ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

ডিজিটাল ভারত

গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় যাবতীয় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতেই ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ প্রকল্প ঘোষণা

গ্রাম পঞ্চায়েতের দফতরে গেলেই আধার কার্ড কিংবা প্যান কার্ড। চাকরির আশায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম লেখানো কিংবা জমির রেজিস্ট্রেশনও পঞ্চায়েতের দফতরে বসেই।

গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় যাবতীয় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতেই ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ প্রকল্প ঘোষণা করেছিল মোদী সরকার। যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল দেশের প্রায় আড়াই লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতকে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া। তা হলে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে। কিন্তু গত কয়েক মাসে যে ভাবে এই প্রকল্পের কাজ এগিয়েছে, তাতে মোটেই খুশি নন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গও ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যেও অপটিক্যাল ফাইবার পাতার কাজ ধীর গতিতে এগোচ্ছে।

ক্যাবিনেট সচিব অজিত শেঠের নেতৃত্বে একটি শীর্ষ স্তরের কমিটি এই প্রকল্পের অগ্রগতি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। সম্প্রতি ওই কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, শ্লথ গতিতে অপটিক্যাল ফাইবার পাতার কাজ এগোচ্ছে। ক্যাবিনেট সচিবের রিপোর্ট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন, ২০১৬-র ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব গ্রাম অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে জুড়ে দেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে। কাজের অগ্রগতি দেখতে আগামী সপ্তাহে ফের বৈঠকে বসবেন মোদী।

কতখানি পিছিয়ে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র কাজ? যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের বক্তব্য, গোটা দেশে ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭২৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ হাজার ৪৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে প্রথম দফায় অপটিক্যাল ফাইবার জালে জুড়ে দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পের খরচ ১.১৩ লক্ষ কোটি টাকা। যার মধ্যে সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে অপটিক্যাল ফাইবারের জাল ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যয় হবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১,২৭৫টি গ্রামে কাজ শুরু হয়েছে। গোটা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও একই হাল। রাজ্যের ৩,৩৫৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে প্রথম দফায় ২,৬৪২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩৮টি গ্রামে কাজ শুরু হয়েছে।

এই অপটিক্যাল ফাইবার পাতা হলে যাতে ‘রাইট অব ওয়ে’ কর আদায় করা না হয়, সে জন্য কেন্দ্র এর মধ্যেই রাজ্যগুলিকে বুঝিয়ে বলেছে, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ব্রডব্যান্ড পৌঁছলে রাজ্যের যাবতীয় পরিষেবাও গ্রামের মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসবে। সে জন্য অধিকাংশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই ওই কর তুলে দিতে সম্মত হয়েছেন। ফলে বাড়তি অর্থের বোঝা চাপেনি প্রকল্পের ঘাড়ে। তবু কাজ  না এগোনোর কারণ মূলত লাল ফিতের ফাঁস।

গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক হয়েছে, আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে দেড় লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি এক লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ সেরে ফেলতে হবে।

যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “আমরাই গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছি।” রবিশঙ্করের কথায়, “জাতীয় অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করে তা চালানো ও দেখাশোনার জন্য ভারত ব্রডব্যান্ড নিগম নামের একটি পৃথক সংস্থা তৈরি হয়েছে। তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএনএল, রেলটেল ও পাওয়ার গ্রিড নিগমও কাজ করছে।”

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি : সরকারি প্রশাসন সংস্কারে নজিরমূলক উদ্যোগ

ই-প্রশাসনে ভারত অনেক পিছিয়ে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারি প্রশাসন সংস্কার করলে বিভিন্ন পক্ষের জন্য হরেক সুযোগসুবিধে জোগানো সম্ভব (দ্বিবেদী ও অন্যান্য ২০১৩)। এ হেন সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা, কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা বাড়ে। আমলাতান্ত্রিকতার ফাঁস কমে। যোগাযোগ ও সমন্বয়ের উন্নতি হয়। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এর ফলে সর্বত্র ও সব সময় নাগরিক-কেন্দ্রিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর সরকারি পরিষেবার জোগান ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায় (দ্বিবেদী ও অন্যান্য ২০১৩)।

