হোম / শিক্ষা / ডিজিটাল শিক্ষা / ল্যাপটপ ও ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

ল্যাপটপ ও ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়

ল্যাপটপ বেশিদিন ভালো রাখতে চাইলে সবসময় ল্যাপটপের খেয়াল রাখা উচিত। কি ভাবে ভালো রাখবেন তা জানানো হয়েছে এখানে।

ল্যাপটপ ভালো রাখার উপায়

ধীরে ধীরে ল্যাপটপ খুলুন এবং বন্ধ করুন

ল্যাপটপ বেশিদিন ভালো রাখতে চাইলে সবসময় ল্যাপটপ টি ধীরে ধীরে খুলুন এবং বন্ধ করুন। কখনই ডিসপ্লে অংশটি ধরে ল্যাপটপ তোলার চেষ্টা করবেন না। কারণ এটা কম্পিউটার এর সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। সব সময় ল্যাপটপ তোলার সময় এর মাঝখানের অংশ ধরে তুলবেন।

চালু ল্যাপটপ নড়াচড়া করতে হবে খুব সাবধানে

কাজ করা অবস্থায় ল্যাপটপ খুব সাবধানে নড়াচড়া করাতে হবে। কারণ চলন্ত অবস্থায় ল্যাপটপ এ কিছু যন্ত্রপাতি চলতে থাকে। খুব বেশি নড়া চড়া করালে ওগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমন কি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হারিয়ে যেতে পারে।

বৈদ্যুতিক সংযোগ খোলা ও বন্ধ করা

  • ল্যাপটপ চালু অবস্থায় বৈদ্যুতিক বোর্ডের পাওয়ার/কারেন্টের সুইচ অফ-অন করা যাবে না। ল্যাপটপ বন্ধ থাকা অবস্থায় পাওয়ার/কারেন্টের সুইচ অফ-অন করতে হবে।
  • বৈদ্যুতিক বোর্ডের সুইচ অন থাকা অবস্থায় ল্যাপটপের প্লাগ ঢোকাবেন না এবং হঠাৎ করে ল্যাপটপ-এর বৈদ্যুতিক সংযোগ (পাওয়ার কানেকশন) অর্থাৎ অ্যাডাপ্টারের তারটি খুলবেন না। বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তারপর ল্যাপটপ-এর সংযোগ(পাওয়ার কানেকশন) খোলা যাবে।
  • পাওয়ার সকেট থেকে কোনদিন কর্ড টান দিয়ে খোলা বা লাগানোর চেষ্টা করবেন না। এতে সকেট ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

চার্জার আন প্লাগ করুন ধীরে ধীরে

অনেক সময় প্রচণ্ড ব্যস্ততার সময় আমরা তাড়াহুড়া করে চার্জার আন প্লাগ করি। এর ফলে কিন্তু প্লাগ এর ক্ষতি হতে পারে এবং ল্যাপটপ-এর চার্জিং সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিদ্যুৎ সংযোগে সতর্কতা অবলম্বন করুন

কর্ড পারলে ট্যাপ দিয়ে আটকে রাখুন অথবা এমন কর্ড ব্যবহার করুন যাতে ল্যাপটপের কাজ শেষ হয়ে গেলে খুব সহজেই তা খুলে রাখা যায়। সবসময় চেয়ার থেকে কর্ড কিছুটা দূরে রাখুন যাতে আপনি চেয়ার নিয়ে নাড়াচাড়া করলেও আপনার পা অথবা চেয়ার কর্ডে না লাগে।

সঠিক ভাবে কেবল বা তার ভাজ করতে হবে

আমরা মনে করি কেবল যেহেতু শুধু মাত্র তার ও রাবার দিয়ে তৈরি, সেহেতু এর কোন ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। এটা সত্য যে তার কে ভাজ করা যায়, গোল করে রাখা যায় অথবা যে কোন কিছুর সাথে পেঁচানো যায়। কিন্তু যেহেতু ল্যাপটপ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজে বহন করার জন্য তাই এর তার গুলো হয় খুব সরু এবং চিকন। এজন্য এই কেবল গুলোকে খুব শক্ত করে বাধবেন না বা পেঁচাবেন না। চার্জে দেয়া অবস্থায় জোরে টান দিবেন না। এতে প্লাগ দুর্বল হয়ে যায় এবং চার্জ হতে সমস্যা করে।

