ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা

এনইজিপি - "জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা"

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধাকে হাতিয়ার করে দেশের কোণে কোণে স্বচ্ছ, ঝামেলাহীন এবং দ্রুত সরকারি পরিষেবাকে পৌঁছে দিতে ১৯৯০ সালে শেষের দিকে ভারত সরকার চালু করে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্প। বিভিন্ন মন্ত্রক এবং দফতরগুলি সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এই প্রকল্পে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ। প্রকল্প অনুসারে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা দিতে একটি শক্তিশালী ই-পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও জন্য একাধিক মিশন মোড প্রকল্প (এমএমপি) হাতে নেওয়া হয়, যাতে বেশিমাত্রায় জনসাধারণকে জড়িয়ে নেওয়া যায়। ই-গভর্ন্যান্সের জন্য পরিকাঠামো তৈরি করার ক্ষেত্রে সবিশেষ অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি সোয়ান (এসডব্লিউএএন) এবং ১৪টি রাজ্য ডেটা সেন্টার কাজ করছে। স্টেট সার্ভিস ডেলিভারি গেটওয়েস (এসএসডিজি) ২টি রাজ্যে চালু করা সম্ভব হয়েছে। দেশের যে কোনও জায়গা থেকে যে কোনও সময় ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা পেতে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ ১,২৭,০০২টি (৩১ অগস্ট, ২০১৩ পর্যন্ত) সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র (সিএসসি) স্থাপন করেছে। দক্ষতা তৈরি করতে দেশের ৩০টি রাজ্যে ই-মিশন টিম (এসইএম টি) তৈরি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ৭০০ সরকারি আধিকারিককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মুক্ত মান, বায়োমেট্রিক মান, মেটাডেটা ও ডেটা মান, স্থানীয়করণ এবং ভাষাগত প্রযুক্তি মানের ক্ষেত্রে মান নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ২০ জেলায় ই-জেলা প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন মিশন মোড প্রকল্পের মাধ্যমে চিহ্নিত পরিষেবা ক্ষেত্রগুলিতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

ডিইআইটিওয়াই-র (DeitY) প্রস্তাব

চলতি মূল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী এবং বিস্তৃত করার জন্য দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক যোজনায় বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ (ডিইআইটি) এর মধ্যে রয়েছে আরও বেশি করে সমান্তরাল সংযোগের ব্যবস্থা করা, খুব বেশি করে সংযোগ তৈরি করা ইত্যাদি। মূল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ফাইবার অপটিক নির্ভর সংযোগের সুযোগ নেওয়া হবে এবং আরও ১,৫০,০০ সিএসসি স্থাপন করা হবে। এর ফলে পঞ্চায়েত স্তরে সুশাসন পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাস্তুতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি সম্ভব হবে। মোবাইল ফোনের বহুল ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিচালনা পরিষেবা এবং তথ্য পরিষেবা দেওয়া হবে।

সরকারি কাজকর্ম স্বচ্ছ, নাগরিক-কেন্দ্রিক, দক্ষ ও সহজলভ্য করে তুলতে সমস্ত সরকারি পরিষেবা ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইলেক্ট্রনিক ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ বৈদ্যুতিন পরিষেবা সরবরাহ আইন (ইডিএস) প্রণয়ন এবং তা প্রয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। ই-গভর্ন্যান্সের গ্রহণযোগ্যতা ত্বরান্বিত করতে এবং ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্প দ্রুত রপায়ণে ‘চক্রের সময়’ কমাতে গোটা কার্যপ্রক্রিয়ার পুনর্গঠন, একটি আদান-প্রদানের মঞ্চ এবং একটি জাতীয় অ্যাপলিকেশন ভাণ্ডার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে ডিইআইটি-র।

ব্যাপক হারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তাই এর প্রয়োগ যাতে নিরাপদ এবং সুরক্ষিত হয় সে ব্যপারে সরকারি উদ্যোগ দাবি করে। তথ্যের অসামঞ্জস্যতার কারণে যে সামজিক এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য রয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে তা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে ডিইআইটি-র। আমজনতার কাছে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলির বিভিন্ন বিভাগকে সাহায্য করতে চায় ডিইআইটি।

