ভাগ করে নিন

ধান

ধান সাধারণত একবর্ষজীবি উদ্ভিদ, কোন কোন অঞ্চলে বিশেষ করে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে ধান দ্বি-বর্ষজীবি উদ্ভিদ হিসেবে চাষ করা হয়। ধানকে ৩০ বছর পর্যন্ত চাষ করা যায়। ধানের বৃদ্ধি ও উৎপাদন অনেকসময় মাটির উর্বরতার উপর নির্ভর করে থাকে।

ধান (বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa, Oryza glaberrima ) Graminae/Poaceae গোত্রের দানাশস্যের উদ্ভিদ । ধান উষ্ণ জলবায়ুতে, বিশেষত পূর্ব-এশিয়ায় ব্যাপক চাষ হয়। প্রাচীন চীনা ভাষার Ou-liz শব্দটি আরবিতে Oruz ও গ্রিক ভাষায় Oryza হয়ে শেষে Ritz Rice হয়েছে। ধান বা ধান্য শব্দের উৎপত্তি অজ্ঞাত। ধানবীজ বা চাল সুপ্রাচীনকাল থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রধান খাদ্য। চীন ও জাপানের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ১০,০০০ বছর আগে ধান চাষ শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। ব্যাপক অভিযোজন ক্ষমতার দরুন ধান উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, এমনকি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৬০০ মিটার উচ্চতায়ও (জুমলা, নেপাল) জন্মায়। বাংলাদেশে আউশ, আমন এবং বোরো এই তিন মৌসুমে ধান চাষ করা হয়।

ধান সাধারণত একবর্ষজীবি উদ্ভিদ, কোন কোন অঞ্চলে বিশেষ করে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে ধান দ্বি-বর্ষজীবি উদ্ভিদ হিসেবে চাষ করা হয়। ধানকে ৩০ বছর পর্যন্ত চাষ করা যায়। ধানের বৃদ্ধি ও উৎপাদন অনেকসময় মাটির উর্বরতার উপর নির্ভর করে থাকে।

ধান গাছ সাধারণত ১-১.৮ মিটার (৩.৩-৫.৯ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা সরু, লম্বা আকৃতির হয়। পাতা ৫০-১০০ সে.মি. (২০-৩৯ ইঞ্চি) পর্যন্ত লম্বা ও ২-২.৫ সে.মি. (০.৭৯-০.৯৮ ইঞ্চি) প্রশস্ত হয়ে থাকে। সাধারণত বায়ুর সাহায্যে এর পরাগায়ন হয়ে থাকে। পুষ্পমঞ্জরীতে ফুলগুলো শাখান্বিত অবস্থায় উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সাজানো থাকে। এক একটি পুষ্পমঞ্জরী ৩০-৫০ সেমি (১০-২০ ইঞ্চি) লম্বা হয়ে থাকে। বীজকে খাবার হিসেবে খাওয়া হয়, একে শষ্য বলা হয়। বীজ সাধারণত ৫-১২ মি.মি. লম্বা ও ২-৩ মি.মি. পুরু হয়ে থাকে। [১]

যেসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি কিংবা নিচু জমি, সেসব অঞ্চলে ধান ভালো হয়। পাহাড় কিংবা পাহাড়ের ঢালেও এর চাষ হয়ে থাকে। ধান চাষ অত্যন্ত শ্রমনির্ভর। অনেক শ্রমিক প্রয়োজন হয়, এ কারণে যেসব এলাকায় শ্রমিক খরচ কম সেসকল অঞ্চলে ধান চাষ করা সহজ। এর মাতৃ উদ্ভিদের বাসস্থান এশিয়া এবং আফ্রিকা।

ধান চাষ করতে হলে প্রথমে বীজতলা তৈরী করতে হয়, সেখানে বীজ ছিটিয়ে রেখে কয়েকদিন সেচ দিতে হয় তারপর ছোট চারা তৈরী হলে সেগুলোকে তুলে প্রধান জমিতে রোপন করা হয়। তাছাড়া সরাসরি বীজ প্রধান জমিতে ছিটিয়েও চাষ করা হয়। ধান চাষে প্রচুর পানির দরকার হয়। গাছের গোড়ায় অনেকদিন পর্যন্ত পানি জমিয়ে রাখা হয়। সাধারণত নল তৈরী করে, আইল বানিয়ে পানি ধরে রাখা হয়। আগাছা, রোগবালাই ও পোকামাকড় এর কারণে ধানের উৎপাদন কমে যেতে পারে। ধাড়ি ইঁদুর ধানের অন্যতম প্রধান শত্রু। সাধারণত জমিতে পানি আটকে রেখে আগাছাসহ এর উৎপাত কমানো যেতে পারে।

ধান থেকে উৎপন্ন দ্রব্যকে চাল বলে। এই চাল থেকে তৈরী হয় ভাত যা বাঙ্গালীর প্রধান খাদ্য।

পরিচ্ছেদসমূহ

বাংলাদেশে ধানের মৌসুম

চাষের সময়ের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশের ধানকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। এই প্রধান তিনটি ভাগ হল আউশ, আমন ও বোরো।

আউশ ধান

দ্রুত (আশু) ফসল উৎপন্ন হওয়ার বিচারে এই ধানের নাম করা হয়েছে আউশ। এই ধান সাধারণত জন্মে বর্ষাকালের আষাঢ় মাসে। এই কারণে এর অপর নাম আষাঢ়ী ধান। তবে এই ধান বৎসরের যে কোন সময়েই চাষ করা যায়। বাংলাদেশে আউশ ধানের যে নামগুলো পাওয়া যায়, তা হল- আটলাই, কটকতারা, কুমারী, চারনক, দুলার, ধলাষাইট, ধারাইল, পটুয়াখালী, পশুর, পানবিড়া, পাষপাই, পুখী, মরিচবেটি, হরিণমুদা, হাসিকলমি, সূর্যমুখ, শনি, ষাইটা, ভইরা, শঙ্ক পটি, কালা বকরি, খাড়াজামড়ি, মুলকে আউশ, কালামানিক, ভাতুরি ইত্যাদি।

আমন ধান

সংস্কৃত হৈমন' বা হৈমন্তিক' শব্দের অপভ্রংশ। ধান বিশেষ। এর অপর নাম আগুনী ও হৈমন্তিক। আমন মৌসুমে সবচেয়ে বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়।[৪] আমন ধান তিন প্রকার। যথা

১. রোপা আমন : চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা রোপণ করে এই ধান উৎপন্ন হয় বলে এর এরূপ নাম। রোপা আমন জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাসে বীজ তলায় বীজ বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপা কার হয় এবং অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে ধান কাটা হয়।

২. বোনা আমন : এই আমন ছিটিয়ে বোনা হয়। বোনা আমন চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাঠে বীজ বপন করা হয় এবং অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটা হয়। একে আছড়া আমনও বলে।

৩. বাওয়া আমন : বিল অঞ্চলে এই আমন উৎপন্ন করা হয়। একে এই কারণে গভীর পানির বিলে আমনও বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। এবং প্রতিটি প্রজাতির ধানের স্থানীয় নাম রয়েছে। যেমনইন্দ্রশাইল, কাতিবাগদার, ক্ষীরাইজালি, গদালাকি, গাবুরা, চিংড়িখুশি, চিটবাজ, জেশোবালাম, ঝিঙ্গাশাইল, ঢেপি, তিলককাচারী, দাউদিন, দাদখানি, দুদলাকি, দুধসর, ধলা আমন, নাগরা, নাজিরশাইল, পাটনাই, বাঁশফুল, বাইশ বিশ, বাদশাভোগ, ভাসা মানিক, মালিয়াডাক্র, রাজাশাইল, রূপশাইল, লাটশাইল, হাতিশাইল ইত্যাদি।

বোরো ধান

বোরো ধান প্রধানত সেচ নির্ভর। কার্তিক মাস থেকে বীজ তলায় বীজ বপন শুরু হয়। ধান কাটা চলে বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য পর্যন্ত। উচ্চ ফলনশীল বোরো ধান প্রবর্তনের পর থেকে ধান আবাদ তথা সমুদয় কৃষি ব্যবস্থার মস্তবড় একটা পরিবর্তন এসেছে। ফলে একদিকে যেমন আউশ ধানের আবাদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে, তেমনি রবি মৌসুমে প্রচলিত ফসল যেমন ডাল, তৈল বীজ, শাক সবজি, ফলমূল, গোলআলু, মসলা ইত্যাদির আবাদ কমে এসেছে। তবে বসন্তকালে এই ধান জন্মে বলে একে বাসন্তিক ধান বলা হয়। এই জাতীয় ধানের নামগুলো হলো- আমন বোরো, খৈয়াবোরো, টুপা, পশুশাইল, বানাজিরা, বোরোবোরো ইত্যাদি।

ফসল সংগ্রহ

অধিকাংশ জাতের ধান পেকে গেলে হলুদ কিংবা হালকা সোনালী বর্ণ ধারণ করে। এরূপ হলুদ বর্ণে পরিণত হলে বুঝতে হবে ধান কাটার সময় হয়েছে।

ধানের প্রক্রিয়াজাতকরণ

ধান কাটার পর সাধারণ একে রোদে শুকানো হয়। রোদে শুকিয়ে এর বীজের আর্দ্রতা কমিয়ে আনা হয় যেনো একে গোলাজাত করার পর কোন ছত্রাক জাতীয় রোগ আক্রমণ করতে না পারে কিংবা যেনো পঁচে না যায়। এরপর একে ঢেঁকির সাহায্যে কিংবা মাড়াইকরণ যন্ত্রের সাহায্যে এর খোসা ছাড়ানো হয়। এ পদ্ধতিকে ইংরেজীতে বলা হয় হাস্কিং। এরপর একে কুলোর সাহায্যে ঝেড়ে বাছা হয়। এই প্রক্রিয়ার পরই পাওয়া যায় চাল। [৫]

রান্না

সাধারণত চালকে সেদ্ধ করলে তা ভাতে পরিণত হয়। পানির সাথে চালকে মিশিয়ে তা আগুনে সেদ্ধ করলজন্তা প্রয়োজনীয় পানি শোষন করে ফেঁপে যায় এবং আরোও আঠালো হয়ে উঠে। সেটাকেই ভাত বলা হয়। এশিয়া এবং আফ্রিকার কিছু দেশে রাইস কুকারের সাহায্যে ভাত রান্না করা হয়। ভেজে রান্না করা হলে সেটা তুলনামূলক ভাবে কম আঠালো হয়। একে ফ্রাইড রাইস বলে।

