হোম / কৃষি / পোল্ট্রি চাষ / ব্রোওলার মুরগি / বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে কিছু পরামর্শ
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বার্ড ফ্লু প্রতিরোধে কিছু পরামর্শ

এ সময় বার্ড ফ্লু (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা) দেখা দিতে পারে। এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এর জীবাণু বার্ড ফ্লু আক্রান্ত হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখির মল, রক্ত ও শ্বাসনালীতে বাস করে। মানুষ ঘটনাচক্রে এ রোগে আক্রান্ত হয়।

সময় বার্ড ফ্লু (এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা) দেখা দিতে পারে। এটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। এর জীবাণু বার্ড ফ্লু আক্রান্ত হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখির মল, রক্ত ও শ্বাসনালীতে বাস করে। মানুষ ঘটনাচক্রে এ রোগে আক্রান্ত হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সংক্রমণই ঘটেছে তাদের যারা আক্রান্ত পাখি জবাই বা পালক ছাড়ানোর জন্য নাড়াচাড়া করেছে। আবার যেসব শিশু আক্রান্ত পাখি বা মৃত হাঁস-মুরগি নিয়ে খেলা করে তাদেরও এ রোগ হতে পারে। এ রোগটি সাধারণত শুরু হয় জ্বর-সর্দি-কাশির মাধ্যমে এবং পরে তা মারাত্মক নিউমোনিয়ার রূপ ধারণ করে, যার পরিণতি হচ্ছে মৃত্যু।

  • ১. খালি হাতে অসুস্থ বা অস্বাভাবিকভাবে মৃত হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখি ধরাছোঁয়া ও নাড়াচাড়া করা যাবে না।
  • ২. বাড়িতে রোগে আক্রান্ত হাঁস-মুরগি জবাই করা বা পালক ছাড়ানো অথবা নাড়াচাড়া করা যাবে না।
  • ৩. রোগে আক্রান্ত হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখি ধরাছোঁয়া ও সেগুলো নিয়ে খেলাধুলা করা থেকে শিশুদের বিরত রাখতে হবে।
  • ৪. হাঁস-মুরগি বা পশুপাখি ধরাছোঁয়ার পর ভালো করে সাবান বা ছাই এবং জল দিয়ে দুই হাত পরিষ্কার করে ধুতে হবে।
  • ৫. হাঁস-মুরগি বা পশুপাখি দেখাশোনা করার সময় কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিতে হবে। পশুপাখি নাড়াচাড়ার পর সে হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখে লাগানো যাবে না।
  • ৬. হাঁস-মুরগির মাংস ভালোভাবে রান্না করতে হবে। আধা সেদ্ধ মাংস, ডিম বা মাংসের তৈরি খাবার খাওয়া যাবে না।
  • ৭. বার্ড ফ্লু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে এমন স্থানে বা তার আশপাশে যারা বসবাস করে, তাদের জীবন্ত হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য পাখি ক্রয়-বিক্রয় বা জবাই করার স্থানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ৮. রোগে আক্রান্ত হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখির মল সার অথবা মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না।
  • ৯. যদি কোথাও হঠাত্ হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখি অস্বাভাবিক হারে মারা যায় তাহলে মৃত হাঁস-মুরগি এবং পাখি মাটিতে পুঁতে ফেলার সময় অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
  • ১০. হাঁস-মুরগি বা অন্যান্য পাখি ধরাছোঁয়ার পর যদি কেউ জ্বর-সর্দি-কাশি জাতীয় কোনো রোগে ভোগেন তবে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র/হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য যেতে হবে। রোগে আক্রান্ত বা মৃত হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসার বিষয়টিও তাদের জানাতে হবে।

মুরগির জটিল রোগ নির্ণয়ে দেশি পদ্ধতি

মুরগি পালন লাভজনক হলেও বিভিন্ন প্রকার রোগ এ লাভের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবছর বিভিন্ন রোগের কারণে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকা। তাছাড়াও রোগ নিরাময়, রোগ নির্ণয় করতে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ঔষধ আনতে হয়। মুরগির রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারলে তা নিরাময় করা সহজ হয়। কিন্তু এ রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রতিবছর বিদেশ থেকে আনা হয় বিভিন্ন কিট, যা অনেক ব্যয়বহুল। এগুলো ব্যবহার করে খুব কম সময়ে সহজে ও অতি অল্প খরচে নির্ভুলভাবে রোগ দুটি নির্ণয় করা সম্ভব।

মাইকোপস্নাজমসিস মুরগির আরেকটি মাইকোপস্নাজমাজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগেও খামারিরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মাইকোপস্নাজমা গোত্রভুক্ত চার ধরনের প্রজাতি দ্বারা মুরগি, তিতির ও অন্যান্য পাখির এ রোগ দেখা দেয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ রোগ নির্ণয়ের জন্য র্যাপিডএগেস্নাটিশন টেস্ট ব্যবহার করা হয়, যা আমদানি নির্ভর এবং তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ।

"BAU Path S-antigen kit" ও "BAU Path Mg-Antigen Kit" এর সংরক্ষণ ও ব্যবহার প্রণালীর স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত সালমোনিলা ও মাইকোপস্নাজমা হতে প্রস্তুতকৃত এন্টিজেনটি ৪০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। পরীক্ষাটি সম্পন্নের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে গস্নাস সস্নাইড, ড্রপার, সন্দেহযুক্ত মুরগির রক্তরস প্রয়োজন হয়। সস্নাইডের উপর বিশ মাইক্রোলিটার এন্টিজেন (BAU Path Mg-Antigen Kit) এবং সমপরিমাণ রক্তরস মেশানোর ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে খালি চোখে সুস্পষ্ট দানার উপস্থিতি দেখে রোগটি উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। এখানে উলেস্নখ্য যে, রক্তরস ও এন্টিজেন মেশানোর এক মিনিটের অধিকাল অপেক্ষা করলে ভুল ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেবলমাত্র এক মিনিটের মধ্যে সৃষ্ট দানা রোগটির উপস্থিতি নিশ্চিত করে।

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত কিটগুলো আমদানি নির্ভর ব্যয়বহুল এবং এই কিটগুলোর ব্যবহার কালে গাঢ় নীল রঙয়ের দ্রবণের মধ্যে অস্পষ্ট নীল দানা সৃষ্টি হয় বলে রোগ সনাক্তকরণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। অথচ উদ্ভাবিত কিটটি ব্যবহার করলে সস্নাইডে গোলাপী রঙয়ের দ্রবণের মধ্যে সুস্পষ্ট লালদানা সৃষ্টি হয় যা সহজেই খালি চোখে দেখা যায়।

সুত্র: পোর্টাল কনটেন্ট টিম

3.01234567901
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
Back to top