হোম / শিক্ষা / কনটেন্ট / শিশু অধিকার / শিক্ষা মৌলিক মানবাধিকার
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিক্ষা মৌলিক মানবাধিকার

শিক্ষা একটি মৌলিক ও মানবিক অধিকার

ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি মানুষের শিক্ষার অধিকার রয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থার কতগুলি মূলনীতি হল – প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্র অবশ্যই অবৈতনিক হবে এবং বাধ্যতামূলক হবে। প্রযুক্তিগত শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা সাধারণ ভাবে লভ্য হবে এবং উচ্চশিক্ষা মেধানুসারে প্রত্যেকের কাছে গ্রহণীয় হবে। শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশে যেমন সাহায্য করে তেমনই মানুষকে তার অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন করে। কী ধরনের শিক্ষা ছেলেমেয়েদের দেওয়া হবে এ ব্যপারে অবশ্যই অভিভাবকদের নিজস্ব পছন্দকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সকলের জন্য শিক্ষা (ইএফএ)

সকলের জন্য শিক্ষা একটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। প্রতিটি শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যাতে উপযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা পান, তার জন্যই বিশ্বব্যাপী এই আন্দোলনের সূত্রপাত। ১৯৯০ সালে শিক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক অধিবেশনে সর্বশিক্ষা অভিযানের নীতি গ্রহণ করা হয়।

অনেক বছর কেটে গেছে। আজও বহু দেশ সর্বশিক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। সেনেগালের রাজধানী ডাকারে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ফের মিলিত হন। তাঁরা ঠিক করেন, ২০১৫ সালের মধ্যে সর্বশিক্ষার লক্ষ্যে তাঁরা পৌঁছবেন। শিক্ষা অভিযানের ছ’টি লক্ষ্য তাঁরা চিহ্নিত করেন, যার উদ্দেশ্য ২০১৫-এর মধ্যে শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষাসংক্রান্ত সব রকম চাহিদা মেটানো।

এই অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছে ইউনেস্কো। শিক্ষাসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলি সুসংহত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তারা। সরকার, উন্নয়নের কাজে যুক্ত নানা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যম প্রভৃতির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ইউনেস্কো সর্বশিক্ষা অভিযানের মূল লক্ষ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করে চলেছে।

বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আটটি লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। এর পোশাকি নাম মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল (এমডিজি)। ২০১৫ সালের মধ্যে সকলের জন্য শিক্ষার লক্ষ্যে যে অভিযান চলছে, তা আন্তর্জাতিক উন্নয়নের লক্ষ্যেও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে, সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ক এমডিজি ২ এবং শিক্ষায় লিঙ্গসমতা বিষয়ক এমডিজি ৩-এর লক্ষ্যে।

ছ’টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য

  • শৈশবের শুরু থেকেই সর্বাঙ্গীণ যত্ন ও শিক্ষার প্রসার ও উন্নতি ঘটানো, বিশেষ করে যারা অরক্ষিত ও বঞ্চিত তাদের ক্ষেত্রে।
  • এটা সুনিশ্চিত করা, যাতে ২০১৫ সালের মধ্যে সমস্ত শিশু, বিশেষ করে সেই সব মেয়ে যারা জাতিগত সংখ্যালঘু এবং কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, নিখরচায় ও উন্নত মানের সম্পূর্ণ প্রাথমিক শিক্ষা পায়।
  • সমস্ত যুবক-যুবতী এবং প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শিক্ষার প্রয়োজন মেটানো এবং শিক্ষা ও পারদর্শিতা অর্জনের ক্ষেত্রে যাতে তাঁরা সব রকম সুবিধা পান তা সুনিশ্চিত করা।
  • ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে, ৫০ শতাংশ বাড়ানো এবং সকল প্রাপ্তবয়স্কর জন্য মৌলিক ও ধারাবাহিক শিক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা করা।
  • ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য ঘুচিয়ে লিঙ্গসমতা আনা এবং মেয়েরা যাতে মৌলিক উন্নত মানের শিক্ষার সব রকম সুযোগ সমান ভাবে নিতে পারে তা সুনিশ্চিত করা।
  • সব ধরনের শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো এবং উৎকর্ষ সাধন করা যাতে সবাই সাক্ষর হয়ে ওঠে, গণিতের জ্ঞান লাভ করে এবং পারদর্শিতা অর্জন করে।

ইএফএ কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বব্যাপী সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে যে ৮টি মিলেনিয়াম গোল বা এমডিজি নির্ধারিত হয়েছে, সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে সকলের জন্য শিক্ষা কর্মসূচি রূপায়ণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ, শিশু ও প্রজননগত স্বাস্থ্যের ওপর শিক্ষার সরাসরি প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে ২০১৫-এর লক্ষ্যে পৌঁছতে বিভিন্ন শরিকের মধ্যে ব্যাপক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছে ইএফএ। তা ছাড়া এটাও ঠিক যে, শিক্ষা সংক্রান্ত এমডিজি-তে পৌঁছতে হলে আমাদের অন্য এমডিজিগুলো, যথা, উন্নত স্বাস্থ্য, সহজেই পরিষ্কার পানীয় জল পাওয়া, দারিদ্র কমানো এবং পরিবেশ রক্ষা ইত্যাদি লক্ষ্যগুলো পূরণ করা আবশ্যিক। ইএফএ লক্ষ্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে ভাল রকম অগ্রগতি হলেও এখনও চ্যালেঞ্জ থেকে গিয়েছে। স্কুলে যাওয়ার মতো বয়স যাদের, এমন বহ শিশুই আজও স্কুলে যেতে পারছে না আর্থিক, সামাজিক ও শারীরিক কারণে (এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ প্রজনন হার, এইচআইভি/এইডস প্রভৃতি)। ১৯৯০ সালের পর থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ বেড়েছে। ১৬৩টি দেশের মধ্যে ৪৭টি সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার (এমডিজি ২) লক্ষ্যে পৌঁছেছে এবং আরও ২০টি দেশ ২০১৫ সালের মধ্যে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে রয়েছে। কিন্তু ৪৪টি দেশে সমস্যাটা ব্যাপক, এর মধ্যে ২৩টি দেশ আফ্রিকায়, সাহারা মরুভূমি সন্নিহিত। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যদি ভাল রকম ত্বরান্বিত না হয়, তা হলে ২০১৫ সালের মধ্যে এই দেশগুলি সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। যদিও শিক্ষায় লিঙ্গ ফারাক (এমডিজি ৩) কমছে, তবুও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে মেয়েরা এখনও অসুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীভুক্তির ক্ষেত্রে সম্প্রতি অগ্রগতি হলেও, বিশেষ করে সাহারা সন্নিহিত আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কম আয়ের দেশগুলিতে, ২৪টি দেশ ২০১৫-এর মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গসমতার লক্ষ্যে সম্ভবত পৌঁছতে পারবে না। এর মধ্যে ১৩টি দেশ সাহারা সন্নিহিত আফ্রিকায়। শিক্ষা ক্ষেত্রে নিম্ন মানের শিক্ষা এবং শিক্ষার ফলাফলে খামতি থেকে যাওয়াটা সব চেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। বহু উন্নয়নশীল দেশে যে সব শিশু একেবারে নিচু শ্রেণিতে নাম লেখায় তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ স্কুলের শেষ শ্রেণিতে পৌঁছয়। এমনকী অনেক দেশে ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের হার ৪০:১-এরও বেশি এবং বহু প্রাথমিক শিক্ষকের যথেষ্ট শিক্ষাও নেই।

সূত্র : এডুকেশন ফর অল

2.99285714286
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top