হোম / শিক্ষা / কনটেন্ট / শিশু অধিকার / শিশু সুরক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিশু সুরক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা

শিশু সুরক্ষায় একজন শিক্ষক কী করতে পারেন তা এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষক হিসাবে কী করণীয়

শিশুরা যে কোনও জায়গায় অবহেলা, নিপীড়ন, হিংসা ও শোষণের শিকার হতে পারে। কখনও কখনও তারা স্কুলচত্বরের মধ্যেও এ সবের শিকার হতে পারে। যদিও বাড়িতে এবং স্কুলের বাইরে শিশুরা এর থেকেও বেশি সহ্য করে। আপনার ক্লাসের কোন বাচ্চাও স্কুলের বাইরে এ ধরনের হিংসা / নিপীড়ন / শোষণের শিকার হয়ে থাকতে পারে। আপনি তাকে সাহায্য না করে এড়িয়ে যেতে পারেন না। কিন্তু এটা তখনই সম্ভব, যখন আপনি সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে পারবেন এবং সেটা বুঝতে ও সম্ভাব্য সমাধান খুঁজতে কিছু সময় খরচ করবেন।

সব সময় এ কথা মনে রাখবেন, স্কুলের গণ্ডির বাইরে চলে যাওয়ার মানে এই নয় যে শিশুকে রক্ষা করবার দায় থেকে আপনি রক্ষা পেলেন। আপনার সহৃদয়তা স্কুলের গণ্ডির বাইরেও শিশুর জীবনকে বদলে দিতে পারে ও সুন্দর করতে পারে। আপনাকে নিজেকে তৈরি করতে হবে, সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে এবং এ ব্যাপারে আপনি যতদূর সাহায্য করতে পারেন তা করতে হবে।

এক বার যদি আপনি সমস্যা মোকাবিলার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত হয়ে যান, তা হলে দেখবেন আপনি এমন সব কাজ করতে পারবেন, যা কখনও ভাবতেও পারেননি।

আপনি কি শিশু-বান্ধব শিক্ষক ?