আরও নতুন ক্ষেত্রে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্পকে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণবণ্টন ব্যবস্থা, ডাক ও তার, দক্ষতা বৃদ্ধি, অপরাধের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আরটিআই ইত্যাদি। ই-গভর্ন্যান্স ও মোবাইল গভর্ন্যান্স-এর ক্ষেত্রে উদ্ভাবন এবং বহুল পরিমাণে ই-গভর্ন্যান্স অ্যাপলিকেশন তৈরিতে উৎসাহ দেবে ডিইআইটি। এর জন্য একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থা। বিভিন্ন সংস্থা এবং নাগরিকরা যাতে সরকারি অ-শ্রেণিবদ্ধ তথ্য গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য একটি প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ইচ্ছা রয়েছে ডিইআইটি-র। এই সংস্থা ই-গভর্ন্যান্স সচেতনা বাড়াতে চায়, এই পরিষেবা সাধারণ মানুষের উপর কতটা প্রভাব ফেলছে তা নিয়মিত যাচাই করতে চায় এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে একটি ব্যবস্থা গরে তুলতে চায়। পরিশেষে সমস্ত স্তরে সরকারি কর্মীদের জন্য পরিকল্পিত ই-গভর্ন্যান্স প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন ও অনলাইন কোর্সের ব্যবস্থা করে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধির বর্তমান প্রকল্পকে আরও ছড়িয়ে দিয়ে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো তৈরি করে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে চায় ডিইআইটি।

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার লক্ষ্য

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা শুরু হয় দেশের নাগরিক এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সরকারি পরিষেবা প্রদানের পদ্ধতিকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে। এর পেছনে ভাবনা ছিল:

‘সাধারণ মানুষকে তাঁদের আর্থিক সঙ্গতির মধ্যেই সরকারি পরিষেবা কমন সার্ভিস আউটলেটের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া। তাঁরা নিজেদের এলাকাতেই এই পরিষেবা পাবেন। পাশাপাশি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দ্রুততা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলি কী সেটাও সরকার অনুধাবন করতে পারবে।’

সুশাসনের লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্পে যে বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা হল :

সহজলভ্যতা : মূলত গ্রামীণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ভৌগোলিক অসুবিধা এবং সচেতনতার অভাবের কারণে যারা সরকারি পরিষেবা বৃত্তের বাইরে থেকে গেছে, তাদের কাছে পৌঁছনো এর অন্যতম উদ্দেশ্য। জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনায় রাজ্যওয়ারি নেটওয়ার্কের (স্টেট ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক সংক্ষেপে এসডব্লুএএন) ব্যবস্থা আছে। এর মাধ্যমে ব্লক স্তর পর্যন্ত সরকারি দফতর এবং কমন সার্ভিস সেন্টারকে জুড়ে গ্রামীণ নাগরিকের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

সাধারণ পরিষেবা প্রদান কেন্দ্র: প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে থাকা মানুষদের সরকারি পরিষেবা পেতে দূরদূরান্তে যেতে হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এটি সময় সাপেক্ষ এবং খরচ সাপেক্ষ। এই সমস্যার সমাধান জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। প্রতি ছ’টা গ্রামের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ সহ একটি কমপিউটার থাকবে কমন সার্ভিস সেন্টারে। এই সেন্টারে এসে ওই গ্রামগুলির বাসিন্দারা সহজেই সরকারি পরিষেবার সুবিধা নিতে পারবেন। এই কমন সার্ভিস সেন্টারগুলিকে ‘যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায়’ এই নীতির ভিত্তিতে পরিচালনা করার কথা ভাবা হয়েছে।

সুশাসন ও ই-গভর্ন্যান্স: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকার জনসাধারণের কাছে পৌঁছতে পারবে। সুশাসনের পথ প্রশস্ত হবে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য সরকারি প্রকল্পগুলির উপর নজরদারি চালাতে সাহায্য করবে ই-গভর্ন্যান্স।

জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন: সস্তায় নাগরিককেন্দ্রিক পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থা তৈরি করাই ই-গভর্ন্যান্সের লক্ষ্য। এর ফলে অল্প সময়ে কম খরচে চাহিদা অনুযায়ী সরকারি পরিষেবাগুলি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে উন্নয়নের একেবারে তলানিতে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব হবে। তাঁদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক এবং আর্থিক বৈষম্য দূর করা যাবে।

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা রূপায়ণের কৌশল


জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ই-গভর্ন্যান্স সফল ভাবে প্রয়োগের অভিজ্ঞতা থেকে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। একে বাস্তবায়িত করতে যে কৌশল ও পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে তা হল ::

সাধারণ পরিকাঠামো : : জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা রূপায়ণ করতে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সাধারণ পরিকাঠামো প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে, রাজ্যবাপী নেটওয়ার্ক (এসডব্লুএএন তথা সোয়ান), রাজ্য তথ্য কেন্দ্র (স্টেট ডেটা সেন্টার, সংক্ষেপে এসডিসি), সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র (কমন সার্ভিস সেন্টার সংক্ষেপে সিএসসি) এবং ইলেট্রনিক সার্ভিস ডেলিভারি গেটওয়ে (ইএসডিজি)।

পরিচালনা:: যোগ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এই পরিকল্পনার রূপায়ণ, সমন্বয় এবং নজরদারির যথাযোগ্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রকল্পের নীতি তৈরি করা, মানোন্নয়ন, প্রযুক্তি গত সহায়তা প্রদান, ব্যবহারিক দক্ষতা তৈরি করা এবং গবেষণা ও উন্নয়ন এই প্রকল্পের আওতায় আছে। এ কাজে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ (ডিইআইটি) যেমন নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলবে, তেমনই ন্যাশনাল ইনফরম্যাটিকস কেন্দ্র (এনআইসি), স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, টেস্টিং অ্যান্ড কোয়ালিটি সার্টিফিকেশন (এসটিকিউসি), সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভ্যান্সড কম্পিউটিং (সি-ড্যাক), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্মার্ট গভর্ন্যান্স (এনআইএসজি) - এর মতো সংস্থাগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

কেন্দ্রীয় উদ্যোগ, বিকেন্দ্রিক রূপায়ণ: ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় উদ্যোগে তৈরি হলেও এর লক্ষ্য হবে বিকেন্দ্রীকরণ। তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একে বিকেন্দ্রিক ভাবে প্রয়োগ করা হবে। সফল প্রকল্পকে চিহ্নিত করে সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী অদলবদল করা হবে।

সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব ( পিপিপি ): নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত না করে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব সম্পদকে ব্যবহার করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য।নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত না করে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যত বেশি সম্ভব সম্পদকে ব্যবহার করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য

সংযোগকারী উপাদান :: নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং সম্পতির ক্ষেত্রে একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন কোড ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সংযোগ সাধন এবং কোনও অস্পষ্টতা ছাড়াই পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা রূপায়ণের কাঠামো

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা রূপায়ণের কাজে বহু এজেন্সি জড়িত। জাতীয় স্তরে এদের কাজের মধ্যে সংহতি আনা এবং এদের কাজকে সামগ্রিক ভাবে একত্রিত করা অত্যন্ত জরুরি। ঠিক হয়েছে, জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনাকে একটি কর্মসূচি হিসাবে রূপায়িত করা হবে। এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি এজেন্সির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ও দায়িত্ব থাকবে। এর ফলে কর্মসূচি পরিচালনার একটা যথাযথ কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থাপনাটি সরকার ইতিমধ্যেই অনুমোদন করেছে।