তার যেন পেঁচিয়ে না যায়

ল্যাপটপের বৈদ্যুতিক সংযোগ তারগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে রাখা উচিত নয়। তারগুলো চেয়ারে চাপা লেগে ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই, এর পাশাপাশি ছড়িয়ে থাকা তারগুলোতে আটকে ব্যবহারকারী নিজে অথবা অপর কেউ দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

দ্রুত তাপমাত্রা পরিবর্তন নয়

হঠাৎ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বাইরের উষ্ণ তাপমাত্রায় স্থানান্তর বা উষ্ণ স্থান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত তাপমাত্রার স্থানে স্থানান্তর করা উচিত নয়। দ্রুত তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে চলমান ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক ও প্রসেসর মানিয়ে নিতে পারে না। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে ল্যাপটপ এবং এর অন্যান্য যন্ত্রাংশের।

ল্যাপটপকে ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুন

  • আপনার ল্যাপটপ যতই গরম হবে ল্যাপটপের ততই সমস্যা হবে। এজন্য চেষ্টা করবেন যতটুকু সম্ভব ল্যাপটপ ঠাণ্ডা রাখতে। আপনার যদি অভ্যাস থাকে বিছানা, বালিশ কিংবা কুশন টেবিল হিসেবে ব্যবহার করে ল্যাপটপ চালানোর তাহলে বিপদ। কারণ এর ফলে ল্যাপটপটির বাতাস চলার পথ বন্ধ হয়ে এটি ক্রমশই গরম হয়ে উঠবে। ফলে ল্যাপটপ এর ব্যাটারিও গরম হয়ে যেতে পারে।
  • ল্যাপটপ এমন কোন জায়গায় রাখবেন না যেখানে তাপমাত্রা খুব ওঠা নামা করে। শীতকালে এক রুম থেকে অন্য রুমে নিলে সাথে সাথেই ল্যাপটপ অন করবেন না। আগে ল্যাপটপকে ঘরের তাপমাত্রার সাথে মানিয়ে নিতে সময় দিন। তারপর কিছুক্ষণ পর অন করুন। সূর্যের আলোতেও ল্যাপটপ অন করবেন না।
  • ল্যাপটপ সব সময়ই এমন জায়গায় ব্যবহার করা উচিত, যেখানে বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। তবে এর মানে এই নয় যে, সব সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্থান থেকে এটি ব্যবহার করতে হবে।
  • সহজে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে ল্যাপটপ রেখে কাজ করবেন। এবং অবশ্যই ফ্যানের নিচে বা এসি রুমে ল্যাপটপ ব্যবহার করুন। রান্নাঘরে বা এর আশেপাশে কোথাও ল্যাপটপ নিবেন না।
  • সরাসরি সূর্যের আলোতে ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। কারন এতে আপনার ল্যাপটপ খুব দ্রুত গরম হয়ে যে কোন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। মনে রাখবেন, ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ যতটা সম্ভব শীতল স্থানে রেখে ব্যবহার করতে পারলেই ভালো। তাই ঘরের যে স্থানে কড়া রোদ পড়ে, সেইসব স্থানে ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ ব্যবহার করবেন না।

ব্যবহার করতে পারেন কুলিং প্যাড

ল্যাপটপে অনেক ছোট পরিসরে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় মাদার বোর্ড, প্রসেসর, র‌্যাম, হার্ডডিস্ক এবং অন্যান্য সবকিছুই থাকে। সে কারণে কাজ করতে করতে ল্যাপটপ কিছুটা গরম হবে এটাই স্বাভাবিক। এটির সমাধান হচ্ছে কুলিং ফ্যান। ল্যাপটপ ঠান্ডা রাখতে ব্যবহার করতে পারেন কুলিং প্যাড যা দুই বা ততোধিক ইউএসবি পাওয়ার ও ফ্যানের সাহায্যে ল্যাপটপ থেকে তাপ কমাতে সাহায্য করে। কুলিং ফ্যানের ওপর ল্যাপটপ রেখে ব্যবহার করলে ল্যাপটপ গরমও কম হবে এবং ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফও বাড়বে।

হার্ড ড্রাইভকে রিফরম্যাট করুন

আপনার ল্যাপটপের হার্ড ড্রাইভকে রিফরম্যাট করুন করে পুনরায় অপারেটিং সিস্টেমে ইনস্টল করুন। যদিও এটি সময় সাপেক্ষ কাজ তারপর ও ভালো ফল পাবেন। প্রয়োজনীয় ডাটা ও ফাইলের ব্যাকআপ নিতে ভুলবেন না। এই কাজটি বছরে একবার করলেই আপনি অনেক সুবিধা পাবেন।

