হোম / ই-গভর্ন্যান্স / বিভিন্ন সেবা / যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের ‘কথা’য় আসবে তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

যন্ত্রের সঙ্গে যন্ত্রের ‘কথা’য় আসবে তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব

বেশি দিন বাকি নেই, যখন আপনাকে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আলোর সুইচ বন্ধ না করার জন্য আপশোস করতে হবে। রাস্তায় যেতে যেতে বা কর্মস্থলে পৌঁছেও আপনি আপনার ফোন বা কম্পিউটার মারফত তা বন্ধ করতে পারবেন।

রিমোট মারফত টিভি জ্বালানো, নেভানো আমাদের বহু দিনের অভ্যাস। একই ভাবে অনেকেই আছেন, যাঁরা রিমোটের মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে গাড়ির দরজা খোলা-বন্ধ করেন। কিন্তু, যদি আপনি বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আলো নেভানোর কথা ভুলে যান, আর আপনার বাড়ি যদি বন্ধ থাকে, তা হলে আপনি বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত সেই আলো জ্বলতেই থাকবে। তবে আর বেশি দিন বাকি নেই, যখন আপনাকে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় আলোর সুইচ বন্ধ না করার জন্য আপশোস করতে হবে। রাস্তায় যেতে যেতে বা কর্মস্থলে পৌঁছেও আপনি আপনার ফোন বা কম্পিউটার মারফত তা বন্ধ করতে পারবেন। এ জন্য অবশ্য আপনার ফোন বা কম্পিউটারটিকে কোনও তার ছাড়াই বাড়ির আলোর সুইচের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। এই ব্যবস্থাকেই বলা হচ্ছে ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ (আইওটি) বা বিভিন্ন যন্ত্রের মধ্যে সমন্বয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পরবর্তী বিপ্লব আসতে চলেছে এই আইওটি ক্ষেত্রেই। আইওটি কী? কোনও মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া একটি মেশিনের সঙ্গে আর একটি মেশিন যে পদ্ধতিতে সংযুক্তিকরণ হবে, এক কথায় সেই পদ্ধতির নাম আইওটি। এখন ইন্টারনেটের কোনও সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে আপনি প্রায়ই যে শব্দগুলি টাইপ করে সার্চ করেন, কয়েক বার সেই সমস্ত শব্দ টাইপ করার পর দেখবেন আপনাকে আর সেই শব্দগুলির পুরোটা টাইপ করতে হয় না। আপনি কোনও একটা অক্ষর টাইপ করলেই শব্দগুলি এসে যায়। এর কারণ, সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারে আপনার গতিপ্রকৃতি সার্চ ইঞ্জিনের মগজে রয়েছে। একই পদ্ধতিতে রাতে আপনার বাড়ির সদর দরজা খোলার পর স্বয়ংক্রিয় ভাবে ড্রইংরুমের আলো, এসি জ্বলে উঠবে। সক্রিয় হবে রান্নাঘরে রাখা আপনার মাইক্রোওয়েভটিও। আপনার ব্যবহারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিটি যন্ত্রে লাগানো সেন্সর মারফত আইওটি প্রযুক্তিতে এগুলি একের পর এক সক্রিয় হয়ে উঠবে। একই ভাবে রাতে আপনার যদি আলো নিভিয়ে টিভি দেখার অভ্যাস না থাকে, তা হলে রাতে আপনার ঘরে টিভি চললেও আপনি যদি আলো নিভিয়ে দেন, সঙ্গে সঙ্গে টিভি বন্ধ হয়ে যাবে। বাড়িতে মিটার দেখতে কখন লোক আসবে, সে জন্য আপনাকে হাপিত্যেশ হয়ে বসে থাকতে হবে না। বিদ্যুৎ সংস্থাগুলি আইওটি প্রযুক্তি চালু করলে কন্ট্রোল রুম থেকেই তারা প্রতিটি মিটারের রিডিং নিয়ে নিতে পারবে। আপনি কি বাড়ির সদর দরজা বন্ধ করে অফিস বা কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য রোজই আপনার গাড়ি ব্যবহার করেন? যদি উত্তর হয় হ্যাঁ, তা হলে আপনার এই অভ্যাসকে অনুসরণ করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে ‘বুদ্ধিমান’ মেশিন। আপনার বাড়ির সদর দরজা আপনি বন্ধ করার পর আপনার গাড়ির দরজাও আপনাআপনি খুলে যাবে, যাতে আপনি বেরনোর সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে উঠতে পারেন। এ জন্য অবশ্যই বাড়ির সদর দরজার সঙ্গে গাড়ির দরজার একটা সমন্বয় থাকতে হবে। বাড়ির সদর দরজার সঙ্গে যুক্ত সেন্সর ও গাড়িতে লাগানো সেন্সর এই সমন্বয় সাধনের কাজ করবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিশ্ব জুড়ে যে নয়া বিপ্লব আসতে চলেছে, সেটা মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে একটি খসড়া আইওটি নীতি তৈরি করেছে। এর লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে আইওটি ক্ষেত্রে ভারতে অন্তত এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। সেই বিনিয়োগ আসতে পারে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার সব ক্ষেত্রেই। দেশ জুড়ে যে ১০০টি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্র, সেগুলির ক্ষেত্রে আইওটি প্রধান চালিকাশক্তি হতে যাচ্ছে। পরিকল্পনা মতো এই সমস্ত শহরে স্মার্ট আর্বান লাইটিং, স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, স্মার্ট ইলেকট্রিক গ্রিড ইত্যাদি গড়ে তুলতে আইওটি-ই ভরসা। ধরা যাক, কোনও রাস্তায় রাতে তেমন মানুষজন বা গাড়ি চলাচল করে না। সে ক্ষেত্রে আইওটি-র মাধ্যমে ওই রাস্তায় আলো জ্বলবে তখনই, যখন গাড়ি যাবে। একই ভাবে যে সমস্ত কারখানায় দূষণের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত, সেই সমস্ত কারখানার প্ল্যান্ট রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বন্ধ করে দিতে পারবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। আইওটি শিল্প ক্ষেত্রে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসারও সমূহও সম্ভাবনা রয়েছে। আইওটি শিল্প ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে ইনসেনটিভ দেওয়ার কথাও রাজ্য জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে এই রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরতে সম্প্রতি তাইওয়ান গিয়েছিলেন তথ্য প্রযুক্তি দন্তরের সচিব সতীশ তেওয়ারি। তাঁর কথায়, ‘আমরা এ জন্য ফলতা ও নৈহাটিতে দু’টি ইলেকট্রনিক ম্যানুফ্যাকচারিং ক্লাস্টার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দু’টি জায়গার ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন আমরা পেয়েছি। আইওটি শিল্প ক্ষেত্রে আমরা পশ্চিমবঙ্গকে হাব হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষেই আমরা চাইছি, চিন, তাইওয়ান সহ বিভিন্ন দেশের নানা সংস্থা এখানে অ্যাসেম্বলিং ইউনিট গড়ে তুলুক।’ ফলতার ক্ষেত্রে একটি সোলার মডিউল নির্মাণকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই অ্যাঙ্কর ইনভেস্টর হওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আগ্রহ দেখিয়েছে।

সূত্র : কৌশিক প্রধান, এই সময়, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

2.93333333333
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top