ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

নদীপাড়ের ট্যানারি

সকল নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক একমত যে রাসায়নিক বা শিল্পদূষণের অর্ধেকের বেশি আসে চামড়া কারখানা থেকে।

কানপুরের সব চেয়ে বড় চামড়া কারখানা সুপার ট্যানারি লিমিটেডের পরিচালক ইমরান সিদ্দিকি বলেন, নদীদূষণের জন্য শুধু ট্যানারি কারখানাকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রটি যে লাভজনক, তা কেউ দেখছে না। তিনি বলেন, এখানে একটি সত্য আছে, তা হল নদীদূষণের মোট বর্জ্যের মাত্র ২ শতাংশের জন্য দায়ী ট্যানারিগুলো।

কিন্তু রসায়নবিদ অজয় কানুজিয়া বলেন, ট্যানারিগুলোতে প্রতি দিন কী পরিমাণ বিষাক্ত তরল সৃষ্টি হয় এটা কেউ জানে না। তবে সবার ধারণা, প্রতি দিন ৯০ লাখ লিটার। কানপুরের ৪০০-এর অধিক ট্যানারি থেকে মেশা ক্রোমিয়াম বিষ-এর গাঢ়ত্ব বিপদসীমার ৭০ গুন। সকল নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক একমত যে রাসায়নিক বা শিল্পদূষণের অর্ধেকের বেশি আসে চামড়া কারখানা থেকে। গঙ্গায় মেশা বর্জ্য তরলের ১২ শতাংশ বিবিধ শিল্পের উপজাত (industrial effluents), যেমন কাগজশিল্প, চর্ম শিল্প, বস্ত্রশিল্প, কসাইখানা, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ, পাতনশিল্প ইত্যাদি।

শ্রীরাম ইনস্টিটিউট ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ২,৫২৫ কিমি প্রবাহ পথে ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ জনবসতি। প্রতি বছর কোটি কোটি কোটি লিটার নর্দমার জল সরাসরি গঙ্গায় এসে পড়ে। এর ফলে জলে দূষণের পরিমাণ মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। জলে জীবাণু, বিশেষ করেই-কোলাইয়ের মতো মারাত্মক

গঙ্গোত্রী

পানের অযোগ্য

দেব প্রয়াগ

চাষে ব্যবহারের অনুপযুক্ত (fecal colliform>5000mpn/dl)

কানপুর

জলে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণের আতঙ্কজনক বাড়বাড়ন্ত

হৃষীকেশ

চাষে ব্যবহারের অনুপযুক্ত

হরিদ্বার

চাষে ব্যবহারের অনুপযুক্ত

এলাহাবাদ

-কোলাইয়ের ভাণ্ডার

ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং গঙ্গার জল বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। গঙ্গা এখন কার্যত কলেরা, কৃমি, টাইফয়েড, ভাইরাল ফিভার, কানে সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রোয়েনটারাইটিস এবং হেপাটাইটিস-এ,বি,সি,ই, ডিসেন্ট্রি প্রভৃতি রোগের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে।

গঙ্গোত্রী থেকেই দূষিত হতে শুরু করেছে গঙ্গা। হিন্দুদের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্র গঙ্গার উৎসস্থল গোমুখ থেকে মাত্র ২০ কিমি দূরে।

গঙ্গার জলে সংক্রমণের সূচক হল ব্যাকটেরিয়ার সম্ভাব্য সর্বাধিক সংখ্যা (mpn=maximum probable number) । গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এই সংখ্যাটি বেশ ভয়াবহ। গঙ্গোত্রীতে এর পরিমাণ ২৬ প্রতি ১০০ মিলিলিটার, দেবপ্রয়াগে ২২,০০০, হরিদ্বারে ১৪,০০০, কানপুরে ৩,৫০০,০০, এলাহাবাদে ৭০,০০০, বারাণসীতে ৮৮,০০০, পটনায় ৪৬,০০০ এবং মালদায় ৯০০। সাধারণভাবে mpn পরিমাণ প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ১০ ছাড়ালেই তা বিপজ্জনক।

ব্যাকটেরিয়ার এরকম উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, গঙ্গার জল পান তো দূরের কথা তা চাষবাস এবং স্নানেরও উপযুক্ত নয়।

সূত্র: bigyan.org.in

2.76923076923
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top