হোম / শিক্ষা / কনটেন্ট / শিশু অধিকার / শিশুর অধিকার সংক্রান্ত সম্মেলন (সিআরসি)
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিশুর অধিকার সংক্রান্ত সম্মেলন (সিআরসি)

সিআরসি

শিশুর অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের সম্মেলনে গৃহীত সনদ শিশুদের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক বিবৃতি। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভা সনদটি গ্রহণ করে এবং স্বাক্ষরের জন্য প্রকাশ করে ১৯৮৯ সালের ২০ নভেম্বর (শিশুর অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রের ৩০তম বার্ষিকীতে)।

নির্দেশাত্মক নীতি

অনুচ্ছেদ ১ (শিশুর সংজ্ঞা)

১৮ বছরের নীচে সকলের জন্য এই সনদে বর্ণিত সব অধিকার প্রযোজ্য।

অনুচ্ছেদ ২ (বৈষম্য নয়)

জাতি, ধর্ম, সামর্থ্য সম্পর্কে যে যা-ই ভাবুন বা বলুন, যে পরিবার থেকেই হোন, এই সনদ সকলের জন্য প্রযোজ্য।

অনুচ্ছেদ ৩ (শিশুদের সব চাইতে ভালো)

শিশুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনের উচিত শিশুদের সব চাইতে ভালোর জন্য কাজ করা।

অনুচ্ছেদ ৪ (অধিকার রক্ষা)

প্রতিটি শিশুর অধিকার পূরণে যতটা করা দরকার ততটা সরকারকে করতে হবে।

অনুচ্ছেদ ৬ (বাঁচা ও বেড়ে ওঠা)

প্রতিটি শিশুর জীবনের অধিকার রয়েছে। তারা যাতে বাঁচতে পারে এবং ভালো ভাবে বেড়ে উঠতে পারে তার জন্য সরকারকে সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনুচ্ছেদ ১২ (শিশুর দৃষ্টিকে শ্রদ্ধা করা)

শিশুদের ব্যাপারে যখন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন সে ব্যাপারে বলার ও মত প্রকাশের অধিকার শিশুর রয়েছে।

বাঁচার ও বিকাশের অধিকার

অনুচ্ছেদ ৭ (নিবন্ধীকরণ, নাম, জাতীয়তা, যত্ন)

প্রতিটি শিশুর আইনগত ভাবে নিবন্ধীকৃত নাম ও জাতীয়তার অধিকার আছে। তার জানার অধিকার আছে এবং যতদূর সম্ভব বাবা-মায়ের যত্ন পাওয়ার অধিকার আছে।

অনুচ্ছেদ ৯ (বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা)

বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনও শিশুর বিচ্ছিন্ন থাকা উচিত নয়, যদি না সেটা তার ভালোর জন্য হয়। (উদাহরণ হিসেবে, কোনও বাবা বা মা যদি সন্তানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা অবহেলা করেন)। বাবা-মা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, শিশুর অধিকার আছে তাঁদের সংস্পর্শে থাকার, যদি না তাতে তার কোনও ক্ষতি হয়।

অনুচ্ছেদ ২০ (পরিবার থেকে বঞ্চিত শিশু)

শিশুর পরিবার যদি তার দেখভাল করতে না পারে, তা হলে তার ধর্ম, সংস্কৃতি, ও ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা আছে এমন লোক যাতে তার যথাযথ দেখাশোনা করতে পারেন তা সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে।

অনুচ্ছেদ ২২ (উদ্বাস্তু শিশু)

কোনও শিশু উদ্বাস্তু হিসেবে কোনও দেশে এলে, সেই দেশের শিশুর সমান অধিকার তার থাকবে। বাস্তুহারা শিশুকে তার পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য যতদূর সম্ভব যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুচ্ছেদ ২৩ (প্রতিবন্ধকতা)

প্রতিবন্ধী শিশুরও সমাজে সক্রিয় ভূমিকা-সহ সম্মানের সঙ্গে একটি সুন্দর স্বাধীন জীবন যাপনের অধিকার আছে। এ ধরনের জীবন যাপনে বিশেষ যত্ন ও উৎসাহ পাওয়ার অধিকার তার আছে।

অনুচ্ছেদ ২৪ (স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য পরিষেবা)

প্রতিটি শিশু যাতে সুস্থ থাকতে পারে তার জন্য সে ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিষ্কার জল, পুষ্টিকর খাদ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়ার অধিকারী।

অনুচ্ছেদ ২৫ (দেখভালের পর্যালোচনা)

বাবা-মায়ের পরিবর্তে কোনও শিশুর দেখভাল যদি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (হাসপাতাল, হেফাজত ইত্যাদি) করেন, তা হলে সেই অবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করানোর অধিকার সেই শিশুর আছে।

অনুচ্ছেদ ২৬ (সামাজিক নিরাপত্তা)

কোনও শিশু গরিব হলে বা তার কোনও প্রয়োজন থাকলে, সরকারের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার অধিকার তার আছে।

অনুচ্ছেদ ২৭ (জীবনের যথোপযুক্ত মান)

