ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

লাভপুর-ফুল্লরা

একান্ন সতীপীঠের অন্যতম হল ফুল্লরা। লাভপুরের পড়শি ফুল্লরা। বোলপুর থেকে নানুর- কীর্ণাহার হয়ে বাসে লাভপুরে নেমে ফুল্লরায় যাওয়া যায়। আবার বোলপুর থেকে রেলপথে এগিয়ে প্রান্তিক-কোপাই পার হয়ে আমোদপুর স্টেশনে নেমে আমোদপুর-কাটোয়া ছোট লাইনের ট্রেনে চড়ে লাভপুরে নেমেও এখানে আসা যায়। হাওড়া থেকে সরাসরি ট্রেনেই পৌঁছে যাওয়া যায় আমোদপুর। লাভপুর স্টেশন যেন শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি। লাল টুকটুকে ছোট্ট স্টেশন। প্রয়োজন না থাকলেও এ রকম একটি স্টেশন সব সময় হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে দু’ দণ্ড জিরিয়ে নেওয়ার জন্য। স্টেশন থেকে সওয়া ১ কিমি উত্তর-পূর্বে ফুল্লরা পীঠ। দেবীর অপর নাম অট্টহাস। এই পীঠ জনবসতি থেকে দূরে এক ছোট্ট টিলার উপর অবস্থিত। লাল কাঁকুরে মাটির টিলা। নীচে প্রবাহিত উত্তর অভিমুখী কোপাই নদী। পাশেই মহাশ্মশান। পীঠের প্রবেশতোরণ অসাধারণ। গাছপালা পরিবেষ্টিত পীঠের পরিবেশ ছায়াময় এবং বেশ সাজানো গোছানো। কথিত আছে, এখানে সতীর নীচের ঠোঁট পড়েছিল। দেবী এখানে ফুল্লরা, আর ভৈরবের নাম বিশ্বেশ। বিশ্বেশ পীঠ চত্বরেই আলাদা একটি ছোট মন্দিরে অবস্থান করছেন। মূল মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই। আছে একটি কচ্ছপাকৃতি শিলাখণ্ড --- জবা, বেলপাতা, রক্তবস্ত্র আর সিঁদুরে চর্চিত। ভালো করে দেখলে মনে হয়, পাথরের সামনের ভাগটা ঠোঁটের মতো। মন্দিরের সামনে দু’টো শিবমন্দির, মাঝ দিয়ে সিঁড়ি নেমে গেছে বিরাট এক দিঘিতে। নাম দেবীদহ বা দলদলি। প্রবাদ আছে, দিঘির জল কোনও দিন শুকোয় না।

ফুল্লরা দেখে চলে এসো কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভিটেতে। যে ঘরে তারাশঙ্কর জন্মেছিলেন সেটি সুন্দর ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম। কাছেই ‘ধাত্রীদেবতা’ নামে বসতবাড়িতে সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছিল লাভপুর পঞ্চায়েত সমিতি। কিন্তু দেখে মনে হয় এর দেখভাল ঠিকমতো হয় না।

বোলপুরে থেকে ঘুরে আসা যায় লাভপুর। তবে তোমরা রাত কাটাতে চাইলে থাকতে পারো লাভপুর অতিথি নিবাসে। এ ছাড়াও আরও গোটাদুয়েক বেসরকারি লজ আছে।

তথ্যসূত্র : পায়ে পায়ে বীরভূম, রত্না ভট্টাচার্য ও শক্তিপদ ভট্টাচার্য।

3.11428571429
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top