হোম / কৃষি / মৎস্য চাষ / প্রশ্নোত্তরে মাছ চাষ / মিশ্র মাছ চাষ : প্রশ্নাবলি
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

মিশ্র মাছ চাষ : প্রশ্নাবলি

মিশ্র মাছ চাষ নিয়ে যে সব প্রশ্ন প্রায়শই করা হয়ে থাকে সে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে এখানে।

কোন কোন জাতের মাছের জন্য কী কী ধরনের পুকুর সব চাইতে উপযোগী?

  • ডিম পোনা চাষের জন্য ৫ থেকে ১৫ কাঠা মাপের পাঁক ছাড়া ছোট ছোট পুকুর যেখানে আলো বাতাস খেলে সেই সব পুকুরই উপযুক্ত। এই সব পুকুরকে আঁতুড় পুকুর বলা হয়।
  • আবার পাঁক যুক্ত, হাজামজা পুকুর জিওল মাছ (মাগুর, শিঙি) চাষ করার জন্য ভালো।
  • প্রায় ১৫ কাঠা থেকে ২০ কাঠা মাপের, অল্প পাঁক আছে যা চার পাঁচ ফুট গভীর, এই সব পুকুর চারা পোনা চাষের জন্য উপযোগী। এই রকম পুকুরকে লালন পুকুর বলা হয়।
  • যে সব পুকুর দেড় বিঘা থেকে ৭ বিঘা পর্যন্ত, মাঝারি পাক আছে এবং ৬ থেকে ৭ ফুট গভীর — এই রকম পুকুর নিবিড় মাছ চাষ বা মিশ্র মাছ চাষের জন্য উপযোগী। এই সব পুকুরকে মজুত পুকুর বলা হয়।

দেশি পোনা মাছ যেমন রুই, কাতলা ও মৃগেল — এইগুলি চাষ করার জন্য কোন ধরনের পুকুর সবেচেয় উপযোগী?

উ : যে সব পুকুর দেড় বিঘা থেকে প্রায় ৭ বিঘা পর্যন্ত, মাঝারি পাঁক আছে এবং ৬ থেকে ৭ ফুট গভীর, এই রকম পুকুর নিবিড় মাছ চাষ বা মিশ্র মাছ চাষের জন্য উপযোগী। এই সব পুকুরকে মজুত পুকুর বলা হয়। পুকুরের পাড়ে কম গাছপালা থাকাই ভালো।

রুই, কাতলা ও মৃগেল ইত্যাদি মাছের সঙ্গে কি অন্য কোনও মাছ চাষ করা যায়?

উ : রুই, কাতলা ও মৃগেল ইত্য‌াদি মাছের সঙ্গে চিংড়ি এবং বিদেশি পোনা এমনকী ছোট মাছও চাষ করা যায়।

রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য কী ভাবে পুকুর তৈরি করতে হয়?

উ : নিবিড় বা মিশ্র চাষের জন্য পুকুর তৈরি করতে যা যা করা দরকার সে গুলি হল জঙ্গল সাফ করা, পাড় বাঁধানো, আগাছা ও মাছ খেকো মাছ মেরে ফেলা, চুন ও সার দেওয়া এবং পোকামাকড় মারা।

রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য কী পরিমাণ চারাপোনা বিঘা প্রতি পুকুরে ছাড়া প্রয়োজন?

  • রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য বিঘা প্রতি ২০০টি কাতলা, ৫০০টি রুই ও ৩০০টি মৃগেল — মোট ১০০০ চারা পোনা ছাড়া প্রয়োজন।
  • রুই, কাতলা ও মৃগেল –এর সঙ্গে বিদেশি পোনার মিশ্র চাষ করলে বিঘা প্রতি কাতলা ১০০টি, রুই ৩০০টি, মৃগেল ১৫০টি, সিলভার কার্প ২০০টি, গ্রাসকার্প ১০০টি, সাইপ্রিনাস ১৫০ মোট বিঘা প্রতি ১০০০টি।

রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য চারাপোনা পুকুরে ছাড়ার সময় চারা পোনাগুলি কত বড় হওয়ার দরকার?

