হোম / শিক্ষা / কনটেন্ট / শিশু অধিকার / আমাদের সমাজে শিশুর অধিকার
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

আমাদের সমাজে শিশুর অধিকার

আমাদের সমাজে শিশুর অধিকার

জনসংখ্যার দিক থেকে আমাদের দেশ পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং শিশুর সংখ্যার দিক থেকেও আমরা চিনের পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছি। চারপাশে তাকালে এটা বুধতে অসুবিধা হয় না যে আমাদের শিশুদের জন্য শিশুর অধিকার সুনিশ্চিত করতে আমাদের বেশ কিছু পদক্ষেপ করা দরকার। এর মধ্যে প্রধান সমস্যাটা মেয়েদের নিয়ে এবং তাদের অধিকারকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শিশুর সুরক্ষা ও শিশুর অধিকার

মৌলিক অধিকার

  • অনুচ্ছেদ ১৪ --- ভারতের সীমার মধ্যে রাষ্ট্র, কোনও ব্যক্তির আইনের চোখে সমান হওয়ার অধিকার এবং আইনের কাছ থেকে অন্য যে কারও সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার অস্বীকার করবে না।
  • অনুচ্ছেদ ১৫ --- রাষ্ট্র কোনও নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না। এই অনুচ্ছেদে এমন কোনও শর্ত নেই যার দ্বারা রাষ্ট্রকে মহিলা ও শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা থেকে ঠেকিয়ে রাখা যায়।
  • অনুচ্ছেদ ২১ --- আইনি কোনও প্রক্রিয়া ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে জীবন ও তার ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
  • অনুচ্ছেদ ২১ (ক) --- রাষ্ট্র তার আইনানুসারে ৬-১৪ বছর বয়সী সব শিশুর জন্য বিনা খরচে বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করবে।
  • অনুচ্ছেদ ২৩ --- মানুষ পাচার, ভিক্ষাবৃত্তি এবং অন্য সব রকমের বলপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধাচরণ করলে তার আইনানুগ শাস্তি হবে।
  • অনুচ্ছেদ ২৪ --- ১৪ বছরের কমবয়সি কোনও শিশুকে কারখানা, খনি বা কোনও বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ করা যাবে না।

২০০২ সালের ১৩ ডিসেম্বরের ৮৬তম সংবিধান সংশোধন আইন অনুসারে ৬-১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা মৌলিক অধিকার হিসেবে গ্রাহ্য।

নির্দেশমূলক নীতি

  • ৩৯ (ঙ) এবং (চ) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্র এমন ভাবে তার নীতি নির্ধারণ করবে যাতে ‘কোনও শ্রমিক, পুরুষ বা মহিলার স্বাস্থ্য ও শক্তি এবং শিশুদের পেলব বয়স ক্ষতিগ্রস্ত না হয়’, ‘ শুধুমাত্র আর্থিক বাধ্যবাধকতার কারণে কোনও নাগরিককে যেন তার বয়স ও শক্তির অনুকূল নয়, এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত না হতে হয়’ এবং ‘ শিশুদের এমন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে যাতে তারা স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর ভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়’ এবং শৈশব ও যৌবনকে সব রকমের শোষণ, নিপীড়ন ও অবহেলা থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়।
  • অনুচ্ছেদ ৪৫ --- সব শিশু ৬ বছর বয়স পর্যন্ত যাতে যথাযথ ভাবে লালিত হওয়ার ও শিক্ষার সুযোগ পায়, রাষ্ট্র তা দেখবে।
  • অনুচ্ছেদ ৪৭ --- নাগরিকদের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোকে রাষ্ট্র তার প্রাথমিক দায়িত্ব হিসাবে দেখবে।
  • অনুচ্ছেদ ২৪৩ (ছ) তফশিল ১১ সহ --- শিক্ষা (১৭ নং বিষয়), পরিবার কল্যাণ (২৫ নং বিষয়), স্বাস্থ্য ও শৌচ ব্যবস্থা এবং শিশু কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয় ছাড়া মহিলা ও শিশু বিকাশের বিভিন্ন কর্মসূচির দায়িত্ব পঞ্চায়েতের (১১ নং তফশিলের ২৫ নং বিষয়) উপর ন্যস্ত করে শিশুর লালনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

