হোম / কৃষি / নানা খবর / জাতীয় কৃষি বিপণন প্রকল্প উদ্বোধন
ভাগ করে নিন

জাতীয় কৃষি বিপণন প্রকল্প উদ্বোধন

জাতীয় কৃষি বিপণন প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ ।

জাতীয় কৃষি বিপণন প্রকল্পআমি দেশের কৃষকদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজকের এই জাতীয় কৃষি বিপণন প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে তাঁদের জীবনে বড় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আজ ডঃ বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী। আমি এক মাস আগেই সার্বজনিকভাবে ঘোষণা করেছিলাম যে, বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী দিবসেই e-NAM –এর উদ্বোধন করব। রাধামোহন সিং মহোদয় বলছিলেন যে, আমরা আরও আগে এটি শুরু করতে পারতাম, কিন্তু দেশের সকল রাজ্যকে এই প্রকল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না করলে এই উদ্বোধনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেত। আজও দেশের বেশ কিছু রাজ্যে বাজার সংক্রান্ত কোনও আইন নেই।

অনেকেই কৃষকদের নিয়ে অনেক কথা বলেন। কিন্তু বাস্তব এটাই যে, আজও দেশের বেশ কিছু রাজ্যে বাজার সংক্রান্ত কোনও আইন নেই। সেইসব রাজ্যের কৃষকদের প্রতারিত করা সহজ। আমি সেই রাজ্যগুলির নাম বলতে চাই না। আমি এই পূণ্য কর্ম করার সময় কোনও বিবাদে নাক গলাতে চাই না। শুধু সেই রাজ্য সরকারগুলির কাছে আমার আহ্বান যে, আপনারা দ্রুত বাজার সংক্রান্ত আইন তৈরি করুন। আর যে রাজ্যগুলিতে আইন রয়েছে, তাদেরকেও বলব, বিপণন ক্ষেত্রে এখন অনেক নতুন প্রযুক্তির আমদানি হয়েছে, সেসব প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুকূল আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আপনারা সেগুলি সম্পর্কে পর্যালোচনা করে নিজেদের আইনগুলি সংশোধন করে নিন, যাতে আপনার রাজ্যের কৃষকরাও e-NAM-এর সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

যদিও আমার ধারনা এই ২১টি রাজ্যের বাজারের খবর যখন e-NAM-এ আসতে শুরু করবে, তখন আপনারা নিজে থেকেই চাপে পড়ে যাবেন। আপনার রাজ্যের কৃষকরাই আপনাদের এই ধরনের আইন প্রণয়নে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে বাধ্য করবেন। আমাদের দেশে একেক রাজ্যে একেক রকম নিয়ম রয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রের চরিত্র ও উৎপাদনের বৈচিত্র্যেকর কারণেই এই নিয়মের পার্থক্য। কোথাও এক ধরনের ফসল বেশি উৎপন্ন হয় আবার অন্য রাজ্যে ভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো হয়। সেজন্য এই আইনের বিভিন্নতাকে আমি কোনও দোষ হিসেবে দেখি না। বাস্তব সমস্যাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। পাশাপাশি, কৃষকদেরও নিরাপত্তা দিতে হবে। কৃষিক্ষেত্র থেকে ১২-১৫-২০-২৫ কিলোমিটারের মধ্যে যে বাজার রয়েছে, সেই বাজারে যে মূল্য নির্ধারিত হয়, সেই দামেই কৃষককে তাঁর উৎপাদিত শস্য বিক্রি করতে হয়। সেই অর্থ দিয়েই সারা বছরের খরচ চলে। একবার কোনও বাজারে মাল নিয়ে যাবার পর ৫ টাকা কম-বেশির জন্য তাঁরা আনাজপাতি নিয়ে অন্য বাজারে যাওয়ার কথা কিংবা বাড়ি ফিরে আসার কথা ভাবতেও পারেন না। এভাবেই তাঁরা প্রতারিত হন।

