ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

পুকুরের জলের গুরুত্ব

জলের গুণকে ক’ ভাগে ভাগ করা যায় সেই তথ্য রয়েছে এখানে।

মাছ চাষের জলের ভূমিকা অতুলনীয়। জলই মাছের আশ্রয়। মাছ জলে বসবাস করে। জলের খাদ্যদ্রব্য জলেই বৃদ্ধি পায়। রূপান্তরিত হয়ে মাছের খাওয়ার উপযুক্ত হয়। মাছ বৃদ্ধি পায়, বংশ বিস্তার করে। মাছকে ডাঙায় তুললে তার মৃত্যু হয়। সুতরাং মাছের স্বাস্থ্য, তাদের বৃদ্ধি, বংশবিস্তার, রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণ, মাছের স্বাদ ও গন্ধ এবং সর্বোপরি মাছের উৎপাদন, সবই ওই জলাশয়ের জলের উপরে যথেষ্ট ভাবে নির্ভরশীল। তাই মাছ চাষে জলের গুণাগুণেরও গুরুত্ব সমধিক।

জলাশয়ের জলের গুণাগুণকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।

  • (১) ভৌত গুণ
  • (২) রাসায়নিক গুণ
  • (৩) জৈবিক গুণ

মাছ চাষে জলাশয়ের জলের ভৌত গুণগুলিকে আবার ৪টি শ্রেণিভুক্ত করা যেতে পারে

  • (ক) পুকুরে জলের গভীরতা
  • (খ) জলের স্বচ্ছতা
  • (গ) জলের তাপমাত্রা ও
  • (ঘ) জলের মধ্যস্থ আলো বা সূর্যালোক।

পুকুরের জলের গভীরতা

বিভিন্ন মাছের জন্য জলের গভীরতা ভিন্ন। সামুদ্রিক মাছ যেমন গভীর জলের, তেমনই জিওল মাছ অল্প গভীর জলেই বেঁচে থাকতে পারে। আমরা সাধারণত সামুদ্রিক মাছের চাষ করি না, আহরণ করি। আমাদের খুব গভীর জল সৃষ্টিতেও নানা বাধা। আমরা সাধারণত মিঠা জল এবং স্বল্প নোনা জলের জলাশয় সৃষ্টি করি ও সেগুলি মাছ চাষের কাজে লাগাই। এ ছাড়া বিভিন্ন মাছ জলের বিভিন্ন স্তরে বসবাস করে। আবার এদের জীবনচক্রের বিভিন্ন সময়ে/অবস্থায় ভিন্ন জলস্তরের প্রয়োজন হয়। মাছের প্রজনন ক্রিয়া, মাছের ডিম, ডিম থেকে ডিম পোনা, ধানি, আঙুলে বা পূর্ণাঙ্গ মাছের প্রয়োজন বা পছন্দ জলের বিভিন্ন গভীরতা। জলাশয়ের গভীরতার উপর জলের গভীরতা অনেকাংশে নির্ভর করে। আমরা যে ধরনের মাছ চাষ করে থাকি তাদের জন্য সাধারণ ভাবে জলের গভীরতা ১.৫ থকে ২.০ মিটার হওয়া প্রয়োজন। জলের গভীরতা বেশি হলে জলের নীচে অবধি সূর্যের আলো পৌঁছতে পারে না। ফলে জলের নীচের স্তরের উদ্ভিদকণার বংশবিস্তার ও বৃদ্ধিতে ব্যাঘাত ঘটে। মাছের খাবার তৈরি হওয়া এবং এর বৃদ্ধি হওয়া কমে যায়। ফলে মাছের খাদ্যাভাব হতে পারে। সূর্যালোকে মাছের উৎসাহ বাড়ে, তারা দৌড়ঝাঁপ করে। ফলে তাদের ব্যায়াম ও ভালো বৃদ্ধি হয়। আবার জলের গভীরতা কম হলে জলের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়, মাছের অস্বস্তি বাড়ায়, এমনকী তাদের মৃত্যুও ঘটতে পারে। জলের গভীরতা কম হলে জলাশয়ের মোট আয়তনও কমে যায়। জলের মোট পরিমাণ কমে যায়। মাছেদের বাসস্থানের মোট জায়গাও কমে যায়। মাছের খাবারদাবার সংগ্রহ করা ও চলাফেরায় যথেষ্ট অসুবিধা হয়। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। উৎপাদন কম হয়। জলের গভীরতা কম হলে স্তরবিন্যাস তৈরি হয় না। বিভিন্ন স্তরের মাছ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। জলের গভীরতা কম থাকলে জলের উষ্ণতা সহজেই বেড়ে যাবে।

