হোম / কৃষি / গৃহপালিত পশু চাষ / গবাদি পশু ও মোষ / প্রাণী খাদ্য প্রস্তুতিকরণ
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

প্রাণী খাদ্য প্রস্তুতিকরণ

কি ভাবে করবেন গরুর খাদ্য ও ঘরোয়া প্রাণী খাদ্য প্রস্তুতিকরণ ? আলোচনা করা হোল এখানে।

প্রাণী পালনের শতকরা ৭০ ভাগ ব্যয় হয় প্রাণী খাদ্যের জন্য। সেজন্য গরুর কততা দিনে খাবার প্রয়োজন, বিভিন্ন খাদ্যের পুষ্টিগুণ, সবুজ ঘাসের প্রয়োজনীয়তা এবং তাদের সঠিক ভাবে ব্যবহার সন্মন্ধে জানা থাকলে দুধ উৎপাদন বাড়ে এবং ব্যায়ভার অনেকটা কমে জায়। অন্যদিকে অল্প খরচে গ-পুস্টি পূরণের প্রয়োজনে আমরা এলাকাভিত্তিক সহজলভ্য বিভিন্ন প্রকার প্রাণী খাদ্যের ব্যবহার করতে পারি।

গোখাদ্য

তন্তু জাতীয় খাদ্য (Roughage)

তন্তু জাতীয় খাদ্যে তন্তু বেশি থাকে, আমিষ কম থাকে এবং আয়তন অনেক বেশী। যেমন – ধান বা গমের খড়, শাকসবজি, মূলজাতীয় খাদ্য, চাষ করা সবুজ ঘাস (লুরসান, বারসীম, হাইব্রিড নেপিয়ার, গীনি ঘাস), গাছের পাতা।

দানা জাতীয় খাদ্য

দানা জাতীয় খাদ্য সুপাচ্য, পুষ্টিকর, দেহের প্রয়োজনীয় সবকটি উপাদান এই খাদ্যে বেশী থাকে। এই খাদ্যে বেশী শর্করা বা শ্বেতসার, প্রোটিন, ফ্যাট, খনিজ পদার্থ থাকে। যেমন- গম ভাঙ্গা, ভুট্টা, খুদ, ডালের খোসা, সরষে, তিল বাদাম খোসা ইত্যাদি।

খাদ্যে পুষ্টিকর পদার্থ

খাদ্য তালিকা তৈরি করতে গেলে খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণগুলি পুষ্টিকারক পদার্থ সম্পর্কে একটা জ্ঞান থাকা অতি অবশ্যয় প্রয়োজন। যে কোন প্রাণী খাদ্যে এরূপ ছয়টি পুষ্টিকারক পদার্থ থাকে।

  1. শর্করা বা শ্বেতসার জাতীয় খাদ্যঃ প্রাণীদেহে প্রয়োজনীয় শক্তির প্রধান উৎস কার্বোহাইড্রেড যা প্রধানত তন্তজাতীয় খাদ্য থেকে পাওয়া যায়।
  2. প্রোটিন জাতীয় পদার্থঃ দেহ গঠন দেহের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতির কাজে, সর্বোপরি দুধ উৎপাদনে প্রোটিনের ভূমিকা অনেক, ডালের খোসা, সরষে ও তিল এর খোল এই জাতীয় পদার্থের প্রধান উৎস।
  3. প্রাণীজ ফ্যাট জাতীয় পদারথঃ শক্তি উৎপাদনের জন্য খাদ্যের মধ্যে রাখা হয়।
  4. প্রাণীর শরীর রক্ষার ও অস্থির গঠনের জন্য খনিজ পদার্থের বিশেষ প্রয়োজন, প্রজনন ক্ষমতা বজায় রাখার জন্যও খনিজ পদার্থের উপযোগিতা রয়েছে। উদ্ভিদজ খাদ্যে এই খনিজ পদার্থ অল্প পরিমাণ থাকে প্রাণীর প্রয়োজনের তুলনায় কম। বাইরের থেকে প্রাণীর খাদ্যে খনিজ লবণ মেশানো হয়।
  5. ভিটামিনঃ দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য, বিভিন্ন রোগ ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজন। সবুজ তাজা গোখাদ্য – মোটা পাতা যুক্ত শাকসবজি যেমন – বাঁধাকপি, পুঁই ইত্যাদির মধ্যে ভিটামিন জাতীয় পদার্থ থাকে।
  6. জলঃ জল দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখা, দূষিত পদার্থকে দেহ থেকে বার করা ইত্যাদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যের পুষ্টিগুণ বাড়ানো যায়ঃ

