ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

পুকুরের মাটির গুরুত্ব

মাছ চাষে জলাশয়ের মাটির গুরুত্ব কতটা তা এখানে বলা হয়েছে।

মাছ চাষে জলাশয়ের জলের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনই মাটিরও গুরুত্ব রয়েছে যথেষ্ট। সার্বিক ভাবে ওই জলাশয়ের জলের উপর এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মাছের খাদ্যোৎপাদন, মাছের প্রজনন, বংশবিস্তার, মাছের বৃদ্ধি, স্বাদ ও গন্ধের ক্ষেত্রে মাটির গুরুত্ব অপরিসীম। মাছের উৎপাদনও যথেষ্ট ভাবে প্রভাবিত হয় মাটির জন্য। মাটির গঠন এবং তার নানা চরিত্র কেমন হবে তা নির্ভর করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলির উপর

  • (ক) এই মাটি সৃষ্টি হয়েছে কোন প্রস্তর শিলার মূল থেকে
  • (খ) কত আগে এই মাটি প্রস্তরের ক্ষয়িভবন ও গঠনপ্রণালী শুরু হয়েছে
  • (গ) কেমন ভাবে জৈব ও অজৈব পদার্থ মাটির সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছে
  • (ঘ) ওই জলাশয়ের জলের উৎস কী, কোন পথে এসেছে, কী বহন করে এনেছে। এ সবেরই প্রভাব জলাশয়ের মাটির উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পড়ে থাকে।
  • (ঙ) জলাশয়ের সংস্কার ও তার বিধিপদ্ধতির উপরেও ওই জলাশয়ের তলদেশের মাটির গুণাগুণ অনেকটা নির্ভরশীল।
  • (চ) মাছ চাষের জন্য যে জৈব ও অজৈব পদার্থ ব্যবহার করা হয় তারও প্রভাব পড়ে পুকুরের তলদেশের মাটির উপর।
  • (ছ) পুকুরে কোন ধরনের মাছ চাষ করা হয় তারও খানিক প্রভাব পড়ে ওই পুকুরের তলদেশে।

মাছ চাষে জলাশয়ের মাটির পিএইচ

মাটির পিএইচ-এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে ওই জলাশয়ের জলের। পিএইচ-এর ওঠা-নামার জন্য জলে মাছের খাবারের উৎপত্তির তারতম্য ছাড়াও রোগ-পোকার উপদ্রব্যের তারতম্য ঘটে। মাটির পিএইচ-এর ক্রমে কমা ও বাড়ার কারণগুলি হল

  • (ক) মাটির উৎপত্তির আধার --- কোন প্রস্তর থেকে মাটি উৎপন্ন
  • (খ) জলের উৎস কী
  • (গ) জল কোন পথে পুকুরে প্রবেশ করে
  • (ঘ) পুকুরের তলদেশে জৈব পদার্থের পরিমাণ ইত্যাদি।