জলের তাপমাত্রা

মাছের জীবনযাপন ও তার বৃদ্ধি এবং পুকুরের জলে ও মাটিতে বসবাসকারী ও পচনকারী জীবাণুর উপর জলের তাপমাত্রার যথেষ্ট প্রভাব আছে। এগুলি নিম্নরূপ --

  • ১) মাছ ও সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীরা শীতকালে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এদের গতিবিধি কম থাকে। খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, বৃদ্ধিও কমে। এই সময় জলের তাপমাত্রা কমার সাথে সাথে বিপাকক্রিয়া কমে যায়। বৃদ্ধিও কমে যায়। জলের তাপমাত্রা ৩২০ সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকলে মাছের চলাফেরা, ব্যায়াম ও খাদ্য গ্রহণ বেড়ে যায়। সাথে সাথে বৃদ্ধিও ভালো হয়।
  • ২) জলের উষ্ণতা বাড়ার সাথে সাথে জলাশয়ে থাকা পচনকারী জীবাণুর সক্রিয়তা বেড়ে যায়। জলস্থ বা জলে প্রয়োগ করা পচনশীল খাদ্যগুলি তাড়াতাড়ি পচে মাছের খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়। জটিল খাদ্যগুলিকে এই জীবাণু ভেঙে পচনক্রিয়ার সাহায্যে সহজ খাদ্যে পরিণত করে। এই জীবাণুর সক্রিয়তার জন্য প্রদত্ত সারেরও ব্যবহার খুব ভালো হয়। খুব কম সময়ে উপযুক্ত খাবার তৈরি হয়ে যায়।

জলের উষ্ণতা খুব বেড়ে গেলে মাছ চাষে সমূহ ক্ষতি হতে পারে। জলের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ালে মাছের ক্ষতি হয় না কিন্তু হঠাৎ করে জলের উত্তাপ বেড়ে গেলে মাছ অস্বস্তিতে পড়ে ছটফট করে মারাও যেতে পারে। মাছ ২৩০ সেলসিয়াস উষ্ণতার জলে যেমন বাস করতে পারবে, সেই রকমই ৩৫- ৩৬০ সেলসিয়াস উষ্ণতায়ও পারবে। কিন্তু এর বেশি বা কম উষ্ণতায় আমাদের চাষের সাধারণ মাছ অস্বস্তি বোধ করে ও মৃত্যু বরণ করতে পারে। আবার ২৩ – ২৪০ সেলসিয়াস উষ্ণ জলের মাছ মারা যাবে যদি হঠাৎ করে ৩৫ – ৩৬০ সেলসিয়াস উষ্ণতার জলে ঐ মাছকে ছাড়া হয়। কিন্তু এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে আনলে মাছের কোনও ক্ষতি হবে না। অর্থাৎ আস্তে আস্তে সইয়ে নিলে মাছ তার স্বভাবজাত উষ্ণতার চরম সীমাতেও বাঁচতে পারে। এই কারণেই এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে চারা মাছ চালান করতে হলে, প্রথমে চালান করার জন্য যে পাত্র রয়েছে সেটি পূর্ণ করা হয় মাছ সমেত জল দিয়ে এবং ঐ মাছ ছাড়ার আগে পাত্রটি মাছ সমেত পরবর্তী পুকুরের জলে অনেক ক্ষণ রেখে দু’ জায়গার জল সম উষ্ণতায় আনা হয়। এতে মাছগুলি আস্তে আস্তে পরবর্তী পুকুরের জলে মিশে যেতে পারে। এর ফলে মাছের মৃত্যুর হার খুবই কম হয়।