গত নব্বই দশকের শেষাশেষি ই-প্রশাসনের মাধ্যমে ভারতে এই সংস্কারের গোড়াপত্তন। ২০০৬-এ জাতীয় ই-প্রশাসন পরিকল্পনা (এনইজিপি) চালু হওয়ার পর সংস্কারের গতি বাড়ে। এ সত্ত্বেও, আমাদের দেশ এখনও পিছিয়ে। বিশ্ব ই-প্রশাসন উন্নয়ন সূচকে (রাষ্ট্রসংঘ ই-প্রশাসন সমীক্ষা, ২০১৪) ভারতের স্থান ১১৭ দেশের পর। যোজনা পত্রিকার আগে এক নিবন্ধে দ্বিবেদী এর কারণ চিহ্নিত করেছেন। যেমন — কেন্দ্র, রাজ্য ও জেলা স্তরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার খণ্ডীকরণ, সংহত ব্যবস্থার অভাব, যথেষ্ট সংখ্যক সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র (কমন সার্ভিস সেন্টার) না থাকা, সচেতনতার অভাব, ডিজিটাল সাক্ষরতার কম হার, আঞ্চলিক ভাষায় ই-পরিষেবা অমিল, আস্থাহীনতা ও সেই সঙ্গে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে আশঙ্কা (দ্বিবেদী ও অন্যান্য ২০১২; রানা ও অন্যান্য ২০১৩)।

ওই নিবন্ধে অবস্থার উন্নতির জন্য এক গোছা সুপারিশও ছিল। যেমন বর্তমান ব্যবস্থাগুলির ম্যাপ করা, হালফিলকার ব্যবস্থাগুলি সংহত ও সেগুলি মসৃণ ভাবে কাজে লাগানো, পরিষেবা পৌঁছে দিতে এক মোবাইল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ভয়েস-বেসড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন-এর বিকাশ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে নাগরিকদের সড়গড় করার জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, দেশের আনাচেকানাচেও সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র পরিষেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা। এ ছাড়া, আঞ্চলিক ই-পরিষেবার সংস্থান এবং ভারতের প্রেক্ষিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর সরকারি প্রশাসন সংস্কার কর্মসূচিকে কার্যকর করে তুলতে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা বোধ সৃষ্টি করা দরকার (দ্বিবেদী ও অন্যান্য ২০১৩)।

অধুনা, ভারত সরকারের ঘোষিত নয়া দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগে উপরের প্রায় সব দিকই ঠাঁই পেয়েছ। এখন এ নিবন্ধে ‘ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি’ নামে পরিচিত এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি সাধারণ ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। কর্মসূচিটির সফল রূপায়ণ হলে ভারতের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও সরকারি প্রশাসন সংস্কারে এক উল্লেখযোগ্য সদর্থক প্রভাব পড়বে।

তিনটি মূল বিষয়

এই কর্মসূচি বিভিন্ন মন্ত্রকের সম্মিলিত উদ্যোগ। ভারতকে এক ডিজিটাল-ভিত্তিক ও সক্ষম তথ্য সমাজ এবং জ্ঞান অর্থনীতিতে রূপান্তর করা এর লক্ষ্য। জাতীয় ই-প্রশাসন পরিকল্পনার এক বড়সড় নব কলেবর যেন এই কর্মসূচি। বৈদ্যুতিন ও তথ্য-প্রযুক্তি দফতরের পরিকল্পিত এই কর্মসূচি বাবদ বরাদ্দ অঙ্ক এক লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা। গত ২০ আগস্ট ২০১৪, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি ২০১৮-এর মধ্যে এক উচ্চাকাঙক্ষী লক্ষ হাসিল করতে চায়। সরকারের প্রণালী আমূল বদলে নতুন ভাবে ছকা ও ডিজিটাইজ করা এবং সরকারি পরিষেবা ইলেকট্রনিক ভাবে পাওয়ার ব্যবস্থা করা এই বিরাট উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানেও অবদান রাখা।