প্রসেসরের যত্ন নিন

  • প্রসেসরের উপর চাপ কমাতে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম বন্ধ রাখুন।
  • কম দরকারি উইন্ডো গুলো মিনিমাইজ করে রাখুন।
  • হার্ডডিস্ক ও সিপিইউ এর মেইনটেন্স এর সময় কোন প্রকার কাজ করা উচিত নয়।
  • মাসে দুই তিন বার হাডর্ডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট করুন।

স্ক্রিনের যত্ন: ল্যাপটপ এর স্ক্রিন পরিষ্কারে সাবধানী হন

ল্যাপটপ পরিষ্কার করতে পানি বা কাপড় ব্যবহার করা যায় না। মাইক্রো-ফাইবার বা ল্যাপটপ ক্লিনার ব্যবহার করুন। স্ক্রিন পরিষ্কারের সময় বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না, কারণ ল্যাপটপ এর স্ক্রিন খুব নরম হয়।

  • সরাসরি সূর্যের আলোয় ল্যাপটপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • নিয়মিত স্ক্রিন পরিস্কার রাখুন। কাজ না করলে ঢেকে রাখুন।
  • কির্বোড ও ল্যাপটপের ডিসপ্লে ধুলোর থেকে রক্ষার জন্য স্ক্রিন ও কির্বোড প্রটেক্টর ব্যবহার করুন।

ডিসপ্লে পর্দা-এর প্রতি যত্নশীল হন

কাজ শেষে ল্যাপটপ বন্ধ করার পর মনিটরটির বা ডিসপ্লে পর্দাটি ভাঁজ করে রাখা উচিত। আবার অনেক সময় সরাসরি পর্দা ভাঁজ করে স্ট্যান্ডবাই মোডে রাখা হয় ল্যাপটপ। এ সময় যেন কি-বোর্ডের ওপর কোনো পেন্সিল, হেডফোন বা অন্য কিছু না থাকে। এসব রেখে বন্ধ করে দেওয়া হলে ডিসপ্লের ক্ষতি হতে পারে।

পিঁপড়া থেকে সাবধান থাকুন

প্রায়ই ল্যাপটপের মধ্যে পিঁপড়া ঢুকতে দেখা যায়। পিঁপড়া ঢুকে হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, মাদারবোর্ড ইত্যাদি নষ্ট করে ফেলে। তাই ল্যাপটপের পাশে টেবিলের উপর এবং ল্যাপটপের ব্যাগের মধ্যে দুইটি করে ন্যাপথলিন রাখতে হবে। ন্যাপথলিন শেষ হয়ে গেলে আবারও রাখতে হবে। ন্যাপথলিন রাখলে পিঁপড়া ঢুকতে পারবে না, আবার ঢুকে থাকলেও বের হয়ে যাবে।

যে কোনো চুম্বকীয় পদার্থ থেকে ল্যাপটপ কে দূরে রাখুন

যে কোনো ধরনের হার্ড ড্রাইভে চুম্বক ব্যবহার করা হয় ডাটা সংরক্ষণ করার জন্য। এজন্য ল্যাপটপ যদি কোন শক্তিশালী চুম্বকের কাছে রাখা হয় তবে হার্ড ড্রাইভের কর্ম ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ডাটা হারিয়ে যেতে পারে। সুতরাং শক্তিশালী চুম্বক থেকে আপনার প্রিয় ল্যাপটপ টিকে দূরে রাখুন।

ল্যাপটপ কভার ব্যবহার করুন

আপনার ল্যাপটপ টি যদি ব্যাগের অন্যান্য জিনিসের সাথে রাখেন, তবে খুব সহজেই ল্যাপটপ এর ভিতরের ছোট ছোট মেশিন গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সবসময় কভার ব্যবহার করুন। কভার হিসেবে নরম ব্যাগ ব্যাবহার করুন।

ল্যাপটপ সবসময় ল্যাপটপ ব্যাগে রাখবেন। এটি অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ স্ক্র্যাচ, ধুলো-ময়লা থেকে নিরাপদ রাখবে। অনেকে আজকাল ছোট ছোট ব্যাগে ল্যাপটপ বহন করে থাকে। এতে ব্যাগ ছিড়ে ল্যাপটপ পড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে।

