হোম / শিক্ষা / কনটেন্ট / শিশু অধিকার / শিশু রক্ষায় আইন
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিশু রক্ষায় আইন

শিশু সুরক্ষার আইনি দিক নিয়ে কেন সচেতন থাকা দরকার তা এখানে বলা হয়েছে।

শিশু সুরক্ষা : আইনি দিক

এতক্ষণ পর্যন্ত যে শোষণ অত্যাচারের কথা বলা হয়েছে সেই সমস্ত কিছু থেকে সুরক্ষার অধিকার শিশুদের রয়েছে। কিন্ত্ত এটা তখনই সম্ভব যখন আপনি শিশুর সমস্যা ও ঝুঁকির দিকগুলো জানবেন এবং আইনে সেগুলির কী সমাধান আছে, সেগুলো থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে কী ধরনের নীতি নেওয়া প্রয়োজন সে বিষয়ে অবগত থাকবেন। শিশুর আইনি সাহায্য ও সুরক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এক জন শিশুর যখন আইনি সাহায্য প্রয়োজন, তখন তাকে সেটা নিতে আমরা সাধারণত বাধা দিই। এটা ভুল।

কোনটা গুরুত্বপূর্ণ

  • নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন --- পরিবার /পরিবেশ / সমাজ/ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর অপমান ও তিরস্কারের ভয় কি সামাজিক ন্যায়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০০৩ সালে কার্নাল জেলার পাঁচটি মেয়ে দু’জন নাবালক-নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল। পাঁচ জন সাহসী মেয়ে যখন ঠিক করল তারা বিয়ে বন্ধ করার ব্যাপারে এগিয়ে যাবে, তখন তাদের এক স্কুলশিক্ষক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তাদের সাহায্য করেছিলেন। যদিও বর ও বউ-এর বাড়ি থেকে তারা বহু বাধা পেয়েছিল। গ্রামের বয়স্ক মানুষরা এবং সমস্ত গ্রাম তাদের বিরুদ্ধাচারণ করেছিল। মেয়েগুলিকে হুমকি দেখানো হয়েছিল। তাদের পরিবারও বাধা দিয়েছিল। প্রথম দিকে পুলিশও কোনও রকম পদক্ষেপ করেনি এবং কাউকে গ্রেফতার করেনি। যখন প্রায় সব কিছু ব্যর্থ হতে বসেছিল তখন সেই শিক্ষক তাঁর এলাকার সংবাদমাধ্যমকে সব জানান। সংবাদপত্রে সব কিছু প্রকাশ হলে অবশেষে পুলিশ বাধ্য হয় বিয়ে বন্ধ করতে এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করতে। সাহসী পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসাবে এবং ভবিষ্যতেও যাতে তারা সব রকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে, সে জন্য এই পাঁচজনকে সাহসিকতার জন্য জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে স্কুলের ওই শিক্ষকের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহায্য ছাড়া ওই পাঁচটি ছোট মেয়ের পক্ষে সমাজের বিরুদ্ধে এত দূর লড়াই করা সম্ভব হত না। শিক্ষকটি শুধু তাঁর চাকরি নয়, জীবনেরও ঝুঁকি নিয়েছিলেন। কিন্তু ন্যায় ও শিশু সুরক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা, তাঁকে এ কাজে এগিয়ে দেয়।

  • নিম্নলিখিত এই পদক্ষেপগুলি করলে আপনি হয়তো এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারবেন:

    • • পুলিশ বা চাইল্ড লাইনে খবর দিন।
    • • চাইল্ড লাইন যাতে শিশুটিকে আইনি সাহায্য দেয় ও তার কাউন্সিলিং করে, তা নিশ্চিত করুন।
    • • নাগরিক সমাজকে সংগঠিত করুন।
    • • শেষ উপায় হিসেবে সংবাদমাধ্যমে খবর দিন ।
    • • আইন সম্পর্কে সচেতন হন।

    মুল আইন গুলি সম্পর্কে জানা ও কোন কোন অধিকারকে তা সুরক্ষিত করে তা বোঝাটা খুবই জরুরি। আপনি শিশুটির অভিভাবক/বাবা-মা অথবা সমাজকে তখনই আইনি সাহায্য নেওয়ার কথা বলতে পারবেন যখন আপনি বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ভাবে জানবেন। কখনও কখনও পুলিশ ও প্রশাসনের সাহায্য পাওয়া কঠিন হয়। আইন সম্পর্কে আপনি যদি সঠিক ভাবে জানেন তা হলেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবেন।