শিশুর সুরক্ষা ও শিশু কল্যাণ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য দেখুন-National Mechanisms

আইন ও অধিকার

বেগার শ্রম ব্যবস্থা (বিলোপ) আইন ১৯৭৬

বেগার শ্রম ব্যবস্থা (বিলোপ) আইন, ১৯৭৬ বলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের ক্ষেত্রেই দাস ও বাঁধা শ্রমিক ব্যবস্থা বেআইনি। এই আইনের বলে শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে খুব কঠিন শাস্তির সুযোগ নেই।

আরও জানার জন্য দেখুন- Bonded Labour System (Abolition) Act, 1976

কারখানা আইন ১৯৪৮

কারখানা আইন একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘ আইন। কারখানায় কর্মরত শ্রমিক সম্পর্কিত বহু বিষয় এই আইনেয়ালচনা করা হয়েছে। এখানে এই আইনে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য কী বলা আছে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই আইনে ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে শিশু বলে ধরা হয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার বয়ঃসন্ধি বলে নির্দিষ্ট করা হয়। অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্করা হয় তার শৈশবে রয়েছে অথবা বয়ঃসন্ধিতে এই আইন অনুসারে কারখানায় কর্মরত সব অপ্রাপ্তবয়স্কের শারীরিক অবস্থার শংসাপত্র এক জন অনুমোদিত চিকিৎসক বা শল্য চিকিৎসককে দিতে হবে। যদি কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন কোনও জায়গায় কাজ করে বা কাজ করতে শুরু করার অবস্থায় থাকে, যেখানে তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে, সেখানেই এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। এই আইন অনুসারে কোনও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি কোনও চলন্ত যন্ত্র পরিষ্কার করবে না বা সেখানে কোনও কোনও তৈলাক্ত পদার্থ দেবে না, কারণ তাতে তার আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

 

আরও জানার জন্য দেখুন- Factories Act, 1948

শিশুর দুধের বিকল্প, ফিডিং বোতল ও শিশু খাদ্য

ভারতে শিশু মৃত্যুর ৫৫ শতাংশ হয় অপুষ্টিজনিত কারণে। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া এবং ২ বছর বয়স পর্যন্ত তার সঙ্গে পরিপূরক খাদ্য গ্রহণ করা অপুষ্টির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। শিশুর দুধের বিকল্প, ফিডিং বোতল ও শিশু খাদ্য আইন ১৯৯২ এবং তার ২০০৩ সালের সংশোধিত রূপটি তৈরি হয়েছে নবজাতক ও শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পান করানোকে উৎসাহ দানের লক্ষ্যে। এই আইনের বলে শিশু খাদ্যের গুণমান নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং তার অপব্যবহার রোধ করা হয়।

 

আরও জানার জন্য দেখুন- Infant Milk Substitutes, Feeding Bottles and Infant Foods

গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা পদ্ধতি আইন ১৯৯৪

যে সব পরিবার মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন তারা মেয়ের জন্মের আগেই গর্ভপাত করতে চায়। পুত্রসন্তানকে গুরুত্ব দেওয়া হয় কারণ এ রকম একটা ধারণা রয়েছে যে, তারা বংশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, বয়স হলে বড়দের দেখাশোনা করবে এবং বিয়ের বয়সে পৌঁছলে পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না। ১৯৯৪ সালে ভারত সরকার কন্যাভ্রূণ হত্যা বন্ধ করার লক্ষ্যে গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা পদ্ধতি আইন পাস করে এবং ২০০২ সালে আইনটি সংশোধন করে।

এই আইন প্রথমত জিন সম্পর্কিত কাউন্সেলিং ক্লিনিক, জিন পরীক্ষাগার এবং জিনসম্পর্কিত ক্লিনিকগুলির নিয়ন্ত্রণের রূপরেখা হাজির করে। এই ধরণের প্রতিটি ক্লিনিককে এই আইনে নথিভুক্ত হতে হয় এবং এই সব ক্লিনিকে যে সব চিকিৎসকরা কাজ করেন, তাঁদের অবশ্যই গর্ভাবস্থায় পরীক্ষানিরীক্ষা করার মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকতেই হবে। এই আইন মোতাবেক কোনও চিকিৎসক কর্তৃক গর্ভাবস্থায় লিঙ্গ নির্ধারণ বা লিঙ্গ নির্ধারণে সাহায্য করা নিষিদ্ধ।