পরিষেবা প্রদানের কৌশল

সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা যাতে এক জানলা পদ্ধতির মাধ্যমে অবাধে পৌঁছে দেওয়া যায় তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একটি অভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। যার মধ্যে থাকছে স্টেট ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (এসডবলুএএন, সোয়ান), স্টেট ডেটা সেন্টার (এসডিসি), ন্যাশনাল/স্টেট সার্ভিস ডেলিভারি গেটওয়ে (এনএসডিজি, এসএসডিজি) এবং স্টেট পোর্টাল ও কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি)।

এনইজিডি - "জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগ"

ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি দফতর (ডিআইইটি) জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগটি (এনইজিডি) গঠন করেছে। এটি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে মিডিয়া এশিয়া ল্যাবের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বশাসিত বিজনেস ডিভিশন। জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা পরিচালনায় এই বিভাগ ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগকে সহায়তা করে থাকে।

যে যে বিষয়গুলিতে সহায়তা করে থাকে তা হল :

  • বিভিন্ন মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারগুলির মিশন মোড প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা।
  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের দফতরগুলিকে প্রযুক্তিগত সহায়তা করা।
  • শীর্ষ কমিটির সচিবালয়ের ভূমিকা পালন করে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনাধীন সমস্ত প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করা
  • জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা রূপায়ণে রাজ্যগুলিকে সহায়তা করার জন্য রাজ্য ই-মিশন দল (এসইএমটি) গঠন করা।

এনইজিডি-র মাধ্যমে দক্ষতা সৃষ্টি

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার অধীন দক্ষতা সৃষ্টির একটি প্রকল্প ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তিন বছরের জন্য গ্রহণ করা হয়। পরে আরও দু’বছর এর সময়সীমা বাড়ানো হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একেবারে শীর্ষ স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত পর্যন্ত প্রশাসনের সব ধাপে দক্ষতা তৈরি করা। এর জন্য ৩০টি রাজ্যে ই-মিশন টিম (এসইএমটি) তৈরি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের দক্ষ এবং উদ্যোগী করে তোলা এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপর্ণ লক্ষ্য। এর জন্য বিস্তৃত প্রশিক্ষণ পর্বে থাকছে, লিডারশিপ মিট, ই-গভর্ন্যান্স কর্মসূচির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ (এসটিইপি), সিআইও-র প্রোগ্রাম, মানসিক অভিযোজনের উদ্দেশ্যে কর্মশালা ইত্যাদি। রাজনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ১৮ রাজ্যে ‘লিডারশিপ মিট’ হয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতেও বৈঠক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ই-গভর্ন্যান্সের নানা দিক নিয়ে সারা ভারত জুড়েই সরকারি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছে। এর পাশাপাশি সরকারের সর্ব স্তরে ই-গভর্ন্যান্স কর্মসূচি রূপায়িত করতে অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞ কর্মীবাহিনী তৈরি করার একটি সিআইও পরিকল্পনাও চালানো হচ্ছে।

ডিইআইটি এ জন্য দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক যোজনায় একটি স্বশাসিত জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউটও (এনআইজি) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে বছরভর সরকারি আধিকারিকদের ই-গভর্ন্যান্স নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। এ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা নেবে। এনআইজি হবে ই-গভর্ন্যান্সের পথিকৃৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ই-গভর্ন্যান্সের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং সরকারি কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এ সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনতে এনআইজি সর্বাধুনিক শিক্ষণপ্রণালী চালু করবে। দক্ষতা সৃষ্টির প্রকল্পে প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপ চালানোর ক্ষেত্রে এনআইজিকে ব্যবহার করা হবে। সংস্থাটি প্রতি বছর পঞ্চাশ জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেবে, যা ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্প সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব স্তরের সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে এবং উৎসাহী করে তুলতে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হবে।