বেছে বেছে গর্ভপাত, কন্যাভ্রূণ হত্যা, নবজাতক হত্যা

যে সমস্ত সংস্থা ও ব্যাক্তি ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করে গর্ভপাত করে, তাদের প্রি নেটাল ডায়গোনসটিক টেকনিকস (রেগুলেশন অ্যান্ড প্রিভেনশন অফ মিসইউজ) অ্যাক্ট ১৯৯৪-এর অধীনে বিচার করা হয়।

  • • এই আইনবলে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ প্রযুক্তির অপব্যবহার ও তার বিজ্ঞাপন করা নিষিদ্ধ। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও তার বিজ্ঞাপনই কন্যাভ্রূণ হত্যার হার বাড়ায়।
  • • এই আইনবলে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ প্রযুক্তির অপব্যবহার ও তার বিজ্ঞাপন করা নিষিদ্ধ। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও তার বিজ্ঞাপনই কন্যাভ্রূণ হত্যার হার বাড়ায়।
  • • জিনগত অস্বাভাবিকতা ও বিকৃতি থাকলে, কেবলমাত্র তা পরীক্ষার জন্যই এই আইন প্রসবের পূর্বে রোগনির্ণয় সংক্রান্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানেই এই পরীক্ষা করা যায়।
  • • তবে এই আইনগুলি না মানলে তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  • • যদি কোনও ব্যক্তি এ ব্যপারে কোনও রকম অভিযোগ দায়ের করতে চান, তবে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করুন এবং জানিয়ে দিন, অভিযোগ করার ৩০ দিনের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ যদি কর্তৃপক্ষ না করেন তবে আপনি আদালতে অভিযোগ করবেন।

এই আইন ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধি ১৮৬০ - এর নিম্নলিখিত ধারাগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।

  • • যখন অন্য কোনও ব্যক্তির কারণে কেউ মারা যায় (ধারা ২৯৯ এবং ৩০০)
  • • ইচ্ছাকৃত ভাবে গর্ভবতী মহিলার মৃত শিশু প্রসব করানো (ধারা ৩১২)
  • • কোনও শিশুকে যদি জীবিত অবস্থায় জন্ম দিতে বাধা দেওয়া হয় বা জন্মানোর পরেই মেরে ফেলা হয় (ধারা ৩১৫)
  • • গর্ভে থাকা অবস্থায় যদি কোনও শিশুকে মেরে ফেলা হয় (ধারা ৩১৬)
  • • ১২ বছরের নীচে শিশুকে পরিত্যাগ করা (ধারা ৩১৭ ).
  • • লুকিয়ে শিশুর জন্ম দেওয়া ও তারপর তাকে ফেলে চলে যাওয়া (ধারা ৩১৮)

এই সব অপরাধের শাস্তি হল ২ বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা দুটোই ।

উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল

বাল্যবিবাহ

বাল্যবিবাহ দমন আইন, ১৯২৯ অনুযায়ী শিশুর অর্থ ২১ বছরের নীচে পুরুষ এবং ১৮ বছরের নীচে নারী।

এই আইনের অন্তর্গত কেউ বাল্য বিবাহ করলে বা বাল্য বিবাহকে সমর্থন করলে, অনুমতি দিলে, যোগাযোগ ঘটালে অথবা কোনও ভাবে যুক্ত থাকলে নিম্নলিখিত ধারায় শাস্তি পেতে পারে :

  • • ১৮ বছরের বেশি কিন্তু ২১ বছরের কম কোনও ব্যক্তি বিবাহ করলে তার ১৫ দিন পর্যন্ত জেল এবং ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা এই দু’টোই হতে পারে (ধারা ৩)
  • • ২১ বছরের বেশি কোনও পুরুষ বালিকা বিবাহ করলে তার ৩ মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে (ধারা ৪) ।
  • • যে ব্যক্তি বাল্যবিবাহ করান বা তাতে অংশগ্রহণ করেন তিনি যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে তিনি জানতেন না এটা বাল্যবিবাহ, তা হলে তার শাস্তি, ৩ মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানা (ধারা ৫)
  • • যে শিশুর বাবা-মা বা অভিভাবক বাল্যবিবাহ দেন তাঁরাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন। (ধারা ৬)

