ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

জানুয়ারি ১২ – জাতীয় যুব দিবস

১৯৮৪ সালে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে 'জাতীয় যুব দিবস পালন করা হবে।

স্বামী বিবেকানন্দ (১২ জানুয়ারি, ১৮৬৩ –৪ জুলাই, ১৯০২; পিতৃদত্ত নাম নরেন্দ্রনাথ দত্ত) ছিলেন এক জন হিন্দু সন্ন্যাসী এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর হিন্দু ধর্মগুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। পাশ্চাত্য জগতে ভারতের বেদান্ত ও যোগ দর্শনকে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে বিবেকানন্দ অন্যতম প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে একে অপরের ধর্ম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মের মর্যাদা অর্জনের ক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। বিবেকানন্দ ছিলেন ভারতে হিন্দু নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ব্রিটিশ ভারতে জাতীয়তাবাদী ধারণার অন্যতম প্রবক্তা। তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে শিকাগোতে বিশ্বধর্ম মহাসভায় দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণটির (যেটি শুরু হয়েছিল "আমার আমেরিকাবাসী ভাই ও বোনেরা" - এই সম্বোধনের মাধ্যমে) জন্য তিনি সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। এই ভাষণটির মাধ্যমেই পাশ্চাত্য জগতে প্রথম হিন্দুধর্ম প্রচারিত হয়।

বিবেকানন্দের জন্ম কলকাতার এক বাঙালি পরিবারে। ছেলেবেলা থেকেই আধ্যাত্মিক বিষয়গুলিতে তাঁর বিশেষ আগ্রহ দেখা গিয়েছিল। গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংসের কাছে তিনি শেখেন, সকল জীবই ঈশ্বরের অংশ; তাই মানুষের সেবার মাধ্যমেই ঈশ্বরের সেবা করা যায়। রামকৃষ্ণ পরমহংসের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যটন করেন এবং ব্রিটিশ ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করেন। পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং ১৮৯৩ সালে বিশ্বধর্ম মহাসভায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য শহরে তিনি শতাধিক সাধারণ ও ব্যক্তিগত বক্তৃতা ও ক্লাসের মাধ্যমে হিন্দু দর্শনের মূল ধারণাগুলি সম্পর্কে পাশ্চাত্যবাসীকে অবহিত করে তোলেন।

১৯৮৪ সালে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে 'জাতীয় যুব দিবস পালন করা হবে।

এ বিষয়ে ভারত সরকারের মুখপত্রে বলা হয়েছে:

  • ' স্বামীজির দর্শন এবং জীবন ও কর্মপদ্ধতি যা তিনি অনুসরণ করতেন তা ভারতীয় যুবদের জন্য অনুকরণীয়।'
  • এই দিন, সমগ্র ভারত জুড়ে যুব বয়সিরা তাদের আত্মিক মূল্যবোধের উম্মেষ ঘটানোর লক্ষ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে।
  • এই দিন ভারতের উত্তর প্রদেশের ভ্রাতৃত্ব মিশন দু’দিনব্যাপী বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, যাতে যুবক যুবতীরা অনেক ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়। এটি 'বাস্তি যুব মহোৎসব' নামে পরিচিত। এ ছাড়াও অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। ভারতের বাৎসরিক যুব সমাগমের অনুষ্ঠান জাতীয় যুব উৎসব এই দিনটির সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে সাস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ সব ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তে ও পশ্চিমবঙ্গে এ দিন নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির মাধ্যমে স্বামীজিকে স্মরণ করা হয়।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

3.03100775194
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top