নিয়মিত ল্যাপটপ শাট ডাউন করুন

দিনের যে সময়টা কাজ করেন না সে সময় ল্যাপটপ টি শাট ডাউন/বন্ধ করে রাখুন। সারাক্ষণ চালিয়ে রাখলে হার্ড ড্রাইভ এবং কুলিং ফ্যান ড্যামেজ হতে পারে।

ল্যাপটপ এর কাছে পানি বা খাবার রাখবেন না ও খাবেন না

  • আমরা জানি যে কোন ইলেকট্রনিকস জিনিসের জন্যই পানি ক্ষতিকর। কিন্তু আমরা অনেক সময় ল্যাপটপ এ কাজ করার সময় গরম চা বা কফি খাই। গরম পানিয় ল্যাপটপ এর সংস্পর্শে না এসেও ল্যাপটপ এর ক্ষতি করে। তাই গরম পানিয় ল্যাপটপ থেকে যতটা পারেন দূরে রাখুন। পানি এবং আদ্রর্তা থেকে ল্যাপটপকে শত হাত দূরে রাখুন। ল্যাপটপ টেবিলে পানির গ্লাস বা বোতল রাখবেন না। কোলে নিয়ে কাজ করার সময় খাওয়া দাওয়া না করাই ভালো। হাত ফসকে পড়ে গেলেই সব শেষ।
  • কখনও ল্যাপটপের উপর খাবার রেখে খাবেন না। খাবারের ক্ষুদ্র কণা ল্যাপটপের কি-বোর্ডে আটকে থাকলে সেখান থেকে ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এগুলো কোনোভাবে মূল সার্কিটের সংস্পর্শে এসে শর্টসার্কিট হলে ল্যাপটপের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সহজ সমাধান হলো, সব ধরনের তরল পদার্থই দূরে সরিয়ে রাখা।
  • চা, কফি, পানিসহ সব ধরনের পানীয় ল্যাপটপ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন। ল্যাপটপে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ থাকে। তরল পদার্থের সংস্পর্শে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ল্যাপটপের ওপর ভারী কিছু রাখবেন না

  • ল্যাপটপ এর কি বোর্ড এর উপরে কিছু রাখবেন না অনেক সময় একটু অসাবধানতায় চা, পানি বা অন্যান্য কিছু পড়ে গিয়ে কি বোর্ড নষ্ট হতে পারে।
  • অনেকেই আছেন ল্যাপটপ এর উপরে বই খাতা বা অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে দেন এতে করে ল্যাপটপ এর ডিসপ্লেতে চাপ পড়ে ডিসপ্লে নষ্ট হতে পারে।
  • যখন আপনি ল্যাপটপ বন্ধ করবেন তখন লক্ষ্য রাখবেন যেন কোন ক্ষুদ্র জিনিসও ল্যাপটপের উপর না থাকে। যেমন কলম, পেন্সিল ইত্যাদি। দুই হাত দিয়ে ধরে ঢাকনা দিয়ে ঢাকুন। এক হাত দিয়ে ধরলে ল্যাপটপের উপর চাপ পড়ে।
  • ভাঁজ করে রাখা ল্যাপটপের উপর, কি-বোর্ডের উপর ভারী কিছু রাখা উচিত নয়। ল্যাপটপ ভারী কিছু রাখার উপযোগী করে তৈরি করা হয় না। তাই ভারী বই বা অন্য কিছু রাখা হলে ডিসপ্লে, কি-বোর্ড বা অন্যান্য যন্ত্রাংশের ক্ষতি হতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল করবেন না

আপনার ল্যাপটপে হয়তো এমন অনেক সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে যেগুলো আপনি কখনও ব্যবহারই করেন নি। এমন সফটওয়্যারগুলো আনইনস্টল করে দিন এবং অপ্রয়োজনীয় কোনও সফটওয়্যার ইনস্টল করবেন না। এতে করে আপনার ল্যাপটপের অপারেটিং সিস্টেমের ওপর চাপ কম পড়বে এবং গতি বাড়বে। প্রয়োজনে কোনও ক্লিনার চালিয়ে রান করে নিন।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন

  • বর্তমান সময়ের ভাইরাসগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যেন সেগুলো ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে। এই ভাইরাসগুলো কম্পিউটারের সফটওয়্যারগুলো অকার্যকর করে দেওয়া, তথ্য মুছে ফেলাসহ ল্যাপটপটিই ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।
  • আপনি যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই লাইসেন্সড অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করুন। তাহলে আপনার ল্যাপটপ ভাইরাসের হাত থেকে মুক্ত থাকবে। ইন্টারনেটে যেসব ফ্রি অ্যান্টি-ভাইরাস পাওয়া যায় সেগুলো ভাইরাস রুখতে ক্ষেত্রে আংশিক কাজ করে, পুরোপুরি নয়।
  • সব সময় ল্যাপটপে এ্যান্টিভাইরাস রাখবেন। মনে রাখবেন, ভাইরাস থেকে আপনার ল্যাপটপ কখনই নিরাপদ না আর তাই ভালো মানের যেকোনো এ্যান্টিভাইরাস যেমন ক্যাস্পারাস্কি, নরটন, আভাইরা ইত্যাদি এ্যান্টিভাইরাস ল্যাপটপে ইনস্টল করে নিন।

স্ক্রিনের রেজোলিউশন সঠিক রাখুন

আপনি যখন ল্যাপটপ ব্যাটারিতে চালাবেন তখন স্ক্রিনের রেজোলিউশন যথাসম্ভব কমিয়ে রাখুন। এতেও আপনার ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ ব্যাটারিতে চলার সময় কম রেজোলিউশনে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে ব্যাকআপ টাইমও বেশি পাবেন।

বছরে একবার সার্ভিসিং করুন

  • নির্ভরযোগ্য কম্পিউটার সার্ভিসিং সেন্টার থেকে বছরে অন্তত একবার ল্যাপটপ সার্ভিসিং করানো উচিত। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের ফলে জমে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কারের জন্যই প্রয়োজন এই সার্ভিসিংয়ের। তবে কখনোই নিজে নিজে এই কাজ করা উচিত হবে না।
  • ল্যাপটপ বছরে একবার পরিষ্কার করুন। এই কাজ আপনি নিজে পারলে ভালো, তবে না পারলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে করিয়ে নিন। কারণ ময়লা পড়ার কারণে পার্টস গুলো নষ্ট হয়ে ল্যাপটপ আর কাজ করেনা।

স্পেশালিষ্ট এর সাহায্য নিন

সফটওয়্যার কেন্দ্রিক জটিল সমস্যা হলে নিজে নিজে চেষ্টা না করে বরং স্পেশালিষ্ট দেখান। তা না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ ডাটা হারিয়েও যেতে পারে।

পরিষ্কার হাতে ল্যাপটপ ব্যবহার করুন

ল্যাপটপ ব্যবহার করার আগে হাত পরিস্কার করে ধুয়ে আসতে হবে। ময়লা হাতে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেক সময় টাচপ্যাড ঠিকভাবে কাজ না-ও করতে পারে। পরিষ্কার হাতে ব্যবহার করলে ধুলো-ময়লা জমা হওয়ার আশংকা কম। দ্রুত ময়লা হয়ে গেলে কিছুদিন পর পরই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশ সময় ব্যয় করতে হবে।

শুধু ডিসপ্লে ধরে সরাবেন না

  • স্থানান্তরের সময় ল্যাপটপের মূল অংশ ধরে সরানো উচিত, কখনোই শুধু ডিসপ্লে ধরে সরানো উচিত নয়। সাধারণত ডিসপ্লের ওজনের থেকে মূল অংশ বেশি ভারী হয়ে থাকে। তাই পর্দা ধরে সরানোর চেষ্টা করা হলে এই দুই অংশের সংযোগস্থানটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা ভেঙে যেতে পারে।
  • কখনও ল্যাপটপ সরানোর প্রয়োজন হলে ল্যাপটপের মনিটর ধরে কোনদিন তা উঠাবেন না। এতে মনিটরের ডিসপ্লে নষ্ট হতে পারে।

সিডি-ডিভিডি ব্যবহার

  • সিডি বা ডিভিডি-রম ডিস্কগুলো ব্যবহারের পর নির্ধারিত স্থানে রেখে দিতে হবে। অসাবধানতাবশত কোথাও ঘষা লেগে বা পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
  • ল্যাপটপে যেসব সিডি ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই আলাদা ব্যাগে রাখুন আর যখন বের করবেন অত্যন্ত যত্ন সহকারে বের করুন। অনেক সময় সিডি থেকেও ল্যাপটপ নষ্ট হতে পারে। সিডি ব্যবহার করার সময় সিডির লেভেল চেক করে নিন।

