হোম / শিক্ষা / কনটেন্ট / শিশু অধিকার / শিশুর অধিকার রক্ষা
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিশুর অধিকার রক্ষা

শিশুর অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত বিষয় এই বিভাগে আলোচিত হয়েছে। এই বিভাগটি শিক্ষক, ফিল্ড-ওয়ার্কার এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় আগ্রহী মানুষদের জন্য।

শিশুর সুরক্ষা

শিশু সুরক্ষা বলতে বোঝায়, শিশুদের ওপর হিংসা, শোষণ, নিগ্রহ, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে যৌন শোষণ, পাচার, শিশু শ্রম, কন্যা সন্তানের জননাঙ্গের বিকৃতিসাধন, বাল্যবিবাহের মতো প্রাচীন কুপ্রথা-এগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা।

এক জন শিক্ষক ব্যক্তিজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন, এক জন ভাল শিক্ষককে ছাত্রছাত্রীরা শ্রদ্ধা করে ৷ পিতামাতার পর শিক্ষকই শিশুর মনের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেন এবং শিশুর ব্যক্তিত্বকে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন ৷

আপনারা হয়তো জানেন, যে কোনও সমাজব্যবস্থায় শিশুরা নিগ্রহ, হিংসা ও শোষণের শিকার হয় ৷ আপনি আপনার চারি দিক লক্ষ রাখলেই ব্যাপারটি অনুধাবন করতে পারবেন ৷ ছোট ছোট বাচ্চারা শিশুশ্রমের শিকার হয়, স্কুল যাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।

অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের মারধর করেন, শিক্ষকরাও শিশুদের মারধর করেন, ধর্ম ও জাতের দোহাই দিয়ে তাদের প্রতি বৈষম্য করেন ৷ কন্যা শিশুদের তো জন্মানোরই অধিকার নেই। সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গেই মেরে ফেলা হয়। যদিও বা কন্যাসন্তান জন্মায়, পরিবারে ও সমাজের প্রতি পদে তাকে অসম্মান আর লাঞ্ছনার সন্মুখীন হতে হয়। শুধুমাত্র সে মেয়ে বলে সময়ের আগে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়, ধর্ষণের শিকার হয় তারা ।

হ্যাঁ, এটাই বাস্তব অধিকাংশ শিশুর জীবনে ৷ হয়তো এমন অনেক শিশুই রয়েছে আপনার ক্লাসে বা আপনার স্কুলে ৷

কী করবেন শিক্ষক

হয়তো এমন অনেক শিশুই রয়েছে আপনার ক্লাসে বা আপনার স্কুলে ৷

এক জন শিক্ষক হিসেবে আপনি কী করবেন, যখন শুনবেন বা দেখবেন এক জন শিশু এ রকম নিগ্রহ বা শোষণের শিকার?

কমিশনের কাছে শিশুদের প্রতিটি অধিকারই সমান, একটি আর একটির ওপর নির্ভরশীল। তাই অধিকারের শ্রেণিবিন্যাসের প্রশ্নটি অবান্তর। ১৮ বছর বয়সে একটি শিশু কতটা অধিকার ভোগ করবে, তা নির্ভর করে জন্মের সময় থেকে সে কতটা অধিকার ভোগ করে এসেছে তার ওপর। সুতরাং প্রতিটি পর্যায়েই নীতিগত হস্তক্ষেপ খুবই জরুরি। কমিশনের কাছে শিশুর সব অধিকার সমান গুরুত্বের।

আপনি কি….

  • ভাগ্যকে দোষ দেবেন?
  • প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এক সময় এ রকম অবস্থার শিকার হয়েছে, কাজেই এতে দোষের কিছু নেই বলে তর্ক করবেন?
  • এটাই নিয়ম এবং প্রচলিত প্রথা, এর বিরুদ্ধে কিছু করার নেই বলে তর্ক করবেন?
  • দারিদ্রকে দোষ দেবেন?
  • নৈতিক অবনতিকে দায়ী করবেন?
  • পরিবার কিছুই করছে না বলে তার ঘাড়ে দোষ চাপাবেন?
  • শিশুটি যদি আপনার ছাত্রছাত্রী না হয় আপনি কেন ভাবতে যাবেন?
  • শিশুটিকে রক্ষা করবার সত্যি প্রয়োজন আছে কি না তার জন্য প্রমাণ খুঁজবেন?
  • প্রমাণের অপেক্ষায় থাকবেন?