উ : রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য চারাপোনা পুকুরে ছাড়ার সময় চারা পোনাগুলি প্রতিটি ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বড় হওয়া উচিত।

রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য চারাপোনা পুকুরে ছাড়ার উপযুক্ত সময় কী।

উ : রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসই হল চারাপোনা পুকুরে ছাড়ার উপযুক্ত সময়। এই সময় জলের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে ও চারাপোনার পক্ষে উপযুক্ত হয়।

মিশ্র চাষ করার জন্য চারা পোনা পুকুরে ছাড়ার সময় পুকুরে কত জলা থাকা দরকার?

উ : মিশ্র চাষ করার জন্য চারা পোনা পুকুরের জলের গভীরতা ৬ ফুট থেকে ৭ ফুটের মতো হওয়া দরকার। কোন সময়ই এর বোশি জল পুকুরে রাখা ভাল নয়।

মিশ্র চাষ করার জন্য চারা পোনা পুকুরে ছাড়ার পর কী কী পরিচর্যা করা দরকার?

উ : মিশ্র চাষ করার জন্য পুকুর সব সময় পরিষ্কার রাখা, মাঝে মাঝে পুকুরের জলে চুন ও সার দেওয়া, পুকুরে মাছকে পরিপূরক খাবার দেওয়া এবং মাঝে মাঝে জাল টানা দরকার।

মাছের খাবার কী?

উ : মাছ সাধারণত জলে জন্মায় এমন প্রাকৃতিক প্রাণীকণা ও কিছু তৈরি করা পরিপূরক খাবার খায়। আবার গ্রাসকার্প নামক পোনা মাছ পুকুরে জন্মায় এমন জলজ আগাছাও খায়।

এই সব খাবার পুকুরের জলে কোথা থেকে আসে?

উ : প্রাকৃতিক প্রাণীকণা প্রাকৃতিক ভাবে জলে তৈরি হয়। জলে যথেষ্ট পরিমাণে উদ্ভিদ কণা থাকলেই প্রাণীকণা উত্পন্ন হয়। আর জলে উদ্ভিদের খাবার নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ থাকলে উদ্ভিদ কণা তৈরি হয়। উদ্ভিদের খাবার নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ জলে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়। তা ছাড়া তৈরি করা পরিপূরক খাবারও জলে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়।

পুকুরের জলে যথেষ্ট পরিমাণে প্রাণীকণা আছে কি না বোঝা যাবে কী ভাবে?

উ : এটি বোঝার জন্য কিছু অভিজ্ঞতা দরকার। ছাঁকনি দিয়ে পুকুরের জল মাঝে মাঝে ছেঁকে আতস কাচ দিয়ে দেখে বোঝা যাবে।

মাছের পরিপূরক খাবার কাকে বলে?

উ : চাল বা গমের কুঁড়ো, সঙ্গে সরষের বা বাদামের বা তিসির বা নারকেলের খইল সমান ভাবে মিশিয়ে মাছের যে খাবার তৈরি করা হয় তাকেই মাছের পরিপূরক খাবার বলা হয়। এই পরিপূরক খাবারের সঙ্গে কিছুটা পরিমাণে ফিশমিল বা মাছের গুঁড়ো দেওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৫০ ভাগ খইল, ৪০ ভাগ কুঁড়ো এবং ১০ ভাগ গুঁড়ো মাছ মিশিয়ে পরিপূরক খাবার তৈরি করা যেতে পারে।

পুকুরে চারাপোনা ছাড়ার পর মাছের পরিপূরক খাবার কী পরিমাণে ও কখন দিতে হবে?

উ : পুকুরে চারাপোনা ছাড়ার পর প্রতি দিন বিঘা প্রতি প্রথম ৩ মাস ৮০০ গ্রাম করে, তার পরের ৩ মাস প্রতি দিন ১০০০ গ্রাম বা ১ কিলোগ্রাম করে, তার পরের ৩ মাস প্রতি দিন ২৫০০ গ্রাম বা আড়াই কিলোগ্রাম করে এবং তার পরের ৩ মাস প্রতি দিন ৩ কিলো ২০০ গ্রাম করে পরিপূরক খাবার দেওয়া দরকার।

মিশ্র চাষে পুকুরে পরিপূরক খাবার ছাড়া আর কী কী প্রয়োগ করা প্রয়োজন?