বাল্য বিবাহ কি বন্ধ করা যায়

বাল্য বিবাহ দমন আইন ১৯২৯ প্রয়োগ করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা যেতে পারে, যদি এ রকম বিবাহ হতে চলেছে বা ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে পুলিশে রিপোর্ট করা হয়। পুলিশ তখন ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিপোর্ট পেশ করে। ম্যাজিস্ট্রেট তখন বিবাহের উপর ইনজাংকশন জারি করেন। এটিই হল বিবাহ বন্ধ করার নির্দেশ। কেউ যদি আদালতের আদেশ অমান্য করে তবে তার ৩ মাস জেল ও ১০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা দুই-ই হতে পারে। বাল্যবিবাহ অবশ্যই বিবাহ সংঘটিত হওয়ার আগেই বন্ধ করতে হবে, কারণ একবার বিয়ে হয়ে গেলে তখন সেই বিয়েকে কিছুতেই অস্বীকার করা যাবে না।

উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল

শিশুশ্রমিক

শিশু (বাঁধা শ্রমিক) আইন, ১৯৩৩ মোতাবেক বাবা মা বা অভিভাবক যদি ১৫ বছরের শিশুকে টাকা বা বেতনের বিকল্প হিসাবে অন্য কোনও সুবিধা পেতে শ্রমের জন্য বন্ধক রাখে তবে তা বেআইনি এবং তা খারিজ হবে। এই আইনে যে সব বাবা মা ও অভিভাবক শিশুকে বন্ধক রাখে এবং যারা শিশুকে কাজে নিয়োগ করে, তাদের সকলের জন্যই শাস্তির বিধান রয়েছে।

বেগার শ্রম ব্যবস্থা (বিলোপ) আইন, ১৯৭৬ অনুসারে শুধুমাত্র ঋণশোধ করতে না পারার জন্য কোনও ব্যক্তিকে বাঁধা শ্রমিকে পরিণত হতে বাধ্য করা বেআইনি। ঋণ সংক্রান্ত সমস্ত চুক্তি ও বাধ্যবাধকতা এই আইনে খারিজ করে দেয়। এই আইনে কোনও ব্যক্তিকে নতুন করে বন্ধক রাখার যে কোনও চুক্তিকে বাতিল করে এবং বেগার শ্রমিকদের সমস্ত রকম ঋণ থেকে মুক্ত করে। বেগার শ্রমে বন্ধক রাখা আইনত দণ্ডনীয়। এর মধ্যে সেই সব শিশুর বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যরাও রয়েছেন যারা তাঁদের শিশুকে বেগার শ্রমে নিযুক্ত করেন।

শিশু শ্রম (নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ১৯৮৬ অনুসারে ১৪ বছরের নীচের শিশুদের কোনও বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ এবং বিপজ্জনক কাজে নয় এমন কোনও কাজে নিয়োগ নিয়ন্ত্রিত। ২০০০ সালের কিশোর ন্যায়বিচার ( শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা ) আইনের ২৪ ধারা বলে সেই সব ব্যক্তির শাস্তির ব্যবস্থা করেছে যারা শিশুকে বিপজ্জনক কোনও কাজে যুক্ত রেখেছে, তাকে বন্ধক রেখেছে এবং তাদের উপার্জিত অর্থ তাদের না দিয়ে নিজের কাজে লাগাচ্ছে।

শ্রম সংক্রান্ত আরও কিছু আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করা এবং/অথবা শিশুশ্রমিকদের কাজের শর্ত নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং ওই আইনগুলি নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কাজে লাগানো যায়। সেই সব আইনের একটি তালিকা দেওয়া হল ---

  • • কারখানা আইন, ১৯৪৮
  • • বাগান শ্রমিক আইন, ১৯৫১
  • • খনি আইন, ১৯৫২
  • • পণ্য জাহাজ আইন, ১৯৫৮
  • • শিক্ষানবিশ আইন ১৯৬১
  • • মোটর পরিবহণকর্মী আইন, ১৯৬১
  • • বিড়ি ও সিগারেট কর্মী (নিয়োগের শর্ত) আইন, ১৯৬৬
  • • পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৬৩

ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু মেয়েটির বয়স ১২ বছরের নীচে হলে অথবা ধর্ষণকারী যদি কোনও ভারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হন (হাসপাতাল, শিশু নিকেতন, থানা ) সে ক্ষেত্রে শাস্তি বেশি হবে। যদিও নাবালকের সঙ্গে জোর করে যৌনসংগম করা ধর্ষণেরই সামিল, তবুও তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ধর্ষণ সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়ে না।

আইন ব্যবস্থায় তেমন করে কোন আইন নেই যাতে করে নাবালকদের ওপর এ রকম অত্যাচারের প্রতিকার করা যায়। তবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা একে ‘অস্বাভাবিক অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।

শিশু পাচার

শিশু পাচার নিয়ে যে সব আইনি ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলি হল:

ভারতীয় দণ্ডবিধি ১৮৬০---

  • • ঠগবাজি, জালিয়াতি, অপহরণ, অন্যায় ভাবে আটক, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, নাবালকদের সংগ্রহ, অসৎ উদ্দেশ্যে নাবালকদের কেনাবেচা প্রভৃতি অপরাধের জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধিতে শাস্তির বিধান রয়েছে।

কিশোর ন্যায়বিচার ( শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা ) আইন ২০০০---

  • এই আইন পাচার হওয়া শিশুদের যত্ন, সুরক্ষা ,পুনর্বাসন এবং পুনরায় পরিবারে ফিরে যেতে সাহায্য করে।

শিশু পাচার সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কয়েকটি বিশেষ ও স্থানীয় আইন ব্যবহার করা যেতে পারে :

  • • অন্ধ্রপ্রদেশের দেবদাসী (উৎসর্গ রোধ) আইন, ১৯৮৮, অথবা কর্নাটকের দেবদাসী (উৎসর্গ রোধ) আইন, ১৯৮২।
  • • বম্বে ভিক্ষাবৃত্তি প্রতিরোধ আইন, ১৯৫৯
  • • বেগার শ্রমব্যবস্থা (বিলোপ) আইন, ১৯৭৬
  • • শিশু শ্রম নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৮৬
  • • বাল্যবিবাহ দমন আইন, ১৯২৯
  • • অভিভাবকত্ব আইন, ১৯৯০
  • • হিন্দু দত্তক এবং রক্ষণাবেক্ষণ আইন, ১৯৫৬
  • • অনৈতিক পাচার (রোধ) আইন, ১৯৫৬
  • • তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০
  • • বেআইনি মাদক দ্রব্য কেনাবেচা রোধ আইন, ১৯৮৮
  • • তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার রোধ) আইন, ১৯৮৯
  • • মানুষের দেহের অংশ অন্য দেহে স্থানান্তরের আইন, ১৯৯৪

এইচআইভি/এইডস

এইচআইভি/এইডস

এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষিত করার জন্য নির্দিষ্ট আইন তৈরির কাজ এখনও চলছে। তবে আমাদের সংবিধানে কিছু বিশেষ অধিকারের কথা বলা হয়েছে, যেগুলি যে কোনও ব্যক্তির মতো এইচআইভি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য :

  • • অনুমতি দেওয়ার অধিকার
  • • গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার
  • • বৈষম্যের বিরুদ্ধে অধিকার

অনুমতি দেওয়ার অধিকার

অনুমোদন দেওয়ার সময় কখনওই অসুস্থ ব্যক্তিকে চাপ দেওয়া যাবে না। এটা জোর করে, ভুল করে, ঠকিয়ে, অনৈতিক ভাবে প্রভাবিত করে বা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আদায় করা যাবে না। অনুমোদনের জন্য অবশ্যই পুরো বিষয়টি ভালো ভাবে জানতে হবে। ডাক্তার-রোগীর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা বিশেষ প্রয়োজন। ডাক্তার সব জানেন এবং তাঁকে তাঁর রোগী অবশ্যই বিশ্বাস করবে। ডাক্তারি চিকিত্সা শুরুর আগে ডাক্তার রোগীকে অবশ্যই জানাবেন কতখানি ঝুঁকি আছে বা বিকল্প কোনও ব্যবস্থা আছে কিনা, রোগী সব কিছু জেনেই ঠিক করতে পারেন পদ্ধতিটি গ্রহণ করবেন কিনা।