  • প্রাথমিক আইটি দক্ষতা --- কর্মীদের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে দক্ষ করা হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক ভাবে আইটি সাক্ষর করা হবে। ই-গভর্ন্যান্স সম্পর্কে ভাল করে জানা বোঝার জন্য সরকারি আধিকারিকদের কমপিউটার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করাটা অন্যতম লক্ষ্য। যারা নতুন চাকরিতে ঢুকছে তাদের ক্ষেত্রেও ই প্রশিক্ষণ ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
  • অতিরিক্ত দক্ষতা-- এর লক্ষ্য হবে, প্রাথমিক হার্ডওয়ার নেটওয়ার্কিং, ডেটাবেস, ট্রাবল শুটিং, কন্ট্রাক্ট ইত্যাদি সম্পর্কে দক্ষতা তৈরি করা।
  • বিশেষ দক্ষতা-- বিশেষজ্ঞসিআইও/ই-চ্যাম্পিয়ন, প্রযুক্তি, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট, ও প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদিতে বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে বিশেষ দক্ষতা তৈরি করা।

 

কেন্দ্রীয় উদ্যোগ

দেশে ই-গভর্ন্যান্সের দীর্ঘমেদায়ী বিকাশের ভিত্তি তৈরি করা এবং তাতে গতিবেগ সঞ্চার করাই ভারত সরকারের জাতীয় ই- গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার লক্ষ্য। একে অবিচ্ছিন্ন ভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কেন্দ্র-রাজ্যের পারস্পরিক সমন্বয়ে এই উদ্যোগগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

১৯৮৭ সালে স্যাটেলাইট-নির্ভর জাতীয় কমপিউটার নেটওয়ার্ক (নিকনেট) চালু হওয়ার পর ই-গভর্ন্যান্সের ব্যাপারে আগ্রহ জন্মায়। পরবর্তীকালে এরই ধারাবাহিকতায় দ্য ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের ডিস্ট্রিক ইনফরমেশন সিস্টেমের (ডিসনিক) মাধ্যমে দেশের সমস্ত জেলা অফিসগুলি কমপিউটার-নির্ভর করে তোলা হয়। এর জন্য রাজ্যগুলিকে বিনামূল্যে কমপিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সরবরাহ করা হয়। ১৯৯০ সালে নিকনেট প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করে রাজ্যের রাজধানীগুলির মাধ্যমে জেলার সদর দফতরগুলির সঙ্গে সংযোগসাধন করা হয়। পরবর্তীকালে কমপিউটার ব্যবস্থা, টেলি- যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট-সংযোগ দিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরে ই-গভর্ন্যান্স উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ইলেট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ (ডিইআইটি) প্রণীত জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক সংস্কার এবং গণ অভিযোগ দফতরের প্রতিষ্ঠা দেশে ই-গভর্ন্যান্স প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

মিশন মোড প্রকল্প (এমএমপি) জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার মধ্যে একটি একক প্রকল্প। এক একটি প্রকল্পের লক্ষ্য হল এক একটি বিষয় সংক্রান্ত ই-গভর্ন্যান্স যেমন ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা, জমি সংক্রান্ত তথ্য, বাণিজিক কর ইত্যাদি।

এমএমপির অবস্থান

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনায় ৩১টি মিশন মোড প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি কেন্দ্রীয় এমএমপি, ১৩টি রাজ্য এমএমপি এবং ৭টি সুসংহত এমএমপি। এমএমপিগুলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের অধীনে থাকে। রাজ্য স্তরের এমএমপিগুলি রূপায়ণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির উপর। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য নিদির্ষ্ট মন্ত্রকের সহায়তা নিতে পারে। ডিইআইটি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে অনুঘটকের ভূমিকা নেয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারকে এ ব্যাপারে প্রযুক্তিগত সহায়তা করে তারা।

