ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বেগুন কীট নিয়ন্ত্রণ কৌশল

কোন ধরনের পোকা কী ভাবে ঠেকানো যায় সে সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে এখানে।

পোকা নিয়ন্ত্রণ

ফল, ডগা ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কজাল অরগানিজম – লিউসিনোডেস ওরবানোলিস

লক্ষণ

পোকার কিড়া/লেদা গাছের ডগা ও ফলের মধ্য ফুটো করে প্রবেশ করে ও খেতে শুরু করে। ফলে আক্রান্ত ডগা শুকিয়ে যায় আর গাছ ঝিমিয়ে পড়ে আর ফল পচে যায়। এই পোকার আক্রমণ বছরের সব সময়ে পরিলক্ষিত হয়, তবে বর্ষার সময়ে প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

প্রতিকার

রাসায়নিক ওষুধ ব্যবহার করলে মনোক্রোটাফস ৩৬% ১.৫ মিলি বা কারটাপ ৫০% ১ গ্রাম বা অ্যাসেকট ৭৫% ০.৭৫ গ্রাম বা কার্বোসালফান ২৫% (২ মিলি), ট্রাইয়াজোকস ৪০% বা প্রফিজোকস ৫০% ১ মিলি, ফিপ্রোলিন ৫% ১ মিলি, ল্যাম্বাডাসায়া হ্যালোথ্রিন ৫% ০.৫ মিলি ইত্যাদি যে কোনও একটি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে। কোনও রাসায়নিক ওষুধ পর পর ২–৩ বার স্প্রে করা উচিত নয়। প্রতি ক্ষেত্রে রাসায়নিক গ্রুপ পাল্টাতে হবে।

এ ছাড়া, জৈব কীটনাশকের মধ্যে বিটি (ক) প্রতি লিটার জলে ১ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করা যায়। নিমজাত জৈব রসায়ন ৫০০০ পি. পি. এম. ২ – ৩ মিলি/লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।

কাণ্ড ছিদ্রকারী মাজরা পোকা

কজাল অরগানিজম – ইউজোফেরা পার্টিসেল্লা

লক্ষণ

সাদাটে কিড়া কাণ্ড ছিদ্র করে ভিতরের অংশ খেয়ে ফেলে। আক্রান্ত অংশ ঝিমিয়ে পড়ে ও শুকিয়ে যায়, চারা অবস্থায় আক্রমণ হলে গাছ মারা যায়।

প্রতিকার

ফল ও কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার ন্যায়।

বাঘা পোকা বা পাতা ঝাঁঝরা পোকা

কজাল অরগানিজম – এপিলাখনা ভিজিনটিওকটো পাঙ্কাটাটা

লক্ষণ

বাদামি কিড়ার গায়ে কাঁটা থাকে এবং কালচে লাল রঙের পূর্ণাঙ্গ পোকার গায়ে কালো কালো দাগ থাকে। পূর্ণাঙ্গ এবং অপূর্ণাঙ্গ (গ্রাব) দুই দশাতে ক্ষতি করলেও গ্রাব অবস্থায় ক্ষতি বেশি করে। পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতা ঝাঁঝরা করে দেয়। সাধারণত ফুল ধরার আগেই আক্রমণের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

প্রতিকার

কার্বারিল ৫০% ২.৫ গ্রাম বা আয়োডাকার্ব ৭৫% ১ গ্রাম বা ডাউক্লোরোওস ৭৬% ০.৭৫ মিলি, ম্যালাথিয়ন ৫০% ২.০ মিলি জাতীয় রাসায়নিক ওষুধ প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

এ ছাড়াও নিমজাত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সবুজ শোষক পোকা

কজাল অরগানিজম – আমরাসিয়া বিগুত্তুলা ও হিশিমোনাস ফাইসিটিস

লক্ষণ

পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ (গ্রাব) উভয় দশাতেই এরা পাতার রস চুষে খায়। আক্রান্ত পাতার কিনারা বরাবর হলুদ হয়ে যায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই মাসের মধ্যে প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