এইচআইভি রোগের তাৎপর্য অন্যান্য রোগের থেকে অকটু আলাদা। এ কারণেই এর পরীক্ষা একটু বিশেষ ধরনের। তার জন্য প্রথমেই সংক্রামিত ব্যাক্তিকে সব কিছু জানিয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট অনুমোদন নিয়ে নেওয়া উচিত। অন্যান্য ডাক্তারি পরীক্ষায় অনুমোদন পেলে সেটাকে এইডস পরীক্ষায় অনুমোদন বলে ধরে নেওয়া চলবে না। যদি সব কিছু জানিয়ে অনুমোদন নেওয়া না হয় তা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে ধরে নিতে পারেন এবং এর বিহিত করার জন্য অবশ্যই কোর্টে যেতে পারেন।

গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার

যদি কোনও ব্যক্তি অন্য কাউকে কিছু বলে গোপন রাখার কথা বলে তবে সেই কথাটি গোপনীয়। কিন্তু এই গোপনীয়তা রক্ষা করতে যদি ব্যক্তিটি অক্ষম হয় তা হলে সেটা অন্যায়।

এক জন ডাক্তারের প্রাথমিক কর্তব্য হল রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করা। যদি ডাক্তার এই গোপনীয়তা রক্ষা করতে অক্ষম হন তা হলে রোগী অনায়াসে ডাক্তারের বিরুদ্ধে কোর্টে যেতে পারেন।

এইচআইভি/এইডস-এ আক্রান্ত ব্যক্তি তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে কোর্টে যেতে ভয় পান, কারণ তাঁরা আশঙ্কা বোধ করেন, তিনি যে এইচআইভি পজিটিভ এটা সবাই জেনে যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি বেনামে তাঁর অধিকারের জন্য মামলা করতে পারেন। এই বিষয়টি রোগীকে যে কোনও রকম সামাজিক অন্যায় ও বিভেদের বিরুদ্ধে সুবিচার চাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

বৈষম্যের বিরুদ্ধে অধিকার

সকলের ক্ষেত্রে চিকিত্সার অধিকার সমান। এটা মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। আইনে বলা আছে, সরকার পরিচালিত বা সরকার নিয়ন্ত্রিত কোনও সংস্থায় সামাজিক বা পেশাগত ভাবে কোনও ব্যক্তির প্রতি লিঙ্গ, ধর্ম, জাত, বিশ্বাস, বংশ, জন্মস্থান প্রভৃতির ভিত্তিতে কোনও বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না।

সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার অধিকার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে সরকারের এই পরিষেবা দেওয়ার কথা। এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি চিকিৎসার সুযোগ নিতে চাইলে হাসপাতালে ভর্তি চাইলে তা খারিজ করা যায় না। যদি তাঁর চিকিত্সা করা না হয়, তা হলে তিনি আইনের সাহায্য নিতে পারেন।

একই ভাবে, এইচআইভি পজিটিভ কোনও ব্যক্তির প্রতি কর্মক্ষেত্রেও কোনও বৈষম্য করা যায় না। এমন ব্যক্তিকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হলে সেই ব্যাক্তি আইনের সাহায্য নিতে পারেন। কেউ যদি এইচআইভি পজিটিভ হন কিন্তু নিজের কর্মক্ষেত্রে কাজ করার মতো শারীরিক অবস্থা থাকে এবং এতে যদি কারও কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তা হলে তাঁকে তাঁর কর্মক্ষেত্র থেকে বহিষ্কার করা যাবে না। ১৯৯৭-এর মে মাসে একটি মামলায় এই রায় দেন বম্বে হাইকোর্ট।

১৯৯২ সালে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক প্রত্যেকটি রাজ্য সরকারকে এই নির্দেশ দিয়েছে, এই ধরনের রোগীদের প্রতি যত্ন নিতে এবং তাদের প্রতি বিভেদমূলক মনোভাব পোষণ না করতে।