ভৌত ও রাসায়নিক অবস্থা

যে কোনও জলাশয়ের মাছের উৎপাদন সেই জলাশয়ের তলদেশের মাটির চরিত্র ও তার উর্বরতার উপর বহুলাংশেই নির্ভরশীল। পুকুরের তলাকার মাটিকে পুষ্টি উপাদানের সঞ্চিত ভাণ্ডার বলা হয়। মাছ তাদের খাদ্যের জন্য প্রাথমিক ভাবে জলাশয়ের উদ্ভিদকণার পরিমাণের উপর নির্ভর করে। আবার এই উদ্ভিদকণাগুলোর বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার নির্ভর করে জলাশয়ে প্রাপ্তব্য বিভিন্ন উদ্ভিদ খাদ্য যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদির উপর। মূলত মাটি থেকেই এই উদ্ভিদ খাদ্যগুলো ধীরে ধীরে জলের মধ্যে দ্রবণীয় ও সহজলভ্য অবস্থায় বিমুক্ত হয় এবং জলাশয়ের উদ্ভিদ খাদ্যকণাগুলোর বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে। উদ্ভিদ কণাগুলোকে খাদ্য সরবরাহ ছাড়াও জলাশয়ের মাছের বৃদ্ধির উপযোগী পরিমণ্ডল গঠন ও রক্ষণে মাটির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। এক কথায় পুকুরের তলাকার মাটিকে পুকুরের রান্নাঘর বলা হয়। পুকুরের তলদেশের মাটির চরিত্র আমরা সাধারণ কৃষিক্ষেত্রে যে রকম মাটি দেখি তার চাইতে অনেক খানিই আলাদা। এর মূল কারণ হচ্ছে এই ধরনের মাটির উপর সর্বদা জল দাঁড়িয়ে থাকে যা কৃষিক্ষেত্রের মাটির উপর থাকে না। জলের এই উপস্থিতির ফলে জলাশয়ের মাটি সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে আসতে পারে না এবং মাটির মধ্যে অক্সিজেনের অভাব ঘটে। এর ফলে এক বিজারিত পরিমণ্ডলের সৃষ্টি হয়। এই বিজারিত পরিমণ্ডল মাটি থেকে উদ্ভিদকণার জন্য পুষ্টিদ্রব্য সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া বিজারিত পরিমণ্ডলের প্রভাব খুব বেশি হয়ে গেলে মাটির জৈব পদার্থ তার পচন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পাবে না। তার ফলে পচন প্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে যাবে এবং বায়ুশূন্য অবস্থায় পচনের ফলে কিছু জৈব ও অজৈব অ্যাসিড, হাইড্রোজেন সালফাইড বা মিথেনের মতো কিছু গ্যাস সৃষ্টি হবে যা জলাশয়ের পরিবেশকে মাছ চাষের অনুপোযোগী করে তুলবে। পুকুর বা জলাশয়ের মাটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌত রাসায়নিক অবস্থা হল —

  • ক) মাটির পিএইচ
  • জলের পিএইচ ক্রমের মতো সাধারণ মাটির পিএইচ ক্রমও মাছ চাষে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পুকুরের তলাকার মাটির জৈবিক পদার্থের বিয়োজনক্রিয়া অত্যন্ত সক্রিয়। তাই পুকুরের তলাকার মাটির পিএইচ জলের পিএইচ অপেক্ষা কম হয়। মাটির পিএইচ ৪.৫ থেকে ৮.৫ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে মাছ চাষের জন্য মাটির উপযুক্ত পিএইচ হল ৬.৫ – ৭.৫ কারণ এই পিএইচ মানে মাটিতে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো ভালো ভাবে পাওয়া যায়। পিএইচ কম হলে অর্থাৎ মাটি অম্লযুক্ত হলে পরিমাণ মতো চুন প্রয়োগ করে পিএইচ বাড়িয়ে নিয়ে মাছ চাষ করতে হয়।

  • খ) ফসফরাস
  • মাছ চাষে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ফসফেটঘটিত সার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। উৎপাদন বাড়ে। যদিও ফসফেট সরাসরি মাছের খাবার নয়। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ফসফরাসের গুরুত্বের কারণ হিসাবে বলা যায় যে জলাশয়ের মাছের প্রাথমিক খাদ্য অনুবীক্ষণীক উদ্ভিদকণাগুলো মূলত এককোষী এবং এরা বংশ বিস্তার করে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার সাহায্যে। আর এই কোষ বিভাজন ও নতুন কোষ গঠনের ক্ষেত্রে ফসফরাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভালো মাছ চাষের জন্য পুকুরের তলাকার মাটিতে অতি সামান্য মাত্রায় ফসফেট থাকা দরকার। মাটিতে ফসফরাস আছেও প্রচুর। কিন্তু ফসফেট মাটিতে আবদ্ধ থাকলে সে রকম ফসফেট কাজে আসে না, ফসফেট ব্যবহারযোগ্য হওয়া চাই। এই আবদ্ধ ফসফেটকে ব্যবহারযোগ্য করতে গোবর সার সাহায্য করে। এই আবদ্ধ ফসফেটকে মুক্ত করার জন্য পিএইচ-এরও ভূমিকা আছে।

