাখানেকের কসরত শেষ করে ফিরে গ্লাসে নিতেন গরম জল৷ সে জলে মধু গুলে খাওয়াই ছিল নিয়ম৷ সবশেষে আধ -সেদ্ধ ডিম --- বছর দশেক আগে পর্যন্তও সকালের রুটিনটা এ রকমই ছিল মনোহর আইচের৷ বিশুদ্ধ বাঙাল ছিলেন , কিন্ত্ত , খাদ্যরসিক বাঙাল সত্তাকে নিজের উপর চাপতে দেননি কখনওই৷ উল্টে আজীবন খাবার নিয়ে সংযমীই থেকে গিয়েছেন৷ বিষ্ণু আইচ বলছিলেন , ‘বাবার খাবারের ব্যাপারে বাছবিচার ছিল না বিশেষ৷ পান্তা থেকে মাংস --- সবই খেতেন৷ কিন্ত্ত অত্যন্ত পরিমিত৷ ’ শাশুড়ির হাতে হাতে হেঁসেল সামলাতে গিয়ে শ্বশুরমশাইয়ের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত ছিলেন পুত্রবধূ সবিতা আইচ৷ রবিবার বলছিলেন , ‘বাবাকে এক -দু’হাতার বেশি ভাত খেতে কখনও দেখিনি৷ ওই ভাতটুকুকে দু’টো দলায় ভাগ করতেন বাবা৷ মাছ বা মাংস দিয়ে একটা দলা মেখে খেতেন৷ আর অন্যটা খেতেন দুধ দিয়ে৷ রাতেও দুধ -ভাতই খেতেন৷ ’ কফির প্রতি আসক্তি ছিল বিশ্বশ্রীর৷ আর টান ছিল মিষ্টির প্রতি৷ ‘তিন -চার চামচ চিনি দিয়ে কফি বানিয়ে দিলেও রান্নাঘর থেরে চিনি নিয়ে এসে কফিতে গুলে খেতেন ,’ স্মৃতি রোমন্থন সবিতার৷ মিষ্টি খেতেন এত , তবুও সুগার ছিল না ? ‘নাহ ! সুগার , প্রেশার , থাইরয়েড কিচ্ছু ছিল না দাদুর৷ শুধু শেষ এক -দেড় মাস বারবার ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগেছেন ’, জানান মনোহর আইচের পৌত্র কৃষ্ণেন্দু৷

লাইফস্টাইল ডিজিজের প্রকোপে যখন সাধারণ গেরস্থের হাঁঁসফাঁস , তখন কী ভাবে এমন নিরোগ জীবন কাটিয়ে গিয়েছেন বিশ্বশ্রী ? কী ভাবে আমৃত্যু প্রায় ঠেকিয়ে রেখেছেন রোগব্যাধিকে ? বৃদ্ধদের রোগ বিশেষজ্ঞ কৌশিক মজুমদার বলছেন , ‘আসলে জিন আর আমাদের জীবনশৈলি ঠিক করে দেয় , কে কত বছর বাঁচবে৷ মদ -সিগারেট না -খাওয়া , নিয়মিত শরীরচর্চা, স্ট্রেস -ফ্রি জীবন কাটানো --- সব মিলিয়ে নিয়ম মেনে যদি জীবন কাটানো যায় , তা হলে দীর্ঘায়ু পাওয়াটা কঠিন ব্যাপার নয়৷ ’ হূদরোগ বিশেষজ্ঞ ডি পি সিনহারও মত একই রকম , ‘আমরা শরীরের যতটা কম ক্ষতি করি , ততটাই শরীরের কম মেরামতির প্রয়োজন হয়৷ কোষ কম বিভাজন হয়৷ আর কোষ কম বিভাজন হলে ক্রোমোজোমের শেষে থাকা টেলোমেয়ারের ক্ষয়ও কম হয়৷ এই টেলোমেয়ারই জীবনীশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে৷ এর ক্ষয় যত কম হয় , ততই দীর্ঘায়ু পান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি৷ ’জিন হোক বা জীবনশৈলি --- সেঞ্চুরি হাঁকিয়েও চার বছর কাটানো জীবনের মধ্যে দিয়ে আসলে নবীন প্রজন্মকে একটাই পাঠ দিয়ে গেলেন বিশ্বশ্রী মনোহর আইচ৷ সুস্থ থাকার পাঠ৷

ফিট থাকার মন্ত্রই জীবনভর দিয়ে এসেছেন মনোহর আইচ ---ফাইল চিত্র গত দেড় মাসের রুটিনসকাল সাড়ে ৬টা : এক কাপ হরলিক্স , দু’টি বিস্কুটসাড়ে ৮টা : এক কাপ পাতলা দুধ -সাবু (আগে খেতেন দুধ , পাউরুটি আর কফি )দুপুরে : দুধ -ভাত (আগে খেতেন ভাত -ডাল -মাছ )বিকেলে : দুধে ভিজোনো দু’টি বিস্কুট (আগে খেতেন কফি -বিস্কুট)রাতে : দুধ -ভাত৷

সুত্র: এই সময়

Back to top