ধান থেকে তৈরীকৃত খাদ্য

ধান থেকে সাধারণত ভাত, মুড়ি, খই, চালের গুঁড়ো, চালভাজা, চিঁড়ে এবং বিভিন্ন রকম পিঠা তৈরি করা হয়। চালের ভাঙা টুকরোকে খুদ বলা হয়। আগে গরীব মানুষ অনেকসময় খাদ্য হিসেবে খুদ ব্যবহার করত। এখন অবশ্য গোখাদ্য হিসেবেই এর ব্যবহার বেশি হয়। আজকাল ধান থেকে উন্নত মানের তেল তৈরি করা হয়৷

ধানের পুষ্টিগুণ

উপাদান

পরিমাণ ( ১০০ গ্রামে )

পানি

১২

কার্বোহাড্রেট

৮০

শক্তি

১৫২৮ কিলোজুল

আমিষ

৭.১

স্নেহ

০.৬৬

আঁশ

১.৩

চিনি

০.১২

এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত উন্নত প্রজাতির ধান বেশির ভাগই আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিজ্ঞানীরা

ধানের জাত

বৈশিষ্ট্য

বি আর ১ (চান্দিনা)

১৯৭০ সালে ধানের প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এর সময়কাল ১২০/১২৫ দিন। শস্যের আকৃতি মোটা ও ছোট। সাধারনত আউশ ও বোরো মৌসুমে হয়ে থাকে।প্রতি হেক্টরে ৪টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে।

বি আর ২ (মালা)

১৯৭১ সালে প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। এটি আউশ বোরো মৌসুমে হয়ে থাকে। এর সময়কাল ১২৫-১৬০ দিন। ৪ টন (প্রতি হেক্টরে) ফলন দিয়ে থাকে।

বি আর ৩ (বিপ্লব)

১৯৭৩ সালে প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এটি আউশ, আমন ও বোরো তিন মৌসুমেই হয়ে থাকে। সময়কাল ১৩০ থেকে ১৭০ দিন। প্রতি হেক্টরে ৪ থেকে ৬.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। এটি একটি উচ্চ ফলনশীল ধান

বি আর ৪ (ব্রিশাইল)

১৯৭৫ সালে প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এর সময়কাল ১৪৫ দিন, প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। এটা সাধারনত আমন মৌসুমের ধান। এটি একটি আলোক সংবেদনশীল ধানের জাত।

বি আর৫ (দুলাভোগ)

১৯৭৬ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ৫ টন পর্যন্ত (প্রতি হেক্টরে) এর গড় ফলন। সময়কাল ১৫০ দিন। আমন মৌসুমের ধান। স্থানীয় বাদশাভোগ ধান থেকে বিশুদ্ধ সারি বাছাইকরণ পদ্ধতিতে এই ধানের উদ্ভব। এই ধানের সুগন্ধ আছে বিধায় পোলাও রান্নার জন্য উপযোগী। আলোক সংবেদনশীল জাত। নাবীচাষের জন্য উপযুক্ত।

বি আর৬

১৯৭৭ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ৪.৫-৫.৫ টন গড় উৎপাদন (প্রতি হেক্টরে)। সময়কাল ১১০ থেকে ১৪০ দিন পর্যন্ত। আউশ ও বোরো মৌসুমের ধান

বি আর ৭ (ব্রি বালাম)

১৯৭৭ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ৪.৫-৫.৫ টন গড় উৎপাদন (প্রতি হেক্টরে)। সময়কাল ১২৫ থেকে ১৫৫ দিন পর্যন্ত। আউশ ও বোরো মৌসুমের ধান

বি আর ৮ (আশা)

আউশ ও বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৭৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১২৫ থেকে ১৬০ দিন এর সময়কাল। ৫ থেকে ৬ টন পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ফলন দিয়ে থাকে।

বি আর ৯ (সুফলা)

আউশ ও বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৭৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১২৫ থেকে ১৫৫ দিন এর সময়কাল। ৫ থেকে ৬ টন পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে ফলন দিয়ে থাকে।

বি আর ১০ (প্রগতী)

১৯৮০ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমন মৌসুমের ধান। ১৫০ দিন এর সময়কাল। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫.৫ টন ফলন দিয়ে থাকে। আন্ন্তর্জাতিক ফলন প্রতিযোগীতায় এই ধান শীর্ষস্থান অধিকার করে আছে। আলোকসংবেদনশীল জাত, হাটুপানিতেও রোপন করা যায়।

বি আর ১১ (মুক্তা)

বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় জাত। ১৯৮০ সালে স্বীকৃতি পায়। আমন মৌসুমের ধান। ১৪৫ দিন এর সময়কাল। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫.৫ টন ফলন দিয়ে থাকে।

বি আর ১২ (ময়না)

১৯৮৩ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আউশ ও বোরো মৌসুমের ধান। ১৩০ থেকে ১৭০ দিন পর্যন্ত এর সময়কাল। ৪.৫ থেকে ৫.৫ টন (প্রতি হেক্টরে) এর ফলন হয়ে থাকে।

বি আর ১৪ (গাজী)

আউশ ও বোরো মৌসুমে চাষের জন্য ১৯৮৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড এর অনুমোদন লাভ করে থাকে। ১৫৫ থেকে ১৬০ দিন পর্যন্ত এর সময়কাল। ৫.৫ থেকে ৬.৫ টন পর্যন্ত (প্রতি হেক্টরে ) এর ফলন।

বি আর ১৫ (মোহিনী)

আউশ ও বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৮৩ সালে চাষের জন্য অনুমোদন লাভ করে। ৫ থেকে ৫.৫ টন প্রতে হেক্টরে এর ফলন হয়ে থাকে। ১২৫ থেকে ১৬৫ দিন পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।

বি আর ১৬ (শাহী বালাম)

ইরি থেকে এ ধানের প্রবর্তন। এটি বোরো মৌসুমের ধান। এর জীবনকাল ১৫৫ থেকে ১৬০ দিন। ১৯৮৩ সালে চাষের জন্য অনুমোদন লাভ করে। ৫.৫ থেকে ৬.৫ টন পর্যন্ত (প্রতি হেক্টরে) এর ফলন হয়ে থাকে।

বি আর ১৭ (হাসি)

প্রধানত হাওর এলাকার ধান। জীবনকাল ১৫৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬ টন। বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৮৫ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ১৮ (শাহজালাল)

প্রধানত হাওর এলাকার ধান। জীবনকাল ১৭০ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬ টন। বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৮৫ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ১৯ (মঙ্গল)

প্রধানত হাওর এলাকার ধান।জীবনকাল ১৭০ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬ টন। বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৮৫ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ২০ (নিজামী)

আউস মৌসুমের ধান। মাঝারি মোটা। জীবনকাল ১১৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৩.৫ টন। ১৯৮৬ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ২১ (নিয়ামত)

আউস মৌসুমের ধান। মাঝারি মোটা। জীবনকাল ১১০ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৩ টন। ১৯৮৬ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ২২ (কিরণ)

আমন মৌসুমের ধান। খাটো মোটা, সাদা। জীবনকাল ১৫০ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৫ টন। ১৯৮৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ২৩ (দিশারী)

আমন মৌসুমের ধান। লম্বা চিকন, সাদা। জীবনকাল ১৫০ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৫.৫ টন। ১৯৮৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বি আর ২৪ (রহমত)

১৯৯২ সালে বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন পায়। বৃষ্টিবহুল অঞ্চলের জন্যে উপযোগী। চাল লম্বা চিকন ও সাদা। ৩.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। জাতটির জীবনকাল ১০৫ দিন। আউশ জাতের ধান।

বি আর ২৫ (নয়া পাজাম)

এ ধানের কান্ড খুব মজবুত। বন্যায় বা বাতাসে হেলে পড়েনা। ১৯৯২ সালে এ জাতের উদ্ভব ঘটে। আমন মৌসুমের ধান। ফলন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন। জীবনকাল ১৩৫ দিন।

বি আর ২৬ (শ্রাবণী)

রোপা আমন মৌসুমের জন্য অনুমোদিত একটি জাত। ১৯৯২ সালে এ জাত স্বীকৃতি পায়। রোপা আউশের প্রথম জাত এটি। কান্ড শক্ত তাই হেলে পড়েনা। হেক্টর প্রতি ৪ টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। জীবনকাল ১১৫ দিন।

ব্রি ধান ২৭

আউশ মোসুমের ধান। ১৯৯২ সালে এ জাতের স্বীকৃতি হয়। ১১৫ দিন জীবনকাল। লম্বা ধান গাছের জাত এটী। বরিশাল পটুয়াখালী অঞ্চলের জোয়ার-ভাটা এলাকায় চাষের উপযোগী। হেক্টর প্রতি ৪ টন ফলন দিয়ে থাকে।

ব্রি ধান ২৮

বোরো মৌসুমে চাষোপযোগী। ১৯৯৪ সালে স্বীকৃতি পায়। এটি একটি আগাম জাতের ধান। বন্যা প্রবন এলাকার জন্য উপযোগী। ১৪০ দিন ব্যাপ্তিকাল। ৫.৫-৬ টন এর হেক্টরপ্রতি ফলন।

ব্রি ধান ২৯

বোরো মৌসুমের ধান। এটি একটি উচ্চফলনশীল ধান। ১৯৯৪ সালে স্বীকৃতি পায়। ১৬০ দিন এর ব্যাপ্তিকাল। জীবনকাল ১৬০ দিন। [৮]

ব্রি ধান ৩০

১৯৯৪ সালে এ জাতটির উদ্ভাবন হয়। আমন মৌসুমের ধান, এর আলোকসংবেদনশীলতা রয়েছে। এর ব্যাপ্তিকাল ১৪৫ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫ টন

ব্রি ধান ৩১

আমন মৌসুমের ধান। সংকরায়নের মাধ্যমে ১৯৯৪ সালে এ জাতের উদ্ভাবন হয়। ১৪১ দিন ব্যাপ্তিকাল। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫ টন।

ব্রি ধান ৩২

আমন মৌসুমের ধান। ১৯৯৪ সালে এ জাতের উদ্ভাবন হয়। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫ টন। জীবনকাল ১৩০ দিন।

ব্রি ধান ৩৩

আমন মৌসুমের ধান। ১৯৯৭ সালে এ জাতের উদ্ভাবন হয়। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৪.৫ টন। জীবনকাল ১১৮ দিন। মঙ্গা এলাকায় এ ধান বেশ জনপ্রিয়।