  • ১। শিশুর অধিকারগুলিকে মানবাধিকার হিসেবে উপলব্ধি করুন এবং এবং আপনার এলাকায় তা প্রচার করুন।
  • ২। শিশুদের বোঝান স্কুলে ক্লাস করাটা কতটা জরুরি।
  • ৩। শেখানোর ব্যাপারে খোলামেলা হন।
  • ৪। শিশুর বন্ধু হন ও মানসিক ভাবে তার কাছাকাছি আসুন ও পথপ্রর্দশক হয়ে উঠুন।
  • ৫। আপনার ক্লাসকে আর্কষণীয় করতে নানান খবরাখবর দিন। শুধুমাত্র আপনি বলে যাবেন তা যেন না হয়, শিশুকেও আপনার কাছে আসতে দিন।
  • ৬। যে সব সমস্যা সাদা চোখে ততটা দেখা যায় না, যেমন, নিপীড়ন, অবহেলা, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, সেগুলিকে চিহ্নিত করতে শিখুন।
  • ৭। শিশুর সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলুন যাতে তারা তাদের মনোভাব, পছন্দ, চিন্তা, ভয় আপনার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে এবং সব সময় চেষ্টা করুন তাদের সঙ্গে সাধারণ গল্পগুজবের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার।
  • ৮। ভালো শ্রোতা হন। শিশুরা স্কুলে ও বাড়িতে যে সব সমস্যার সম্মুখীন হয় তা নিয়ে আলোচনা করুন।
  • ৯। শিশুকে এমন কাজে উত্সাহ দিন যা তাদের জীবনকে সুন্দর করে।
  • ১০। তাদের বিভিন্ন কাজের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলুন।
  • ১১। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করুন।
  • ১২। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সভায় শিশুদের অধিকার নিয়ে তাদের বাবা-মাকে সচেতন করুন ।
  • ১৩। দৈহিক শাস্তি বন্ধ করুন। শুধুমাত্র কথা বলে বুঝিয়ে, পরামর্শ দিয়ে শিশুদের নিয়মানুবর্তিতা শেখান।
  • ১৪। শিশুদের মধ্যে ভেদাভেদ করবেন না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিশুদের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহার করুন।
  • ১৫। শিশুশ্রমিক, পথশিশু, অপরাধী শিশু, যৌননিগ্রহের শিকার শিশু, পাচার হওয়া শিশু, গৃহে অত্যাচারিত শিশু, মাদকাসক্ত শিশু বা আইনি লড়াইয়ে রত শিশুদের বিচ্ছিন্ন করে তকমা দেবেন না বা তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন না।
  • ১৬। আপনার কাজের জায়গায় ও বাড়িতে শিশুশ্রমিক রাখবেন না।
  • ১৭। সব সময় গণতান্ত্রিক ভাবে বিচার করুন।
  • ১৮। একটি শিশু তার বাড়ি বা সমাজে যতটা সুরক্ষিত আপনার স্কুলেও ঠিক ততটাই সুরক্ষিত, এই ব্যাপারটি সুনিশ্চিত করুন। তেমন হলে পুলিশ ডেকে আইনের সাহায্য নিতে পিছপা হবেন না।
  • ১৯। বড়দের সামনে ও সমাজে নিজেদের মতামত পরিষ্কার করে জানাতে শিশুদের উত্সাহ দিন।
  • ২০। শিশুকে নানা রকম অনুষ্ঠান আয়োজন করতে উত্সাহ দিন, তাদের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিন এবং একই সঙ্গে সঠিক পথও দেখান।
  • ২১। বাচ্চাদের নিয়ে চড়ুইভাতি করতে যান, কাছাকাছি কোথাও আমোদভ্রমণে বেরিয়ে পরুন।
  • ২২। নানান রকম আলোচনা/বিতর্কসভা/ ক্যুইজ/আবৃত্তি প্রভৃতি অনুষ্ঠানে শিশুদের ব্যস্ত রাখুন।
  • ২৩। পড়াশোনাতেও উত্সাহ দিন। এবং মেয়েদেরও সব কাজে যুক্ত করুন। ক্লাসরুমের সৃষ্টিশীল কাজে তাদের উত্সাহ দিন।
  • ২৪। যে মেয়েরা নিয়মিত ক্লাসে আসে না বা মাঝপথে পড়া ছেড়ে দেয় তাদের দিকে লক্ষ রাখুন এবং এ রকম যাতে আর না হয় সেটা দেখুন।
  • ২৫। শিশুদের ঘিরে একটি সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি ও তাকে শক্তিশালী করতে সব শিক্ষকই সাহায্য করতে পারে।
  • ২৬। আপনার পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাই আপনাকে আপনার ক্লাসের শিশুকে যাচাই করতে সাহায্য করবে। যদি কোনও সমস্যা দেখেন পরের পদক্ষেপই হচ্ছে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা।
  • ২৭। আপনাকে দেখতে হবে শিশুটির উপর তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুর চাপ আছে কিনা।
  • ২৮। শিশুটির সঙ্গে কিছু একান্ত সময় কাটান, তার উপর কিছু চাপিয়ে দেবেন না, আত্মমর্যাদায় আঘাত করবেন না বা তাকে লজ্জিত করবেন না।
  • ২৯। শিশুটিকে সাহায্য করুন যাতে সে তার মনের কথা ছবি এঁকে, গল্প লিখে বা সাধারণ গল্প করে বা স্কুলের পরামর্শদাতা বা সমাজসেবীদের কাছে প্রকাশ করতে পারে।