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির চিন্তাভাবনার মূলে রয়েছে তিনটি বিষয়। এক, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পরিকাঠামোগত সুযোগ। দুই, চাহিদামতো শাসন ও পরিষেবা। তিন, নাগরিকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন। এক নম্বর রেখাচিত্রে এই তিন ক্ষেত্রে তুলে ধরা হয়েছে। আর পরের অনুচ্ছেদগুলিতে এই তিন ক্ষেত্র নিয়ে বিশদ আলোচনা করা আছে।

প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পরিকাঠামোগত সুযোগের মধ্যে আছে : নাগরিকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে হাইস্পিড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা, নাগরিকদের ডিজিটাল আইডেনটিটি, আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে নাগরিকদের জন্য মোবাইল ফোন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, কাছাকাছি সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্রের সুযোগ, ইলেকট্রনিক পরিষেবার চল বাড়াতে দেশে এক নিরাপদ ও সুরক্ষিত সাইবার স্পেস গঠন।

চাহিদামতো শাসন ও পরিষেবার মধ্যে পড়ে বিভিন্ন মন্ত্রক বা দফতরের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে এক-জানলা ব্যবস্থায় সহজে হরেক সরকারি পরিষেবার সুযোগ। অনলাইন ও মোবাইল প্লাটফর্ম কাজে লাগিয়ে এ হেন পরিষেবা যথা সময়ে পৌঁছে দেওয়া দরকার। ঝামেলা না পুইয়ে তথ্যের সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি নাগরিকের প্রাপ্য হক ক্লাউডে রাখতে হবে। ডিজিটাল সরকারি পরিষেবার ব্যবস্থা করে ব্যবসা-বাণিজ্যে ঝুটঝামেলা হঠানো উচিত। এতে ইলেকট্রনিক ও ক্যাশলেস আর্থিক কারবারের সুবিধে রহবে।

নাগরিকদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন জোর দিয়েছে : তাদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, যাবতীয় সরকারি নথিপত্র /সার্টিফিকেট ক্লাউডে পাওয়ার ব্যবস্থা, আঞ্চলিক ভাষায় ডিজিটাল পরিষেবা মেলা এবং নাগরিকদের প্রাপ্য সব কিছু ক্লাউডের মাধ্যমে পোর্টেবল করা।

ন’টি আবশ্যিক বিষয়

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি তিন মূল ক্ষেত্র সফল করতে আবশ্যক ৯টি বিষয়ও চিহ্নিত করেছে। ১) ব্রডব্যান্ড হাইওয়ে, ২) সকলের জন্য মোবাইল সংযোগের সুযোগ, ৩) পাবলিক ইন্টারনেট অ্যাকসেস কর্মসূচি, ৪) ই-শাসন প্রযুক্তির মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থার সংস্কার, ৫) ই-ক্রান্তি—পরিষেবার বৈদ্যুতিন জোগান, ৬) সকলের জন্য তথ্য, ৭) বৈদুতিন উৎপাদন, ৮) কর্মসংস্থানের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি এবং ৯) আর্লি হার্ভেস্ট প্রোগ্রাম (ভারতকে এক ডিজিটাল ক্ষমতাধর সমাজ ও জ্ঞান অর্থনীতিতে রূপান্তর করা এই কর্মসূচির লক্ষ্য)।

ব্রডব্যান্ড হাইওয়ে জাতীয় তথ্য পরিকাঠামোর সমন্বয় এবং সব গ্রাম ও শহরের জন্য ব্রডব্যান্ডের ব্যবস্থা করবে। দ্বিতীয় বিষয়টি সকলের জন্য মোবাইল সংযোগের পরিকাঠামো গড়ে তোলার দিকে নজর দেবে। তৃতীয় বিষয়ের লক্ষ্য ২০১৭-র মার্চ নাগাদ দেশের আড়াই লক্ষ গ্রামের উপযুক্ত সংখ্যক সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র স্থাপন এবং পরের দু’বছরের মধ্যে দেড় লাখ ডাকঘরকে বহুপরিষেবা কেন্দ্রে পরিণত করা। চতুর্থটিতে, বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং ও ই-শাসনের মাধ্যমে সরকারি ফর্ম সরল করা, অনলাইন রিপোজিটারি ব্যবস্থার, সার্ভিস ও প্ল্যাটফর্মগুলির সমম্বয়, ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন এবং নাগরিকদের ইস্যু নিয়ে সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় গণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা সংস্কার করার পরিকাঠামো নিয়েছে।