 

আরও জানতে দেখুন-Pre-natal Diagnostic Techniques Act, 1994

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আইন ১৯৯৫

এই আইন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের (পিডবলুডি) অধিকারগুলি সুরক্ষিত রাখে।

১৯৯৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (সমান সুযোগ, অধিকারের সুরক্ষা এবং সম্পূর্ণ অংশগ্রহণ) আইন, ১৯৯৫ পাস করে। ১৮ বছরের কমবয়সি শিশুদের সঙ্গে সম্পর্কিত এই আইনের বিভিন্ন দিকের রূপরেখা নীচে বর্ণিত হয়েছে।

এই আইনে প্রতিবন্ধকতা বলতে অন্ধত্ব, কম দেখতে পাওয়া, কুষ্ঠরোগ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা, কানে কম শোনা, ঠিক মত হাঁটা চলা করতে না পারা, জড়বুদ্ধি, মানসিক অসুস্থতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই আইন সরকারকে প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ করতে বলে। সেই লক্ষ্যে সরকার অবশ্যই বছরে অন্তত এক বার প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাদের প্রতিবন্ধকতার সম্ভাবনা বিচার করবে এবং তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে। সন্তান জন্মানোর আগে ও পরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের যে কোনও রকম হানির সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করবে রাষ্ট্র।

 

আরও জানতে দেখুন- Persons with Disabilities Act, 1995

বাল্যবিবাহ রোধ আইন ২০০৬

বাল্যবিবাহের সঙ্গে পণ প্রথা এবং বাল্যবৈধব্যের সমস্যাও জড়িত। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অপুষ্টি, মায়ের খারাপ স্বাস্থ্য, অতি প্রজনন এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার সমস্যা।

এই আইন অনুসারে ২১ বছরের কমবয়সি পুরুষ এবং ১৮ বছরের কমবয়সি মেয়েদের শিশু হিসেবে ধরা হয়। যে দু’জনের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে তাদের দু’জনই বা যে কোনও এক জন শিশু হলেই তার বিয়েকে বাল্যবিবাহ বলা হবে। এই আইন তৈরি হওয়ার আগে বা পরে যে সব বাল্যবিবাহ হয়েছে, শিশু অবস্থায় যার বিয়ে হয়েছে, তিনি চাইলে সেই বিবাহকে অকার্যকর করে দিতে পারেন। কিন্তু তা করতে করতে হবে, সেই ব্যক্তি পরিণত বয়সে পৌঁছনোর ২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে।

 

আরও জানতে দেখুন- Prohibition of Child Marriage Act, 2006

গণিকাবৃত্তি রোধ আইন ১৯৮৬

১৯৫৬ সালে ভারতে মহিলা ও বালিকার গণিকাবৃত্তি দমন আইন, ১৯৫৬ পাস হয়। ১৯৮৬ সালে এই আইন সংশোধিত ও পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়ায় গণিকাবৃত্তি রোধ আইন।

এই আইনে ১৮ বছরের নীচে সকল ব্যক্তিকে শিশু বলে ধরা হয়। আইনের প্রথম ধারায় গণিকাবৃত্তিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি গণিকালয়ের মালিকানা থেকে, গণিকার দালালি করে জীবিকা নির্ধারণ করাকে বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়। এই আইনের ৫ নং ধারা অনুযায়ী যদি কোনও ব্যক্তি কোনও শিশুকে কিনে, উৎসাহিত বা বাধ্য করে গণিকায় পরিণত হতে তবে তার ৭ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। শিশু পাচারের গোটা শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত সকলকে দায়বদ্ধ করার জন্য এই আইন বলে কোনও ব্যক্তি কাউকে দিয়ে গণিকাবৃত্তি করানোর প্রক্রিয়ায় তাকে নিয়োগ, পরিবহণ, হস্তান্তর, কাছে রাখা বা নিজের হাতে নেওয়ার মতো কোনও কাজ করে তা হলেও তাকে গণিকাবৃত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরা হবে। উপরন্তু কেনাবেচার চেষ্টা, গণিকালয়ে যাওয়া বা কাউকে গণিকালয়ে পাওয়া গেলে তাকেও এই আইনে শাস্তি দেওয়া যাবে।