এইচআইভি আক্রান্ত শিশুদের অধিকার রক্ষা করা

  • • শিশুদেরও তাদের বয়স ও পরিপক্কতা অনুযায়ী যৌনশিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
  • • শিশুদের এইচআইভি / এইডস সম্পর্কে জানান। কী ভাবে এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে, সংক্রমিত হতে পারে, কী করে আমরা এর সংক্রমণ বন্ধ করতে পারি এ সব শিশুদের জানা উচিত।
  • • ক্লাসে এমন পরিবেশ তৈরি করুন যাতে আক্রান্ত শিশুরা ক্লাসে ব্রাত্য হয়ে না থাকে। পারস্পরিক আলোচনা, সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে শিশুদের জন্য সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করা ও তা শক্তিশালী করা সম্ভব। এর সঙ্গে কিছু গতানুগতিক পদ্ধতি তো আছেই, যেমন স্কুলে মৌলিক পরিষেবা উন্নত করা, পরীক্ষার ফলাফলের পর্যালোচনা করা এবং আলাদা আলাদা করে প্রত্যেকটি শিশুর গুণাগুণ বিচার করে তারা কে কন বিষয়ে দক্ষ তা নির্ণয় করা।
  • • শিশুদের জন্য যে সব সরকারি প্রকল্প রয়েছে সেগুলোর কথা এবং তা থেকে কী সুবিধা পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে শিক্ষকদের অবশ্যই জানতে হবে। যাদের সাহায্য প্রয়োজন এবং চলতি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে যাদের সাহায্য করা যায়, সেই সব শিশু এবং তাদের পরিবারদের চিহ্নিত করতে হবে। এবং এই ধরনের শিশু ও তাদের পরিবারের একটি তালিকা তৈরি করে আপনার ব্লক/তালুক /পঞ্চায়েত সদস্যদের হাতে দিন। শিশুদের রক্ষা করার জন্য যাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা দরকার ---
    • • পুলিশ
    • • আপনার পঞ্চায়েত / মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের প্রধান/সদস্য
    • • অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা
    • • এএনএমএস
    • • ব্লক / তালুক / মণ্ডল এবং জেলা পঞ্চায়েতের সদস্য
    • • ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) বা ব্লক ডেভেলপমেন্ট ও পঞ্চায়েত অফিসার (বিডিপিও)
    • • কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার (সিডিও) বা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও পঞ্চায়েত অফিসার
    • • জেলাশাসক/ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর
    • • কাছাকাছি শিশু কল্যাণ সমিতি
    • • আপনার এলাকায় চাইল্ড লাইন সংস্থা

উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল

শিশুদের উপর যৌন অত্যাচারের লক্ষণ

শিশুদের উপর যৌন অত্যাচার চিহ্নিত করা

বয়‌ঃসন্ধিকালীন ছেলে, মেয়ে ও  শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচারের চিহ্ন

 

৬-১১ বছর

১২-১৭ বছর

বালিকা

অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে  যৌন আচরণ করা

ছোট বয়সের শিশুদের সঙ্গে যৌন সংসর্গ করা

 

কথার মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের বিবরণ দেওয়া

বিশৃঙখল যৌন ব্যবহার বা যৌন সংসর্গের ব্যপারে অনীহা

 

গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতনতা ও পূর্ব নির্ধারিত ধারণা নিয়ে চলা

খাওয়ার অনীহা

 

বড়দের সাথে যৌন সংসর্গ করতে চাওয়া

অপরাধ বোধ, লজ্জা, অপমানের  অনুভুতি থেকে দূরে সরে থাকা

 

পুরুষ / নারী অথবা কোনও জায়গা সম্পর্কে হঠাৎ আতঙ্ক, অবিশ্বাস করা

বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া

 

অপ্রাপ্তবয়স্কতার জন্য বড়দের যৌন ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতা

ঘুমের অসুবিধে, দুঃস্বপ্ন এবং স্বপ্নে ভয় পাওয়া

বালক

অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে যৌন সংসর্গে লিপ্ত হওয়া

বয়সে ছোট শিশুদের সঙ্গে আগ্রাসী ও শোষণমূলক যৌন ক্রিয়া

 