জলের আলোর প্রয়োজনীয়তা

জলে মাছের প্রাকৃতিক খাবারের মধ্যে সুক্ষ্ম উদ্ভিদ (প্ল্যাঙ্কটন) উল্লেখযোগ্য। এই সুক্ষ্ম উদ্ভিদের বংশবিস্তার ও বৃদ্ধির জন্য আলো অপরিহার্য। সূর্যের আলোর সাহায্যে সালেকসংশ্লেষের প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি হয়। এ ছাড়া এই প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে, যে অক্সিজেন জলের সাথে দ্রবীভূত হয় ও মাছের সুষ্টু শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অন্ধকারের চেয়ে আলোতে মাছের গতিবিধি অনেক বেশি। ফলে আলোর মধ্যে মাছ খুব চলাফেরা করবে, ব্যায়াম হবে, প্রচুর খাবে, বৃদ্ধি হবে ততোধিক। জলে যাতে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পড়ে তার জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। জলাশয়ের চার ধারে, বিশেষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে জলের ৫/৬ ফুট দূরত্বের মধ্যে ৫/৬ ফুটের বেশি উচ্চতায় গাছ বা ছায়া সৃষ্টি করে এমন কোনও রকম ঘরবাড়ি যেন না থাকে। পুকুর পাড়ে নানা রকম গাছ পালা লাগানো বা চাষের প্রচলন ও প্রয়োজন আছে, কিন্তু তা বিবেচনা করে লাগাতে হবে। পুকুরের বাঁধ রক্ষার জন্য ঘাস বা জলে ছায়া না পড়ে এমন ছোট ছোট সবজি চাষ বা ছোট ছোট গাছ লাগালে ক্ষতি নেই। পূর্ণ বয়স্ক নারকেল বা তাল গাছ খুব ক্ষতি করে না, বিশেষ করে উত্তর ও পশ্চিম দিকের।

জলের স্বচ্ছতার গুরুত্ব

মাছের সুষ্ঠু বসবাস, জীবনধারণ ও বৃদ্ধির জন্য জল স্বচ্ছ হওয়া দরকার। জল স্বচ্ছ না হলে সূর্যালোক থাকলেও আলো জলের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। আলোর অভাবে যে যে অসুবিধা মাছ বা জল ভোগ করে সেগুলো হল, ক্লোরোফিল-যুক্ত সবুজ উদ্ভিদ জন্মাবে না, বাড়বে না, মাছের খাদ্য ও অক্সিজেনের ঘাটতি হবে।

  • সূক্ষ মাটিকণা (কলয়েডস) জলে অধিক থাকার কারণে জল অস্বচ্ছ হলে জলে প্রদত্ত সার যেমন নাইট্রোজেন, ফসফেট ইত্যাদি দূঢ় ভাবে (ফসফেট ফিক্সেসন ) আটকে রেখে জলের উর্বরতা হ্রাস করে। এ ছাড়া মাছের শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটে।
  • জলে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) বা প্রাণীকণা (জুপ্ল্যাঙ্কটন) জন্মালে জলের স্বচ্ছতা কমে যায়। মাছের এগুলির প্রয়োজনীয়তা আছে কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্ষতিকারক। এগুলি বেশি হলে জলে আলো ভেদ করতে বাধা পায়। মৃত্যুর পরেও এদের দেহাবশেষ জলকে আরও ঘোলা করে। এদের আধিক্যে ভোরের দিকে মেঘলা দিনে অক্সিজেনের অভাবে মাছ শ্বাসকষ্টে ভোগে। সূর্যালোকের ২/৩ ঘণ্টা পরে এই ঘাটতি কমে। আমরা জলের স্বচ্ছতা পরিমাপ করার জন্য সেচি ডিস্ক ব্যবহার করতে পারি। জলের স্বচ্ছতা ৩০ – ৪০ সেন্টিমিটার হলে পুকুরের মাছ চাষ ভালো হয়।