প্রতিকার

রাসায়নিক ওষুধের মধ্যে মনোক্রোটোফস ৩৬% ১.৫ মিলি বা ফিপ্রোনিল ৫% ১ মিলি বা ডাইমিথোয়েট ৩০% ২ মিলি বা মিথাইল ডিমেটন ২৫% ২ মিলি বা অ্যাসিফেট ৭৫% ০।৭৫ গ্রাম বা ডেল্টামোথ্রিন + টাইজোফস ১.৫ মিলি বা ইমিডাক্লো ১৭.৮% ১- ০.৭৫ মিলি ইত্যাদি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

সাদা মাছি

কজাল অরগানিজম – বেনিসিয়া টাবিসাই

লক্ষণ

পূর্ণাঙ্গ ও অপূর্ণাঙ্গ পোকা গাছের রস শুষে খায়। ফলে আক্রান্ত অংশ হলদেটে হয়ে কুঁকুড়ে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

প্রতিকার

সবুজ শোষক পোকার ক্ষেত্রে যে ভাবে রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়, এ ক্ষেত্রেও সে ভাবে।

এ ছাড়া জৈবিক নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতি গাছে ২টি করে ক্রাইসোপারলার গ্রাব ছাড়তে হবে। এ ছাড়া নিমজাত ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

দুয়ে পোকা

কজাল অরগানিজম – ব্রেভেনিয়া রেহি

লক্ষণ

নরম ও সাদা তুলোর মতো দেখতে এই পোকা পাতার নীচের দিকে এবং শাখা-প্রশাখাতে দেখা যায়। এরা রস চুষে খায়। আক্রান্ত পাতা হলদেটে হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে যায়।

প্রতিকার

রাসায়নিক ওষুধ হিসাবে মনোক্রোটোফস ৩৬% ১.৫ মিলি বা ফিপ্রোলিন ৫% ১ মিলি বা ডাইমিফেয়েট ৩০% ২ মিলি বা অ্যাসিফেট ৭৫% ০.৭৫ গ্রাম বা ম্যালাইথয়ন ৫০% ২ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

এ ছাড়া জৈবজাত নিমঘটিত কীটনাশক ৫০০০ পি পি এস ৩০০ মিলি প্রতি লিটার জলে গুলে ৫ দিন অন্তর ২ – ৩ বার স্প্রে করলে আক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

লাল মাকড়

কজাল অরগানিজম – টেটরানাইকাস লুডেনি

লক্ষণ

সাধারণত গ্রীষ্মকালে এদের আক্রমণের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। হালকা জালের মধ্যে খুব ছোট ছোট লাল রঙের মাকড় পাতার তলায় থেকে রস চুষে খায়। আক্রান্ত পাতা ফ্যাকাসে ও বিবর্ণ হয়ে যায়।

প্রতিকার

রাসায়নিক ওষুধের মধ্যে সালফার গুঁড়ো ৮০% ৪ গ্রাম বা ফেনাজাকুইন ৫০% বা ইথিয়ন ৫০% ২ মিলি বা প্রিফেনাকস ৫০% 0.75 মিলি ইত্যাদি প্রতি লিটার জলে গুলে স্প্রে করতে হবে।

শিকড় ফোলা বা নিমাটোড

কজাল অরগানিজম – মেলোয়ডোজাইনে ইনকগনিটা আর মেলোয়ডোজাইনে জাভানিকা

লক্ষণ

উপরোক্ত দু’টি জাতের নিমাটোডের আক্রমণে এই শিকড় ফোলা প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। পাতা হলুদ হয়ে ওপরে গাছ মরে যায়। পরবর্তীতে শিকড় দিয়ে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়।

প্রতিকার

পরিচর্যাগত বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। প্রথমত, টমেটো, লঙ্কা, বেগুন ও কুমড়ো জাতীয় সবজি চাষ করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, নিমখইল জমিতে ব্যবহার করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, দানাদার কীটনাশক ৩% ৪৫ কেজি/হেক্টের প্রয়োগ করা যেতে পারে।