সরকারি পরিষেবা পেতে হলে নাগরিকদের জন্য টাচ পয়েন্টের ব্যবস্থা করা পঞ্চম বিষয়ের দায়িত্ব। ই-ক্রান্তি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিন উপায়ে পরিষেবা জোগানো হবে। এর মধ্যে আছে ই-শিক্ষা, ই-স্বাস্থ্য, চাষিদের জন্য উপকরণের অনলাইন বরাতের প্রযুক্তি, নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তি, মোবাইল ব্যাঙ্কিং এবং মাইক্রো এটিএম প্রোগ্রামের মাধ্যমে সকলের জন্য আর্থিক পরিষেবা, ই-আদালত, ই-পুলিশ, ই-মেল। সকলের জন্য তথ্য ষষ্ঠ বিষয়টির আওতাধীন। সরকার অনলাইন তথ্য ও নথিপত্রের ব্যবস্থা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নাগরিকদের হালফিলের খবর দেওয়ার জন্য সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রাখতে তৎপর থাকবে। এ জন্য ইতিমধ্যে চালু হয়েছে মাইগভ.ইন পোর্টাল। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতে নাগরিকদের জন্য থাকবে অনলাইন ম্যাসেজ। বৈদুতিন সামগ্রী উৎপাদনের ক্ষেত্রটিও সপ্তম বিষয়ের মধ্যে পড়ে। সরকারের লক্ষ দেশেই ২০২০ সাল নাগাদ যাবতীয় বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন। তবে বর্তমান কাঠামো লক্ষ্য পূরণ করার পক্ষে যথেষ্ট নয়। এই ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করতে বেশ কিছু কর্মসূচির ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। অষ্টম ও ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান। উত্তরপূর্বাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর পরিষেবার ব্যাপক বন্দোবস্ত গড়ে তোলা। আর নবম বিষয়টি হল আর্লি হার্ভেস্ট প্রোগ্রাম—এই কর্মসূচির লক্ষ্য ভারতকে এক ডিজিটাল সমাজ ও জ্ঞান অর্থনীতিতে রূপা্তরিত করা। মেসেজের জন্য একটি আইটি প্ল্যাটফর্ম, সরকারি ই-গ্রিটিং, সরকারি কার্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা ইত্যাদির জন্য এই কর্মসূচি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

দূর হবে ‘ডিজিটাল বিভেদ’

ডিজিটাল ভারত উদ্যোগের জন্য ‘নজিরমূলক’ ও ‘যুগান্তকারী’ কথা দু’টি আমরা ব্যবহার করেছি যথেষ্ট ভেবেচিন্তেই। কারণ, আমাদের মতে এই উদ্যোগ ‘সার্বিক’ এবং শহর-গ্রাম নির্বিশেষে সব দেশবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করা।

‘সার্বিক’ বলতে আমরা বুঝিয়েছি ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি যাবতীয় আবশ্যক ও পরস্পর-সংযুক্ত দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। যেমন— পরিকাঠামো উন্নয়ন, সংহত ও স্বচ্ছন্দ বৈদ্যুতিন পরিষেবা এবং নাগরিকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা। এক নম্বর রেখাচিত্রে