পুকুরে রাসায়নিক

মাছ জলজ জীবন্ত প্রাণী। মাছের শ্বাসপ্রশ্বাস, আহারবিহার, প্রজনন, বৃদ্ধি, বংশবিস্তার, সবই জলের উপর পক্ষান্তরে জলের গুণাগুণের উপর নির্ভরশীল। জলের ভিতর নানা গ্যাস ও রাসায়নিক দ্রব্য নানা অবস্থায় থাকে। কোনওটি কঠিন, কোনওটি বা তরল, কোনওটি আবার গ্যাসের আকারে থাকে। কেউ দ্রবীভূত থাকে কেউ বা জলের উপরে বা জলের মধ্যে ভেসে থাকে। কিছু কিছু গ্যাস মাছের জীবনের পক্ষে শুধু অপরিহার্যই নয়, এগুলির কম বা বেশি বা এগুলির গুণগত মানের উপরে মাছের বাঁচা, মরা বা তাদের জীবনজীবিকা, বৃদ্ধি একান্ত ভাবে নির্ভরশীল। একই প্রকারে জলের ভিতর কঠিন বা তরল রাসায়নিক দ্রব্যও মাছের উৎপাদন শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। পুকুরের জলের উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক উপাদানগুলি নিম্নরূপ :

সাধারণ ক্ষেত্রে

  • জলে দ্রবীভূত অক্সিজেন
  • জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড
  • জলের মোট ক্ষারত্ব বা মোট অ্যালক্যালিনিটি
  • জলের পিএইচ
  • নাইট্রোজেন
  • ফসফেট
  • হাইড্রোজেন
  • অ্যামোনিয়া
  • ক্যালসিয়াম

অস্বাভাবিক ক্ষেত্রে

পুকুরে মাছ চাষে অনেক সময় নানা প্রকার রাসায়নিক দ্রব্যের উৎপত্তি বা প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে। এগুলি সাধারণত মাটির গুণাগুণ বা মাটির উৎপত্তিস্থলের গুণাগুণ, পুকুরের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পুকুরের জলের উৎস, পুকুরের জল কী ভাবে ব্যবহৃত হয় (অর্থাৎ পুকুরে স্নান – মানুষ-গরু–বাছুরের স্নানাদি), খনিজ তেলের প্রভাব, আর্সেনিক বা অন্য কোনও রাসায়নিক দ্রব্য বা রোগ ও কীটনাশকের সম্ভাব্য উপস্থিতি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে। এই রাসায়নিকগুলির অধিকাংশই মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকারক, এমনকী মড়ক লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলি মানুষ বা গৃহপালিতদের স্বাস্থ্যহানির কারণও হতে পারে। কোনও রকম অস্বাভাবিকতাকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের গুরুত্ব

মাছ চাষে পুকুরের জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের গুরুত্ব অপরিসীম। সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের শ্বাসক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। মাছ চাষে অক্সিজেন, সোজাসুজি ভাবে জলজ অক্সিজেন, মাছের নিজের শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজন। অন্য দিকে মাছ যাদের খেয়ে জীবন ধারণ করে, সেই সব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম প্রাণীকণা বা উদ্ভিদকণার (জুপ্ল্যাঙ্কটন ও ফাইটোপ্লাঙ্কটন) জন্যও জলস্থ অক্সিজেনের গুরুত্ব কম নয়। এ ছাড়া জলজ শ্যাওলা, যেগুলি মাছের খাদ্য বা আশ্রয় যে কোনও কাজেই লাগুক না কেন, এদের জন্যও অক্সিজেন অপরিহার্য। জলের বিদ্যমান অক্সিজেন দু’টি কারণে দ্রবীভূত হয়ে থাকে।