  • মাছ ছাড়ার পরের মাস থেকে প্রতি মাসে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ কিলোগ্রাম চুন, প্রতি মাসে এক বার ১৩৫ কিলোগ্রাম থেকে ১৪০ কিলোগ্রাম গোবর এবং গোবর দেওয়ার ১৫ দিন পর ৭ থেকে ৮ কিলোগ্রাম সুপার ফসফেট এবং ৪ থেকে ৫ কিলোগ্রাম ইউরিয়া পুকুরে প্রয়োগ করা দরকার।
  • প্রতি ১০ দিন অন্তর এক বার জাল টানা দরকার।
  • মাঝে মাঝে মাছ ধরে মাছের শরীর পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনও রোগের লক্ষণ আছে কি না।

মাছ যে সব ছোট ছোট প্রাণীকণা খায় সেগুলি পুকুরের জলে কোথা থেকে আসে? এর জোগান ঠিকমতো কী ভাবে রাখা যাবে?

উ : ছোট ছোট প্রাণীকণা পুকুরের জলে প্রাকৃতিক ভাবে আসে। তবে পুকুরের জলে উদ্ভিদকণার খাবার ঠিকমতো থাকলে এবং উদ্ভিদকণার উত্পাদন হলেই প্রাণীকণার জোগান ঠিক মতো থাকবে।

রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করে বছরে কী পরিমাণ উত্পাদন হতে পারে?

উ : রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের মিশ্র চাষ করে বিঘা প্রতি বছরে প্রায় ৬০০ কিলোগ্রাম উত্পাদন হতে পারে।

মিশ্র মাছ চাষে পুকুরে কী কারণে মাঝে মাঝে জাল টানতে হয়? কত দিন অন্তর জাল টানা দরকার?

উ : মাঝে মাঝে জাল টানলে পুকুরে মাছের ঘোরাফেরা বেশি হয়, তাতে মাছের বাড় বেশি হয়, পুকুর পরিষ্কার থাকে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর এক বার জাল টানা দরকার।

মিশ্র মাছ চাষে পুকুরে জাল টানা ছাড়া আর কী কী পরিচর্যা করা প্রয়োজন?

উ : মাসে অন্তত দু’ বার জাল টানা প্রয়োজন। মাঝে মাঝে পুকুরে হররা টেনে পুকুরের তলদেশ থেকে দুষিত গ্যাস বার করে দিতে হয়। কোনও সময় মাছ ভেসে উঠলে অথবা মাছের গায়ে কোনও ক্ষত দেখা দিলে পুকুরের জলের পরিমাণ অনুযায়ী পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেট ছড়ানো প্রয়োজন। এ ছাড়া পুকুরের জলে নিয়ম মতো গোবর ও চুন প্রয়োগ করতে হয়।

মিশ্র চাষে বিঘা প্রতি কী পরিমাণ খরচ হয়?

উ : মিশ্র মাছ চাষে বিঘা প্রতি ৮০০০ টাকার মতো খরচ হয়।

ঠিকমতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে রুই কাতলা মৃগেলের মিশ্র চাষ করলে বিঘা প্রতি বছরে কী পরিমাণে লাভ হতে পারে?

উ : ঠিকমতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে রুই কাতলা মৃগেলের মিশ্র চাষ করলে বিঘা প্রতি প্রায় ১৬০০০ টাকার মতো লাভ হতে পারে।

রুই কাতলা মৃগেলের সঙ্গে আর কোন কোন মাছ মিশ্র মাছ চাষ হিসেবে চাষ করা যায়?

উ : রুই কাতলা মৃগেলের সঙ্গে বিদেশি পোনা যেমন আমেরিকান রুই, রুপালি রুই এবং ঘেসো রুই -- এই ছয় প্রকার পোনা নিয়ে এক সঙ্গে মিশ্র চাষ করা যায়।

ছয় প্রকার পোনা মাছের মিশ্র চাষে চারা পোনা ছাড়ার পর কী কী পরিচর্যা করা দরকার?