না কি আপনি ......

  • শিশুটিকে সুরক্ষিত পরিবেশে রাখা সুনিশ্চিত করবেন?
  • শিশুটির সঙ্গে কথা বলবেন?
  • শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন এবং বোঝাবেন যে প্রত্যেক শিশুর সুষ্ঠু ও সুরক্ষিত শৈশবের অধিকার রয়েছে, আর তা দেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব অভিভাবকদের?
  • প্রয়োজনে শিশু ও তার পরিবারকে সাহায্য করবেন?
  • খুঁজে বের করবেন শিশুটির সুরক্ষায় কী কী বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
  • শিশুটির প্রতি যারা নিষ্ঠুর আচরণ করছে অথবা যাদের কাছ থেকে শিশুটিকে রক্ষা করা দরকার, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন?
  • যদি কোনও আইনি রক্ষাকবচ ও আইনি প্রতিবিধানের প্রয়োজন হয় তা হলে পুলিশে অথবা চাইল্ড লাইনে খবর দেবেন?

আপনি নিজে বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন তার ওপর নির্ভর করে আপনি কী করবেন।আপনি কি নিজেকে শুধুমাত্র এক জন শিক্ষক ভাবেন নাকি এক জন নেতা বা আলোকদিশারি কিংবা এক জন পরামর্শদাতা বা পথপ্রদর্শক ভাবেন? কারণ, এক জন নেতা, আলোকদিশারি, পরামর্শদাতা, বা পথপ্রদর্শককে তত্ত্বাবধায়ক, রক্ষাকর্তা এবং সমাজ পরিবর্তনে সহায়কের ভূমিকাও গ্রহণ করতে হয়।

কেন শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ

আপনারা শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ..

  • শিশুর পরিবেশের আপনারাও অংশীদার এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদেরও।
  • আপনারা ওদের কাছে উদাহরণস্বরূপ। আদর্শ নিয়মনীতি আপনাদেরই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
  • তরুণ ছাত্রদের বৃদ্ধি, বিকাশ, কল্যাণ ও সুরক্ষার জন্য শিক্ষক হিসেবে আপনারাও দায়বদ্ধ।
  • পদাধিকার বলেই এই দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব আপনাদের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
  • আপনি কেবলমাত্র এক জন শিক্ষক নন যে শুধুমাত্র ভাল ফলের লক্ষ্যে পাঠ্যপুস্তক পড়ান -- আপনি এক জন সমাজসংস্কারকও হতে পারেন।

এই রচনাটি বিশেষ ভাবে আপনাদের জন্যই তৈরি, যাতে আপনারা শিশুদের সাহায্য করতে পারেন এবং নিগ্রহ ও শোষণ থেকে তাদের রক্ষা করতে পারেন।

যদিও আইন সম্পর্কে আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করেছি, তা-ও এক জন আইনজীবীর কাছ থেকে আইনগত পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি।