উত্স : আইনহত বিষয় এইচআইভি / এইডস

সূত্র: এইচআইভি/এইডস সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলি

দৈহিক শাস্তি

ভারতবর্ষে এখনও তেমন কোনও কেন্দ্রীয় আইন তৈরি হয়নি যাতে স্কুলের শারীরিক শাস্তি বন্ধ করা যায়। বিভিন্ন রাজ্যে অবশ্য নানা রকমের আইন তৈরি হয়েছে এই ধরনের শাস্তিকে রোধ করার জন্য।

কেন্দ্রীয় সরকার সাম্প্রতিককালে শিশু নিপীড়নের রোধে একটি আইন তৈরির কাজ চালাচ্ছে। যেখানে দৈহিক শাস্তিকে শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ বলে ধরা হয়েছে। যতদিন না আইন তৈরি হচ্ছে তত দিন আমাদের হাতে আইনি ব্যবস্থা হিসাবে জা আছে তাকেই ব্যবহার করতে হবে।

ভারতবর্ষে যে রাজ্যগুলিতে দৈহিক শাস্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে

রাজ্য

দৈহিক শাস্তি

আইন / নীতি

তামিলনাড়ু

নিষিদ্ধ

তামিলনাড়ু শিক্ষা বিধির ৫১তম বিধি সংশোধন করে সে রাজ্যে দৈহিক শাস্তি ২০০৩-এর জুন থেকে  নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংশোধনী ব্যবস্থা হিসাবে যে কোনও রকম মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা দেওয়া নিষিদ্ধ।

গোয়া

নিষিদ্ধ

২০০৩-এর গোয়া শিশু আইন বলে দৈহিক শাস্তি নিষিদ্ধ্।

পশ্চিমবঙ্গ

নিষিদ্ধ

২০০৪ এর ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রায় দেয়, শিশুদের ওপর বেত্রাঘাত করা বেআইনি। এবং এ নিয়ে অ্যাডভোকেট তাপস ভঞ্জ কলকাতা একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন।

অন্ধ্রপ্রদেশ (হায়দরাবাদ)

নিষিদ্ধ

১৯৬৬-এর সরকারি আদেশ অনুযায়ী যে দৈহিক শাস্তির ব্যবস্থা ছিল, স্কুল শিক্ষা সচিব ভি সুব্বারাও ২০০২-এর ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের আদেশানুসারে  তা তুলে নেন। নতুন আদেশানুসারে অন্ধ্র সরকার ১৯৬৬ সালের শিক্ষাবিধির ১২২ নম্বর বিধি সংশোধন করে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৈহিক শাস্তি নিষিদ্ধ করে,  যা অমান্য করলে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিল্লি

নিষিদ্ধ

অভিভাবকরা একসঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য আদালতে পিটিশন দেয় । দিল্লি স্কুল শিক্ষা আইন (১৯৭৩) অনুসারে দৈহিক শাস্তির সুযোগ দিল্লি হাইকোর্ট কেড়ে নেয় এবং ২০০০ সালে আদালত বলে,  এটা অমানবিক এবং শিশুদের মর্যাদার পক্ষে ক্ষতিকারক।

চন্ডীগড়

নিষিদ্ধ

১৯৯০ সাল থেকে দৈহিক শাস্তি  নিষিদ্ধ।

হিমাচল প্রদেশ

নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

দৈহিক শাস্তির ফলে একজন শিশু বিকলাঙ্গ হয়ে যাওয়ার ঘটনার পর স্কুলে দৈহিক শাস্তি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।

 

জাতপাতের বৈষম্য

ভারতীয় সংবিধান নিশ্চিত করে যে

  • • দেশের প্রতিটি মানুষ আইনের চোখে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী (অনুচ্ছেদ ১৪)
  • • জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, বংশ, জন্মস্থান ও বাসস্থানের ভিত্তিতে সব রকম বৈষম্য নিষিদ্ধ (অনুচ্ছেদ ১৫)
  • • সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ ও জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য হবে না (অনুচ্ছেদ ১৬)
  • • অস্পৃশ্যতাকে থাকবে না এবং কোনও ধরনের অস্পৃশ্যতা চালালে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে (অনুচ্ছেদ ১৭) ।

১৯৫৫ সালের নাগরিক অধিকার রক্ষা আইনই প্রথম ভারতীয় আইন যা অস্পৃশ্যতা অভ্যাস করা বা প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করে। এমনকী এক জন তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষকে যদি তার জাতের নাম ধরে ডাকা হয়, যেমন ‘চামার’ বলা হয়, তা হলে সেই বলাটাও আইনের চোখে অপরাধ।