১১ কেন্দ্রীয় এমএমপি-র মধ্যে ৯ বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে (পেনশন, পাসপোর্ট, বিমা, আয়কর, কেন্দ্রীয় উৎপাদন ও বাণিজ্যিক শুল্ক, ব্যাকিং ইত্যাদি) রয়েছে। দু’টি (ই-পোস্টস, ই-অফিস) বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। সাতটি সুসংহত এমএমপি-র মধ্যে চারটি (ইন্ডিয়া পোর্টাল, এনএসডিজি, সিএসসি এবং ইডিআই) বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে রয়েছে। তিনটি (ই-কোর্ট, ই-প্রোকিওরমেন্ট এবং ই-বিজ) বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। ১৩টি রাজ্য এমএমপি-র মধ্যে ১টি (এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ) পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে, ১১টি এমএমপি (ট্রেজারি, গণবণ্টন ব্যবস্থা, এনআরএলএমপি, পুরসভা, ই-পঞ্চায়েত, ই-জেলা, সিসিটিএনএস, বাণিজ্যিক কর, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি) বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। একটি (সড়ক পরিবহণ) বাস্তবায়নের পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছে।

এমএমপির উপাদান

দক্ষতা সৃষ্টির প্রকল্প এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাজ্য পর্যায়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন। এর মধ্যে থাকবে রাজ্যস্তরে ই-গভর্ন্যান্স মিশন টিম (এসইএমটি) তৈরি করা।

  • এসইএমটিকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া।
  • এই প্রকল্প রূপায়ণ ও সমন্বয়ের জন্য কেন্দ্রীয় স্তরে একটি ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সেল তৈরি করা

সচেতনতা এবং যোগাযোগ---এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল ই-গভর্ন্যান্সকে এক ছাতার তলায় প্রাপ্ত একটি সুবিধা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

  • ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা এবং পরিষেবা প্রদানের জায়গাগুলি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।
  • জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার প্রয়োগকারীদের দায়বদ্ধতাপ্রতিষ্ঠা করা।

প্রভাব ও ফলাফল

প্রকল্পের মূল্যায়ন ছাড়াও ডিইআইটি একে রূপায়ণের ব্যাপারে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কতটা প্রস্তত তার মূল্যায়ন তথা ই- অ্যাসেসমেন্ট করবে। মান এবং নীতি গুণগত মান বজায় রাখা ই-গভর্ন্যান্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মূল প্রকল্প (মিশন মোড প্রকল্প)

কেন্দ্রীয় এমএমপি

রাজ্য এমএমপি

সুসংহত এমএমপি

ব্যাকিং

কৃষি

সিএসসি

কেন্দ্রীয় উৎপাদন ও বাণিজ্য শুল্ক

বাণিজ্যিক কর

ই-বিজ

আয়কর

ই-জেলা

ই-আদালত

বিমা

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ

ই-প্রোকিওরমেন্ট

এমসিএ-২১

জমির রেকর্ড

ই-ট্রেডের জন্য ইডিআই

পাসপোর্ট

ই-পঞ্চায়েত

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিষেবা প্রদান কেন্দ্র

ভিসা, অভিবাসন, বিদেশি রেজিস্ট্রেশন

পুলিশ

ইন্ডিয়া পোর্টাল

পেনশন

টেজ্রারি কমপিউটেশন


-অফিস

গণবণ্টন ব্যবস্থা


পোস্টস

শিক্ষা


ইউআইডি

স্বাস্থ্য


এনইজিডি - "জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগ"

ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি দফতর (ডিআইইটি) জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স বিভাগটি (এনইজিডি) গঠন করেছে। এটি যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে মিডিয়া এশিয়া ল্যাবের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বশাসিত বিজনেস ডিভিশন। জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা পরিচালনায় এই বিভাগ ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি বিভাগকে সহায়তা করে থাকে।

যে যে বিষয়গুলিতে সহায়তা করে থাকে তা হল :

  • বিভিন্ন মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারগুলির মিশন মোড প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা।
  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও রাজ্য সরকারের দফতরগুলিকে প্রযুক্তিগত সহায়তা করা।
  • শীর্ষ কমিটির সচিবালয়ের ভূমিকা পালন করে জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনাধীন সমস্ত প্রকল্পের প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করা
  • জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনা রূপায়ণে রাজ্যগুলিকে সহায়তা করার জন্য রাজ্য ই-মিশন দল (এসইএমটি) গঠন করা।