ব্রি ধান ৩৪

আমন মৌসুমের সুগন্ধ পোলাও জাতের ধান। এ ধান দেখতে কালিজিরার মতোই ছোট। যশোর অঞ্চলের খাসকানি নামক স্থান থেকে বাছাইকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে এ ধানের উদ্ভব ঘটে। জীবনকাল ১৩৫ দিন। ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.৫ টন।

ব্রি ধান৩৫

বোরো মৌসুমের ধান। ১৯৯৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫ টন। ১৫৫ দিন এর ব্যাপ্তিকাল।

ব্রি ধান ৩৬

১৯৯৮ সালে ইরি থেকে এ জাতের প্রবর্তন। চারা অবস্থায় ঠান্ডা সহনশীল। ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। ৫ থেকে ৫.৫ টন পর্যন্ত হেক্টরপ্রতি ফলন দিয়ে থাকে। যে সমস্ত এলাকায় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর নিচে নেমে যায়। সে সকল এলাকায় উৎপাদন ভালো হয়।

ব্রি ধান৩৭

আমন জাতের সুগন্ধি জাত। ১৯৯৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জীবনকাল ১৪০ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন ৩.৫ টন প্রায়।

ব্রি ধান৩৮

আমন মৌসুমের ধান। ১৯৯৮ সালে এ জাতের উদ্ভাবন হয়। জীবনকাল ১৪০ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন ৩.৫ টন প্রায়।

ব্রি ধান৩৯

১৯৯৯ সালে এ জাতের উদ্ভাবন হয়। আমন মৌসুমের ধান। ১২২ দিন এর ব্যাপ্তিকাল। হেক্টরপ্রতি ফলন ৪.৫ টন প্রায়। এটি স্বল্প জীবনকালের জাত।

ব্রি ধান৪০

আমন মৌসুমে উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় চাষের উপযোগী। ১৪৫দিন এর ব্যাপ্তিকাল। হেক্টরপ্রতি ফলন ৪.৫ টন প্রায়।

ব্রি ধান ৪১

আমন মৌসুমে উপকূলের লবণাক্ত এলাকায় চাষের উপযোগী। নীচু জমিতে চাষোপযোগী। ১৪৮ দিন ব্যাপ্তিকাল। হেক্টরপ্রতি ৪ থেকে ৪.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে।

ব্রি ধান ৪২

আউশ মৌসুমের ধান। সাধারণত খরা প্রবন এলাকায় চাষ করা হয়। ২০০৪ সালে চাষের অনুমোদন লাভ করে। ১০০ দিন এর ব্যাপ্তিকাল। ৩.৫ টন পর্যন্ত (হেক্টরপ্রতি) ফলন দিয়ে থাকে।

ব্রি ধান ৪৩

খরা সহিষ্ণু ধান। ২০০৪ সালে স্বীকৃতিলাভ করে। ১০০ দিন এর ব্যাপ্তিকাল। ৩.৫ টন পর্যন্ত (হেক্টরপ্রতি) ফলন দিয়ে থাকে। আউশ মৌসুমের ধান।

ব্রি ধান ৪৪

আমন জাতের ধান। অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা এলাকায় এ জাতের চাষ করা হয়। ২০০৫ সালে এ জাতের উদ্ভাবন। ১৪৫দিন এর ব্যাপ্তিকাল। হেক্টরপ্রতি ফলন ৬.৫ টন প্রায়।

ব্রি ধান৪৫

বোরো মৌসুমের ধান। ২০০৫ সালে এ জাতের উদ্ভাবন। ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন এর জীবনকাল। ৬ থেকে ৬.৫ টন হেক্টরপ্রতি ফলন দিয়ে থাকে।

ব্রি ধান৪৬

আমন মৌসুমে চাষের উপযোগী। বন্যাপ্রবন জাত। জীবনকাল ১৫০ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫ টন।

ব্রি ধান৪৭

বোরো মৌসুমে চাষ করা হয়। লবণাক্ত এলাকায় চাষ করা হয়ে থাকে। ২০০৬ সালে চাষের অনুমতি লাভ করে। জীবনকাল ১৫২ দিন। ৬ টন হেক্টরপ্রতি ফলন দিয়ে থাকে।

ব্রি ধান৪৮

আউশ মৌসুমে চাষ করা হয়। ২০০৮ সালে চাষের জন্য স্বীকৃতি লাভ করে। জীবনকাল ১১০ দিন। হেক্টরপ্রতি ফলন প্রায় ৫ টন।

ব্রি ধান ৪৯

আমন মৌসুমে চাষ করা হয়। খরা সহিষ্ণু জাত। ২০১১ সালে বীজ বোর্ডের অনুমোদন লাভ করে। পশ্চাৎ সংকরায়ন করে বংশানুক্রম সিলেকশানের মাধ্যমে এ জাতের উদ্ভব। ১০৫ থেকে ১১০ দিন এর ব্যাপ্তিকাল। সাড়ে চার থেকে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন (হেক্টরপ্রতি) দিয়ে থাকে।

ব্রি ধান ৫0 (বাংলামতি)

বোরো মৌসুমের ধান। লম্বা চিকন, সাদা এবং সুগন্ধী। জীবনকাল ১৫৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬ টন। ২০০৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫১

আমন মৌসুমের ধান। মাঝারি চিকন, সাদা। জীবনকাল ১৪২-১৫৪ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন। ২০১০ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫২

আমন মৌসুমের ধান। খাটো মোটা। জীবনকাল ১৪৫-১৫৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৪.৫-৫ টন। ২০১০ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫৩

আমন মৌসুমের ধান। মাঝারি চিকন। জীবনকাল ১২৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন। ২০১০ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫৪

আমন মৌসুমের ধান। মাঝারি চিকন। জীবনকাল ১৩৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন। ২০১০ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫৫

বোরো ও আউস মৌসুমের ধান। লম্বা চিকন। জীবনকাল ১৪৫ (বোরো) ও ১০৫ (আউস) দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৭ (বোরো) ও ৫ (আউস) টন। ২০১১ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫৬

রোপা আমন মৌসুমের ধান। লম্বা মোটা। জীবনকাল ১১০ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৫ টন। ২০১১ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫৭

রোপা আমন মৌসুমের ধান। লম্বা চিকন। জীবনকাল ১০৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৪.৫ টন। ২০১২ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি ধান ৫৮

বোরো মৌসুমের ধান। মাঝারি চিকন, সাদা। জীবনকাল ১৫৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৭.৫ টন। ২০১২ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি হাইব্রিড ধান ১

বোরো মৌসুমের ধান। মাঝারি চিকন, সাদা। জীবনকাল ১৫৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৮.৫ টন। ২০০১ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি হাইব্রিড ধান ২

বোরো মৌসুমের ধান। মাঝারি মোটা। জীবনকাল ১৪৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৮ টন। ২০০৮ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি হাইব্রিড ধান ৩

বোরো মৌসুমের ধান। মাঝারি মোটা। জীবনকাল ১৪৫ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৯ টন। ২০০৯ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ব্রি হাইব্রিড ধান ৪

আমন মৌসুমের ধান। মাঝারি চিকন, সাদা। জীবনকাল ১১৮ দিন। ধানের গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ৬.৫ টন। ২০১০ সালে জাত হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

সুত্র: বিকাশপিডিয়া টিম, পশ্চিমবঙ্গ

 

 

ভারতে কৃষি ইতিহাস সুপ্রাচীন। প্রায় দশ হাজার বছর আগে এই ভূখণ্ডে কৃষিকাজের সূচনা হয়।

বর্তমানে ভারত কৃষি উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী। ২০০৭ সালের হিসেব অনুযায়ী, দেশের জিডিপি-তে কৃষি এবং বনবিদ্যা, কাষ্ঠশিল্প ইত্যাদি কৃষি-সহায়ক ক্ষেত্রগুলির অবদান ১৬.৬ শতাংশ। ভারতের মোট শ্রমশক্তির ৫২ শতাংশই এই ক্ষেত্রে নিযুক্ত। জিডিপি-তে কৃষিক্ষেত্রের অবদান বর্তমানে অনেকটা কমলেও, এই ক্ষেত্র আজও ভারতের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী।

দুগ্ধ, কাজুবাদাম, নারকেল, চা, আদা, হরিদ্রা কালো মরিচ উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম।]কফি উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে ষষ্ঠ।গবাদি পশুর সংখ্যার হিসেবেও ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম (২৮১,০০০,০০০)।গম, ধান, আখ, চিনাবাদাম ও অন্তর্দেশীয় মৎস্য উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়।তামাক উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে তৃতীয়।[৫] বিশ্বের মোট উৎপাদিত ফলের ১০ শতাংশ ভারতে উৎপাদিত হয়। কলা সাপোটা উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম।

ভারতে ধান ও গম উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি।

ইতিহাস

আনুমানিক ৯০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ ভারত ভূখণ্ডে কৃষিব্যবস্থার সূচনা ঘটে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের বৃক্ষরোপণ এবং শস্য উৎপাদন ও পশুপালন ছিল এই ব্যবস্থার মূল উৎস।উন্নততর প্রযুক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের উন্নতি ঘটতে থাকলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা সুস্থিত হয়। বছরে দুইবার বর্ষাকাল হওয়ার দরুন সেই যুগে বছরে দুইবার চাষ আবাদ করা হত। তৎকালীন বাণিজ্যপথের মাধ্যমে ভারতে উৎপাদিত দ্রব্যাদি পৌঁছে যেত বিশ্বের বাজারে এবং ভারতীয়রাও বিদেশী পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হত। ভারতীয়দের জীবনযাত্রা শস্য ও পশুদের উপর এতটাই নির্ভরশীল ছিল যে তারা এগুলিকে পূজা করত।

মধ্যযুগে খাল নির্মাণ প্রযুক্তি বিশেষ উন্নতি লাভ করায় কৃষিব্যবস্থাও বিশেষ উন্নত হয়।সামঞ্জস্যপূর্ণ শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ভূমি ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার বিশেষ উন্নতি ঘটানো হয়।আধুনিক কালে ভারত কৃষিতে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, স্বাধীনতার পর ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে একটি সুসংহত কৃষি কর্মসূচি গৃহীত হয় এবং তার ফলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি ঘটে।

উদ্যোগ

কৃষিবিপণন, মজুত ও হিমঘর পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন। সরকার একাধিক স্কিমের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের অর্থ তোলার জন্য উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।

