ভাগ করে নিন

নিবিড় বা কম্পোজিট মাছ চাষ

কম্পোজিট ফিশ কালচারে রুই, কাতলা, মৃগেলের সাথে গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প ও সাইপ্রিনাস কার্প এক সঙ্গে চাষ করা হয়।

রুই, কাতলা, মৃগেল মাছ পুকুরে তার অনুপাত ও যথাসম্ভব সংখ্যা বজায় রেখে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও পরিবেশের ব্যবস্থা করে বছরে বিঘাপ্রতি ১০০ থেকে ১৪০ কেজি (হেক্টরে ৭৫০ থেকে ১০৫০ কেজি) মাছ বছরে পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমানে রুই, কাতলা, মৃগেলের সাথে গ্রাস কার্প, সিলভার কার্প ও সাইপ্রিনাস কার্প এক সাথে চাষ করে দেখা গেছে এই উৎপাদন আরও কিছু বাড়ানো যায় (শতকরা ১০ – ৩৫ ভাগ ) এই পদ্ধতি কম্পোজিট ফিশ কালচার নামে পরিচিত। এই চাষে জলাশয়ের সমস্ত অংশের খাবার ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্টু ব্যবহার হয়। এই চাষের বৈশিষ্ট্য হল ---

  • ১) কাতলা ও সিলভার কার্প উভয়েই জলের উপরের স্তরের মাছ। কিন্তু এদের উভয়ের মধ্যে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পার্থক্য লক্ষ করা গেছে। অনেকগুলো রেকারযুক্ত ফুলকা সিলভার কার্পকে প্রধানত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদকণা গ্রহণ করতে সাহায্য করে। কাতলা মাছের ফুলকার ভিতরের গঠন প্রাণীকণা গ্রহণে বেশি উপযোগী। তাই এরা (কাতলা ও সিলভার কার্প ) জলের একই স্তরে থাকলেও খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা কমই হয়। এ ছাড়া পুকুরের উপরি জলস্তরের অতিরিক্ত উদ্ভিদকণা বা প্রাণীকণা যা অনেক সময় সূর্যালোকের প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করে তা-ও দূর হয়।
  • ২) রুই মাছ ও গ্রাস কার্প জলের মধ্য স্তরেই বিচরণ করে। রুই মাছ ছোট অবস্থায় প্রাণীকণা ও বড় হলে উদ্ভিদকণা, জলজ উদ্ভিদের নরম অংশ খায়। গ্রাস কার্পের প্রধান খাদ্য ঝাঁঝি, ঘাস, জলজ উদ্ভিদ ইত্যাদি। তাই এদের মধ্যেও খাবারের জন্য কোনও প্রতিযোগিতা নেই।
  • ৩) মৃগেল ও সাই প্রিনার্স কার্প উভয়েই জলাশয়ের নীচের স্তরের মাছ। জলের নীচের তলায় প্রচুর মৎস্য-খাদ্য থাকে। এই দুই প্রকার মাছই পুকুরের নীচের তলার খাবার ও মাটির সাথে লেগে থাকা মৎস-খাদ্য প্রাণীজ খাদ্য ও জৈব খাদ্য খেয়ে থাকে। সাইপ্রিনাস কার্পের অতিরিক্ত খাদ্যাভাসের জন্য এরা সর্বভুক এবং জলের নীচের স্তরের পচা গলা জৈব পদার্থ খায়। এই ভাবে জলের নীচের স্তরের মৎস্য-খাদ্যের পূর্ণ সদ্ব্যবহার হয়ে থাকে। মোট উৎপাদন বাড়ে।

কাজেই এই ছয় প্রকার মাছ একত্রে চাষ করলে পুকুরে খাদ্য যত জায়গায় সঞ্চিত আছে তা সবই সুষ্ঠু ভাবে ব্যবহৃত হয়। তা ছাড়া এই আপাত নতুন প্রকার মাছগুলির (সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ও সাইপ্রিনাস কার্প) শারীরিক বৃদ্ধির হারও অপেক্ষাকৃত বেশি। সিলভার কার্প কাতলার চেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে। গ্রাস কার্পকে জলজ উদ্ভিদ ঠিকমতো খাওয়াতে পারলে এদের বৃদ্ধি আশাতিরিক্ত হয়। এরা পুকুরের জলজ উদ্ভিদ খেয়ে পুকুরের জলকে শ্যাওলামুক্ত করতে পটু। সাইপ্রিনাস কার্প মৃগেলের চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি বাড়ে। ফলে সর্বমোট উৎপাদন বেশ উল্লেখযোগ্য ভাবেই বাড়ে। তবে সমস্যা যে নেই তা নয়। এই মাছগুলির চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম।

তথ্যসূত্র : মৎস্য বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

2.88888888889
তারকাগুলির ওপর ঘোরান এবং তারপর মূল্যাঙ্কন করতে ক্লিক করুন.
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top