১৯৮৯ সালে ভারত সরকার তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার রোধ) আইন প্রণয়ন করে। এতে তফশিলিভুক্ত জাতি ও উপজাতি মানুষদের প্রতি বৈষম্য ও তাদের উপর অ-তফশিলিদের নানা ধরনের হিংসাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই আইন জেলায় জেলায় বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠা করা, সরকারি উকিল নিয়োগ করা এবং রাষ্ট্র কর্তৃক যৌথ জরিমানা আদায়ের বিধান দিয়েছে।

পথশিশু ও পলাতক শিশু

কিশোর ন্যায়বিচার (যত্ন ও সুরক্ষা) আইন ২০০০

কিশোর ন্যায়বিচার (যত্ন ও সুরক্ষা) আইন ২০০০ শুধুমাত্র সেই সব কিশোর বা শিশুদের (১৮ বছরের নীচে যারা) জন্য

  • • যাদের যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন,
  • • যারা আইনের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে।

যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন যে শিশুদের

২ (ঘ) অনুসারে ‘যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন’ এমন শিশু হল সেই শিশু

  • • যে ঘরছাড়া অথবা যার জীবনধারণের কোনও উপায় নেই
  • • যে শিশুর বাবা-মা বা অভিভাবক তার দেখাশোনা করতে অক্ষম।
  • • যে শিশু অনাথ বা বাবা-মা দ্বারা পরিত্যক্ত বা বাবা-মা হারিয়ে গেছে বা বাড়ি থেকে পালানো শিশু অথবা যার বাবা-মাকে অনেক অনুসন্ধান করেও পাওয়া যায়নি।
  • • যে শিশু যৌন বা বেআইনি কাজের জন্য নিগৃহীত, অত্যাচারিত বা শোষিত বা যে সহজেই এ ধরনের নিগ্রহের শিকার হতে পারে।
  • • যে শিশু সহজেই মাদকদ্রব্য নেওয়া বা পাচারের শিকার হতে পারে।
  • • যে শিশু নিগৃহীত বা সহজেই নিগ্রহের শিকার হতে পারে।
  • • যে শিশু কোনও সশস্ত্র সংঘর্ষ, গৃহযুদ্ধ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার। শিশু কল্যাণ সমিতি
  • • যে সব শিশুর যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন তাদের যত্ন, রক্ষা, চিকিৎসা, উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের নিষ্পত্তি করতে, তাদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের মানবাধিকার রক্ষা করতে আইন অনুসারে প্রতিটি জেলায় বা কয়েকটি জেলার জন্য একটি শিশু কল্যাণ সমিতি তৈরি করার কথা প্রতিটি রাজ্য সরকারের।
সমিতি যা যা করে

যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন আছে, এমন শিশুকে সমিতির সামনে পেশ করতে পারে রাজ্য সরকার অনুমোদিত নথিভুক্ত সেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমাজসেবী, বিশেষ কিশোর পুলিশ ইউনিট, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক, সরকারি কর্মচারী, চাইল্ড লাইন বা সচেতন নাগরিক। শিশুটি নিজেও সমিতির কাছে হাজির হতে পারে।

শিশু কল্যাণ সমিতি শিশুটিকে শিশুদের কোনও হোমে পাঠানো এবং কোনও সমাজকর্মী বা শিশু কল্যাণ আধিকারিককে দিয়ে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করানোর নির্দেশ দিতে পারে।

যদি তদন্তের পর সমিতি মতামত দেয় যে শিশুটির কোন পরিবার নেই বা স্পষ্ট কোন অবলম্বনও নেই, তবে সমিতি শিশুটিকে ওই হোম বা কোনও আশ্রয়ে থাকতে দিতে পারে যতদিন না তার কোনও যোগ্য পুনর্বাসন হচ্ছে বা শিশুটির ১৮ বছর বয়স হচ্ছে।