  • ১) জলাশয়ের জলের উপরি ভাগ বায়ুর দ্বারা বা যে কোনও কারণে আন্দোলিত হলে তা সে প্রাণী, মাছ বা যে কারও দ্বারাই হোক, জলের উপর ছোট ছোট ঢেউ হয়। এই প্রক্রিয়ায় যে আন্দোলন হয় তাতেই বায়ুস্থ অক্সিজেন জলে মিশে যায়।
  • ২ ) পুকুরের জলে ছোট বড় যে কোনও উদ্ভিদই থাকুক, এরা জলে প্রচুর অক্সিজেন মিশিয় দেয়। উদ্ভিদ তার ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে জলস্থ দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সংযোগে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় বর্জ্য পদার্থ হিসাবে উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে। এই অক্সিজেন জলের সাথে মিশে যায়। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। যে হেতু এই প্রক্রিয়া সূর্যালোকের উপস্তিতিতে হয় তাই এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন বেশি তৈরি হয় দিনের বেলায়। এই কারণে সারা দিন বিশেষ করে বিকেলের দিকে দ্রবীভূত অক্সিজেন সব থেকে বেশি থাকে। রাত্রে এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। ফলে অক্সিজেন তৈরি হয় না। অন্য দিকে অবার সকলের শ্বাসপ্রক্রিয়ায় অক্সিজেন খরচ হওয়ায় রাতে অক্সিজেন কমে যায়। ভোরবেলা সূর্যালোকের আগে পুকুরের জলে সব থেকে কম অক্সিজেন থাকে। তাই পুকুরে বেশি সংখ্যায় মাছ থাকলে অনেক সময় মাছকে খাবি খেতে দেখা যায়।

এ ছাড়া পুকুরের তলদেশে জৈব পদার্থের পচনের জন্যও অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এই পচনের দু’ রকম ফল হতে পারে।

  • (ক) উপকার – যেমন জৈবস্থ মাছের খাবারের সরলীকরণ। এর ফলে ঐ জৈব পদার্থে মাছের যে খাদ্য আছে তা মাছ গ্রহণ করতে পারে। জৈব পদার্থস্থিত খাবার মাছ সাধারণ ভাবে সোজাসুজি খেতে পারে না। সরলীকরণের পরেই খেতে পারে।
  • (খ) কুফল – অধিক মাত্রায় জৈব পদার্থের এক সাথে পচন হলে অনেক সময় অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। জলকে দূষিত করতে পারে। ফলে মাছ চাষ বিঘ্নিত হয়।

তাপমাত্রার সাথে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের সম্পর্ক

প্রতি ১০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য প্রাণীদের শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি দ্বিগুণ হয় অর্থাৎ জলজ যে সব প্রাণী থাকে তারা ২০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তাদের শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ, মুখ্যত শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য যে পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করে ৩০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তার দ্বিগুণ হবে অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা। সেই কারণেই গরমের দিনের চেয়ে শীতের সময় মাছের অক্সিজেনের চাহিদা বেশি থাকে এবং অক্সিজেনের অভাব হলে গরম কালেই বেশি মাছ মারা যায়।

পুকুরের অক্সিজেনের সমস্যা কখন হয়

জলজ উদ্ভিদ, সবুজ কণা (ক্লোরোফিল) যুক্ত শ্যাওলা, উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) ইত্যাদি যখন পুকুরের জলে প্রচুর পরিমাণে হয়ে যায় তখন পুকুরের জলে অক্সিজেনের সমস্যা হয়ে যায়। কারণ এদের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় জলে অক্সিজেনের সংযোগ হয় ঠিকই, কিন্তু এরা শ্বাসগ্রহণে অক্সিজেন ব্যবহার করে তার চেয়েও বেশি। ফলে এদের অধিক্যেও অক্সিজেনের ঘাটতি হয়ে থাকে। এ ছাড়া জলজ প্রাণীর সংখ্যা বা মাছের সংখ্যা খুব বেশি থাকলেও তাদের শ্বাসক্রিয়ার জন্য অধিক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ফলে তার ঘাটতি দেখা যায়। রাত্রে আলোর অভাবে সালোকসংশ্লেষ বন্ধ থাকে, জলে অক্সিজেনের সংযোগ হয় না উপরন্তু জলস্থ সব উদ্ভিদ ও প্রাণী তাদের শ্বাস প্রক্রিয়ায় প্রচুর অক্সিজেন গ্রহণ করে। ফলে রাত্রে, বিশেষ করে, রাত্রের শেষের দিকে অক্সিজেন ঘাটতি সর্বাধিক হয় এবং এই ঘাটতি চলে সূর্যোদয় অবধি।