 

আরও জানতে দেখুন- Immoral Traffic Prevention Act, 1986

অভিভাবকত্ব ও নাবালক আইন ১৮৯০

অভিভাবক ও নাবালক আইন, ১৮৯০, এই সংক্রান্ত যাবতীয় আইনকে বাতিল করে। শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত এটি একমাত্র ধর্ম-নিরপেক্ষ সর্বজনীন আইন, যা জম্মু ও কাশ্মীর বাদে গোটা দেশে প্রযোজ্য। এই আইন বিশেষ করে মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্সি ও ইহুদিদের লক্ষ রেখেই তৈরি, কারণ এই সব ধর্মের ব্যক্তিগত আইনে দত্তকের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব মেনে নেয় না। এই আইন জাতি ধর্ম নির্বিশেষ সব শিশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এই আইন অনুসারে ১৮ বছরের কমবয়সি সব ব্যক্তিই শিশু। আদালত বা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও শিশুর অভিভাবককে অপসারণ করে বা নতুন অভিভাবককে নিযুক্ত করে অভিভাবক সংক্রান্ত শেষ কথা বলতে পারে। আবেদন ছাড়া কোনও নির্দেশ দেওয়া যায় না। আবেদনে শিশু ও অভিভাবক সম্পর্কে সম্ভাব্য যাবতীয় তথ্য এবং অভিভাবকত্বের কারণ উল্লেখ করতে হবে। আদালত আবেদন গ্রহণ করলে শুনানির দিন ধার্য করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখবে। এক জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তার সম্পত্তির একাধিক অভিভাবক থাকতে পারে। আদালত শিশুর স্বার্থরক্ষার দিকে লক্ষ রেখে কাজ করবে, শিশুর বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, অভিভাবকের চরিত্র, বাবা-মায়ের মৃত্যু, অভিভাবকের সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক ইত্যাদি আদালত বিবেচনা করবে। শিশুটি কী চায়, তা-ও দেখা হবে।

 

আরও জানতে দেখুন- Guardians and Wards Act, 1890

হিন্দু দত্তক ও রক্ষণাবেক্ষণ আইন ১৯৫৬

ভারতীয় আইন অনুযায়ী দত্তক নেওয়া একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং তা বিভিন্ন ধর্মের ব্যক্তিগত আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। ভারতের মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্সি ও ইহুদিদের ব্যক্তিগত আইনে দত্তকের সুযোগ নেই। তাই তারা কোনও শিশুর অভিভাবকত্ব নেওয়ার ব্যাপারে অভিভাবকত্ব ও নাবালক আইন, ১৮৯০-এর সাহায্য নেয়। এই আইনের যে সব বিষয় ১৮ বছরের কমবয়সিদের সঙ্গে সম্পর্কিত সেগুলির রূপরেখা নিচে বিবৃত হল।

এই আইন হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ এবং জৈনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বৈধ বা অবৈধ যে কোনও শিশুর বাবা-মা যদি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন হয়, তবে সে এই আইনের আওতায় পড়বে। যদি কোনও ব্যক্তি ধর্মান্তরিত হয়ে এই ধর্মগুলির অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তিনিও এই আইনের আওতায় পড়বেন। এই আইন যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাকেই হিন্দু বলে ধরা হয়। এই আইন অনুসারে ১৮ বছরের কমবয়সি যে কোনও ব্যক্তি শিশু। এই আইন হিন্দু দত্তক ও অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত অন্য যে কোনও আইনকে বাতিল করে।

 

আরও জানতে দেখুন- Hindu Adoption and Maintenance Act, 1956

খাদ্যের অধিকার বিল ও শিশু

ভারতে খাদ্যের অধিকার বিলটি ইউপিএ সরকার উদ্ভাবিত একটি সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনা। এ ধরনের একটি খাদ্য সুরক্ষা আইন ভারতের দারিদ্য ও ক্ষুধার চেহারাটা পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু যে বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার কথা সেটি সমাজকর্মীদের মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের বক্তব্য, তারা যে ধরনের আইন চেয়েছিলেন, এই বিলে তার সামান্যই প্রতিফলিত হয়েছে। ‘দ্য রাইট টু ফুড ক্যাম্পেন, ইন্ডিয়া’ খাদ্য সুরক্ষা বিলের একটি খসড়া প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিগোষ্ঠী এই বিলটিই তৈরি করেছে।