১৯০৫ সালে ভারতীয় কৃষি গবেষণা সংস্থা (আইএআরআই) স্থাপিত হয়। এই সংস্থায় ১৯৭০-এর দশকে ভারতীয় সবুজ বিপ্লবের জন্য দায়ী। ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ (আইসিএআর) দেশের কৃষি ও গবেষণা ও শিক্ষা সহ কৃষি-সহায়ক ক্ষেত্রগুলির সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী আইসিএআর-এর সভাপতি। ভারতীয় কৃষি পরিসংখ্যান গবেষণা সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে নানান প্রযুক্তিগত পরীক্ষনিরীক্ষা চালায়, কৃষি পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে এবং পশুপালন ও বাগিচানির্মানের পরিসংখ্যানও প্রস্তুত করে। কৃষি ঋণ নিয়ন্ত্রিত হয় জাতীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাংক বা নাবার্ডের মাধ্যমে। নাবার্ড দেশের গ্রামোন্নয়নের সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সংস্থা।

সাম্প্রতিক কালে ভারত সরকার কৃষি কর্মসূচির উন্নতি ঘটাতে কৃষক কমিশন স্থাপন করেছেন। এই কমিশনের প্রস্তাবগুলি নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

সমস্যা

ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবনধারণের জন্য গ্রামীণ কর্মনিয়োগের উপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় ধীর কৃষি অগ্রগতি দেশের নীতিনির্ধারকদের একটি দুশ্চিন্তার কারণ। চাষাবাদের অধুনা প্রচলিত প্রথাগুলি আর্থিক বা পরিবেশগত কোনো দিক থেকেই স্থিতিশীল নয়। এবং অনেক ফসলের ক্ষেত্রেই ভারতের উৎপাদন কম। অবহেলিত সেচব্যবস্থা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থার বিশ্বজনীন অভাব এই দুরবস্থার অন্যতম কারণ। খারাপ সড়ক, মৌলিক বাজার পরিকাঠামো ও অতিরিক্ত শুল্কের ফলে কৃষকরা বাজারে ঠিকমতো শস্য বিক্রি করতে পারেন না।

উর্বর গাঙ্গেয় বদ্বীপভয়াল বন্যা ও ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রসিদ্ধএখানে প্রচুর পরিমানে পাট, চা ও ধান উৎপাদিত হয়। এখানে মাছের উৎপাদন ও রফতানি দুইই চলে।

ভারতের কৃষিক্ষেত্রে কম উৎপাদন জনিত সমস্যাটির মূল কারণ নিম্নরূপ:

  • বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মূল লক্ষ্য বিভাগের মতে, ভারতে যে পরিমাণে কৃষি ভর্তুকি দেওয়া হয়, তা দেশের উৎপাদন-বৃদ্ধি সহায়ক বিনিয়োগের পথের প্রধান বাধা। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে মূল্য, দামে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়। সরকার শ্রমিক, জমি ও ঋণের বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। তাছাড়া ভারতে পরিকাঠামো ও পরিষেবা অপ্রতুল। বিশ্বব্যাঙ্ক আরও বলেছে, কৃষিক্ষেত্রে জলের জোগান অপ্রতুল, অস্থিতিশীল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সেচব্যবস্থার মান ক্রমেই নিম্নগামী হচ্ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হ্রাস পাচ্ছে ভৌমজলের পরিমাণও।
  • নিরক্ষরতা, সাধারণ আর্থসামাজিক অনগ্রসরতা, ভূমি সংস্কার ব্যবস্থার শ্লথ প্রয়োগ এবং অপ্রতুল অর্থ জোগান ও উৎপাদিত ফসলের বাজারকরণে অব্যবস্থা।
  • ভ্রান্ত সরকারি নীতি। সাময়িক রাজনৈতিক লাভের আশায় বেহিসেবি কৃষি ভর্তুকি ও শুল্ক নীতি গ্রহণ।
  • জোতের গড় আয়তন খুবই কম (২০,০০০ বর্গমিটারেরও কম) এবং ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট, বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক বিবাদের কারণে তাও ভেঙে যায়, এই সব ছোটো ছোটো জোতে অতিরিক্ত লোক দিয়ে কাজ করানো হয়। যার ফলে ছদ্ম বেকারত্ব ও শ্রমশক্তির কম উৎপাদন অব্যাহত থাকে।
  • আধুনিক কৃষি প্রথা ও প্রযুক্তির ব্যবহার অপ্রতুল। অনেক ক্ষেত্রে খরচ বা ছোটো জোতের কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহারও করা যায় না।
  • সেচব্যবস্থা অপ্রতুল। ২০০৩-০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী মাত্র ৫২.৬ শতাংশ জমি সেচসেবিত। এর ফলে কৃষকদের বৃষ্টি ও মূলত বর্ষাকালের উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। বৃষ্টি ভাল হলে সামগ্রিকভাবে তাতে অর্থনীতির উন্নতি হয়, তেমনি বৃষ্টি কম হলে বৃদ্ধি শ্লথ হয়। বিদ্যুতে ভর্তুকি থাকার ফলে ওভারপাম্পিং করা হয়। তার ফলে ভৌমজলের পরিমাণ হ্রাস পায়।

 

বনবিদ্যা (ইংরেজি: Forestry) হল মানুষের কল্যাণের তরে উদ্দিষ্ট লক্ষ্য, চাহিদা, এবং মান মেটাতে অরণ্য ও তৎসংশ্লিষ্ট সম্পদের সৃষ্টি, ব্যবস্থাপনা, ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং মেরামতের বিজ্ঞান, কলা ও কৌশল। আবাদি জমি অথবা প্রাকৃতিক স্ট্যান্ডে বনবিদ্যার চর্চা করা হয়। বনবিদ্যার প্রধান লক্ষ্য হল এমন পদ্ধতির প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা যা পরিবেশগত জোগান ও পরিষেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে অরণ্যের সুব্যবস্থাপনা করবে। নির্বিঘ্ন অথবা ক্ষতির সম্মুখীন যেকোনো সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে একে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার মতো পদ্ধতির প্রণয়নই অরণ্যবিদ্যার সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ।

বনচাষ নামক সংশ্লিষ্ট একটি বিজ্ঞানে স্ট্যান্ড পর্যায়ে বৃক্ষ ও অরণ্যের পুনরুৎপাদন, পরিচর্যা এবং সংগ্রহ সম্বন্ধে আলোকপাত করা হয়। আধুনিক বনবিদ্যার বিষয়ের পরিসর অত্যন্ত ব্যাপক যাতে বাস্তুতন্ত্র পরিষেবার প্রসঙ্গটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের পরিসেবাসমূহ অরণ্য সংরক্ষণের নিমিত্তে কাষ্ঠল দ্রব্যের জন্য কাঁচামালস্বরূপ কাঠ, বন্যপ্রাণীর বাসস্থান, প্রাকৃতিক জলের গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ, জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা, ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ, এবং বায়ুমন্ডলীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সিংক বা ডুবা হিসেবে অরণ্যকে সহায়তা করে। যিনি বনবিদ্যা অনুশীলনের সাথে যুক্ত থাকেন তাকে বনবিদ বা ফরেস্টার বলা হয়।

অরণ্য বাস্তুতন্ত্রগুলোকে জীবমন্ডলের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়। সেইসাথে বনবিদ্যা এখন বিজ্ঞান, ফলিত কলা এবং প্রযুক্তির অত্যাবশ্যক ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।

ইতিহাস

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/4c/A_deciduous_beech_forest_in_Slovenia.jpg/220px-A_deciduous_beech_forest_in_Slovenia.jpg

পঞ্চম শতকে মঠধারী সন্ন্যাসীরা জ্বালানি ও খাদ্যের উৎস হিসেবে আড্রিয়াটিকের উপকূলে তখনকার বাইজেন্টাইন রোমানিয়াতে প্রস্তর পাইনের আবাদ করেন। ১৩০৮ খ্রিষ্টাব্দে দান্তে আলিগিয়েরির রচিত কবিতা ডিভাইন কমেডিতে সর্বপ্রথম এ ধরনের বনায়নের উল্লেখ পাওয়া যায়।[৪] তারও আগে সপ্তম শতকে যখন কাঠের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি দেখা দেয়, ভিজিগোথরা ওক এবং পাইন বনের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রথাবদ্ধ নিয়মাবলির প্রবর্তন করে, আর তার ফলেই প্রথাগত বনবিদ্যার অনুশীলন শুরু হয়। চীনে নানান রকম বনজ সম্পদের ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার ইতিহাস বেশ প্রাচীন- সেই হান সাম্রাজ্যের আমল থেকে। তখন জমিদারদের অধীনে বনব্যবস্থাপনা হত। এই বিষয়টি মিং সাম্রাজ্যের চীনা পন্ডিত জু গুয়াংকি (১৫৬২-১৬৩৩) পরবর্তীতে তাঁর লেখায় তুলে ধরেন। ইউরোপে ভূমির নিয়ন্ত্রণের মধ্যে শিকারের অধিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, এবং যদিও অনেক স্থানে কৃষিজীবীরা অরণ্য থেকে জ্বালানি কাঠ ও ঘরবাড়ি তৈরীর কাঠ সংগ্রহ করতে পারত, তথাপি শিকারের অধিকার একমাত্র অভিজাতদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। কাঠের টেকসই উৎপাদনের জন্য নিয়মতান্ত্রিক বন ব্যবস্থাপনার শুরু হয় চতুর্দশ শতকে জার্মানিতে (যেমন, নুরেমবার্গ) এবং ষোড়শ শতকে জাপানে হয়েছিল। বৈশিষ্ট্যস্বরূপ, একটা অরণ্যকে নির্দিষ্ট কতক খন্ডে ভাগ করার পর মানচিত্রায়িত করা হতো; কাঠ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেয়া হতো মূলত চারা পুনরুৎপাদনের দিকে খেয়াল রেখে।

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/a/a3/TJ_harvesteri.jpg/220px-TJ_harvesteri.jpg