দেখানো হয়েছে, নাগরিকদের প্রকৃত ডিজিটাল ক্ষমতায়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শাসনের সঙ্গে পরিকাঠামো ও স্বচ্ছন্দ ই-পরিষেবা আবশ্যক। এই প্রধান ক্ষেত্রগুলির কোনও একটিতে দুর্বলতা থাকলে ভারতকে ডিজিটাল ভারতে রূপান্তরের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। তাদের প্রাপ্তব্য সম্বন্ধে ব্যবহারকারীদের সচেতনতার অভাব এবং সেই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে পরিকাঠামো ও ই-পরিষেবা মূল্যহীন, ডিজিটাল সাক্ষরতার ক্ষেত্রে এ দিকে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। ডিজিটাল ভারতের কর্মসূচি শুধুমাত্র শহরাঞ্চলের উন্নয়নের দিকে নজর রেখে দায়িত্ব শেষ করতে চায় না, বরং এটা সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। গ্রামের মানুষের উন্নতির দিকেই হয়তো বেশি নজর। পরিকল্পনা ঠিকঠাক কাজে লাগালে শহর ও গ্রামের মধ্যে ‘ডিজিটাল বিভেদ’ দূর করতে ইন্টারনেট সংযুক্তি বড় ভূমিকা নেবে। গড়ে উঠবে সবার জন্য সমতাভিত্তিক তথ্য সমাজ ও জ্ঞান অর্থনীতির বনেদ।

ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির ব্যাপকতা (পরিসর, বাজেট, সুবিধে, দ্রুত সম্পন্ন করার উচ্চাকাঙক্ষার প্রেক্ষিতে), ভোল পালটে দেবার গুণ ও সেই সঙ্গে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে অবদানের কথা মনে রেখে আমরা একে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দিয়েছি। ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির লক্ষ্য ১.৭ কোটি সরাসরি ও ৮.৫ কোটি পরোক্ষ কর্মসংস্থান। দেশে আগের কোনও ডিজিটাল কর্মসূচি ধারেভারে এর কাছে ঘেঁষতে পারে না। গুগল, মাইক্রোসফটের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ও ন্যাসকম হেন অ্যাসোসিয়েশন তো আর এমনি এমনি এই কর্মসূচি নিয়ে গরজ দেখাচ্ছে না! আর এক দিক থেকেও কর্মসূচিটি যুগান্তকারী — বৈদ্যুতিন বাণিজ্য ও ডিজিটাল বিপণনের ব্যাপক চল শুরু হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে ভোগ্যপণ্যের খুচরো ব্যবসা আমূল পালটে যাবে। ‘নজিরমূলক’ ও ‘যুগান্তকারী’ হওয়ায় ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির গুণকীর্তনে শিল্পমহলের কেষ্টবিষ্টুরা তো একেবারে গদগদ। দেশবিদেশের সংবাদমাধ্যমেও তা জায়গা কেড়ে নিয়েছে। যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হচ্ছে এই কর্মসূচির খবর।

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি রূপায়ণের কাজ এগোনোর পর এর উপকার বোঝা যাবে। এখন ভারতে এক মজবুত ও স্থায়ী সরকার হাল ধরেছে। কর্মসূচির একটা বড় অংশ তাই পরিকল্পনা মাফিক সম্পূর্ণ হবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অগ্রগতি হয়েছে। যেমন অফিস কাছারিতে হাজিরায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ধাপে ধাপে চালু করার কাজ এগোচ্ছে ভালো ভাবেই। তবে কিনা, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও মানব উন্নয়নের মতো দিকে সবাইকে শামিল করতে সময় লাগাটা খুব স্বাভাবিক। দক্ষতার প্রসার ও সচেতনতা এবং মানুষের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি কখনও শুধুমাত্র জটিল কর্মকাণ্ড নয়, এক জটিল ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে কাজের কাজ হতে বহু বছর লাগতে পারে। বিশেষ করে গ্রামে ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য আমরা এক স্পষ্ট, সুপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর সুপারিশ করছি।

নির্দিষ্ট একটা সময়সীমা বেঁধে সবাইকে ডিজিটাল সাক্ষর করে তোলার কোনও জাদুমন্ত্র অবশ্য কারও হাতে নেই। বিপণনমুখী বিভাজন ও লক্ষ্যের কর্মপন্থা এ কাজ সফল করার হাতিয়ার হতে পারে। রেখাচিত্র ২-এ

 