পুকুরে অক্সিজেন কতটা থাকা দরকার

সাধারণত মাছ চাষের জলাশয়ে ৫- ৮ পিপিএম অক্সিজেন দ্রবীভূত থাকা দরকার। অর্থাৎ প্রতি লিটার জলে ৫ – ৮ মিলিগ্রাম। অক্সিজেন দ্রবীভূত অবস্থায় থাকা প্রয়োজন। জলে অক্সিজেনের পরিমাণ ৩ পিপিএম বা তারও নীচে হলে মাছ মারা যাবে না, কিন্তু তাদের জীবন স্বাভাবিক থাকবে না। তাদের বৃদ্ধি, প্রজনন এবং বংশবিস্তার ভীষণ ভাবে বিঘ্নিত হবে। অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যখন ১ পিপিএম এর নীচে চলে যায় তখন মাছের মড়ক দেখা যায়। জলের উপরের স্তরে চলে আসে, খাবি খায়, ভাসতে থাকে।

জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড

আমাদের বায়ুমণ্ডলে যেমন কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে, পুকুরের জলেও তা থাকে। তবে বায়ুমণ্ডলে শতকরা যত ভাগ (আনুমানিক ০.০৩৯%) থাকে জলে তত থাকার সম্ভাবনা নেই। জলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রয়োজনীয়তা যেমন আছে, অধিক মাত্রায় এই গ্যাসের উপস্থিতি মাছের অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। মাছের শ্বাসকষ্ট বিশেষ করে দেখা দেয় এই আধিক্যের ফলে। এ ছাড়া জল দূষণও হয়ে থাকে। জলে কার্বন ডাই-অক্সাইড না থাকলে জলজ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদকণার সালোকসংশ্লেষ হবে না। ফলে মাছের খাদ্যের অভাব দেখা দেবে। মাছের সুস্বাস্থ্য এবং সুষ্টু বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারের উপযোগী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ হল প্রতি লিটার জলে ৫ – ১৫ মিলিগ্রাম (৫ – ১৫ পিপিএম)।

জলে কার্বন ডাই-অক্সাইড সাধারণত ৩টি উপায়ে দ্রবীভূত হয়।

  • (১) কার্বন ডাই-অক্সাইড জলের উপরিভাগের বায়ুমণ্ডল থেকে জলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলে প্রায় ০.০৩৯ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্তমান থাকে। জলে কোনও রকম আন্দোলন হলে বায়ু মণ্ডলস্থিত কার্বন ডাই-অক্সাইড জলে মিশে যায়।
  • (২) জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ফলে জলে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রবীভূত হয়। জীবন্ত সমস্ত জীবজন্তু পোকামাকড় সরীসৃপ, মাছ থেকে শুরু করে সূক্ষ্ম জীবাণুর জীবনধারণ কালে প্রতিনিয়ত শ্বাসকার্য চলে। এই প্রক্রিয়ায় তারা অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। এই পরিত্যক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড জলে দ্রবীভূত হয়।
  • (৩) পুকুরের তলদেশ বা জলস্থ মৃত জৈব পদার্থ থাকে। এই জৈব পদার্থ প্রাণহীন অবস্থায় নানা রকম সূক্ষ্ম জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং নানা রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও পরিবর্তন ঘটে পচন হয়। এই সময় অনেক কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয় ও জলে দ্রবীভূত হয়।

জলের মোট ক্ষারত্ব বা অ্যালকালিনিটি

মাছ চাষে জলের ক্ষারত্ব বা অ্যালকালিনিটির একটা গুরুত্ব আছে। প্রতি লিটার জলে অ্যালকালিনিটির পরিমাণ ২০ মিলিগ্রাম (২০ পিপিএম) থেকে ২০০ মিলিগ্রামের (অর্থাৎ ২০০ পিপিএম) মধ্যে হওয়া দরকার। জলে ২০ পিপিএম-এর কম ক্ষারে বা ২০০ পিপিএম-এর বেশি ক্ষারে জলস্থ উদ্ভিদকণার সালোকসংশ্লেষ বাধা পাবে। তাদের বৃদ্ধি, বংশবিস্তার, কিছুই সুষ্ঠু ভাবে হবে না। মাছ চাষ লাভ জনক হবে না। উদ্ভিদকণা বৃদ্ধির জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। জলের অ্যালক্যালিনিটি বা ক্ষারত্ব সাধারণত জলের ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মোট কার্বনেট, বাইকার্বনেট বা হাইড্রাইড-এর উপর নির্ভর করে। এগুলির বৃদ্ধিতে জলের ক্ষারত্ব বাড়ে। এগুলি মাছের খাদ্য হিসাবেও দরকারি। পুকুরে জলের অ্যালকালিনিটি কমে গেলে চুন প্রয়োগ করতে হয়।