কাষ্ঠ আহরণ বনবিদ্যার একটি সাধারণ ?উপাদান

জন এভলিন ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে বৃক্ষ আবাদের চর্চা চাঙ্গা করে তোলেন, যদিও ইতোমধ্যে সেটা খানিকটা জনপ্রিয়তা লাভ করে ফেলেছিল। ষোড়শ লুইয়ের মন্ত্রী জঁ-বাতিস্ত কোল‌বেয়ারের, ফরাসি নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আবাদকৃত টোনছের বন আশানুরূপভাবে উনিশ শতকের মধ্যভাগে পরিণত হয়ে উঠে। ঐতিহাসিক ফার্নান্দ বঁদেল মন্তব্য করেন বাষ্পচালিত জাহাজ ছাড়া কোলবেয়ার আর সবকিছু নিয়েই ভেবেছিলেন অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে হেস, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি, সুইডেন, ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য জায়গায় বনবিদ্যা বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠতে শুরু করে। উনিশ শতকের সমাপ্তি এবং বিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বন সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণজনিত উদ্বেগ ও লগিং কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ার প্রতি সাড়া প্রদান করে বিশ শতকে এসে পশ্চিমা জাতিসমূহ অরণ্য আইন এং বাধ্যতামূলক প্রবিধানের প্রণয়ন ও বিবর্তন ঘটাতে শুরু করে।

ক্রান্তীয় বনবিদ্যা হল বনবিদ্যার একটি আলাদা শাখা যা মূলত নিরক্ষীয় অরণ্যগুলো নিয়ে আলোকপাত করে। স্যার ডিয়েট্রিখ ব্রান্ডিসকে ক্রান্তীয় বনবিদ্যার জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়।

বিজ্ঞান হিসেবে

বিগত শতাব্দীগুলোতে বনবিদ্যাকে পৃথক বিজ্ঞান হিসেবে গণ্য করা হতো। বাস্তুবিদ্যা পরিবেশবিজ্ঞানের উঠে আসার সাথে সাথে ফলিত বিজ্ঞানগুলোকে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই মতের সাথে সঙ্গতি রেখে বনবিদ্যাকে প্রাথমিক তিনটি ভূমি-ব্যবহার বিজ্ঞানের একটি হিসেবে ধরা হয়। বাকি দুটি হলো কৃষি শিক্ষা কৃষিবনবিদ্যা[১৪] প্রাকৃতিক অরণ্য ব্যবস্থাপনার মৌলিক সূত্রগুলো মূলত এসকল শিরোনামের অধীনে প্রাকৃতিক বাস্তুবিদ্যার বৈশিষ্ট্য নিয়েই এসেছে। বাস্তুবিদ্যা আর কৃষিবাস্তুবিদ্যার মূলনীতির সমণ্বয়কে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা করা হয় বনবিদ্যা বা বনায়নের যার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে বনজদ্রব্যের সুষ্ঠু আহরণ

আধুনিক বনবিদ্যা চর্চা

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/06/Laser_guided_cutting_of_wood_inside_modern_woodmill.jpg/220px-Laser_guided_cutting_of_wood_inside_modern_woodmill.jpg

আজকালকার দিনে অরণ্য বাস্তুতন্ত্রগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং বৃক্ষ প্রজাতি প্রকরণের জিনগত মানোন্নয়নের জন্য বেশ শক্তিশালি গবেষণা ক্ষেত্র বিদ্যমান। বনবিদ্যার আওতায় রয়েছে আবাদ, সংরক্ষণ, পাতলাকরণ, নিয়ন্ত্রিত দহন, বৃক্ষপতন, আহরণ এবং তক্তার প্রক্রিয়াকরণের উত্তম পদ্ধতি প্রণয়ন। আধুনিক বনবিদ্যার অন্যতম প্রয়োগ হচ্ছে পুনর্বনায়ন, যেখানে একটি এলাকায় বৃক্ষের আবাদ ও পরিচর্যা করা হয়।

অনেক অঞ্চলের বাস্তুতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক, এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বনজশিল্পের রয়েছে মূখ্য অবদান। ১৯৯০ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে তৃতীয়-পক্ষ যাচাইকরণ প্রথা বহুলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অরণ্যের সুস্থতার নিমিত্তে ন্যস্তভার এবং টেকসই বনবিদ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করাই এসকল তৃতীয় পক্ষের কাজ। এ ধরনের যাচাইকরণ পদ্ধতি বস্তুত কতিপয় বনবিদ্যার অনুশীলন, বিশেষত, উন্নত বিশ্বে সম্পদ ব্যবস্থাপনার উদ্বেগের সাথে সাথে স্বল্পোন্নত অঞ্চলে নির্বনায়নের কঠোর সমালোচনার প্রতি সাড়া প্রদান করে প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিকভাবে বাজারের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করা এবং দাবিকৃত স্বাধীনতার অপ্রতুলতার জন্য কয়েকটি যাচাইকরণ পদ্ধতির সমালোচনা করা হয়।

ভূসংস্থানিকভাবে কঠোর জঙ্গলাকীর্ণ ভূখন্ডে বিপজ্জনক ভূমিক্ষয় বা এমনকি ভূমিধ্বস প্রতিরোধ অথবা হ্রাসের জন্য সঠিক বনবিদ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। যেসব এলাকায় ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি, সেসব জায়গার বন মাটিকে আটকে ধরে স্থির রাখে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

বনের অব্যবস্থাপনা এবং তক্তা ছাড়াও এর অন্যান্য পরিষেবার দিকগুলো, যেমন আদিবাসি অধিকার, মনোরঞ্জন, জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা, এবং জঙ্গল, জলপথ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, সম্বন্ধে ব্যাপক উপলব্ধির ফলে জনসাধারণের মাঝে বন ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কাষ্ঠল দ্রব্যাদির চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে দাবানল, লগিং, মোটরচালিত মনোরঞ্জন এবং অন্যান্য বিষয়গুলোর ভূমিকার প্রতি সুস্পষ্ট মতানৈক্য তর্কের অবকাশ সৃষ্টি করে।

বনবিদ

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/d/d4/Sanpablotregua.JPG/250px-Sanpablotregua.JPG

চিলির সান পাবলো দে ত্রেগার ভালভিদিয়ান বনে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অভ চিলির বনবিদরা

বনকর্মীরা মূলত তক্তাশিল্প, সরকারি সংস্থা, সংরক্ষণ গোষ্ঠী, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, শহুরে উদ্যান সমিতি, নাগরিক সঙ্ঘ, এবং বেসরকারী জমিদারদের হয়ে কাজ করেন। পেশাদার বনপালদের কাজের ব্যাপ্তি ব্যাপক ও বিচিত্র যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক উপাধি থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে। শিল্পসংক্রান্ত বনবিদরা সযত্ন আহরনসহ অরণ্যের পুনরুৎপাদনের পরকল্পনায় নিযুক্ত থাকেন। শহুরে বনবিদরা নগরের সবুজ চত্বরে বৃক্ষ ব্যবস্থাপনা করেন। যারা বৃক্ষ নার্সারিতে কাজ করেন তারা কাষ্ঠভূমি তৈরী অথবা পুনরুৎপাদন প্রকল্পের জন্য চারাগাছ ফলান। বনবিদরা বৃক্ষের জিনতত্ত্ব মানোন্নয়নে নিয়োজিত থাকেন। অরণ্য প্রকৌশলিরা নতুন ধরণের স্থাপনার প্রবর্তন করেন। এছাড়াও পেশাদার বনবিদরা ভৌগলিক তথ্য ব্যবস্থার মতোন উপকরণের সহায়তায় অরণ্যের বৃদ্ধি পরিমাপ ও মডেল তৈরী করেন। অরণ্যে কীটের উপদ্রব, রোগবালাই, বন ও তৃণভূমির দাবানল কমাতেও বনবিদরা কাজ করেন, তবে যদি মহামারী অথবা জানমালের ক্ষতির সম্ভাবন কম থাকে, বেশিরভাগ সময়ই তারা বনের বাস্তুতন্ত্রের এসব প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোকে স্বাভাবিকভাবে ঘটতে দেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পরিকল্পনা এবং জলবিভাজিকা রক্ষায়ও বনবিদদের বিচরণ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।বনবিদরা প্রধানত কাঠ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে পুনর্বনায়ন, বনকে সবচাইতে ভালো অবস্থায় রাখা এবং দাবানল নিয়ন্ত্রনে সংশ্লিষ্ট থাকেন।

বনজ পরিকল্পনা নকশাকৃত সম্পদের তথ্যতালিকার সহায়তায় বনবিদরা বন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে থাকেন। তথ্যতালিকায় সাধারণত একটা এলাকার ভূসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রজাতি অনুযায়ী বৃক্ষ ও অন্যান্য উদ্ভিদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বা বিস্তারণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। পরিকল্পনাতে ভূমিমালিকের উদ্দেশ্য, সড়ক, সাঁকো, মনুষ্যবসতির সংলগ্নতা, জলের বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা, এবং মৃত্তিকার তথ্যের ব্যাপারে অবগত হতে হয়। এছাড়াও পরিকল্পনাতে বিশেষভাবে বনপালনসংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্র এবং এর বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময় নির্বাচনের বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সেই সাথে ভূমিমালিকের উদ্দেশ্য এবং বাস্তুগত, অর্থনৈতিক, লজিষ্টিক (যেমন, সম্পদে প্রবেশ) ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন সম্পদের সম্ভাব্য ভবিষ্যত দশার সুপারিশসমূহ বন ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একইসাথে, প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রির কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনাতে গুণগত মানসম্পন্ন বনজ দ্রব্যের উৎপাদনের উপর জোর দেয়া হয়। এভাবেই বৃক্ষ প্রজাতি এবং এর পরিমাণ ও ধরণ, যা মূলত আহরিত দ্রব্যের মান এবং সংখ্যার উপর নির্ভরশীল, বনপালনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছে।

একটি ভালো ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায়, যেকোনো সুপারিশকৃত আহরণ রীতি পালনের পর স্ট্যান্ডের ভবিষ্যত দশা ছাড়াও ভবিষ্যত ব্যবস্থাপত্র (বিশেষ করে অন্তর্বর্তী স্ট্যান্ড উন্নয়নমূলক কার্যাবলী), এবং চূড়ান্ত আহরণের পর প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পুনরোৎপাদনের পরিকল্পনার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়।