এই প্রতারণা থেকে দেশের কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার জন্যই এই e-NAM-এর ব্যবস্থা। এতে কৃষকদের পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায়ী এবং উপভোক্তারাও উপকৃত হবেন। এমনকি দালালরাও লাভবান হবেন। এরকম প্রকল্প এদেশে আগে আসেনি।

আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য যে, কৃষি উৎপাদনে সময়ানুগ তথ্য কোথাও পাওয়া যায় না। কোথায় কোন আনাজপাতির উৎপাদন বেশি বা কম হয়েছে, সে সম্পর্কে সময়ানুগ তথ্য না পাওয়ার ফলে কৃষক থেকে শুরু করে উপভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যেকেই অন্ধকারে থাকেন। এই সমস্যা দূর করবে e-NAM। শুরুতে মাত্র ২৫টি আনাজপাতি e-NAM-এর মাধ্যমে বেচাকেনা করা সম্ভব হবে। আর এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কেবলমাত্র ২১টি বড় বাজার। কিন্তু, আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, অদূর ভবিষ্যতেই আড়াইশো’টি বাজার এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে। কারণ, কয়েকটি রাজ্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিকে এই প্রকল্পের সঙ্গে সার্থকভাবে যুক্ত করার কাজও এগিয়ে চলেছে। আনাজপাতির উৎকর্ষ সুনিশ্চিত করতে গবেষণাগার স্থাপিত হবে। এই গবেষণাগারগুলি আনাজপাতিকে বিভিন্ন গ্রেডে বিভক্ত করে শংসাপত্র দেবে। সেজন্য আনাজপাতির উৎকর্ষ নিয়ে কৃষকের সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ি, দালাল কিংবা উপভোক্তার বিবাদ থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

কেরলবাসী কোনও ব্যবসায়ী যদি পশ্চিমবঙ্গ থেকে চাল কিনতে চান, তা হলে অনলাইনে চালের উৎকর্ষের শংসাপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। উপভোক্তারাও অনলাইনে গিয়ে দেখতে পারবেন যে, কোন বাজারে কোন আনাজপাতির কি দাম। এভাবে সারা দেশে উৎপাদিত শস্য বিপণনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি ভারসাম্য আসবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিও দেশের উৎপাদন এবং বিপণনের যথাযথ তদারকি করতে পারবে। পরিবহণ ব্যবস্থা, গুদামজাত করার প্রক্রিয়া এবং এক গুদাম থেকে অন্য গুদামে আনাজপাতি পরিবহণ ব্যবস্থার মূল্যায়নও এই পোর্টালের মাধ্যমে সম্ভব হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এই প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেবে। দেশের কৃষি উৎপাদন ও বিপণনের ইতিহাসে আজকের দিনটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

এটা কত গুরুত্বপূর্ণ মোড় তা দেশের মানুষ সপ্তাহখানেকের মধ্যেই টের পাবেন। এত বড় বাজার খুলে গেলে প্রতিযোগিতাবাড়বে। ক্রেতাসাধারণ বেশি টাকা দিয়ে ভালো মানের আনাজপাতি কিনতে চাইবেন। বিক্রেতা খোঁজ করবেন, কোথা থেকে সস্তায় আনাজপাতি আমদানি করা যায়। শিলিগুড়ির বাজারে কোনও জিনিসের আমদানি বেড়েছে, কিন্তু আমেদাবাদে সেই জিনিসের চাহিদা বেশি। তখন আমেদাবাদের ব্যবসায়ী সরাসরি শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মাল আনতে চাইবেন। এভাবেই এই ব্যবস্থা দেশের ছোট ছোট মানুষের ক্ষমতায়নকে সুনিশ্চিত করবে। কেউ কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে না। এই চাপ গোটা দেশের সকল রাজ্যগুলিকে যথযথ আইন প্রণয়নে বাধ্য করবে। আর কিছুদিনের মধ্যেই দেশের সকল বাজার নিজের আগ্রহেই এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে। আমরা কৃষিকে খন্ডিত দৃষ্টিতে দেখি না, সেজন্য আমাদের মন্ত্রকের নামের সঙ্গেও আমরা ‘কৃষক কল্যাণ’ যুক্ত করেছি। আজ সৌর বিপ্লব শুরু হয়েছে। সকলের ধারণা এই সৌর বিপ্লব শুধু শিল্পপতিদেরই কাজে লাগবে। কিন্তু আমরা বলি, এই সৌর বিপ্লব কৃষি ক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত মানুষদের জন্যও।