পুকুরের জলের পিএইচ

জল একটি মৃদু বিদ্যুৎবাহী পদার্থ। জলের মধ্য দিয়ে মৃদু বিদ্যুৎপ্রবাহে সুবিধা হয়। সেই রকম মৃদু বিদ্যুৎ বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। এই কারণে এর কিছু অংশ বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও হাইড্রোক্সিল অ্যানয়ন (OH) তৈরি হয়ে থাকে। জলের এই হাইড্রোজেন আয়ন ও হাইড্রোক্সিল অ্যানায়নের গাঢ়ত্বই হল তার ঐ সময়ের পিএইচ। এই গাঢ়ত্ব প্রকাশ করা হয় পি এইচ দ্বারা। কোনও পদার্থের পিএইচ ৭ মানে ঐ পদার্থের হাইড্রোজেন ও হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনত্ব বা গাঢ়ত্ব সমান। এই অবস্থায় জল অম্ল বা ক্ষারক নয়। যখন এই গাঢ়ত্ব ৭-এর কম হয় তখন সেই পদার্থকে অম্ল ভাবাপন্ন এবং ৭-এর বেশি হলে তাকে ক্ষারকীয় বলে। জলের পিএইচ সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

জলের পিএইচ কত হওয়া ভালো?

মাছ চাষের উপযোগী পিএইচ ৭-এর উপরে অর্থাৎ পুকুরের জল একটু ক্ষার ভাবাপন্ন হওয়া উচিত। অতিরিক্ত ক্ষার বা অতিরিক্ত অম্ল জলে মাছ চাষ ভালো হয় না। মাছের বংশ বিস্তার, জীবনধারণ ও বৃদ্ধি ভালো হয় না। তাই লাভজনকও নয়।

জলে পিএইচ এর মান ১১-এর বেশি হলে মাছ মারা যেতে পারে। আবার পিএইচ-এর মান ৪-এর কম হলে মাছের খাদ্যগ্রহণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সহজেই রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মাছ চাষের ক্ষেত্রে জলের পিএইচ-এর মান ৭.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে জলের পিএইচ

জলের পিএইচ এবং জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্পর্ক স্পষ্টতই বিপরীতমুখী অর্থাৎ জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বা ঘনত্ব বাড়লে সেই জলের পিএইচ মান কমবে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড কম পরিমাণে দ্রবীভূত থাকলে সেই জলের পিএইচ-এর মান বাড়বে। জলে বেশি জলজ উদ্ভিদ, সূক্ষ্ম উদ্ভিদকণা অর্থাৎ ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন বেশি থাকলে এটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষে জলে সূর্যালোক প্রয়োজন। তাই এই প্রক্রিয়া ঘটে দিনের বেলায়। আবার এই প্রক্রিয়ার জন্য উদ্ভিদের কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রয়োজন হয়। সারা দিন ধরে সূর্যের আলোকে এই সব উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ চলে এবং জলস্থ দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। ফলে জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব কমে যায়। এই সময় জলে পিএইচ বাড়তে থাকে। এই বৃদ্ধি যথেষ্ট হয় দিনের শেষে। কারণ সারা দিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলার ফলে সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড গৃহীত হয়। ফলে সর্বনিম্ন পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড জলে দ্রবীভূত থাকে। ফলস্বরূপ জলের পিএইচ-এর মানও সর্বাধিক হয়ে থাকে। অন্য দিকে, আবার এই প্রক্রিয়া রাতের অন্ধকারে বন্ধ থাকে, কিন্তু জলস্থ উদ্ভিদের শ্বাসক্রিয়া চলে। সেই সঙ্গে শ্বাসকার্য চলে জলস্থ সমস্ত জীবের। ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয় রাতের অন্ধকারে। জলে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং জলের পিএইচ কমে যায়।