    ফসফরাসের সঙ্গে মাটির পিএইচের সম্পর্ক

    মাটিতে ফসফরাস আবদ্ধ থাকলে তা মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের জন্য ব্যবহার হতে পারে না। একে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারলে পুকুরের উৎপাদনশক্তি বাড়ে। ফসফরাসের এই ব্যবহারযোগ্যতা মাটির পিএইচের উপর নির্ভর করে। মাটির পিএইচ মাত্রা ৬.৫ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে থাকলে পুকুরে ব্যবহারযোগ্য ফসফরাস ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু মাটির পিএইচ মান কম হলে অর্থাৎ মাটি অম্লযুক্ত হলে এই ফসফরাস মাটির আয়রন ও অ্যালুমিনিয়ামের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। আবার মাটির পিএইচ মান বেশি হলে অর্থাৎ ক্ষারীয় মাটিতে এই ফসফরাস ক্যালসিয়ামের সঙ্গে আবদ্ধ থাকার ফলে ফসফরাসকে ব্যবহার করা যায় না। তাই মাটির পিএইচ ৬.৫ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে রাখতে পারলে পুকুরে ব্যবহারযোগ্য ফসফরাস ভালোমতো পাওয়া যায় এবং মাছ চাষ ভালো হয়।

    পুকুরে ব্যবহারযোগ্য ফসফরাস কতটা থাকা দরকার

    প্রতি ১০০ গ্রাম মাটিতে ৬ কিলো গ্রাম ব্যবহারযোগ্য ফসফরাস থাকলে ভালো মাছ উৎপাদন হয়। তবে প্রতি ১০০ গ্রাম মাটিতে ব্যবহারযোগ্য ফসফরাসের মাত্রা ৩ মিলিগ্রামের কম হলে পুকুরে মাছের উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই ভালো উৎপাদন পেতে হলে মাছ চাষে ফসফেট প্রযোগ করতে হয়। তা সে জৈব বা অজৈব, যে আকারেই হোক না কেন।

  • গ) নাইট্রোজেন
  • প্রোটিন জাতীয় পদার্থের গঠনের জন্য নাইট্রোজেন একান্ত দরকার। বায়ুমণ্ডলে ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন আছে। কিন্তু মাছ এই নাইট্রোজেন সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নিতে পারে না। পুকুরের খাদ্য শৃঙ্খলের মধ্য দিয়ে জলজ উদ্ভিদ ও মাছ-সহ অন্যান্য প্রাণী এই নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। পুকুরে নাইট্রোজেন নিম্নলিখিত পদ্ধতির মাধ্যমে আসে —

    • ১) নাইট্রোজেন চক্রের মাধ্যমে পুকুরের নীলাভ সবুজ শৈবাল ও বিভিন্ন প্রকার নাইট্রোজেন স্থিতিকারী ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেনকে মাটিতে আবদ্ধ করে।
    • ২) বৃষ্টির জলের সঙ্গে কিছু পরিমাণ নাইট্রোজেন পুকুরে আসে।
    • ৩) বিভিন্ন প্রকার নাইট্রোজেন যুক্ত সার প্রয়োগের ফলে পুকুরে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ে।

    ব্যবহারযোগ্য ফসফরাসের সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য নাইট্রোজেনের সম্পর্ক

    পুকুরের জলজ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদকণা অতি সামান্য পরিমাণে নাইট্রোজেন ব্যবহার করে। এই নাইট্রোজেনকে ব্যবহারযোগী নাইট্রোজেন বলে। জলজ উদ্ভিদ ও ফাইটোপ্লাঙ্কটন বা উদ্ভিদকণার এই নাইট্রোজেনের গ্রহণযোগ্যতা পুকুরে ব্যবহারযোগ্য ফসফরাসের মাত্রার উপর নির্ভর করে। কারণ ফসফরাস ব্যতীত দেহকোষে নাইট্রোজেনের আত্তীকরণ সম্পূর্ণ হয় না। তাই জলজ উদ্ভিদ ও উদ্ভিদকণারা ফসফরাসের উপস্থিতিতে এই নাইট্রোজেনকে অ্যামোনিয়া অথবা নাইট্রেট হিসাবে গ্রহণ করে নিজেদের পুষ্টি সাধন করে। এগুলি মাছের উপাদেয় খাদ্য। এগুলি গ্রহণ করে মাছ তাদের বংশ বিস্তার করে, মাছ বাড়ে। উৎপাদন বেশি হয়।