কৃষক যদি সেচের জন্য সোলার পাম্প পায়, কৃষি ক্ষেত্রে সোলার প্যানেলের ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজেলের খরচ কমাতে পারে, তা হলে তাঁরাও অনায়াসে এই সৌর বিপ্লবে অংশীদার হয়ে উঠবেন। ধনী কৃষকেরা উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি কিনতে সক্ষম। কিন্তু, দেশের সার্বিক উৎপাদন বাড়াতে হলে আমাদের ছোট ছোট কৃষকদের ক্ষমতায়নের কথাও ভাবতে হবে। কেবলমাত্র বন্যার জলকে সেচের কাজে ব্যবহার করার যুগ চলে গেছে। আধুনিক কৃষি বিজ্ঞান ‘প্রতি জলবিন্দুর বিনিময়ে অধিক শস্য’ উৎপাদনের কথা বলে।

আমি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম তখন মাঝে মধ্যেই গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে এ ব্যাপারে অনেক কথা বলতাম। একটা কথা আমি প্রায়ই বলতাম যে, আপনার শিশু সন্তান অসুস্থ হলে তাকে কি এক বালতি দুধে কেশর, বাদাম, পেস্তা মিশিয়ে স্নান করাবেন, না কি চামচ দিয়ে একটু একটু করে ১০০ গ্রাম করে খাওয়াবেন? আপনার সন্তানের মতোই গাছকেও বেশি জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিতভাবে অল্প অল্প করে জল দিলেই গাছ সতেজ হয়। আমি দেখেছি যে, কৃষকরা যা দেখেন, তা-ই বিশ্বাস করেন, যা শোনেন, তা যাচাই না করে বিশ্বাস করেন না - এটা ভালো জিনিস। কিন্তু, প্রতিবেশী লালকৌটোর ওষুধ মিশিয়েছেন বলে, আপনাকেও তা মেশাতে হবে তার কোনও মানে নেই। প্রত্যেক মাটির প্রকৃতি ভিন্ন হয়। সেজন্য মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো মাটিরও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন। আমরা মাটির স্বাস্থ্য জানতে অনেকগুলি কৃষি গবেষণাগার স্থাপন করেছি। আর প্রত্যেক কৃষকের প্রতিটি জমির জন্য ‘মৃত্তিকা স্বাস্থ্য কার্ড’ চালু করেছি। কৃষি বিজ্ঞানীরা মাটি পরীক্ষা করে সেই মাটিতে কোন্‌ ফসলের উৎপাদন ভালো হবে অথবা কোন ধরনের ফসল উৎপাদনে কোন সার প্রয়োগ করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। কৃষক যদি তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষের কাজ করেন তা হলে দেখবেন, কত ভালো ফলন হয়। বিজ্ঞানের অনেক শক্তি, বিজ্ঞানের অনেক শক্তি। আমি পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশে দেখেছি, ফসল কাটার পর মাঠে যে খড় থাকে, সেগুলি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় - এটি পুরোনো পদ্ধতি। কারণ, আমরা জানতাম না যে, এই খড় কুচিকুচি করে কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে, মাটি আবার দ্রুত ফসল ধারণের উপযোগী হয়ে ওঠে।

