ভাগ করে নিন

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি

৬ বি দ্বারকানাথ টেগোর লেনের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি, অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে ঠাকুর পরিবারের বাসস্থান ছিল। উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালির সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে এই বাড়ির বাসিন্দারা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিলেন। তার মধ্যে সবার আগে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বর্তমানে এই বাড়িটি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। ১৯৬২ সালের ৮ মে, রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবর্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত মহর্ষি ভবনে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাড়িটি এবং ‘বিচিত্রা’ বর্তমানে একটি মিউজিয়াম। নাম, রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়াম।

যে জমির উপর আজকের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি তথা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে সেই জমিটি রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদাদা দ্বারকানাথের ঠাকুরদাদা নীলমণি ঠাকুর গৃহদেবতা লক্ষ্মীজনার্দন জিউয়ের নামে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসাবে লাভ করেছিলেন বিশিষ্ট ধনী বৈষ্ণবচরণ শেঠের কাছ থেকে। এর পর অবস্থা আর একটু স্বচ্ছল হলে নীলমণি সেই জমিতে বিরাট এক ইমারত তোলেন।

রবীন্দ্রনাথের আঁতুড় ঘর থেকে শুরু করে যে ঘরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন সেটিও আছে সাজানো গোছানো। মোট ৪টি ভবনের ১৮টি গ্যালারি জুড়ে রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়াম। মূল বাড়িটি আয়তাকার। দোতলায় উঠেই হাতের বাম দিকে যে ঘরটি পড়ে সেটি ছিল রবীন্দ্রনাথের খাবার ঘর, তার সাথেই লাগোয়া মৃণালিনীর হেঁসেল। পাশে সংগীতের ঘর, এর পর মহাপ্রয়াণের ঘর। ১৯৪১-এর ৩০ জুলাই এ ঘরেই কবিগুরু তাঁর শেষ কবিতা, ‘তোমার সৃষ্টির পথ’-এর ডিক্টেশন দিয়েছিলেন। এর মাত্র সাত দিন পর তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

দু’টি আর্ট গ্যালারিও রয়েছে এই ভবনে, একটি প্রাচ্য আর একটি পাশ্চাত্যের ধারার। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যামিনী রায়, নন্দলাল বসু-সহ আরও অনেক নামীদামি শিল্পীর আঁকা ছবি আছে এখানে। নোবেল পুরস্কারের গ্যালারিটিও চমকপ্রদ। গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কারের টুকরা-টাকরা গল্প ছাড়াও নাইটহুড বর্জনের কারণ বর্ণনা করে ইংরেজ সরকারকে লেখা পত্রের কপিটিও আছে এখানে।

জাপান ও চিন সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গ্যালারি দু’টিও মনে রাখার মতো। মূল ভবনের পাশের ভবনটির নাম বিচিত্রা। দোতলায় ভিক্টোরিয়া হল। এখানে আছে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কিছু ছবি। রবীন্দ্রনাথ যে বোটে করে ঘুরে বেড়াতেন পদ্মায় সেই বোটের একটি চমৎকার প্রতিকৃতিও আছে এখানে, বাংলাদেশ সরকারের উপহার হিসাবে।

নীচে আয়তাকার উঠোনের এক দিকে স্থায়ী মঞ্চ আর এক দিকে পুজোর ঘর, পরবর্তীতে এখানেই হত ব্রাহ্ম সমাজের সভা। মূল বাড়ির বাইরের দিকের একটি ভবনে আছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত একটি গাড়ি। প্রতি বছর এখানে ঘটা করে পালিত হয় বর্ষবরণ, পঁচিশে বৈশাখ আর বাইশে শ্রাবণ। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি সপ্তাহের ৫ দিন ১০টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত (সোম-শুক্র) দর্শকদের জন্যে উন্মুক্ত। শনিবার খোলা থাকে ১টা পর্যন্ত, রবিবার বন্ধ।

3.11111111111
ন্যাভিগেশন
Back to top