এক বিপণনমুখী নাগরিক শামিলকরণ কাঠামো (সিমিনটিরাস ও অন্যান্য ২০১৪ থেকে নেওয়া) তুলে ধরা হয়েছে। ডিজিটাল সাক্ষরতা বিস্তারে এটা সাহায্য করতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সাক্ষরতা এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন স্তরের ভিত্তিতে নাগরিকদের শ্রেণিবিভাগ করার পক্ষে সওয়াল আছে এই কাঠামোয়।

চাই লাগাতার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি ইন্টারনেট সংযুক্তির জন্য ব্রডব্যান্ড, মোবাইল, পাবলিক ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পয়েন্ট এবং সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থার কথা বলেছে। ডিজিটাল বিভেদ কমানোর জন্য এ সব যথেষ্ট কার্যকর উপায়। সকলকে ডিজিটাল সাক্ষর করে তোলার উপযুক্ত সোপান। তবে এ ক্ষেত্রে এক বড় প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করা দরকার। এখনও বহু গ্রামে বিদ্যুৎ অধরা। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ যখন-তখন চলে যাওয়াটা গা সওয়া। আর ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের জোগান ছাড়া ইন্টারনেট, সাধারণ পরিষেবা কেন্দ্র তো খোঁড়া। এই ঝামেলা এড়িয়ে বিদ্যুতের লাগাতার ব্যবস্থা করার জন্য সৌরবিদ্যুৎ বা বায়ুশক্তির মতো বিকল্প উৎস কাজে লাগানো উচিত। বাড়তি একটা লাভও হবে। শক্তির বিকল্প উৎস নিয়ে লোকজনের মধ্যে সচেতনতা গড়ে উঠবে।

ডিজিটাল ভারত কর্মসূচিতে ‘ম্যাসিভ অনলাইন ওপেন কোর্সেস’ বিকল্প পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করার সংস্থান আছে। একেবারে সামনের সারির এই উদ্ভাবনা এখনও ব্যাপক ভাবে গৃহীত হয়নি। এ হেন উদ্ভাবনা গ্রহণের জন্য মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো দরকার। এ জন্য এই উদ্ভাবনার বিকাশে ব্যবহারকারীদের শামিল করার দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া, ব্যাপক ভাবে চালু করার আগে এথনোগ্রাফিক গবেষণা ও কয়েকটি বড় পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত। সরকারি বিদ্যালয়ের দশা বেহাল। বিশেষত কম অগ্রসর রাজ্যগুলিতে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষকরা ততটা দড় নন। এ হেন পরিস্থিতে স্কুলে ব্রডব্যান্ড জুড়লেই সব মুশকিল আসান ভাবাটা ভুল। পড়ুয়াদের শিক্ষাদানের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগানোর বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। ব্রডব্যান্ড বিস্তারে বিশ্বের অন্যতম অগ্রণী দেশ ব্রাজিল। এ ক্ষেত্রে ওই দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আমাদের ভালো বই মন্দ হবে না। দক্ষিণ কোরিয়ায় ব্রডব্যান্ডের প্রসারে স্কুলের ভূমিকা যথেষ্ট। রাষ্ট্রসংঘের বিশ্ব ই-শাসন উন্নয়ন সূচক সংক্রান্ত অধুনা সমীক্ষা অনুযায়ী দেশটির স্থান এক নম্বরে। স্কুলে ব্রডব্যান্ড সংযোগ, ই-বইয়ের চল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে দক্ষতা সৃষ্টি করলে দেশের ছেলেমেয়েরা ‘ডিজিটাল নাগরিক’ হতে পারবে। এর ফলে ডিজিটাল ভেদ হঠানো যাবে আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে।