আমি মনে করি, যে জিনিসের জন্য যে প্রাকৃতিক নিয়ম রয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করলে ভালো ফলনের পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষাও সুনিশ্চিত হয়। আমরা জানি যে, প্রতিটি কলাগাছ একবারই ফল দেয়। কলার কাঁদি কেটে নেওয়ার পর প্রত্যেক একর জমি থেকে কলাগাছগুলিকে সরানোর জন্য কৃষককে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করতে হতো। কৃষি বিশারদরা গবেষণা করে জানালেন যে, ঐ কলাগাছগুলি কেটে ঐ জমির মাটির নীচে বিছিয়ে দিলে ঐ মাটিতে ৯০ দিন জলসেচের দরকার হয় না। ঐ সময়ের মধ্যে ফলন হবে এরকম কোনও ফসলের চাষ করলে বিনা খরচে দেড়-দুই গুণ রোজগার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরকমই ছোট ছোট বিষয় আমাদের কৃষকরা জানতে পারলে, তাঁরা খুবই উপকৃত হবেন। আমাদের দেশে কোনও কারণে টোডরমল প্রথম কৃষিজমি পরিমাপের কাজ করেছিলেন। তৎকালীন সরকার ঘোষণা করেছিল যে, প্রতি ৩০ বছরে একবার অবশ্যই দেশের জমি পরিমাপের কাজ সম্পন্ন করা উচিৎ। কিন্তু, গত ১০০-১৫০ বছরে আমাদের দেশে এই পরম্পরা শিথিল হয়ে পড়েছে। কেন শিথিল হয়েছে জানি না! কৃষকরা নিজেদের স্বার্থে অগোছালোভাবে নিজেদের জমি পরিমাপ করে থাকেন। ক্ষেতের আল বাবদ কতটা জমি রাখা উচিৎ সে ব্যাপারেও দেশের সর্বত্র সমতা নেই। কোথাও ২ মিটার জমি রাখা হয় আবার অন্যত্র কম। এভাবে দেশের লক্ষ লক্ষ বর্গমিটার জমি অনুর্বর থেকে যায়।

আমরা মূল্যবান কাঠ উৎপাদনকারী বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে পারি। এতে বেড়া দেওয়ার খরচ বেঁচে যাবে আর ১৫-২০ বছর পর একেকটা গাছ বিক্রি করে কন্যার বিবাহ কিংবা সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারবেন। পাশাপাশি, দেশকেও আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য বেশি টাকা দিয়ে বিদেশ থেকে কাঠ আমদানি করতে হবে না। বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি আপনারা ওই ক্ষেতের আলে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সেচের কাজ ও বাড়ির প্রয়োজন মিটিয়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করেও অর্থোপার্জন করতে পারবেন। ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি রাজ্যে কৃষকদের সমবায় সমিতি বা কো-অপারেটিভ সোসাইটি বানিয়ে তাঁদের শস্য ক্ষেত্রে বসানো সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের অতিরিক্ত অংশ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলিকে বিক্রি করছে। আপনারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

গোটা বিশ্বে এখন মধুর খুব চাহিদা। আপনারা প্রত্যেকেই নিজেদের ক্ষেতের কোণায় মৌ-পালনের মাধ্যমে নিজেদের রোজগার বাড়াতে পারেন। দেখা গেছে, মৌমাছিরা ফলন বাড়ায়। মধু কয়েক বছর ঘরে থাকলেও নষ্ট হয় না। এভাবেই আরও কয়েকটি সরল প্রয়োগের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের রোজগার দ্বিগুণ করতে পারেন। সেগুলি হল – মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগী পালন, পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন। আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে এগুলি থেকেও আপনার রোজগার দ্বিগুণ হতে পারে। আজ আমাদের বিদেশ থেকে ডাল আমদানি করতে হয়। আমি দেশের কৃষকদের আহ্বান জানাবো যে, যেখানে মাটিতে জলের পরিমাণ কম, আপনারা অন্য কোনও চাষ না করে ডাল চাষ শুরু করুন। মুগ, ছোলা কিংবা অড়হর। এক্ষেত্রে ভারত সরকার আপনাদের সাহায্য করবে। সম্প্রতি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমীরশাহী সফরে গিয়ে সেখানকার রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য আমি দেশের কৃষকদের শোনাতে চাই। তাঁরা বলেছেন যে, “আমাদের দেশে বৃষ্টি হয় না, কৃষিযোগ্য জমি নেই, অথচ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রায় সকল উপসাগরীয় দেশের একই অবস্থা। আমরা সকলেই ভবিষ্যতে আনাজপাতির জন্য ভারতের মুখাপেক্ষী, আপনাদের থেকেই আমদানি করতে হবে”।

