ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

তরমুজ

তরমুজ গ্রীষ্মকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। গরমে তরমুজ দেহ ও মনে শুধু প্রশান্তিই আনে না এর পুষ্টি ও ভেষজগুণ রয়েছে অনেক। প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে তরমুজে।

তরমুজ গ্রীষ্মকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। গরমে তরমুজ দেহ ও মনে শুধু প্রশান্তিই আনে না এর পুষ্টি ও ভেষজগুণ রয়েছে অনেক। প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে তরমুজে। রাতকানা, কোষ্ঠ-কাঠিন্য, অন্ত্রীয় ক্ষত, রক্তচাপ, কিডনিসহ নানা ধরনের অসুখ প্রতিরোধ করে। গরমের দিনে ঘামের সাথে প্রচুর লবণ ও জল বেরিয়ে যায়। তরমুজে প্রায় ৯৬ ভাগই জল এবং প্রচুর খনিজ লবণ থাকায় দেহে লবণ ও জলর ঘাটতি পূরণ করে। আসুন, আমরা জেনে নেই কীভাবে এই উপকারী ফলটি চাষ করতে হয়।

চাষের সময় ও জাত

মাঘ-ফাল্গুন হচ্ছে তরমুজ চাষের সময়। তবে হাইব্রিড জাতের বীজ গোটা ফাল্গুন মাস ধরে লাগানো যায়। আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় জাত হল সুগার বেবি। ওপেন পলিনেটেড গোলাকার সমান আকৃতির ঘন সবুজ আবরণের ঘন লাল অভ্যন্তর জাতটি বেশি চাষ হয়। চাষের পর তরমুজ সাধারণত আড়াই মাসের মাথায় ফলন দিয়ে থাকে। অন্যান্য যে জাতগুলো আছে তা হল আসাহি ইয়ামাতো, আধারি, পুষা বেদানা ইত্যাদি। হাইব্রিডজাতের মধ্যে সুগার এম্পায়ার, অমৃত, মিলন মধু, সুগার বেলে, ক্রিমসন সুইট, ক্রিমসন গ্লোরি, মোহিনী, আমরুদ ইত্যাদি। তবে সাগর এলাকায় পাটনাগরা এবং মধু এফ ওয়ান হাইব্রিড জাতটির চাষ বেশি হচ্ছে। পাটনাগরা জাতটি গোলাকৃতি সবুজ আবরণীর শাঁসালো লাল রঙের অভ্যন্তর। আকারে বড়, ৬ থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত হয়। তিন মাসে ফলন ওঠে। মধু জাতটি একটু লম্বাটে গোলাকার মাঝারি সবুজ আবরণে লম্বা দাগযুক্ত, মধ্যে গাঢ় লাল রঙের, মাঝে সরু বীজযুক্ত ফল। এই দু’টি জাতই জলদি, মাঝারি ও নাবি চাষের জন্য উপযুক্ত। উন্নতজাত কাঠাপ্রতি ১৫ গ্রাম ও হাইব্রিড জাত চাষের জন্য ৫ গ্রাম বীজ লাগবে। বিঘাপ্রতি মূল সার হিসেবে গোবর বা আবর্জনা পচা সার ৩০ ক্যুইন্টাল বা নিম খোল ২ ক্যুইন্টাল, সুজলা ২০ : ২০ : ২০ কেজি এবং মিউরেট অব পটাশ ৭ কেজি শেষ চাষের সময় জমির মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। পরিবর্তে ইপকো এনপিবে ১০ : ২৬ : ২৬ বিঘাপ্রতি ১৫ কেজি ইউরিয়া ৫ কেজি এবং আগে বলা গোবর সার বা নিম খোল দিতে হবে। তবে হাইব্রিড জাত চাষের জন্য মাদা তৈরির সময় সুফলা (১৫ : ১৫ : ১৫) বিঘাপ্রতি ৪৫ কেজি ও মিউরেট অব পটাশ ৩ কেজি মূল সার হিসেবে প্রয়োগ করা দরকার। ওই একই পরিমাণ সার বীজ বসানোর ২৫ থেকে ৩০ দিন পরে প্রয়োগ করতে হবে।

ভাল ফলন পেতে দরকার

তরমুজ চাষে ভাল ফলন পেতে হলে প্রথম থেকেই কয়েকটি বিষয়ের প্রতি নজর দেয়া দরকার। চাষের এলাকার উপযোগী এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী জাত নির্বাচন করতে হবে। শীত শীত থাকলে কম তাপমাত্রার জন্য মাদায় বীজ বুনে ফল আসা পর্যন্ত খড় চাপা দিয়ে মাচা গরম রাখতে হবে। প্রতি মাদায় ৩টি সমান চারা রেখে বাকি চারা তুলে দিতে হবে। মাদা থেকে মাদার দূরত্ব আড়াই ফুট এবং লাইন থেকে লাইন ৫ ফুট রাখা দরকার। তবে হাইব্রিড জাতের জন্য ৬ ফুট থেকে ৩ ফুট রাখা ভাল। চারা বের হওয়ার ২৫ ও ৪৫ দিনের মাথায় ফুল/ফল বৃদ্ধিকারক স্প্রে করলে ভাল হয়। উন্নতজাতের বীজ কাঠাপ্রতি দেড় ক্যুইন্টাল এবং হাইব্রিড জাতের চাষে ৩ থেকে ৪ ক্যুইন্টাল ফলন হবে।

তরমুজ চাষের পিছিয়ে পড়ার কারন

ভাল বীজের অভাব এবং নানা ধরনের পোকা-মাকড়ের আক্রমণের কারণে তরমুজ চাষ দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেক কৃষক। তরমুজ চাষে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হলে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে ক্ষেতে ওষুধ দিতে হবে। তরমুজ গাছ নোনাজল সহনশীল হওয়ার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে তরমুজের আবাদ ব্যাপকভাবে করা যেতে পারে।

বাজারে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে এখনই আগাম তরমুজ উঠে গেছে। দামও খুব চড়া। আগাম তরমুজ চাষ করলে কৃষক দারুণভাবে লাভবান হতে পারেন। কিন্তু এখনই চলছে তরমুজ চাষের সঠিক সময়। মৌসুমী ফল হিসেবে তরমুজ একটি লাভজনক কৃষিপণ্য হিসেবে বিবেচিত আমাদের দেশে।

সুত্র: বিকাশপিডিয়া টীম, পশ্চিমবঙ্গ

3.13888888889
মো: শামিম Jan 10, 2019 10:53 PM

ফুল/ ফল বৃদ্ধিকারক স্প্রেটা কি?

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top