 

আরও জানতে দেখুন- Right to Food Legislation and Children

তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি আইন ১৯৮৯

এই আইনে এমন সব কাজের তালিকা রয়েছে, যেগুলি আইন অনুযায়ী অত্যাচার বলে স্বীকৃত। তার মধ্যে কয়েকটি অপরাধের শাস্তি ৫ বছর পর্যন্ত কারাবাস এবং জরিমানা।

এই কাজগুলির মধ্যে রয়েছে, কোনও তফসিলি জাতি বা উপজাতির ব্যক্তিকে অখাদ্য বা নোংরা জিনিস খেতে জোর করা, তাদের নগ্ন অবস্থায় হাঁটতে বাধ্য করা বা এমন কোনও কাজ করা যা মানবতার অপমান, তফসিলি জাতি ও উপজাতির কোনও জমি ব্যবহার বা হস্তান্তর করা ইত্যাদি। অন্যান্য অত্যাচারে আলাদা শাস্তির বিধান আছে। যেমন, কোনও ব্যক্তি যদি আদালতে কোনও তফসিলি জাতি বা উপজাতির ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্যপ্রমাণ দেয়, তবে তার আজীবন কারাবাস এবং জরিমানা হবে, তফসিলি জাতি বা উপজাতির ব্যক্তির সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করলে ৭ বছর পর্যন্ত কারাবাস ও জরিমানা হতে পারে, দণ্ডবিধিতে যে সব অপরাধে ১০ বছর বা তার বেশি কারাবাসের বিধান আছে, সেগুলি যদি তফসিলি জাতি বা উপজাতির কোনও ব্যক্তি বা তার সম্পত্তির ক্ষেত্রে হয়, তা হলে এই আইনের বলে আজীবন কারাবাস ও জরিমানা হবে।

 

আরও জানতে দেখুন-  Scheduled Castes and Scheduled Tribes Act, 1989

ভারতীয় দণ্ডবিধি ও শিশু সম্পর্কিত অপরাধ

শিশু সম্পর্কিত বিভিন্ন আইন ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধিতেও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের একটি তালিকা রয়েছে। দণ্ডবিধির ৮২ ও ৮৩ নং ধারা অনুসারে ৭ বছরের কমবয়সি কোনও শিশু যদি অপরাধ করে, তবে সে অপরাধ করেছে বলে ধরা হবে না। যদি কোনও শিশুর বয়স ৭ থেকে ১২ বছরের মধ্যে হয় এবং সে যদি তার কাজের ফলাফল সম্পর্কে অপরিণতমনস্ক হয়, তবে তাকেও অপরাধী বলে ধরা হবে না।

৩১৫ ও ৩১৬ নং ধারায় ভ্রূণ হত্যা ও শিশু হত্যা সম্পর্কে বলা হয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কাজ করে যাতে কোনও শিশুর জীবিত অবস্থায় জন্মানোয় বাধা দেওয়া হয় বা কেউ যদি এমন কিছু করে যাতে শিশুটির জন্মের পরেই মৃত্যু হয়, তবে তাকে ভ্রূণ হত্যা বা শিশু হত্যা বলা হবে, যদি না সে মায়ের স্বাস্থ্য ও জীবনের স্বার্থে তা করে থাকে। যদি কোনও ব্যক্তি এমন কিছু করে যাতে গর্ভাবস্থায় এক জন শিশুর মৃত্যু হয়, তা হলে তাকে হত্যার অপরাধে অভিযুক্ত করা হবে। ৩০৫ নং ধারা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কমবয়সি কোনও ব্যক্তিকে(শিশু) আত্মহত্যায় প্ররোচিত করাটা অপরাধ।

 

আরও জানতে দেখুন-  The India Penal Code and Child related offenses

সূত্র : চাইল্ড লাইন ইন্ডিয়া ওরগ

3.03007518797
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top