পুরুষ, নারী বা কোনও জায়গা সম্পর্কে হঠাৎ ভয় পাওয়া বা অবিশ্বাস করা

অস্বাভাবিক আচরণ

 

ঘুমের অসুবিধে, দুঃস্বপ্ন এবং স্বপ্নে ভয় পাওয়া

অভিনয় করা, বিপজ্জনক আচরণ করা

 

হঠাৎ উত্তেজিত আচরণ করা বা আচরণের অভিনয় করা

অপরাধ বোধ, তিরস্কার, অবমাননার মতো অনুভুতি থেকে দূরে সরে থাকা

 

পূর্বের ভালো লাগার বিষয়গুলি সম্পর্কে আগ্রহ কমে যাওয়া

অস্বাভাবিক আচরণ

 

সতর্কতা: উপরের লক্ষণগুলি দেখলে এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে যে শিশুটি সমস্যায় পড়েছে। হতে পারে সে কোনও রকম ভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার। শুধু মাত্র কোনও একটি লক্ষণ দেখে নিশ্চিত ধারণা করে নেওয়া উচিত নয় যে শিশুটির প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। এক সঙ্গে অনেকগুলি লক্ষণের মিল পাওয়া গেলে তবেই সিদ্ধান্তে আসুন।

শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয় যেন বড়দের তারা মেনে চলে। এই কারণে তারা বয়ঃজ্যেষ্ঠদের না বলতে পারেনা। বড়দের কোনও কাজ বা আচরণ অপছন্দ হলেও না বলতে পারে না। এই রকম পরিস্থিতিতে শিশুদের না বলতে শেখান।

প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দশটি বার্তা

  • ১। প্রতিবন্ধী শিশুদের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এমন শব্দ বারবার বলবেন না। পঙ্গু, বিকলাঙ্গ, অক্ষম—এ সব না বলে বলুন ‘শিশুটির চলাফেরায় অসুবিধা আছে’। ‘ কোনও শিশুকে ‘মুক ও বধির’ না বলে বলুন ‘শোনা আর কথা বলায় অসুবিধা’ আছে। কাউকে ‘পাগল’ না বলে ‘মানসিক ভাবে প্রতিবন্ধী’।
  • ২। প্রতিবন্ধী শিশুদের বোঝান তারাও সাধারণ শিশুর মতোই, তারা একই রকম। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে এক জন প্রতিবন্ধী বড় শিশু, সক্ষম ছোট শিশুর গৃহশিক্ষক হতে পারে। যতবেশি প্রতিবন্ধী শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে মিশবে ততই ভাল।
  • ৩। প্রতিবন্ধী শিশুদের তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে দিন। একই অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ও সক্ষম শিশুদের এক সঙ্গে কাজ করতে বলুন, যাতে ভাবের আদানপ্রদানের মাধ্যমে তারা একে অপরকে বোঝে।
  • ৪। ছোটবেলা থেকে শিশুকে লক্ষ করুন এবং তার প্রতিবন্ধকতা বুঝুন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে আগে থেকে চিহ্নিত করা গেলে তা শৈশবের শিক্ষার অংশ হয়ে পড়ে। আগে থেকে বোঝা গেলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সারিয়ে তোলা যেতে পারে এবং অসুখটি ভয়াবহ হতে পারে না।
  • ৫। যে শিশুর প্রতিবন্ধকতার লক্ষণগুলিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে, তার বিকাশের জন্য যথাযথ স্ক্রিনিং বা পদক্ষেপের ব্যবস্থা করুন।
  • ৬। পড়াশোনার সরঞ্জাম, ক্লাসরুম, পাঠক্রম,এ সব প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রয়োজন মাথায় রেখে মানানসই করতে হবে। বড় ছাপা অক্ষর, ক্লাসরুমের প্রথম সারিতে বসবার জায়গা এবং যার চলাফেরায় অসুবিধা আছে, তার জন্য সুবিধাজনক জায়গায় ক্লাসরুম থাকার সুব্যবস্থা করতে হবে। যাতে বিনা বাধায় হুইলচেয়ার সহ শিশু ঘুরে বেড়াতে পারে। শারীরিক ভাবে অক্ষম শিশুরা যাতে খেলাধূলা করে সে ব্যবস্থাও করতে হবে।
  • ৭। প্রতিবন্ধী শিশুদের যে নিজস্ব কিছু চাহিদা আছে তা বাবা-মা, পরিবারের অন্য সদস্য এবং যারা শিশুদের যত্ন করেন তাঁদের বুঝতে হবে। সভায় বাবা-মাকে ডাকুন ও কথা বলুন বা জনে জনে ডেকে শিশুর সম্পর্কে বিস্তারিত বলুন।
  • ৮। হতাশ বাবা-মায়েদের শেখান কী ভাবে ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের প্রয়োজনগুলো বুঝতে হয় এবং তাদের ওপর মালসিক নিপীড়ন বন্ধ করা যায় ।
  • ৯. পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং শিশুটির ভাইবোনদের সহমর্মী হতে হবে এবং অক্ষম শিশুটির বাবা-মায়ের হতাশা ও যন্ত্রণাকে বুঝে তাদের সাহায্য করতে হবে।
  • ১০। প্রতিবন্ধী শিশুদের বাবা-মাকে স্কুলের উন্নয়নের কাজে যুক্ত করুন।