পুকুরের জলে জৈব সার ও চুনের সঙ্গে জলের পিএইচ-এর সম্পর্ক

জলে বেশি জৈব সার থাকলে বা বেশি পরিমাণ এই সার ব্যবহার করলে জলের পিএইচ কমে যায়। অন্য দিকে জলে চুন প্রয়োগ করলে জলের পিএইচ বেড়ে যায়।

জলের পিএইচ নির্ণয় পদ্ধতি

রসায়নাগারে জল নিয়ে গিয়ে পিএইচ মিটারের ইলেকট্রোডের সাহায্যে ঐ জলের পিএইচ নির্ণয় করা যায়। এ ছাড়া পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে চটজলদি ঐ পুকুরের জলের পিএইচ নির্ণয় করার প্রয়োজন হলে পিএইচ পেপার ব্যবহার করে ঐ জলের পিএইচ নির্ণয় করা যেতে পারে। এই পেপার জলে ডোবালে জলের পিএইচ এর মান অনুযায়ী তার রঙ পরিবর্তন হয়। এই বার ঐ পেপারের পরিবর্তিত রঙ নির্দিষ্ট চার্টের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে জলের পিএইচ বের করা হয়। অর্থাৎ ঐ চার্টের বিভিন্ন রঙের সঙ্গে পিএইচ মান নির্দিষ্ট করা থাকে। জলের পি এইচ মান সারা দিনে দু’ বার নেওয়া দরকার। এক বার সকালে সূর্যোদয়ের আগে ও এক বার বিকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে।

জলে অন্যান্য রাসায়নিক

জলে দ্রবীভূত নাইট্রোজেন

সাধারণত জলে নাইট্রোজেন তিনটি অবস্থায় থাকে — অ্যামোনিয়া, নাইট্রাইট ও নাইট্রেট। এদের মধ্যে নাইট্রেটের প্রয়োজনীয়তা বেশি। প্রোটিন জাতীয় পদার্থের মূল উপাদান নাইট্রোজেন। পুকুরে মাছের উৎপাদন বাড়াতে তাই নাইট্রোজেনের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন।

জলে ফসফেটের উপস্থিতি

পুকুরের জলে মাছের বৃদ্ধির জন্য ফসফেটের প্রয়োজন। মাছের খাবার উদ্ভিদকণার বৃদ্ধির জন্য ফসফেট অপরিহার্য। জলের ফসফেটের উৎসগুলি হল — প্রাণীদের রেচন পদার্থগুলি, খাদ্যের পচা অবশিষ্ট ও প্রদত্ত সার।

হাইড্রোজেন সালফাইড: এটি পচা ডিমের গন্ধ বিশিষ্ট এক প্রকার গ্যাস। এই গ্যাসে মাছ ও জলজ জীবের কাছে বিষাক্ত। পুকুরের জল অত্যন্ত খারাপ হলে এই গ্যাস উৎপন্ন হয়। পুকুরের জল এই গ্যাসমুক্ত করার জন্য যথেষ্ট চুন প্রয়োগ করে ভালো করে ঘেঁটে দিতে হবে।

অ্যামোনিয়া গ্যাস

জলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহের পচনের ফলে অথবা পুকুরে অত্যধিক ময়লা ফেললে তাদের পচনে এই গ্যাস সৃষ্টি হয়। অধিক মাত্রায় এই গ্যাস মাছ চাষের পক্ষে ভালো নয়।

সূত্র : মৎস্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

3.06756756757
তারকাগুলির ওপর ঘোরান এবং তারপর মূল্যাঙ্কন করতে ক্লিক করুন.
মোঃ আশরাফুল ইসলাম Apr 04, 2019 07:55 PM

অ্যালকালিনিটির মূল বিষয়টা জানতে চাই।

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top