আজও আমাদের দেশে উৎপাদিত সবচেয়ে ভালো মানের চাল ঐ দেশগুলিতে রপ্তানি হয়। তার মানে আমরা যদি উৎপাদনে উৎকর্ষ আনতে পারি, তা হলে উপসাগরীয় দেশগুলি আমাদের দেশের কৃষি বিপণনের একটি বড় আন্তর্জাতিক মানের বাজার হয়ে উঠতে পারে। তারা অত্যাধুনিক গুদামঘর এবং হিমঘর নির্মাণের জন্য বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। অর্থাৎ, ভারতও কৃষি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের সিংহভাগ মেটাতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারে। সেজন্য আমরা এবারের বাজেটে গ্রাম, কৃষক এবং কৃষি-আধুনিকীকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।

ভারত সরকার কৃষিজাত সামগ্রীর প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন। কিন্তু, আমরা মনে করি, এই কৃষিজাত সামগ্রীর প্রক্রিয়াকরণ কৃষকের সামর্থ্যকে বাড়িয়ে দেবে। কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে টেকনোলজি সলিউশনের মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষকের উপার্জন অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য দেশের বাইরে থেকে বিনিয়োগ হলে কৃষকের সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে। কাঁচা আম বিক্রি করলে যত টাকা উপার্জন হয়, পেকে গেলে তার থেকে সামান্য বেশি উপার্জন হয়। কিন্তু, পাকার জন্য অপেক্ষা না করে কাঁচা আমকেই আচার বানিয়ে বিক্রি করলে আরও বেশি উপার্জন হয়। সেই আচার যদি সুদৃশ্য বোতলে প্যাক করে বিক্রি করা যায়, তা হলে আমদানি আরও বাড়ে। সেই বোতলের বিজ্ঞাপন যদি কোনও অভিনেতা বা অভিনেত্রী করেন তা হলে তার দাম আরও বেড়ে যায়। এই সামান্য উদাহরণের মাধ্যমে আমি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ভূমিকা বোঝানোর চেষ্টা করলাম। সম্প্রতি আমরা মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে কোকাকোলা কোম্পানির একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়েছি। ঐ পানীয় কোম্পানিগুলি আমাদের দেশে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে। আমি ঐ পেপসি আর কোকাকোলা কোম্পানিগুলিকে বলেছি, আপনাদের ৫ শতাংশ প্রাকৃতিক ফলের রস মেশাতেই হবে।

এভাবে আমরা পানীয়র উৎকর্ষ বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকের ফল বিক্রি সুনিশ্চিত করেছি। অন্যথা গাছ থেকে কমলালেবু তোলার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তা পচে যায়। কিন্তু, এর রস প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া যায়। আপেল, কলা কিংবা অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রেও একথা সত্য। এজন্য অনেক ভাবনাচিন্তা করে আমরা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই e-NAM-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে আমাদের কৃষকরা কোথায়, কবে, কত দাম দিয়ে তাঁর উৎপাদিত ফসল বিক্রি করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ক্রেতাদেরও সুবিধা হবে। আমি দেশের কৃষকদের আজ বাবাসাহেব আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী দিবসে শুভেচ্ছা জানাই। বাবাসাহেবের ‘দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়ন’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আজকের এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে পরিগণিত হবে। আমি কৃষি মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং বিভাগের সকল আধিকারিক ও কর্মীদের অন্তর থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। দেশের কৃষকদেরও অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজ আসামে নববর্ষ প্রতিপালিত হচ্ছে। বিহু উৎসবের প্রথম দিনে আমি আসামবাসীদের শুভেচ্ছা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সুত্রঃ পি আই বি

3.07692307692
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top