ভূমিমালিক ও ইজারাদারদের উদ্দেশ্য সাধারণত এইসব পরিকল্পনা ও পরবর্তী জমির মানোন্নয়ন কার্যাবলিকে প্রভাবিত করে। ব্রিটেনে উপযুক্ত বনবিদ্যা অনুশীলন” - এই মূলনীতিকে প্রতিপাদ্য করে পরিকল্পনায় আবশ্যিকভাবে অন্যান্য উপকারভোগী, যেমন জঙ্গলের ভেতরে অথবা আশেপাশে বসবাসকারি সংলগ্ন গোষ্ঠী অথবা গ্রামীণ আবাসিকদের, প্রয়োজনের দিকগুলো বিবেচনায় রাখা হয়। পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় বনবিদরা বৃক্ষ ভূপাতন এবং পরিবেশগত আইনকানুনের বিষয়াদি মাথায় রাখেন। টেকসই আহরণ ও বৃক্ষের প্রতিস্থাপন সম্পর্কে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাগুলো নির্দেশনা দেয়। কোনো ধরনের সড়ক নির্মাণ বা বন প্রকৌশলগত ক্রিয়াকলাপের প্রয়োজন থাকলে সে সম্পর্কে পরিকল্পনাগুলো অবগত করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের আইনকানুনগুলো কীভাবে সংশ্লিষট কর্মকান্ডকে প্রভাবিত করবে, সে বিষয়টি কৃষি ও অরণ্যের নের্তৃবৃন্দ বুঝার চেষ্টা করছেন। প্রাপ্ত তথ্যসমূহ এমনসব উপাত্ত দেবে যেগুলো নতুন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণমূলক তন্ত্রে কৃষি ও বনবিদ্যার ভূমিকাকে নির্ধারণ করে দেবে।

শিক্ষা

বনবিদ্যা শিক্ষার ইতিহাস

বনবিদ্যার প্রথম নিবেদিত শিক্ষাঙ্গনটি জর্জ লুডভিগ হার্টিগের হাত ধরে ১৭৮৭ সালে জার্মানির হেস রাজ্যের ভেটাআও-এর হাঙ্গেন-এ প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও এর আগেই হেস-ডারমষ্টাড-এর গিসেন বিশ্ববিদ্যালয়সহ মধ্য ইউরোপে এ বিষয়ে পড়ানো হতো।

স্পেনে বনবিদ্যার প্রথম বিদ্যালয়টি ছিল ১৮৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ফরেস্ট এঞ্জিনিয়ারিং স্কুল অভ মাদ্রিদ (এস্কুয়েলা তেকনিকা সুপেরিয়র দে ইনহেনিয়েরোস দে মোন্তেস)

জর্জ ওয়াশিংটন ভ্যান্ডারবিল্টের বাল্টিমোর এষ্টেটের মাটিতে নর্থ ক্যারোলাইনার এ্যাশভিলে ১৮৯৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর কার্ল আলউইন শেঙ্ক-এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার সর্বপ্রথম বনবিদ্যালয় হিসেবে বিল্টমোর বনবিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরে ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউইয়র্ক রাজ্য বনমহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়। উনিশ শতকের প্রথম ভাগে উত্তর আমেরিকার বনবিদরা জার্মানিতে বনবিদ্যার উপর পড়াশোনার জন্য জার্মানিতে যান। এছাড়াও, প্রথমদিককার কয়েকজন জার্মান বনবিদ উত্তর আমেরিকাতে| স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন।

দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম বনবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রাজিলের মিনা জেরাইসের ভিচোজাতে ১৯৬২ সালে, যা পরের বছর কুরিতিবা পারানা ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদ হিসেবে স্থানান্তর করে।

বনবিদ্যা শিক্ষার বর্তমান চালচিত্র

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/f/ff/Burn9582.JPG/220px-Burn9582.JPG

জ্বালানির ভার কমাতে বনবিদরা নিয়ন্ত্রিত দহন পদ্ধতি অবলম্বন করেন

এখনকার দিনে বনবিদ্যার পড়াশোনায় সাধারণত জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, জিনতত্ত্ব, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, জলবায়ু বিজ্ঞান, জলবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বন ব্যবস্থাপনার উপর হাতে কলমে শিক্ষায় দেয়া হয়। তাছাড়া, সামাজিকবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণার উপর শিক্ষা, উপরি সুবিধা হিসেবে গণ্য হয়।

ভারতে বনবিদ্যার উপর লেখাপড়া ভার মূলত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আর বন গবেষণা ইনস্টিটিউটসমূহের (বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো) উপর ন্যস্ত। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে চার বছরের ডিগ্রী কার্যক্রম চালানো হয়। মাষ্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রীও এসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান।

যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান বনবিদ সমিতির অধিভুক্তিতে বনবিদ্যা সংক্রান্ত শিক্ষার অংশ হিসেবে মাধ্যমিকোত্তর ব্যাচেলর এবং মাষ্টার্স ডিগ্রী প্রদান করা হয়।

কানাডায় কানাডীয় বনবিদ্যা ইনস্টিটিউট কর্তৃক এর অধিভুক্ত মহাবিদ্যালয় ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমসহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদেরকে রৌপ্য অঙ্গুরীয় প্রদান করা হয়ে থাকে।

অনেক ইউরোপীয় দেশ, বলোনিয়া প্রক্রিয়া এবং ইউরোপীয় উচ্চতর শিক্ষা এলাকার আবশ্যক শর্ত অনুসারে বনবিদ্যার উপর হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে থাকে।

বন গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের আন্তর্জাতিক সঙ্ঘ হল একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যেটি বিশ্বব্যাপি বনবিজ্ঞানের প্রয়াসগুলোকে একটি সাধারণ মঞ্চে নিয়ে আসে। বননীতি শিক্ষা নেটওয়ার্কের মতোন প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বন রাজনীতিকে সহজসাধ্যকরণ এবং এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানে নিবেদিত থাকে।

 

দুধ

দুধ হল স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুগ্ধগ্রন্থি থেকে উৎপন্ন একপ্রকার সাদা তরল। অন্যান্য খাদ্যগ্রহণে সক্ষম হয়ে ওঠার আগে এটিই হল স্তন্যপায়ী শাবকদের পুষ্টির প্রধান উৎস। স্তন থেকে দুগ্ধ নিঃসরণের প্রাথমিক পর্যায়ে শাল দুধ উৎপন্ন হয় যা, শাবকের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

গবাদি পশু থেকে জাত দুধ হল মানুষের একটি প্রধান খাদ্য। কাচা দুধের পুষ্টির পরিমাণ বিভিন্ন প্রাণীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও তাতে প্রচুর পরিমাণে সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থ, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আবার গরুর দুধ হল সামান্য অম্লজাতীয়

সমগ্র বিশ্বে ৬০০ কোটিরও বেশি দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের গ্রাহক রয়েছে এবং এদের মধ্যে অধিকাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলির নাগরিক। প্রায় ৭৫ কোটি মানুষ গোপালক পরিবারে বসবাস করে। ২০১০ সালে বিশ্বের গব্যখামারগুলি থেকে ৭২ কোটি টন দুধ উৎপন্ন হয়। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদক এবং গ্রাহক হয়েও দুধ আমদানি বা রফতানি করে না। নিউজিল্যান্ড, ই ইউ-১৫ এবং অস্ট্রেলিয়া হল বিশ্বের তিন বৃহত্তম দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য রফতানিকারী দেশ। চীন, মেক্সিকো এবং জাপান হল বিশ্বের তিন বৃহত্তম দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য আমদানিকারী দেশ। উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পুষ্টি বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তায় দুধের অবদান সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। পালিত পশু, ডেয়ারি প্রযুক্তি, দুধের গুণগত মান, ইত্যাদির উন্নতিসাধন সারা বিশ্বে দারিদ্র্য ও অপুষ্টি দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

পরিচ্ছেদসমূহ

সাধারণতঃ দুধ গ্রহণের দু'টি উপায় রয়েছে। একটি হল প্রাকৃতিক, যেটি সকল স্তন্যপায়ী শাবকের পুষ্টির উৎস এবং অপরটি হল বিভিন্ন বয়সী মানুষের খাদ্য হিসেবে অন্যান্য প্রাণী থেকে জাত দুধ গ্রহণ করা।

স্তন্যপায়ী শাবকের পুষ্টি

প্রায় সকল স্তন্যপায়ীর ক্ষেত্রেই শাবককে সরাসরি স্তন্যপান করানোর মধ্যে দিয়ে দুধ খাওয়ানো হয় অথবা দুধ দুইয়ে নিয়ে তা সংরক্ষণ করে রেখে পরে খাওয়ানো হয়।

মানবশিশুকে অনেক সময় টাটকা ছাগলের দুধ খাওয়ানো হয়ে থাকে। কিন্তু এই পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে শিশুর বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

মানুষের খাদ্য হিসেবে দুধ

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/7/77/Holstein_cows_large.jpg/220px-Holstein_cows_large.jpg

আধুনিক ডেয়ারি শিল্পে সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রজাতি হলস্টাইন গবাদি পশু

যদিও ভিন্ন প্রজাতির দুধ গ্রহণ বা পান করা প্রকৃতিবিরুদ্ধ কাজ, তবুও বিশ্বের বহু সংস্কৃতিতে শৈশব উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও মানুষ অন্যান্য প্রাণীর (মূলতঃ গরু, ছাগল, ভেড়া, ইত্যাদি গবাদি পশুর) দুধ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকে। বহু সহস্রাব্দ ধরে মানুষ গরুর দুধ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তা থেকে মাখন, দই, আইসক্রিম, ইত্যাদি প্রস্তুত করে এসেছে। এছাড়াও আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আরও বিভিন্ন প্রকারের দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাণিজগতে মানুষেরাই হল একমাত্র ব্যতিক্রম যারা ল্যাকটোজ নামক শর্করার প্রতি সহ্যমাত্রা সামান্য কম (৫%-এরও কম) থাকা সত্ত্বেও শৈশবোত্তীর্ণ কালেও দুগ্ধপান করে থাকে। ল্যাকটোজ শর্করাটি পরিপাক করার জন্য প্রয়োজনীয় উৎসেচক ল্যাকটেজ জন্মের পর ক্ষুদ্রান্ত্রে সর্বোচ্চ পরিমাণে ক্ষরিত হয় এবং নিয়মিত দুগ্ধপান না হলে ক্রমশঃ এর ক্ষরণ হ্রাস পেতে থাকে। ভারত হল বিশ্বে সর্বোচ্চ পরিমাণে গবাদি পশু ও মহিষের দুধের উৎপাদক এবং গ্রাহক।

২০১১-এ মাথাপিছু গরুর দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য সেবনে প্রথম পনেরোটি দেশ

দেশ

দুধ (লিটার)

চিজ (কেজি)

মাখন (কেজি)

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/45/Flag_of_Ireland.svg/22px-Flag_of_Ireland.svg.png প্রজাতন্ত্রী আয়ারল্যান্ড

135.6

6.7

2.4

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/b/bc/Flag_of_Finland.svg/22px-Flag_of_Finland.svg.png ফিনল্যান্ড