  • নিয়মিত ভাবে পুকুরে পরিপূরক খাবার প্রয়োগ করা দরকার।
  • প্রতি ১০ দিন অন্তর এক বার জাল টানা দরকার।
  • মাঝে মাঝে মাঝ ধরে মাছের শরীর পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনো রোগের লক্ষণ আছে কি না।

ছয় প্রকার পোনা মাছের মিশ্র চাষ করার জন্য চারা পোআ ছাড়ার পর কী জাতীয় খাবার, কী পরিমাণে এবং কত দিন পর্যন্ত মাছকে দিতে হবে?

উ : ৫০ ভাগ খইল, ৪০ ভাগ কুঁড়ো এবং ১০ আগ গুঁড়ো মাছ মিশিয়ে পরিপূরক খাবার তৈরি করে সেই খাবার পুকুরে চারাপোনা ছাড়ার পর প্রতিদিন বিঘা প্রতি প্রথম ৩ মাস ৮০০ গ্রাম করে, তার পরের তিন মাস প্রতিদিন এক কিলোগ্রাম করে, তার পরের ৩ মাস প্রতিদিন আড়াই কিলোগ্রাম করে এবং তার পরের ৩ মাস প্রতিদিন সাড়ে তিন কিলো গ্রাম করে দেওয়া প্রয়োজন। পকুরের অবস্থা বিচার করে মাছের ওজনের ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত পরিপূরক খাবার দেওয়া যেতে পারে।

মাছের যাতে বিশেষ রোগ পোকা না হয় তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

উ : পুকুরের পরিবেশকে ঠিক রেখে, মাঝে মাঝে পুকুরে চুন দিয়ে, জাল টেনে এবং মাঝে মাঝে মাছের শরীর ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করে দেখলে মাছকে রোগ পোকা থেকে মুক্ত রাখা যাবে।

পরিপূরক খাবার ছাড়া মাছের খাবারের আর কী ব্যবস্থাপনা করা দরকার?

উ : দেশি পোনার মিশ্র চাষের মতো মাছ ছাড়ার পরের মাস থেকে প্রতি মাসে বিঘা প্রতি ৪ থেকে ৫ কিলোগ্রাম চুন, প্রতি মাসে এক বার ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোগ্রাম গোবর সার এবং গোবর সার দেওয়ার ১৫ দিন পর ৭ থেকে ৮ কিলোগ্রাম সুপার ফসফেট এবং ৪ থেকে ৫ কিলোগ্রাম ইউরিয়া পুকুরে প্রয়োগ করা দরকার।

চারা পোনা ছাড়ার কত দিন পর পুকুর থেকে মাছ তুলে বাজারে পাঠানো যাবে?

উ : মাছের ওজন ৫০০ গ্রামের মতো হলে কিছু কিছু মাছ তুলে বাজারে পাঠানো যেতে পারে।

ভালো জাতের দেশি ও বিদেশি চারা পোনা কোথা থেকে পাওয়া যাবে?

উ : দেশি ও বিদেশি পোনার চারা মাছ কোনও নিকটবর্তী সরকারি হ্যাচারি থেকে পাওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় বেসরকারি হ্যাচারি থেকেও সংগ্রহ করা যেতে পারে।

পুকুরে মাছ ছাড়ার পর কোনও সমস্যা দেখা দিলে কার সঙ্গে ও কোথায় যোগাযোগ করা যাবে?

উ : কোনও সমস্যা দেখা দিলে ব্লকের মত্স্য উন্নয়ন আধিকারিক অথবা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মাছ চাষের বিষয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

দলগত ভাবে বা সমবায় করে মাছ চাষ করলে কী কি বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়?

উ : দলগত ভাবে মাছ চাষ করলে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে, মাছ চাষের উপকরণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে, মাছ বাজারজাত করার ক্ষেত্রে এবং প্রতি দিনের কাজের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা হয়। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পেতেও সুবিধা হয়।

3.0
ভোলন মৎস্য খামার Jul 27, 2016 07:52 PM

মজবুত পুকুরে পোকামাকড় কি বাভে মারা জায়

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top