শিশুর অধিকার বোঝা

শিশু কে

আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ১৮ বছরের নীচে প্রতিটি মানুষই শিশু। সর্বসম্মতিক্রমে এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে গৃহীত সনদে (ইউএনসিআরসি) এ কথা বলা হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে গৃহীত সনদে (ইউএনসিআরসি) এ কথা বলা হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক আইনি অস্ত্রটি অধিকাংশ দেশই গ্রহণ করেছে ও অনুমোদন করেছে। ভারতবর্ষ বরাবরই ১৮ বছরের নীচের ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট আইনি অস্তিত্ব স্বীকার করে। এ কারণেই ১৮ বছর হলেই সেই ব্যক্তি ভোট দিতে পারে, ড্রাইভিং লাইসেন্স পা বা আইনি চুক্তি করতে পারে। ১৯২৯ সালের বাল্য বিবাহ রোধ আইন অনুসারে ১৮ বছরের নীচে মেয়েদের এবং ২১ বছরের নীচে ছেলেদের বিয়ে আইনত সিদ্ধ নয়। তা ছাড়াও, ১৯৯২ সালের ইউএনসিআরসি সনদ অনুমোদনের পর, ১৮ বছরের নীচে যাদের যত্ন তা ছাড়াও, ১৯৯২ সালের ইউএনসিআরসি সনদ অনুমোদনের পর, ১৮ বছরের নীচে যাদের যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে তা যাতে তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পেতে পারে তা সুনিশ্চিত করতে ভারত কিশোর অপরাধের বিচার সংক্রান্ত আইনের পরিবর্তন করেছে।

এ ছাড়াও অন্য আইনগুলিতেও ‘শিশু’-র অন্য সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইউএনসিআরসি সনদের সংজ্ঞা অনুসারে এগুলির মধ্যে সাদৃশ্য আনতে হবে।

এক জন ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে নির্ধারক বিষয় হল তার বয়স। যদি ১৮ বছরের নীচে কোনও ব্যক্তির বিবাহ হয় এবং সন্তান হয় তা হলেও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসারে তাকে শিশু হিসেবেই গণ্য করা হবে।

মূল বিষয়

  • ১৮ বছরের নীচে সব ব্যক্তিই শিশু
  • শৈশবাবস্থা হল একটি প্রক্রিয়া যার মধ্য দিয়ে সব মানুষকেই যেতে হয়
  • প্রত্যেকের শৈশব এক ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা
  • সব শিশুকেই শোষণ ও নিগ্রহ থেকে রক্ষা করতে হবে

উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল

কেন শিশুদের দিকে নজর

  • যে কোনও অবস্থাতেই বড়দের থেকে শিশুরাই সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত।
  • তাই, শিশুরাই সরকার ও সমাজের কোনও সক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয়তার শিকার তারাই বেশি হয়
  • আমাদের সমাজের মতো বেশিরভাগ সমাজই মনে করে, শিশুরা তাদের অভিভাবকদের সম্পত্তি অথবা তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পথে অথবা সমাজকে কিছু দেওয়ার মতো অবস্থায় তারা এখনও পৌঁছয়নি।
  • মানুষ হিসেবে শিশুদেরও যে একটা মন আছে, তাদেরও কিছু মতামত দেওয়ার আছে, তাদের পছন্দ রয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে, এটা মনেই করা হয় না।
  • বড়রা তাদের পথপ্রদর্শক নয়, তাদের জীবনের নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ান।
  • শিশুদের ভোটাধিকার নেই, কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও সীমিত। তাই তাদের কথা শোনাই হয় না।
  • শোষণ ও নিগ্রহের ক্ষেত্রে শিশুরাই সব থেকে বেশি অরক্ষিত।

শিশুদের অধিকার কোনগুলো

যে কোনও অবস্থাতেই বড়দের থেকে শিশুরাই সবথেকে বেশি অসুরক্ষিত। তাই, শিশুরাই সরকার ও সমাজের কোনও সক্রিয়তা বা নিষ্ক্রিয়তার শিকার তারাই বেশি হয় | আমাদের দেশের আইন এবং যে সব আন্তর্জাতিক আইনকে আমরা মান্যতা দিয়েছি, সে সব আইনে শিশুদের যে সব অধিকার দেওয়া হয়েছে, ১৮ বছরের নীচে সব ব্যক্তিই সেগুলো পাওয়ার অধিকারী।

ভারতীয় সংবিধান শিশুদের জন্য কিছু বিশেষ অধিকার অঙ্গীকার করেছে। সেগুলি হল :