ডিস্ক ড্রাইভার

ডেস্কটপ ডিস্ক ড্রাইভারগুলো থেকে ল্যাপটপের ডিস্ক ড্রাইভারগুলো আলাদা ধরনের হয়ে থাকে। তাই সিডি/ডিভিডি ডিস্কগুলো ব্যবহার করার সময় বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সঠিকভাবে ব্যবহার না করা বা উল্টোভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করলে ডিস্ক ড্রাইভারটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্টিকারগুলো পরীক্ষা করুন

ল্যাপটপ ডিস্ক ড্রাইভার ব্যবহারের আগে ডিস্কে লাগানো স্টিকারগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন।

গাড়িতে ফেলে আসবেন না

বদ্ধ গাড়ি একটি উচ্চ তাপমাত্রার জায়গা। স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে ল্যাপটপটি সেখানে ফেলে রাখা উচিত নয়। এ ছাড়া ল্যাপটপ বা ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনতাইকারীদের আকৃষ্ট করতে পারে।

ল্যাপটপের পোর্টের সঠিক ব্যবহার করুন

কোন ডিভাইস যেমন মডেম, পেনড্রাইভ ঢুকাতে হলে তার উপযোগী পোর্টে ঢুকান। তার জন্য পোর্টের প্রতীক আর ডিভাইসের প্রতীক মিলিয়ে তারপর ঢুকান। প্রত্যেক ল্যাপটপের আলাদা পোর্ট আলাদা প্রতীক সম্পন্ন।

ল্যাপটপ এর অন্যান্য গুরুত্বপূরণ বিষয়সমূহ

  • হালকা ভাবে নিবেন না, হার্ড ড্রাইভ যদি খুব ধীরে কাজ করে।
  • হালকা ভাবে নিবেন না, খুব সাধারণ কাজ যেমন টাইপিং ইত্যাদি কাজ করতে গিয়েও যদি ল্যাপটপ ফ্রিজ হয়ে যায় বা খুব ধীরে কাজ করে।
  • হালকা ভাবে নিবেন না, ল্যাপটপ যদি প্রায়ই আপনা আপনি রিস্টার্ট হয়ে যায়।
  • ল্যাপটপ সব সময় একটি সমান্তরাল ও পরিষ্কার জায়গার উপর রেখে কাজ করবেন।
  • ব্যাটারিতে ল্যাপটপ চালানোর সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন। এতে ব্যাটারির ওপরে চাপ অনেকটাই কম পড়বে।
  • ম্যালওয়ার-অ্যাডওয়ার জাতীয় ক্ষতিকারক সফটওয়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন এবং ভাল মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করুন। দরকার নেই এমন প্রোগ্রাম আনইনস্টল করুন।
  • ব্যাটারির কানেক্টর এর লাইন মাঝে মাঝেই পরিষ্কার করুন। ধুলাবালি মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।
  • দরকারি উইন্ডোগুলো ছাড়া অন্য উইন্ডোগুলো মিনিমাইজ বা বন্ধ রাখুন।
  • সব সময় হার্ডডিস্ক থেকে মুভি ও গান চালাবেন। কারন ল্যাপটপের সিডি/ডিভিডি রমের ক্ষমতা কম হয়ে থাকে।
  • দরকার ছাড়া ব্লু-টুথ ও ওয়াই-ফাই কানেকশন বন্ধ রাখবেন। যখন দরকার কেবল তখনই চালু করুন।
  • সপ্তাহে অন্তত একবার হার্ডডিস্ক ডিফ্রাগমেন্ট করুন।
  • ব্যাগে রাখার সময় ব্যাটারির অংশটা নিচের দিকে দিয়ে রাখুন সব সময়। ব্যাটারির অংশটা ল্যাপটপের সবচাইতে ভারী অংশ বিধায় এই ব্যবস্থা।
  • ব্যাটারি যদি কম ব্যবহার করা হয় বা একবারেই ব্যবহার না করা হলে এর আয়ু কমে যায়। এর থেকে বাঁচার জন্য সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ব্যাটারি দিয়ে ল্যাপটপ চালানোর চেষ্টা করুন।
  • ল্যাপটপ এর রিসাইকেলবিন পরিস্কার রাখুন। ল্যাপটপ স্ক্রিনে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস না রেখে সরাসরি ড্রাইভে রেখে দিন। এতে করে ল্যাপটপ এর গতি বৃদ্ধি পাবে।

ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায়

  • বর্তমানে ল্যাপটপ-এ যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাতে ল্যাপটপ ওভার চার্জ হয় না। কিন্তু, আপনি যদি সবসময় চার্জর কানেক্ট করে রাখেন তাহলে যেই মাইক্রোকন্ট্রোলারটি ব্যাটারি কে ওভার চার্জ হওয়া থেকে রক্ষা করে তা ধীরে ধীরে ডেমেজ হয়ে যাবে। এর ফলে ব্যাটারি গরম হয়ে যাবে এবং ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।
  • ব্যাটারি দিয়ে ল্যাপটপ চালানো না লাগলেও সপ্তাহে একবার ব্যাটারি থেকে চালাতে হবে, নতুবা ব্যাটারির আয়ু কমে যাবে।
  • কানাডার ক্যাডেক্স ইলেকট্রনিকসের প্রধান নির্বাহী ইসিডোর ব্যাচমানের পরামর্শ হচ্ছে, ল্যাপটপের লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারিতে পূর্ণ চার্জ হয়ে গেলে অবশ্যই চার্জার খুলে ফেলতে হবে। পারলে চার্জ পরিপূর্ণ হওয়ার আগেই তা খুলে ফেলা উচিত। ব্যাটারিতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ চার্জ করা উচিত এবং এরপর ৪০ শতাংশ খরচ করে তারপর আবার চার্জ দিলে ব্যাটারি সবচেয়ে ভালো থাকবে।
  • ব্যাচমান আরও জানান, ব্যাটারির চার্জ দেওয়া ও চার্জ খালি করার বিষয়টি নিয়মিত ঘটলেই কেবল ব্যাটারির আয়ু বাড়তে পারে। ব্যাটারিতে পূর্ণ চার্জ দিলে ব্যাটারি খালি হতে সময় লাগে আর অতিরিক্ত চার্জে ব্যাটারির কোষগুলো ধীরে ধীরে চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। অতিরিক্ত চার্জে ব্যাটারির কোষগুলো ফুলে ওঠে এবং ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়।
  • ল্যাপটপের ব্যাটারি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, ব্যাটারি আইকনের দিকে তাকিয়ে ৮০ শতাংশ চার্জ হলে চার্জার খুলে ফেলা উচিত, আবার চার্জ ৪০ শতাংশের নীচে চলে এলে চার্জার লাগানো যেতে পারে।
  • ব্যাটারি চার্জের সময় আসল চার্জার ব্যবহার করা উচিত।
  • বাহ্যিক তাপ ব্যাটারির শক্তিকে কমিয়ে দেয়। তাই সরাসরি সূর্যের আলোয় ল্যাপটপ ব্যবহার না করাই উচিত।
  • ল্যাপটপের ভেতরের তাপ যাতে সহজে বাইরে বের হয়ে আসে, এ জন্য বাতাস বেরোনোর রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • স্মার্টফোনের মতো ল্যাপটপের ডিসপ্লে অতিরিক্ত চার্জ ব্যয় করে। এতে ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমে। তাই ল্যাপটপের উজ্জ্বলতা যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখুন। এ ছাড়া কিবোর্ডের ব্যাকলাইট বন্ধ করে রাখুন।
  • ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হলে এর ভেতরের পাখা দ্রুত ঘুরতে থাকে- যা ব্যাটারি থেকে অতিরিক্ত চার্জ ব্যবহার করে। তাই অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে ল্যাপটপ কুলার ব্যবহার করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
  • ল্যাপটপের স্ক্রিন বা মনিটরের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রেখে আপনি এর বিদ্যুৎ খরচ কমাতে পারেন। ফলশ্রুতিতে ব্যাটারিতে চলার সময় স্ক্রিনের আলো কম থাকায় চার্জ কম খরচ হবে। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ৫০% এ রাখলে তা ব্যাটারি ব্যাকআপ নিশ্চিত বাড়িয়ে দেবে। আর ব্রাইটনেস ২৫% এ নামিয়ে আনলে তো কথাই নেই!
  • ল্যাপটপের ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, এবং গ্রাফিক্স কার্ড যখন আপনার দরকার হয় না তখন এগুলো বন্ধ করে রাখুন। বিভিন্ন ল্যাপটপে ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ বন্ধ করার আলাদা বাটন/শর্টকাট থাকে।
  • বর্তমানের কিছু রিসার্চের ফলাফল অনুযায়ী সম্পুর্ন ডিসচার্জ করে পুনরায় চার্জ করার এই প্রক্রিয়াটি ক্ষতিকর! ৪০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ এবং ডিসচার্জের প্রক্রিয়াটি সম্পুর্ন করা ভালো।
  • অতিরিক্ত সময় ডিভাইস চার্জে লাগিয়ে রাখবেন না। আপনার ডিভাইসের ব্যাটারিটি ১০০% চার্জ হয়ে গেলে এর পরে অতিরিক্ত চার্জ আপনার ব্যাটারির লাইফ টাইম কমিয়ে দিতে পারে।
  • ধরুন আপনি দীর্ঘ দিনের জন্য আপনার ল্যাপটপটি বাসায় রেখে কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন তবে অবশ্যই আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি অন্তত ১০০% চার্জ করে এমন কোন স্থানে রেখে যেতে হবে যেখানের চাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে।
  • লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চার্জ করার নিয়ম হচ্ছে, অল্প অল্প করে চার্জ দেয়া। ৫০% থাকতেই চার্জ দিতে হয়। ৫০% এর নিচে নেমে আসলে একটু চার্জ করে নিন। চার্জ সবসময় ৬০% এর আশেপাশে রাখা সবচেয়ে ভালো।
  • আমরা অনেকে ব্যাটারিকে ১০০% ফুল করে রাখতে ভালবাসি। কিন্তু এটা করা ঠিক না। এতে করে আপনার ব্যাটারির ক্ষতি হয় এবং ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে আপনারা চেষ্টা করতে পারেন ব্যাটারির চার্জ ৪০% থেকে ৮০% এ রাখার। আর পারত পক্ষে ব্যাটারির চার্জ ২০% এর নিচে নামাবেন না।
  • একটি ল্যাপটপ অনেক বেশি কার্যক্ষম থাকে যখন এটি অপেক্ষাকৃতভাবে ঠাণ্ডা থাকে, প্রচণ্ড গরম না হয়। ল্যাপটপ যত বেশি গরম, তত বেশী ইন্টারনাল ফ্যানগুলোর ঘূর্ণন, ততো বেশী ব্যাটারির চার্জ ব্যয়। ল্যাপটপ কুলার বা ল্যাপটপ স্ট্যান্ড ব্যাবহার করুন।
  • ল্যাপটপ বন্ধ করার পর ১০-১৫ মিনিট বাইরেই রাখুন, সাথে সাথে ব্যাগে না ঢুকিয়ে। এতে ব্যাটারি ও ল্যাপটপ ইন্টারনাল দ্রুত ঠাণ্ডা হতে পারে।