মাদকদ্রব্যে আসক্তি

দ্য নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট ১৯৮৫

এই আইন অনুযায়ী যে কোনও ধরনের মাদকদ্রব্যের (নারকোটিক বা সাইকোট্রপিক দ্রব্যের উত্পাদন, নিজের কাছে রাখা, স্থানান্তর করা, কেনা এবং বিক্রয় বেআইনি এবং এতে আসক্ত ব্যক্তি ও পাচারকারির শাস্তির বিধান রয়েছে।

অপরাধী যদি হিংসা ব্যবহার করে বা হিংসার হুমকি দেয় বা অস্ত্র ব্যবহার করে বা শিশুদের ব্যবহার করা হয়, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা সমাজকল্যাণমূলক সংস্থায় যদি অপরাধ করা হয়, তা হলে কঠিনতর শাস্তির বিধান রয়েছে।

মাদকদ্রব্যের (নারকোটিক ড্রাগস আর সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস) অবৈধ পাচার রোধ আইন, ১৯৮৮

মাদকদ্রব্য পাচারে যারা শিশুদের কাজে লাগায় তাদের এই আইনে যড়যন্ত্রকারী হিসাবে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়।

কিশোর ন্যায়বিচার (যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০০০

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বা পাচারে যদি কোনও শিশুকে লিপ্ত করা হয় বা সহজেই লিপ্ত করা যায়, তা হলে সেই শিশুকে এই আইনের ধারা ২ (ঘ) অনুযায়ী ‘যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন’ রয়েছে এমন শিশু হিসাবে গণ্য করা হয়।

শিশু ভিখারি

যখন শিশুকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করা হয় বা তাকে এই কাজে ব্যবহার করা হয় তখন এই আইনগুলি ব্যবহার হতে পারে :

কিশোর ন্যায়বিচার আইন ২০০০

এই আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী কোনও কিশোর বা শিশুকে ভিক্ষার কাজে নিযুক্ত করা বা ব্যবহার করা বিশেষ অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয় এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভিক্ষা করানোর জন্য কোনও শিশুকে শোষণ, অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হতে হলে কিশোর ন্যায়বিচার আইন সেই ‘শিশুর যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন’ আছে বলে মনে করে।

ভারতীয় দণ্ডবিধি

ভিক্ষা করানোর জন্য কোনও শিশুকে অপহরণ করা বা তাকে অঙ্গহীন করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩ ক ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইনের সঙ্গে লড়াইয়ে রত শিশু

“ আইনের সঙ্গে লড়াইয়ে রত শিশু ” কথার অর্থ হল কোনও অপরাধ করেছে বলে যে শিশু বা কিশোর অভিযুক্ত হয়েছে।

কিশোর ন্যায়বিচার বোর্ড

• আইনের সঙ্গে লড়াইয়ে রত শিশুর বিষয়টি দেখতে, তার জামিনের ব্যবস্থা করতে বা শিশুটির স্বার্থে এ ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে প্রতিটি জেলায় বা কয়েকটি জেলা মিলিয়ে একটি কিশোর ন্যায়বিচার বোর্ড তৈরি করার কথা প্রতিটি রাজ্য সরকারের। কৈশোরসুলভ অপরাধপ্রবণতা বা আইনের সঙ্গে লড়াইয়ে রত শিশু

কোনও শিশু অপরাধ করলে, ওই একই অপরাধে বড়রা যা সাজা পায় তা থেকে তাদের রক্ষা করা হয়ে থাকে। কিশোর ন্যায়বিচার (যত্ন ও সুরক্ষা) আইন, ২০০০ অনুযায়ী সেই শিশুকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করা হয় না। তাকে ‘আইনের সঙ্গে লড়াইয়ে রত শিশু’ বলে বর্ণনা করা হয়।

এই আইন অনুযায়ী ‘আইনের সঙ্গে লড়াইয়ে রত’ প্রতিটি শিশুর জামিনের অধিকার আছে এবং তাকে জামিন দেওয়া বাধ্যতামূলক যদি না তাতে শিশুটির প্রাণসংশয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জেলে পাঠানোর বদলে এই আইনগুলির উদ্দেশ্য শিশুকে সংশোধন করা, তাকে উপদেশ দিয়ে ও ভর্ৎসনা করে সাময়িক ভাবে মুক্তি দিয়ে লক্ষ রাখা অথবা তাদের দায়িত্ব কোনও বিশেষ হোমের উপরে ন্যস্ত করা।

3.01538461538
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top