127.0

22.5

4.1

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/a/ae/Flag_of_the_United_Kingdom.svg/22px-Flag_of_the_United_Kingdom.svg.png যুক্তরাজ্য

105.9

10.9

3.0

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/b/b9/Flag_of_Australia.svg/22px-Flag_of_Australia.svg.png অস্ট্রেলিয়া

105.3

11.7

4.0

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/4c/Flag_of_Sweden.svg/22px-Flag_of_Sweden.svg.png সুইডেন

90.1

19.1

1.7

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/c/cf/Flag_of_Canada.svg/22px-Flag_of_Canada.svg.png কানাডা

78.4

12.3

2.5

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/a/a4/Flag_of_the_United_States.svg/22px-Flag_of_the_United_States.svg.png মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

75.8

15.1

2.8

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/05/Flag_of_Brazil.svg/22px-Flag_of_Brazil.svg.png ব্রাজিল

55.7

3.6

0.4

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/c/c3/Flag_of_France.svg/22px-Flag_of_France.svg.png ফ্রান্স

55.5

26.3

7.5

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/03/Flag_of_Italy.svg/22px-Flag_of_Italy.svg.png ইতালি

54.2

21.8

2.3

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/b/ba/Flag_of_Germany.svg/22px-Flag_of_Germany.svg.png জার্মানি

51.8

22.9

5.9

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/5/5c/Flag_of_Greece.svg/22px-Flag_of_Greece.svg.png গ্রিস

49.1

23.4

0.7

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/2/20/Flag_of_the_Netherlands.svg/22px-Flag_of_the_Netherlands.svg.png নেদারল্যান্ডস

47.5

19.4

3.3

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/41/Flag_of_India.svg/22px-Flag_of_India.svg.png ভারত

39.5

-

3.5

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/f/fa/Flag_of_the_People%27s_Republic_of_China.svg/22px-Flag_of_the_People%27s_Republic_of_China.svg.png চীন

9.1

-

0.1

মূল্য

২০০৭ সালের রিপোর্ট অনুসারে মূলত সারা বিশ্বে আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির কারণে দুধের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত উল্লেখযোগ্য হল চীনে ব্যাপক হারে দুধের চাহিদা বৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি ভর্তুকিপ্রদত্ত মূল্যকে অতিক্রম করা দুধের মূল্যবৃদ্ধি।

পুষ্টি মূল্য

জল (গ্রাম) ৮৭.৭, খাদ্যশক্তি(কিলো ক্যালরি) ৬৪, আমিষ (গ্রাম) ৩.৩, এ্যাশ (গ্রাম) ০.৭, ফ্যাট (গ্রাম) ৩.৬, কোলেস্টেরল (মিলিগ্রাম) ১১, পটাসিয়াম (মিলিগ্রাম) ১৪৪, ভিটামিন-এ (আই ইউ) ১৪০

 

nutritional value

of Milk

monofat=

0.812 g

name=

গরুর দুধ

polyfat=

0.195 g

water=

88.32 g

vitA_ug=

46

kJ=

252

thiamin_mg=

0.044

protein=

3.22 g

riboflavin_mg=

0.183

fat=

3.25 g

vitB12_ug=

0.45

carbs=

5.26 g

choline_mg=

14.3

sugars=

5.26 g

vitD_iu=

2

lactose=

5.26 g

potassium_mg=

132

calcium_mg=

113

magnesium_mg=

10

satfat=

1.865 g

sodium_mg=

43


সুত্র: বিকাশপিডিয়া টিম, পশ্চিমবঙ্গ

চা (ইংরেজি: Tea) বলতে সচরাচর সুগন্ধযুক্ত ও স্বাদবিশিষ্ট এক ধরণের ঊষ্ণ পানীয়কে বোঝায় যা চা পাতা জল ফুটিয়ে বা গরম জল ভিজিয়ে তৈরী করা হয়। চা গাছ থেকে চা পাতা পাওয়া যায়। চা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সিনেনসিস'চা পাতা' কার্যত চা গাছের পাতা, পর্ব ও মুকুলের একটি কৃষিজাত পণ্য যা বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুত করা হয়।

ইংরজিতে চা-এর প্রতিশব্দ হলো টি। গ্রীকদেবী থিয়ার নামানুসারে এর নাম হয় টি। চীনে টি’-এর উচ্চারণ ছিল চি। পরে হয়ে যায় চা

জলর পরেই চা বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত পানীয়। এর একধরণের স্নিগ্ধ, প্রশান্তিদায়ক স্বাদ রয়েছে এবং অনেকেই এটি উপভোগ করে। প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া অনুসারে চা-কে পাঁচটি প্রধান শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যেমন - কালো চা, সবুজ চা, ইষ্টক চা, উলং বা ওলোং চা এবং প্যারাগুয়ে চা। এছাড়াও, সাদা চা, হলুদ চা, পুয়ের চা-সহ আরো বিভিন্ন ধরণের চা রয়েছে। তবে সর্বাধিক পরিচিত ও ব্যবহৃত চা হল সাদা, সবুজ, উলং এবং কাল চা। প্রায় সবরকম চা-ই ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থেকে তৈরি হলেও বিভিন্ন উপায়ে প্রস্তুতের কারণে এক এক ধরণের চা এক এক রকম স্বাদযুক্ত। পুয়ের চা একধরণের গাঁজনোত্তর চা যা অনেক ক্ষেত্রে ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিছু কিছু চায়ে ক্যামেলিয়া সিনেনসিস থাকে না। ভেষজ চা হল একধরণের নিষিক্ত পাতা, ফুল, লতা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ যাতে কোন ক্যামেলিয়া সিনেনসিস নেই। লাল চা সাধারণত কাল চা (কোরিয়া, চীন ও জাপানে ব্যবহৃত হয়) অথবা দক্ষিণ আফ্রিকার রুইবস গাছ থেকে তৈরি হয় এবং এতেও কোন ক্যামেলিয়া সিনেনসিস নেই।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস

চা মৌসুমী অঞ্চলের পার্বত্য ও উচ্চভূমির ফসলএকপ্রকার চিরহরিৎ বৃক্ষের পাতা শুকিয়ে চা প্রস্তুত করা হয়। চীন দেশই চায়ের আদি জন্মভূমি। বর্তমানে এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য পানীয়রূপে গণ্য করা হয়।

১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। আর ভারতবর্ষে এর চাষ শুরু হয় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশরা সিলেটে সর্বপ্রথম চায়ের গাছ খুঁজে পায়। এরপর ১৮৫৭ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় শুরু হয় বাণিজ্যিক চা-চাষ। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে সমগ্র বিশ্বে ৩৮,০০,০০০ টন চা পাতা উৎপাদিত হয়েছে।

চাষ পদ্ধতি

চা প্রধান কান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের ফসল হলেও উপ-ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলেও এটি কিছু কিছু চাষ করা যায়। প্রথম অবস্থায় পাহাড়ের ঢালু জমি পরিষ্কার করা হয়। এর চারা আলাদা বীজতলায় তৈরী করা হয়।

চারাগুলো যখন ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়, তখন সেগুলোকে চা-বাগানে সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়। সাধারণতঃ দেড় মিটার পরপর চারাগুলোকে রোপণ করা হয়ে থাকে। এরপর গাছগুলোকে বৃদ্ধির জন্য যথামাত্রায় সার প্রয়োগ ও জল সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এভাবে দুই থেকে তিন বছর পরিচর্যার পর পাতা সংগ্রহের উপযোগী করে তোলা হয়। কিন্তু গাছগুলো পাঁচ বছর না হওয়া পর্যন্ত যথাযথভাবে পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। একটি চা গাছ গড়পড়তা ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত উৎপাদনের উপযোগী থাকে। তারপর পুণরায় নতুন গাছ রোপণ করতে হয়।

প্রাকৃতিক উপাদান

প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এমন পাহাড়িয়া বা উচ্চ ঢালু জমি চা চাষের জন্য সবিশেষ উপযোগী। জল নিষ্কাশনের বন্দোবস্ত থাকলে উচ্চ সমতল ভূমিতেও চা চাষ করা সম্ভবপর। হিউমাস সারযুক্ত এবং লৌহমিশ্রিত দো-আঁশ মাটি চা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু চা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন। চা চাষের জন্য ১৭৫ - ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত আবশ্যক। এজন্য মৌসুমী ও নিরক্ষীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় চা চাষের উৎপাদন বেশী হয়ে থাকে।

প্রকারভেদ

পৃথিবীতে আসাম এবং চীনজাতীয় - এ দুই প্রকারের চা গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তন্মধ্যে -

আসামজাতীয় চা গাছ ভারত শ্রীলঙ্কায় অধিক চাষ করা হয়। এ ধরণের গাছ বেশ বড় এবং বহু পাতাযুক্ত হয়। বিধায়, এটি বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ করার জন্যে বিশেষ উপযোগী। এ গাছ প্রায় ৬ মিটার বা ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পাতার নাগাল পাওয়া এবং পাতা সংগ্রহের জন্য গাছগুলোকে ১.২ মিটার বা ৪ ফুটের অধিক বড় হতে দেয়া হয় না। ছেঁটে দেয়ার ফলে চা গাছগুলো ঘণঝোঁপে পরিণত হয়।

অন্যদিকে চীনজাতীয় গাছ আকারে বেশ ছোট হয়। এতে পাতার সংখ্যাও অনেক কম থাকে। এ গাছ না ছাঁটলেও পাতা তোলার মতো উচ্চতাসম্পন্ন হয়ে থাকে।

ব্যবস্থাপনা

চা গাছ রোপণ, আগাছা পরিস্কারকরণ, সার প্রয়োগ করা, গাছ ছাঁটা, কচি পাতা চয়ন করা, চা-পাতা শুকানো, সেঁকা, চা-প্যাকিং ইত্যাদি বহুবিধ ধরণের কর্মকাণ্ডে দক্ষ-অদক্ষ প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে। পাতা চয়নের কাজে দক্ষ মহিলা শ্রমিক নিয়োজিত থাকে। বিষয়টি বেশ ধৈর্য্যের বিধায়, বাগান কর্তৃপক্ষ মহিলা শ্রমিকদেরকেই পাতা চয়নের জন্য নিয়োগ দিয়ে থাকে। এছাড়াও, চা চাষাবাদের জন্য প্রচুর জৈব ও রাসায়নিক সারসহ প্রয়োজনীয় কীটনাশক সরবরাহ করা হয়।