সূত্র : ইউনিসেফ, শিক্ষার ব্যপারে শিক্ষকদের আলোচনা

শৃঙ্খলারক্ষায় গঠনমূলক অনুশীলন

  • • শিশুর মর্যাদাকে সম্মান করুন।
  • • শিশুকে সামাজিক রীতিনীতিগুলি শেখান, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মনিয়মানুবর্তিতা ও চরিত্রের বিকাশ ঘটান।
  • • সব কাজে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়িয়ে তুলুন।
  • • শিশুরও বিকাশ ও উন্নতমানের জীবনযাত্রার প্রয়োজনের প্রতি সম্মান দেখান।
  • • শিশুর জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষকে সম্মান জানান।
  • • শিশুর প্রতি স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি যাতে দেখানো হয় ও তার প্রতি যাতে সুবিচার করা হয় তা নিশ্চিত করুন।
  • • শিশুর প্রতি যাতে বেশিরভাগ মানুষ সহানুভূতিশীল হয়, তার জন্য উদ্যোগী হন।

সূত্র : এলিমিনেটিং করপোরাল পানিশমেন্ট : দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড টু কনস্ট্রাকটিভ চাইল্ড ডিসিপ্লিন

স্কুলের পরিবেশ পরিবর্তন

স্কুলের পরিবেশ পরিবর্তন

আপনার স্কুল কি শিশুর সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে? কী করে স্কুলকে শিশু-বান্ধব করবেন:

  • • ‘মারধোর করবেন না, শৈশবকে রক্ষা করুন”- এটাই শিশু, তাদের বাবা মা ও সমাজের কাছে বার্তা ও স্লোগান হওয়া উচিত।
  • • একটি ভালো স্কুলে অবশ্যই এক জন প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর (পরামর্শদাতা) থাকা উচিত যিনি শিশুদের মানসিক সমস্যা, আবেগজনিত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন এবং শিশু, তার বাবা-মা ও অভিভাবকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উপদেশ দেবেন।
  • • স্কুলে এক জন সমাজসেবীরও থাকা উচিত যিনি, পরিবার, সমাজ ও সমতুল অন্য কিছুর প্রতি শিশুর ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার কাজ করবেন।
  • • নিয়মিত শিক্ষক ও অভিভাবকদের সভা খুবই প্রয়োজন। এবং এই সভাতে শুধু শিশুদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে নয় , শিশুদের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি নিয়ে কথা বলতে হবে।
  • • শিশুদের অধিকার নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আলাদা করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং সেটা যেন একটা প্রথা হয়ে ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষার ব্যাপারে শিক্ষকরা যেমন অন্য স্কুলে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন, এ ক্ষেত্রেও সে রকম ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
  • • শিশুরা যাতে বেশি করে স্কুলের অনুষ্ঠান ও অন্যান্য কাজকর্মে অংশগ্রহণ করে সেটা দেখতে হবে।
  • • যৌন শিক্ষা অবশ্যই স্কুলের অন্যতম বিষয় হওয়া উচিত, যা জীবনের চলার পথে সাহায্য করবে।
  • • প্রাথমিক প্রয়োজন যেমন শৌচাগার, পানীয় জল, স্কুলে এই দু’টিরই যথাযথ ব্যবস্থা থাকা উচিত । বালক ও বালিকাদের জন্য আলাদা শৌচাগার থাকতে হবে।
  • • খুব ছোট স্কুলের ক্ষেত্রে অর্থাৎ যেগুলি তাঁবু বা একটি ঘর থেকে চলে, সেগুলিতে শৌচাগারে যাওয়া ও জল পানের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
  • • প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি স্কুল কতটা সমব্যথী তা বোঝা যায়, ওই সমস্ত শিশুর শিক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি স্কুলে কী পরিমাণ আছে, স্কুল তার সামর্থ্যের কতটা খরচ করতে পেরেছে তা থেকে। এ ক্ষেত্রে স্কুল স্থানীয় ভাবেও সাহায্য নিতে পারে।
  • • স্কুলের আশেপাশে ছোটখাটো বিক্রেতা না থাকাই ভালো।
  • • শিশুরা গৃহকর্মের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এই দায়দায়িত্ব নেওয়ার মতো যথেষ্ট সক্ষম নয় তারা। স্কুল ও তার শিক্ষকরাই এটা সবাইকে শেখাবেন।
  • • স্কুলে একটি গোষ্ঠী তৈরি করা উচিত যারা সব সময় দেখবে স্কুলের ভেতরে বা আশেপাশে কোথাও মাদক দ্রব্যের ব্যবহার বা অন্য কোনও রকম অপরাধমূলক কাজ হচ্ছে কি না। এটা করতে পারলে খুবই ভাল হবে।
  • • কোনও শিক্ষক বা কর্মচারী যদি শিশুর উপর যৌন অত্যাচার করে তবে সে ব্যাপারে স্কুলের নির্দেশিকা থাকতে হবে এবং উপযুক্ত তদন্ত করে স্কুলকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • • স্কুল চত্বরের মধ্যে লিঙ্গ, প্রতিবন্ধকতা, জাতপাত, ধর্ম অথবা এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকতে হবে।
  • • শিশু, অভিভাবক, পঞ্চায়েত/পুরসভাকে নিয়ে স্কুল একটি শিশু সুরক্ষা নজরদারি ইউনিট তৈরি করতে পারে। এই কাউন্সিলের কাজ হবে, যে সব শিশুর যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন আছে, তাদের সম্পর্কে তথ্য নথিভুক্ত করা এবং শিশুর উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটলে, তা পুলিশকে জানানো।

শিশুদের নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বিনোদনমূলক কার্যক্রম

  • • আলোচনা/ বিতর্ক/ক্যুইজ
  • • গল্প বলা
  • • ছবি আঁকা, স্থানীয় শিল্পকলা
  • • কৌতুক অনুষ্ঠান/নাটক/থিয়েটার
  • • মৃৎশিল্প ও অন্য শিল্প
  • • পুতুল তৈরি
  • • রূপচর্চা
  • • কাগজ দিয়ে নকশা তৈরি
  • • ছবি তোলা
  • • পিকনিকে যাওয়া ও দল বেঁধে বেড়াতে যাওয়া
  • • খেলাধুলা (বাইরে ও ঘরের ভেতরে)
  • • প্রদর্শনী

সংশ্লিষ্ট সংযোগ

  1. 1. Poster titled "Every Child has the Right to Feel Safe all the Time"
3.03448275862
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top