  1. খড়ের গুনমান বাড়ানোর জন্য
    1. খড়কে কেটে জলে ভিজিয়ে খাওয়ালে খড়ের সুস্বাদুতা বাড়ে এবং কিছুটা গুনমান বাড়ে।
    2. ৪ কেজি ইউরিয়া ৩০ লিটার জলে গুলে ১০০ কেজি খড়ের গাদা দেওয়ার সময় অল্প অল্প করে ছিটিয়ে দিয়ে দু একজন লোক খড়ের গাদার উপর উঠে একটু চাপ দেবে যাতে ভিতরের হাওয়া বেরিয়ে যায়। তারপর পলিথিন দিয়ে চাপা দিতে হবে। ২১ দিন পর এই খড় খাওয়ানো যেতে পারে।

সাবধানতা

৬ মাসের কম বয়সের বাছুরকে খাওয়ানো চলবে না, পর্যাপ্ত পরিমাণ জলের ব্যবস্থা করতে হবে।

গ্রামে কিছু লতাপাতা, কচুরীপানা ইত্যাদিকে খুদ বা কুড়ো সাথে সিদ্ধ করে দিতে পারি এবং অদের কাছে সহজে গ্রহণীয় হয়।

সুষম খাদ্য কিভাবে পাবেন

এপিক বা অনেক সংস্থা সুষম খাদ্য তৈরি করে। কিনে নেওয়া যায় অথবা নিজেই তৈরি করতে পারেন।

সুষম খাদ্যের উপাদান পরিমাণ (প্রতি ১০০ কেজিতে)
ভুট্টা / গম /যব ২৫-৩৫ কেজি
বাদাম / তিল / সরষে ২৫-৩৫ কেজি
গমের ভুষি / চালের ভুষি ১০-১৫ কেজি
ডাল / মটর / ছোলা চুনী ৫-১০ কেজি
খনিজ লবন ২ কেজি
খাদ্য লবন ১ কেজি
ভিটামিন ২০-৩০ গ্রাম

খাবারের পরিমাণ

সাধারনত

তিনটি অবস্থায় গরুর খাবারের প্রয়োজন। যেমন শরীর রক্ষা, গর্ভধারণ ও দুধ উৎপাদন। প্রতিদিন একটি দেশী গরুর জন্য।

বিভিন্ন অবস্থা সুষম খাদ্য সবুজ খাদ্য বিচালি
শরীর রক্ষা ১-১.৫ কেজি পর্যাপ্ত পরিমান (১-৫) কেজি ৪ কেজি
দুধের জন্য

অতিরিক্ত ১ কেজি প্রতি

২.৫ কেজি দুধের জন্য

গর্ভাবস্থায় (৮ মাস ধরে) অতিরিক্ত ১.২৫ কেজি

নজর রাখা দরকার

  1. গরুকে প্রয়োজনের বেশী খাবার খাওয়ানো উচিৎ নয় এবং পচা বা নষ্ট খড় খাওয়ানো যাবে না। এতে শুধু স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় না গরুর দুধেও খারাপ গন্ধ হতে পারে।
  2. চাষ করা সবুজ ঘাস, খড় কেটে খাওয়ানো প্রয়োজন আছে সঙ্গে বানানো বা কেনা সুষম খাদ্যকে মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো হয়।
  3. নতুন কোন খাদ্য প্রথমে অল্প পরিমাণে দিয়ে শুরু করতে হবে। পরে পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। হঠাৎ করে কোন খাবারকে খাদ্যতালিকা থেকে পরিবর্তন করা ঠিক নয়, এতে হজমের ক্ষতি হতে পারে।
  4. সরষের খোল শুকনো না খাইয়ে একরাত্রি ভেজানো খোল খাওয়ানো উচিৎ।
  5. তৈরি খাবার ১ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উচিৎ, খাবার যেন পচা বা গুমা না হয়।

তথ্য ও লেখকঃ C. Jana, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, বর্ধমান, কেন্দ্রীয় পাট ও সহযোগী তন্তু অনুসন্ধান সংস্থা, (ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ), বুদ বুদ, বর্ধমান – ৭১৩৪০৩

3.04285714286
মোঃ ফরহাদ আলী Aug 22, 2019 08:59 AM

আমার দুটি বকনা গরু আছে (দেশী) এ থেকে আমি কিভাবে উন্নত জাতের গাভী অথবা ষাড় পাব

আলামিন Apr 24, 2019 05:05 PM

আমি নতুন খামার করতে চাই। কেমন গরু দিয়ে শুরুকটব

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
Back to top