গুণাগুন

চীনজাতীয় গাছের পাতা স্বাদ গন্ধের জন্য সুখ্যাত। কিন্তু আসামজাতীয় গাছের পাতা রঙের জন্য বিখ্যাত। এই দুই ধরণের চা-পাতার উন্নত সংমিশ্রণের উপরই এর গুণাগুন নির্ভর করে। স্বভাবতঃই চা মিশ্রণ একটি নিপুণতা ও অত্যন্ত কঠিন কাজ। তাই এটি অভিজ্ঞ ব্যক্তির দ্বারা সম্পাদনা করতে হয়। এরূপভাবে চা মিশ্রণে নৈপুণ্যতা লাভের প্রেক্ষাপটে লিপটন, ব্রুকবণ্ড প্রভৃতি চা প্রস্তুতকারক কোম্পানীগুলো বিশ্ববাজার দখল ও খ্যাতি লাভ করেছে।

চা গাছ হতে পাতা সংগ্রহ করতে ব্যক্তিকে যথেষ্ট নৈপুণ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করতে হয়। কারণ দু'টি পাতা ও একটি কুঁড়ি একসঙ্গে তুলতে না পারলে চায়ের উৎকর্ষতা ও আমেজ অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে যায়। চীন ও জাপানে বছরে গড়পড়তা তিনবার চা-পাতা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় খুব ঘন ঘন পাতা সংগ্রহ করা যায়। এদেশগুলোতে বছরে গড়ে ষোল থেকে বিশ বার পর্যন্ত চা পাতা সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

উৎপাদন বন্টন ব্যবস্থা

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/0/04/TeaHarvesters.JPG/200px-TeaHarvesters.JPG

দার্জিলিং-এর চা-বাগানে কর্মরত চা-শ্রমিক।

২০০৩ সালে বিশ্বে চা উৎপাদিত হয়েছিল ৩.২১ মিলিয়ন টন। ২০০৮ সালে বিশ্বের চা উৎপাদন ৪.৭৩ মিলিয়ন টনেরও বেশী হয়েছিল। সর্ববৃহৎ চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে - গণপ্রজাতন্ত্রী চীন, ভারত, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং তুরস্ক অন্যতম।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক চা উৎপাদন (টন হিসেবে) নিম্নের ছকে দেখানো হলো। জানুয়ারি, ২০১১ সালে উপাত্তগুলো জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে -

নং

দেশ

২০০৮

২০০৯

২০১০

২০১১

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/f/fa/Flag_of_the_People%27s_Republic_of_China.svg/22px-Flag_of_the_People%27s_Republic_of_China.svg.png চীন

১২,৭৪,৯৮৪

১৩,৭৫,৭৮০

১৪,৬৭,৪৬৭

১৬,৪০,৩১০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/41/Flag_of_India.svg/22px-Flag_of_India.svg.png ভারত

,৮৭,০০০

,৭২,৭০০

,৯১,১৮০

১০,৬৩,৫০০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/4/49/Flag_of_Kenya.svg/22px-Flag_of_Kenya.svg.png কেনিয়া

,৪৫,৮০০

,১৪,১০০

,৯৯,০০০

,৭৭,৯১২

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/11/Flag_of_Sri_Lanka.svg/22px-Flag_of_Sri_Lanka.svg.png শ্রীলঙ্কা

,১৮,৭০০

,৯০,০০০

,৮২,৩০০

,২৭,৫০০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/b/b4/Flag_of_Turkey.svg/22px-Flag_of_Turkey.svg.png তুরস্ক

,৯৮,০৪৬

,৯৮,৬০১

,৩৫,০০০

,২১,৬০০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/2/21/Flag_of_Vietnam.svg/22px-Flag_of_Vietnam.svg.png ভিয়েতনাম

,৭৩,৫০০

,৮৫,৭০০

,৯৮,৪৬৬

,০৬,৬০০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/c/ca/Flag_of_Iran.svg/22px-Flag_of_Iran.svg.png ইরান

,৬৫,৭১৭

,৬৫,৭১৭

,৬৫,৭১৭

,৬২,৫১৭

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/9/9f/Flag_of_Indonesia.svg/22px-Flag_of_Indonesia.svg.png ইন্দোনেশিয়া

,৫০,৮৫১

,৪৬,৪৪০

,৫০,০০০

,৪২,৪০০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/1/1a/Flag_of_Argentina.svg/22px-Flag_of_Argentina.svg.png আর্জেন্টিনা

৮০,১৪২

৭১,৭১৫

৮৮,৫৭৪

৯৬,৫৭২

১০

https://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/thumb/9/9e/Flag_of_Japan.svg/22px-Flag_of_Japan.svg.png জাপান

৯৬,৫০০

৮৬,০০০

৮৫,০০০

৮২,১০০

সর্বমোট

বিশ্বে

৪২,১১,৩৯৭

৪২,৪২,২৮০

৪৫,১৮,০৬০

৪৩,২১,০১১

জৈব জ্বালানি

২০১০ সালে পাকিস্তানের কায়দে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোবিজ্ঞানীরা ব্যবহৃত চায়ের পাতা থেকে জৈব জ্বালানি তৈরির একটি উপায় বের করেছেন। তাঁরা এ থেকে বিকল্প পদ্ধতিতে ব্যবহৃত ফেলে দেয়া চা পাতা থেকে গ্যাসিফিকেশন পদ্ধতিতে ২৮% হাইড্রোকার্বন গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব। এই গ্যাস কয়লার মতোই সরাসরি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে অন্যান্য গবেষকদের মতে এ উপায়ে জৈব জ্বালানি তৈরির খরচ অনেক বেশি।]

বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

চা গাছের জন্য অধিক পরিমাণে বৃষ্টিপাত ও তাপের প্রয়োজন হয় বলে বাংলাদেশের বৃষ্টিবহুল পাহাড়িয়া অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চায়ের চাষ করা হয়। চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের চা উৎপাদনের পরিমাণ বছরে প্রায় সাড়ে ৬০০ মিলিয়ন কেজি এবং এখান থেকে চা রফতানি করা হয় ২৫টি দেশে। চা উৎপাদনের দিক থেকে এগিয়ে আছে চীন, ভারত, কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টমে। বাংলাদেশে চা পানকারীর সংখ্যা প্রতিবছর ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে। চা পানে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৬তম ৷ সে তুলনায় চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি না-পাওয়ায় ১৯৮৪ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে রপ্তানীর পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।

বর্তমানে ৪৭,৭৮১ হেক্টর জমিতে ১৬৬টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট বিভাগেই রয়েছে ১৪৮টি চা বাগান। তন্মধ্যে ৯০% চা সিলেট বিভাগে এবং অবশিষ্ট ১০% চট্টগ্রাম বিভাগে উৎপন্ন হয়। প্রায় সকল চা বাগান ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত। তবে সাম্প্রতিককালে পঞ্চগড় জেলায় কিছু নতুন চা বাগান স্থাপিত হয়েছে। চা বাগানগুলোতে স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার। অস্থায়ীভাবে কাজ করছে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক বাংলাদেশ সরকারের সাথে ২০০৯ সালে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বর্তমানে বাগানের শ্রেণীভেদে শ্রমিকেরা যথাক্রমে দৈনিক ৪৮.৪৬ টাকা ও ৪৫ টাকা হারে মজুরি পায়। স্থায়ী শ্রমিকদেরকে রেশন হিসেবে প্রতিদিন আধা-কেজি চাউল অথবা আটা দেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রাশিয়া, চেক ও স্লোভাক প্রজাতন্ত্র, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরী, জাপান, মিশর, সুদান, জর্ডান, গ্রীস, সাইপ্রাস, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে চা রপ্তানী করা হয়। বাংলাদেশের চা পৃথিবীব্যাপী সিলেট টি নামে খ্যাত।

একুশ শতকে বাংলাদেশ অরগ্যানিক টী পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন করা শুরু করেছে। এর উৎপাদক কাজী এন্ড কাজী। এছাড়াও, পঞ্চগড়ে ময়নাগুড়ি টি এস্টেট, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, টিটিসিএল চা বাগান রয়েছে।

গম

গম


বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

জগৎ:

Plantae

বিভাগ:

Angiosperms

শ্রেণী:

Monocots

(শ্রেণীবিহীন):

Commelinids

বর্গ:

Poales

পরিবার:

Poaceae

উপপরিবার:

Pooideae

গোত্র:

Triticeae

গণ:

Triticum
L.



গম (ইংরেজি: Wheat) বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত একটি ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ যার আদি উৎপত্তি মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ট অঞ্চলে, কিন্তু এখন গম সারাবিশ্বে চাষ করা হয়। ২০০৭ সনে গমের বিশ্ব উৎপাদন ছিল ৬০৭ মিলিয়ন টন, যা ছিল বিশ্বের ৩য় সর্বাধিক উৎপাদিত শস্য। ১ম ও ২য় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ধান ও ভুট্টা। [১] বিশ্বব্যাপী গম এখন প্রোটিনের নিরামিষ উৎস হিসেবে জন্যে অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ যা মানুষের খাদ্যে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, গমে অধিক পরিমানে প্রোটিন থাকে, এছাড়াও ধান ও ভূট্টাতেও এই প্রোটিন পাওয়া যায়। খাবার জন্যে ব্যবহৃত মোট উৎপাদিত শস্য অনুযায়ী, গম রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে যখন থেকে ভুট্টাকে পশু খাদ্যের জন্যে ব্যবহার শুরু হয় এবং ধান রয়েছে প্রথম অবস্থানে যেহেতু ধান মানুষ্য খাদ্যের প্রধান শস্য।

গম মানবসভ্যতার শুরুতে নগরভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভবের প্রধান হেতু ছিল কারন গম ছিল আদি শস্য উপাদানের মধ্যে একটি যে শস্য বৃহৎ পরিমানে চাষ করা যায় এবং অতিরিক্ত ফসল অনেক দিন পর্যন্ত গুদামজাত করে রাখা যায়। গম দানা একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার উপাদান যা গুড়ো করে তৈরি আটা নানারকম রুটি, বিস্কুট, কুকিজ, কেক, পিঠা, পাস্তা, নুডলস, তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিয়ার, ভদকা ইত্যাদি মদ্য এবং জৈবজ্বালানী তৈরি করতেও গম ব্যবহৃত হয়। গমের খড় গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং খড়ের ছাউনির জন্য নির্মাণ সামগ্রী হিসেব ব্যবহার করা হয়।

গম উৎপাদক দেশসমূহ

পরিভ্রমণ মেনু

Top of Form

Bottom of Form

3.13333333333
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top