  • ৬ - ১৪ বছরের মধ্যে প্রত্যেক শিশুর অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১ ক)|
  • ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত যে কোনও রকম জটিল ও ঝামেলার কাজ না করার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৪)|
  • বয়স বা শক্তির পক্ষে উপযুক্ত নয়, এমন কোনও কাজে অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার কারণে যোগ দেওয়া এবং নিগৃহীত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৩৯ ঙ)|
  • স্বাধীন ভাবে ও মর্যাদার সঙ্গে এবং সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য সব রকম সুযোগ ও সুবিধা পাওয়ার অধিকার এবং নৈতিক ও বস্তুগত পরিত্যাগ ও নিগ্রহের বিরুদ্ধে শৈশব ও যৌবনকে রক্ষা করার অধিকার। (অনুচ্ছেদ ৩৯ চ) |

    এ সব ছাড়াও যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নারী বা পুরুষ যে সব অধিকার ভোগ করে থাকেন ভারতের নাগরিক হিসেবে সে সব অধিকারই তার রয়েছে।

  • সাম্যের অধিকার (অনুচ্ছেদ ১৪) ।
  • বৈষম্যের বিরুদ্ধে অধিকার (অনুচ্ছেদ ১৫) |
  • ব্যক্তি স্বাধীনতা ও আইনের যথাযোগ্য প্রক্রিয়ার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১) ।
  • বেগার শ্রমিক হিসেবে কাজ করা এবং পাচার হওয়া থেকে বাঁচার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৩) ।
  • দুর্বল শ্রেণির মানুষদের সামাজিক অন্যায় ও সব রকম শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪৬) ।
  • দুর্বল শ্রেণির মানুষদের সামাজিক অন্যায় ও সব রকম শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার (অনুচ্ছেদ ৪৬) ।

উৎস : পোর্টাল কন্টেন্ট দল

রাষ্ট্রের করণীয়

  • শিশু ও মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (অনুচ্ছেদ ১৫ (৩)) ।
  • সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করা (অনুচ্ছেদ ২৯) ।
  • সমাজের দুর্বল শ্রেণির মধ্যে শিক্ষালাভের উৎসাহ জাগানো (অনুচ্ছেদ ৪৬) ।
  • নাগরিকদের পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন (অনুচ্ছেদ ৪৭) ।

সংবিধান ছাড়াও শিশুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আরও অনেক ধরনের আইন রয়েছে। এক জন দায়িত্ববান শিক্ষক ও নাগরিক হিসেবে আপনার উচিত ওই সব আইন ও তার গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা। এই আইনগুলি সম্পর্কে আলাদা বিভাগ রয়েছে এই পুস্তিকাটিতে।

শিশুর অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ

রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ

শিশুদের জন্য যে সব আন্তর্জাতিক আইন আছে, তার মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, শিশুর অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে গৃহীত সনদ যা সংক্ষেপে সিআরসি নামে পরিচিত। এই আন্তর্জাতিক আইন ও আমাদের সংবিধান ঠিক করে, শিশুরা কী কী অধিকার ভোগ করবে।

শিশুর অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদটি কী

মানবধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে, বয়স নির্বিশেষে, এমনকী শিশুদের জন্যও। যদিও শিশুদের বিশেষ অবস্থার জন্য তাদের অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণের এবং অভিভাবকদের তদারকির প্রয়োজন হয়। এ কারণে শিশুদের কিছু বিশেষ অধিকার রয়েছে। এগুলিকেই বলা হয় শিশুর অধিকার এবং এগুলিই শিশুর অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদে বলা হয়েছে (সিআরসি)।

রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদের বৈশিষ্ট্য

  • ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত প্রত্যেকটি ছেলে ও মেয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যদি তারা বিবাহিতও হয় বা তাদের সন্তানাদিও থাকে।
  • ‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ’, ‘অ-বৈষম্য’ এবং ‘শিশুর মতামতকে সম্মান’, এই তিন নীতিতে পরিচালিত এই সনদ।
  • এই সনদ পরিবারের গুরুত্ব এবং শিশুর সুস্থ বিকাশের পক্ষে সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেয়।
  • শিশুরা যাতে সমাজে ন্যায্য ও সমানাধিকার ভোগ করে, তা সুনিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে বাধ্য করে এই সনদ।