    পুকুরের মাটিতে ব্যবহারযোগ্য নাইট্রোজেন কতটা থাকা দরকার

    প্রতি ১০০ গ্রাম মাটিতে ৫০ – ৭৫ মিলিগ্রাম ব্যবহাযোগ্য নাইট্রোজেন থাকলে মাছের উৎপাদন ভালো হয়। কিন্তু পুকুরে যদি ব্যবহারযোগ্য নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রতি ১০০ গ্রাম মাটিতে ২৫ মিলিগ্রামের কম হয় তবে মাছ চাষ ভালো হয় না। এই ঘাটতি মেটানোর জন্য চাষে নিয়মিত নাইট্রোজেন ঘটিত সার প্রয়োগের বিধি আছে। জৈব সার হিসাবে নানা রকম খইল পুকুরে প্রয়োগ করার বিধি আছে। যেগুলি মাছের সরাসরি খাবার ও জলে ও মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে জল ও মাটিকে উর্বর করে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়।

  • ঘ) পটাসিয়াম
  • উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য পটাশিয়াম একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। পুকুরের মাটিতে প্রয়োজনমতো পটাশিয়াম পাওয়া যায়। একমাত্র খুব অম্লীয় পুকুর এবং বালিযুক্ত মাটিতে পটাশিয়াম কম থাকে। সাধারণত পুকুরে কোনও পটাশিয়াম সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না।

  • ঙ) ক্যালসিয়াম
  • মাটিতে ক্যালসিয়াম সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও ক্যালসিয়াম বাইকার্বনেট রূপে থাকে। এরা পুকুরের বাফার ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুকুরের দিবারাত্র পিএইচের ওঠা-নামাকে নিয়ন্ত্রিত করে। ক্যালসিয়াম মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পুকুরের জলে ক্যালসিয়াম উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত চুন প্রয়োগ করার বিধি আছে।

  • চ) অন্যান্য উপাদান
  • অন্যান্য যে সব প্রয়োজনীয় উপাদান পুকুরের মাটিতে থাকে তাদের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও সালফার উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া পুকুরের মাটিতে যদি শতকরা ০.৫ ভাগ জৈব অঙ্গার (অরগানিক কার্বন) থাকে তবে পুকুরের উৎপাদনক্ষমতা কম হয়। কিন্তু যদি পুকুরের মাটিতে যদি জৈব অঙ্গারের ভাগ শতকরা ১.৫ হয় তবে পুকুরের উর্বরশক্তি ভালো থাকে।