বি.দ্র: ব্যাটারি সংক্রান্ত মূল কথা নিম্নরূপ

  1. বর্তমানের কিছু রিসার্চের ফলাফল অনুযায়ী সম্পুর্ন ডিসচার্জ করে পুনরায় চার্জ করার এই প্রক্রিয়াটি ক্ষতিকর! অতএব ব্যাটারি কোন সময়ই খালি/সম্পুর্ন ডিসচার্জ করা যাবে না।
  2. অতিরিক্ত সময় ডিভাইস চার্জে লাগিয়ে রাখা যাবে না। ব্যাটারি ১০০% চার্জ হওয়ার সাথে সাথে চার্জার অবশ্যই খুলে ফেলতে হবে। অতিরিক্ত চার্জ আপনার ব্যাটারির লাইফ টাইম কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত চার্জে ব্যাটারি গরম হয়ে যায়, ব্যাটারির কোষগুলো ফুলে ওঠে এবং ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
  3. ব্যাটারির চার্জ ৪০% থেকে ৯০% রাখতে হবে। ব্যাটারির চার্জ কোনক্রমেই ৩০% এর নিচে নামানো যাবে না। অর্থাৎ ব্যাটারিতে সর্বোচ্চ ৯০% চার্জ করা উচিত এবং এরপর ৪০% খরচ করে তারপর আবার চার্জ দিলে ব্যাটারি সবচেয়ে ভালো থাকবে।

সূত্র ও লেখকঃ বিজ্ঞানী ড. কে. এম. খালেকুজ্জামান

3.04545454545
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top