রোগ নিয়ন্ত্রণ

পাতা ও ফল পচা

কজাল অরগানিজম – ফোমপসিস ভেক্সাউস

লক্ষণ

এটি প্রধানত বীজবাহিত এবং মাটি থেকেও সংক্রমিত হয় মারাত্মক ছত্রাক জীবাণুর মাধ্যমে। ফুল আসার সময় থেকে শুরু হয় এবং ফল ধরার শুরুর সময়ও পরিলক্ষিত হয়। নীচের দিকের পাতায় খয়েরি রঙের নানা আকৃতির দাগ দেখা যায় এবং পরে পাতা শুকিয়ে যায় এবং ফলের গায়েও এই রোগ দেখা যায়। ফল ক্রমশ পচে যায় এবং অকালে ঝরে পড়ে।

প্রতিকার

বীজ শোধন ও চারা শোধন অবশ্যই প্রয়োজন। কার্বাডেজিম ৫০% ২.০ গ্রাম অথবা কার্বাওজিম ১২% + ম্যাঙ্কোজেব ৬৩% ৪.০ – ৫.০ গ্রাম প্রতি কেজি বীজের জন্য। এ ছাড়া, রোগ দেখা গেলে উপরোক্ত ওষুধ ছাড়াও কপার অক্সিক্লোরাইড ৫০% ৪–৫ গ্রাম/লিটার জলে গুলে ১০–১৫ দিন অন্তর ২ বার স্প্রে করতে হবে।

ছত্রাকজনিত গোড়া পচা

কজাল অরগানিজম – স্ক্লেরোটিয়াস রোফসিয়াস, ফুসারিহা এসপি, ভেনটিসিলিয়াম এসপি, রিজোকটোনিয়া এসপি

লক্ষণ

আক্রান্ত গাছ নীচের দিক থেকে ঢলে পড়ে। পাতা ঝরে পড়ে এবং সম্পূর্ণ গাছ শুকিয়ে যায়। গাছের গোড়া লম্বালম্বি ভাবে চিরে ফললে ভেতরের অংশে বাদামি বা কালো রঙের দাগ দেখা যায়।

প্রতিকার

২–৩ বছর এই জাতীয় ফসলের চাষ বন্ধ করতে হবে। জৈব সার বেশি করে দিতে হবে। ট্রাইকোডারমা ভিরিডি ২ কেজি, ১০০ কেজি জৈব সারের সাথে মিশিয়ে ৭–১০ দিন রেখে এক একর জমিতে ছড়ানো যাবে। ট্রাইকোডারমা ভিরিডি ৪ গ্রাম/কেজি অথবা ওমটাল্যাবিক্সল ৩৫% ৬গ্রাম/কেজি দিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। এ ছাড়া, ক্যাবডাজিম ১ গ্রাম/লি বা ক্যাপটান/ ম্যানকোজের ২.৫ গ্রাম/লিটার জলে গুলে মাটি ভালো ভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে।

ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ঢলে পড়া

কজাল অরগানিজম – এমএলও মাইকোপ্লাজমা ঘটিত রোগ ।

লক্ষণ

প্রথমে কচি পাতা ফ্যাকাশে হলুদ হয়ে যায়। বড় পাতার কোলে একগুচ্ছ ছোট পাতা দেখা যায়। গোটা গাছে মাথায় ভীষণ ছোট ছোট পাতায় ভরে যায়। গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং আক্রান্ত গাছে ফুল ফল প্রায় ধরেই না।

প্রতিকার

জমিতে আক্রমণ দেখা গেলে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে নষ্ট করে দিতে হবে। এক ধরনের চোষক পোকা এই রোগের বাহক। এ জন্য ওই পোকা দমনের জন্য সর্বাঙ্গবাহী যে কোনও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সূত্র

  1. পোর্টাল কনটেন্ট টিম
2.85185185185
রুবেল আহম্মেদ Jun 22, 2016 10:31 AM

১: আমার বেগুন গাছের কচি ডগার ভীতর সাদা পোকা ধরেছে এর কারনে কচি ডগা ঢলে পরছে।
২: বেগুনে পোকা ধরেছে
৩: ফলন কম হচ্ছে
৪: গাছের ফুল ঝরে পরছে

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top