মজুত পুকুরের জন্য কয়েকটি সাধারণ কথা

৯০ মিটার x ৩০ মিটার x ২ মিটার

  • (১) প্রতি ৩ বছর অন্তর ১ বার পাঁক তুলতে হবে।
  • (২) জলজ আগাছা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • (৩) মহুয়া খোল প্রয়োগে অবাঞ্ছিত মাছ, পোকামাকড় বিনাশ করতে হবে।
  • (৪) শুকিয়ে গেলে পুকুরের তলদেশের মাটি ভালো করে চাষ দিতে হবে।
  • (৫) বিঘা প্রতি ৪০ কেজি চুন দিতে হবে। পরে প্রতি মাসে ৪ কেজি করে চুন সকালের দিকে প্রয়োগ করতে হবে।
  • (৬) ১৫ দিন বাদে বিঘা প্রতি ২৭০ কেজি গোবর সার দিতে হবে। পরে প্রতি মাসে ১৩৫ কেজি করে গোবর সার দিতে হবে।
  • (৭) প্রতি মাসে গোবর পচা + চুন + খৈল দিতে হবে (১৫ + ৫ + ৫)
  • (৮) মাঝে মাঝে ভারমিন কম্পোস্ট (কেঁচো সার) দেওয়া যেতে পারে।
  • (৯) জৈব সার প্রয়োগের ৫ দিন বাদে বিঘা প্রতি ৩.৫ কেজি ইউরিয়া, ৬ কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট (এসএসপি) দিতে হবে। পরে প্রতি মাসে ২–২.৫ কেজি ইউরিয়া ২.৫–৩ কেজি সিঙ্গল সুপার ফসফেট দিতে হবে।
  • (১০) বিঘা প্রতি ১০০টি চারাপোনা ছাড়তে হবে।
  • (১১) ৪ : ৩ : ৩ হারে (কাতলা : রুই : মৃগেল) অথবা ১০০ কাতলা, ২৫০ রুই, ১০০ মৃগেল, ২৫০ সিলভার কার্প, ১০০ গ্রাসকার্প এবং ২০০ সাইপিনাস কার্প।
  • (১২) প্রতি মাসে জাল টানতে হবে। এতে মাছ বাড়ে, আবর্জনা পরিষ্কার হবে, দুর্বল বা রুগ্ন মাছ সনাক্তকরণ সম্ভব হয়। জলে অক্সিজেন প্রবেশ করে।
  • (১৩) নিয়মিত পরিপূরক খাবার দিতে হবে পুকুরে। যত চারা মাছ তার ওজনের ৩% হারে পরিপূরক খাদ্য দিতে হবে।
  • (১৫) মাঝে মাঝে মাছের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
  • (১৬) মাছের ডাঙার দিকে ঘোরাফেরা করা ক্ষুধার্তের লক্ষণ।
  • (১৭) বছরে মাছের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি বাড়া উচিত।
  • (১৮) মাঝে মাঝে পিএইচ দেখতে হবে — প্রয়োজনে চুন দিতে হবে।
  • (১৯) চারাপোনা নির্ভরশীল জায়গা থেকে নিতে হবে।
  • (২০) ছাড়ার আগে সুস্থ সবল কিনা, বিবর্ণ কিনা, নিস্তেজ কিনা দেখতে হবে।
  • (২১) অনেক দূরের চারা বিনা অক্সিজেনে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে — এগিয়ে চলা উচিত।
  • (২২) মাছ ছাড়ার ২ দিন আগে তেল সাবানের মিশ্রণ বিঘা প্রতি ২ লি + ১ কেজি দিতে হবে।
  • (২৩) পড়ন্ত বেলায় পুকুরে মাছ ছাড়া উচিত — বিকেলে অক্সিজেন বেশি থাকে।
  • (২৪) ১০ লি জলে ৩ – ৪ ফোঁটা হারে পটাশিয়াম পার ম্যাঙ্গানেট দ্রবণে (১ – ২ মিলি) রেখে আস্তে আস্তে ছাড়তে হবে। এই দ্রবণের জন্য প্রয়োজনীয় জল সংশ্লিষ্ট পুকুরেরই হওয়া বাঞ্ছনীয়।
  • (২৫) মাছের পাত্র সহ মাছগুলিকে জলের মধ্যে রাখতে হবে।
  • (২৬) নির্ভর যোগ্য প্রতিষ্ঠান থেকে পরিপূরক খাবার নেওয়া বাঞ্ছনীয়। অথবা খোল + চালের গুঁড়ো + ফিশ মিল।
  • (২৭) মাছের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হয়। সকাল ৮টা থেকে এরা খাবার খায়।
  • (২৮) ডাঙা থেকে ৫ – ৬ ফুট ভিতরে এবং বড় পুকুরের মাঝেও খাবার ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। সম্ভব হলে প্রতি দিন বিকেলের দিকেও এক বার খাবার দেওয়া যেতে পারে।
  • (২৯) শুধু কাঁচা/অল্প পচা গোবর, সাথে খৈল ও চুনের মিশ্রণ চটে অথবা সরু জালে পুকুরের বিভিন্ন জায়গায় (জলের মধ্যে) রাখলেও মাছেরা দল বেঁধে ওই খাবার খায়। অনেক সময় পুকুরের ধারে গর্তে এই মিশ্রণ এমন ভাবে রাখা হয় যাতে জলের ঢেউয়ের সঙ্গে অল্প অল্প করে মিশে যায়।
  • (৩০) প্রয়োজনের অধিক খাবার মাছ চাষে বিঘ্ন ঘটায়। জলের রঙ বেশি সবুজ হলে খাবার দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
  • (৩১) মাঝে মধ্যে জলে আলোড়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • (৩২) ঝাঁঝি জাতীয় জলজ উদ্ভিদ হলে কপার সালফেট (৫০০ গ্রাম – ৩ কেজি) প্রয়োগ করা যেতে পারে। সমস্ত রকম আগাছা, পোকামাকড় ও মাছখাদক থেকে মাছ রক্ষা করতে হবে।
  • (৩৩) উদবেড়াল ও মাছের অন্যান্য শত্রুদের হাত থেকে মাছ রক্ষা করতে হবে।

সূত্র : মৎস্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার

3.01923076923
সজীব Feb 26, 2017 08:45 PM

আমি যে পুকুর নিতে চাই সেই এলাকার টিউবওয়েলের পানির মধ্যে আয়রন আছে, আয়রন কি মাছ এর কোন সমস্যা করে

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top