এনইজিডি-র মাধ্যমে দক্ষতা সৃষ্টি

জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনার অধীন দক্ষতা সৃষ্টির একটি প্রকল্প ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তিন বছরের জন্য গ্রহণ করা হয়। পরে আরও দু’বছর এর সময়সীমা বাড়ানো হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স পরিকল্পনাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একেবারে শীর্ষ স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত পর্যন্ত প্রশাসনের সব ধাপে দক্ষতা তৈরি করা। এর জন্য ৩০টি রাজ্যে ই-মিশন টিম (এসইএমটি) তৈরি করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের দক্ষ এবং উদ্যোগী করে তোলা এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপর্ণ লক্ষ্য। এর জন্য বিস্তৃত প্রশিক্ষণ পর্বে থাকছে, লিডারশিপ মিট, ই-গভর্ন্যান্স কর্মসূচির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ (এসটিইপি), সিআইও-র প্রোগ্রাম, মানসিক অভিযোজনের উদ্দেশ্যে কর্মশালা ইত্যাদি। রাজনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ১৮ রাজ্যে ‘লিডারশিপ মিট’ হয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতেও বৈঠক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ই-গভর্ন্যান্সের নানা দিক নিয়ে সারা ভারত জুড়েই সরকারি আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছে। এর পাশাপাশি সরকারের সর্ব স্তরে ই-গভর্ন্যান্স কর্মসূচি রূপায়িত করতে অভ্যন্তরীণ বিশেষজ্ঞ কর্মীবাহিনী তৈরি করার একটি সিআইও পরিকল্পনাও চালানো হচ্ছে।

ডিইআইটি এ জন্য দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক যোজনায় একটি স্বশাসিত জাতীয় ই-গভর্ন্যান্স ইনস্টিটিউটও (এনআইজি) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে বছরভর সরকারি আধিকারিকদের ই-গভর্ন্যান্স নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। এ নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা নেবে। এনআইজি হবে ই-গভর্ন্যান্সের পথিকৃৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ই-গভর্ন্যান্সের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এবং সরকারি কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এ সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনতে এনআইজি সর্বাধুনিক শিক্ষণপ্রণালী চালু করবে। দক্ষতা সৃষ্টির প্রকল্পে প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপ চালানোর ক্ষেত্রে এনআইজিকে ব্যবহার করা হবে। সংস্থাটি প্রতি বছর পঞ্চাশ জন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেবে, যা ই-গভর্ন্যান্স প্রকল্প সফল হওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব স্তরের সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে এবং উৎসাহী করে তুলতে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে নজর দেওয়া হবে।

  • প্রাথমিক আইটি দক্ষতা --- কর্মীদের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে দক্ষ করা হবে। অর্থাৎ প্রাথমিক ভাবে আইটি সাক্ষর করা হবে। ই-গভর্ন্যান্স সম্পর্কে ভাল করে জানা বোঝার জন্য সরকারি আধিকারিকদের কমপিউটার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করাটা অন্যতম লক্ষ্য। যারা নতুন চাকরিতে ঢুকছে তাদের ক্ষেত্রেও এই প্রশিক্ষণ ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
  • অতিরিক্ত দক্ষতা-- এর লক্ষ্য হবে, প্রাথমিক হার্ডওয়ার নেটওয়ার্কিং, ডেটাবেস, ট্রাবল শুটিং, কন্ট্রাক্ট ইত্যাদি সম্পর্কে দক্ষতা তৈরি করা।
  • বিশেষ দক্ষতা-- বিশেষজ্ঞসিআইও/ই-চ্যাম্পিয়ন, প্রযুক্তি, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট, ও প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদিতে বিশেষজ্ঞ তৈরি করতে বিশেষ দক্ষতা তৈরি করা।

 

তথ্য সংকলন: পোর্টাল ম্যানেজমেন্ট টীম, পশিমবঙ্গ

3.06849315068
তারকাগুলির ওপর ঘোরান এবং তারপর মূল্যাঙ্কন করতে ক্লিক করুন.
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top