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি

কোন দিকের কাজ সম্পূর্ণ হলে তার মূল্যায়ন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে ডিজিটাল ভারত কর্মসূচিতে। দ্বিবেদী ও অন্যদের কথায় (২০১৩) ‘বাঞ্ছিত লক্ষ্য অর্জন করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মূল্যায়ন আবশ্যক। আগামী দিনে বৈদ্যুতিন পরিষেবার বিকাশের জন্য আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতেও তা সাহায্য করবে। সঠিক মূল্যায়নের একই রকম ভুলচুক ফের ঘটলে আশ্চর্যের কিছু নেই।’ ভারতে দুর্নীতি ছেয়ে আছে আগাপাশতলা। এ হেন দেশে ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি সঠিক দিশায় এগোচ্ছে কিনা তা সুনিশ্চিত করতে ‘নিরপেক্ষ’ মূল্যায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নিরপেক্ষ বলতে আমরা দেশবিদেশের পণ্ডিত ও গবেষকদের বোঝাচ্ছি। খেদের কথা, এ যাবৎ এ ক্ষেত্রে তেমন কোনও উচ্চবাচ্য নেই।

এই কর্মসূচি প্রযুক্তি বাণিজ্য ও ব্যবস্থাপনা, সমাজ বিজ্ঞানে গবেষক ছাত্রদের অংশগ্রহণ করার এক মূল্যাবান সুযোগ দেয়। ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও ট্রান্সডিসিপ্লিনারি গবেষণা চালানোর এক অসাধারণ ও উপযুক্ত পরিবেশ জোগায়। এর দরুন শুধু ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির রূপায়ণ হাসিলে সাহায্য হয় ভাবাটা ভুল। ইন্টারডিসিপ্লিনারি ও ট্রান্সডিসিপ্লিনারি গবেষকরাও উপকৃত হন। গবেষণা কৃষ্টির বিকাশে তা সাহায্য করে।

আজকের ভারতকে ২০২২-এর মধ্যে ‘ডিজিটাল ভারত’-এ পরিণত করার লক্ষ্যে এই রূপান্তর যাত্রার বিষয়ে এখন আমাদের ভাবনা-চিন্তা পেশ করছি। ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার এই রূপান্তর যাত্রার একটি পথ খুলে দিয়েছে। এই পথ মোটামুটি মসৃণ, স্বচ্ছন্দ। তবে কোনও ভাবেই এটা সিধে সড়ক নয়। আগেই বলেছি বাধাবিঘ্ন, ঝুটঝামেলা আছে। এ সব বাধা কাটাতে এখনও তেমন প্রস্তুত নয় জাতীয় তথ্য কেন্দ্র (এনআইসি)। এ জন্য এ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা জরুরি। এ ছাড়া চূড়ান্ত লক্ষ্য ছোঁয়ার আগে যাত্রা চালিয়ে যেতে হবে। পথে কোনও শৈথিল্য নৈব নৈব চ। এটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ, এই যাত্রাকালে নাগরিকদের লাগাতার ওয়াকিবহাল রাখা উচিত। ডিজিটাল ভারতের বাস্তবায়নের জন্য তাদের প্রস্তুত করতে হবে। সড়গড় করতে হবে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে।

ডিজিটাল ভারতের কর্মসূচি যথাথই এক বৈপ্লবিক উদ্যোগ। সবার ডিজিটাল দক্ষতা গড়ে তোলার সুযোগ দিয়ে এই কর্মসূচি সার্বিক সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে। মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সব নাগরিকের সামাজিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্য অজর্ন মাত্র আংশিক ভাবে সম্ভব। গোটা দেশের জন্য তাই এই ডিজিটাল ভারত কর্মসূচি শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, এক চমকপ্রদ সুযোগ। স্বপ্নকে বাস্তবে হাসিল করতে হলে অবশ্য দেশবাসীকে তাদের অভ্যাস, আচরণ এবং মননে কৃষ্টিগত রদবদল আনতে হবে। ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির কারিগরদের কাছে সম্ভবত এটাই সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ চিত্তাকর্ষক চ্যালেঞ্জ।

নির্দ্বিধায় বলা যায়, কর্মসূচিটি প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হলে ভারত স্থায়ী জাতীয় বিকল্প ধরে রাখতে পারবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের ক্ষমতা জোরদার করতে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চাকাঙ্ক্ষী ডিজিটাল ভারত কর্মসূচির কথায় এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হাতছানি দিচ্ছে ভারতকে।

তথ্য সংকলন: কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট টীম, পশ্চিমবঙ্গ

3.07894736842
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top