শারীরিক ও মানসিক চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ট ভালো জীবন যাপনের অধিকার প্রতিটি শিশুর আছে। শিশুর পরিবার যদি তার ব্যবস্থা করতে না পারে, তা হলে সরকারের সব রকম সাহায্য করা উচিত।

অনুচ্ছেদ ২৮ (শিক্ষার অধিকার)

প্রতিটি শিশুর শিক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। প্রাথমিক শিক্ষা হবে নিখরচায়। প্রতিটি শিশুকে মাধ্যমিক শিক্ষা দিতে হবে।

অনুচ্ছেদ ২৯ (শিক্ষার লক্ষ্য)

শিক্ষা শিশুর ব্যক্তিত্ব ও মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটায়। পাশাপাশি মানবাধিকার, বাবা-মা, নিজের ও অন্যের সংস্কৃতি এবং পরিবেশের প্রতিও শ্রদ্ধা জাগায়।

অনুচ্ছেদ ৩০ (সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিশু)

দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মানুক বা না-ই মানুক, নিজের ভাষা শেখা ও ব্যবহার করা এবং পরিবারের প্রথা ও ধর্ম পালন করার অধিকার প্রতিটি শিশুর আছে।

অনুচ্ছেদ ৩১ (অবসর, খেলা ও সংস্কৃতি)

জিরোনো, খেলা করা এবং সাংস্কৃতিক ও পাঠক্রম-বহির্ভূত কর্মকাণ্ডে যোগ দেওয়ার অধিকার সব শিশুর আছে।

অনুচ্ছেদ ৪২ (অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা)

সরকারের উচিত এই সনদের কথা প্রতিটি শিশু ও তার বাবা-মাকে জানানো।

রক্ষা করার অধিকার

অনুচ্ছেদ ১৯ (হিংসা থেকে রক্ষা)

শিশুদের যাতে যথাযথ দেখভাল হয় এবং বাবা-মা বা যে কোনও কারও হিংসা, নিগ্রহ বা অবহেলা থেকে তাদের রক্ষা করা হয় তা সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে।

<43 class="no-top-space">অনুচ্ছেদ ৩২ (শিশু শ্রম)

বিপজ্জনক কাজ বা স্বাস্থ্যের হানি বা শিক্ষার ক্ষতি হতে পারে এমন কোনও কাজ থেকে শিশুকে রক্ষা করার দায় সরকারের।

অনুচ্ছেদ ৩৬ (অন্যান্য ধরনের শোষণ)

শিশুর বিকাশে ক্ষতি হতে পারে এমন কোনও কাজ থেকে তাকে রক্ষা করতে হবে।

অনুচ্ছেদ ৩৫ (অপহরণ)

শিশুরা যাতে অপহৃত না হয় বা বিক্রি হয়ে না যায় তা সরকারকে দেখতে হবে।

অনুচ্ছেদ ১১ (পাচার)

অবৈধ ভাবে দেশের বাইরে পাচার হওয়া থেকে শিশুকে রক্ষা করতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুচ্ছেদ ৩৪ (শোষণ)

শিশুকে যৌন নিগ্রহ থেকে রক্ষা করা সরকারের কর্তব্য।

অনুচ্ছেদ ৩৭ (আটক)

কোনও শিশুকে কোনও অপরাধের জন্য আটক করা হলে তার ওপর অত্যাচার করা যায় না, তার প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করা যায় না বা তাকে শাস্তি দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় না থাকলে তাকে গ্রেফতার করা যায়, তবেও তা যথা সম্ভব অল্প সময়ের জন্য। এবং ওইটুকু সময়তেও সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।

অনুচ্ছেদ ৪০ (কিশোর অপরাধীদের বিচার)

কোনও শিশু আইন ভাঙার দায়ে অভিযুক্ত হলে সে আইনি সাহায্য এবং তার বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারী।

অংশগ্রহণের অধিকার

অনুচ্ছেদ ১৫ (যোগ দেওয়ার স্বাধীনতা)

অন্যের অধিকারে ব্যাঘাত না ঘটালে প্রতিটি শিশুরই তথ্য পাওয়া ও তা ভাগ করে নেওয়ার অধিকার এবং এক সঙ্গে মেলামেশা ও কোনও সংগঠনে যোগ দেওয়ার অধিকার আছে।

অনুচ্ছেদ ১৩ (ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা)

যা ভাবছে তা বলার অধিকার প্রতিটি শিশুর আছে এবং যে কোনও ধরনের তথ্য খোঁজা বা পাওয়ার অধিকার তার আছে, যতক্ষণ তা আইনের পরিধির মধ্যে রয়েছে।

অনুচ্ছেদ ১৬ (গোপনীয়তার অধিকার)

প্রত্যেক শিশুর গোপনীয়তার অধিকার আছে। তার জীবন, পরিবার বা বাড়ির ওপর আঘাত এলে আইনের উচিত তাকে রক্ষা করা।

অনুচ্ছেদ ১৭ (গণমাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়ার সুযোগ)

গণমাধ্যম থেকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে প্রতিটি শিশুর। তারা বুঝতে পারে এমন তথ্য টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদপত্রের দেওয়া উচিত এবং তাদের ক্ষতি হতে পারে এমন কিছু সরবরাহ করা উচিত নয়।

2.98734177215
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top