চার ধরনের অধিকার

বেঁচে থাকার অধিকার

বেঁচে থাকার অধিকারের মধ্যে রয়েছে ---

  • জীবনের অধিকার
  • সম্ভাব্য সবোর্চ্চমানের স্বাস্থ্য
  • পুষ্টি
  • জীবনযাপনের যথোপযুক্ত মান
  • একটি নাম ও জাতিগত পরিচয়
বিকাশের অধিকার

বিকাশের অধিকারের মধ্যে রয়েছে ---

  • শিক্ষার অধিকার
  • শৈশবের শুরুতে যত্ন ও বিকাশে সহায়তা
  • সামাজিক নিরাপত্তা
  • অবসর, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কাজকর্মে যোগদানের অধিকার
সুরক্ষার অধিকার

সুরক্ষার অধিকারে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি থেকে মুক্তির কথা বলা হয়েছে ---

  • শোষণ
  • নিগ্রহ
  • অমানবিক বা মর্যাদাহানিকর ব্যবহার
  • অবহেলা
  • বিশেষ পরিস্থিতি, যেমন যুদ্ধের সময়, জরুরি অবস্থার সময়, প্রতিবন্ধকতাজনিত কারণে বিশেষ সুরক্ষার অধিকার
অংশগ্রহণের অধিকার

অংশগ্রহণের অধিকারের মধ্যে রয়েছে----

  • শিশুর মতামতকে সম্মান
  • মত প্রকাশের অধিকার
  • সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার
  • চিন্তা, চেতনা ও ধর্ম পালনের অধিকার
অধিকারের অবিভাজ্যতা

সব অধিকার একে অপরের ওপর নির্ভরশীল এবং অবিভাজ্য। কিন্তু তাদের প্রকৃতিগত কারণে সেগুলি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত--

  • তাৎক্ষণিক অধিকার (নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার )। এগুলির মধ্যে রয়েছে, বৈষম্য ও শাস্তির বিরুদ্ধে অধিকার, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সুবিচার পাওয়ার অধিকার, শিশুদের জন্য আলাদা বিচার ব্যবস্থার অধিকার, জীবনের অধিকার, জাতি সম্পর্কিত অধিকার এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অধিকার
  • সুরক্ষা সংক্রান্ত বেশির ভাগ অধিকারই তাৎক্ষণিক অধিকারের মধ্যে পড়ে এবং সেই কারণে দ্রুত মনোযোগ ও হস্তক্ষেপ দাবি করে
  • প্রগতির অধিকার (অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার) যার মধ্যে পড়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার এবং যেগুলি প্রথম বিভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়নি

সিআরসি-র অনুচ্ছেদ ৪-এ এগুলি স্বীকৃত। এতে বলা হয়েছে,

অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার গুলির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি আন্তর্জাতিক সহায়তার কাঠামোর মধ্যে থেকে তাদের ক্ষমতা অনুযায়ী যতদূর সম্ভব এবং যতটা প্রয়োজন পদক্ষেপ করবে।

দ্রষ্টব্য: বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা নানা মাত্রার দক্ষতা ও পরিণতি অর্জন করে। এর মানে এই নয় যে ১৫-১৬ বছর বয়স হয়ে গেলেই আর সুরক্ষার প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আমাদের দেশে অনেক শিশুকেই ১৮ বছরের নীচে বিয়ে করতে হয় এবং কাজ করতে হয়। সমাজ তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মনে করে বলে তাঁদের আর সুরক্ষার প্রয়োজন নেই, এমন ভাবার কোনও কারণ নেই। তাদের আগের মতোই সবথেকে বেশি সুরক্ষা, সুযোগ ও সাহায্য পাওয়া দরকার, যাতে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পথের শুরুটা সুন্দর হয়।

3.03448275862
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top