ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

কোচবিহারের রাসমেলা

কোচবিহার রাসমেলা এই বাংলার শতাব্দী প্রাচীন মেলাগুলির অন্যতম এবং জনপ্রিয়। এই মেলা উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর পূর্ব ভারতের সব থেকে বড় মেলা। এই মেলার জন্য কোচবিহারবাসী অন্তর থেকে গর্ব অনুভব করেন, অপেক্ষা করেন বছরভর। এটি কোচবিহারের প্রধান উৎসব।

কোচবিহার রাসমেলা এই বাংলার শতাব্দী প্রাচীন মেলাগুলির অন্যতম এবং জনপ্রিয়। এই মেলা উত্তরবঙ্গ এবং উত্তর পূর্ব ভারতের সব থেকে বড় মেলা। এই মেলার জন্য কোচবিহারবাসী অন্তর থেকে গর্ব অনুভব করেন, অপেক্ষা করেন বছরভর। এটি কোচবিহারের প্রধান উৎসব।

কারও মতে ১৮১২ সালে অগ্রহায়ণ মাসের কার্তিক পূর্ণিমায় রাসযাত্রার দিন সন্ধ্যাবেলা রাজার নতুন গৃহে প্রবেশ উপলক্ষে রাসযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। সেই থেকে রাসমেলার প্রবর্তন। আবার কারও মতে ১৮৯০ সালে বর্তমান মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠাকালে এ মেলার সূত্রপাত। তবে সূচনা যখনই হোক না কেন, শুরু থেকেই এই মেলা কোচ রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অংশগ্রহণে লালিত পালিত ও পল্লবিত হয়েছে। আজও লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয় এই মেলাকে কেন্দ্র করে।

কার্তিক/অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমায় মন্দির চত্বরে রাসচক্র ঘুরিয়ে বর্তমানে মেলার উদ্বোধন করেন জেলাশাসক, কখনও বা কোনও মন্ত্রী। ‘রাসচক্র’ রাসমেলার মতো হিন্দু ধর্মীয় আচারে বিরল অন্তর্ভুক্তি। বৌদ্ধ ধর্মচক্রের আদলে বাঁশের তৈরি প্রায় ৩০-৪০ ফুট উঁচু এবং ৮-১০ ফুট ব্যাস বিশিষ্ট চোঙাকৃতি কাঠামোর ওপর কাগজের সূক্ষ্ণ কারুকাজ ও দেবদেবীর মূর্তি ফুটিয়ে তোলেন এক মুসলিম শিল্পী। কী ভাবে ও কেন এর সৃষ্টি তা জানা যায় না। তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ধর্ম সমন্বয়ের প্রতীক হিসেবেই এর প্রকাশ।

এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ এর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্তমানে দু’টি আসর বসে মেলাকে কেন্দ্র করে। দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড পরিচালিত ঠাকুর বাড়ির প্রাঙ্গণে হয় মূলত ধর্মমূলক অনুষ্ঠান। ধর্মমূলক পাঠের সঙ্গে হয় কীর্তন, বাউল, যাত্রাপালা। অন্য দিকে পুরসভা পরিচালিত অনুষ্ঠানে লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি থাকে আধুনিক নাটক ও গান। থাকে উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গানের আসর। মাটির পুতুল এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ।

অতীতে মেলাগুলি ছিল বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র। বর্তমানে তা আর নেই তবে রাসমেলার বাণিজ্যিক গুরুত্ব বেড়ে চলেছে নিয়মিত ভাবে। মেলা আরও বিস্তৃত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও অন্য জেলার এমনকী ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরাও মেলায় আসেন। শাল, গরম কাপড়ের পাশাপাশি পাথরের তৈজস, কাঁসা-পিতল, ব্যাগ, প্লাস্টিকের খেলনা, জুতো প্রভৃতির সম্ভার থাকে মেলায়। রয়েছে কাঠ, লোহা, বাঁশের জিনিস। খাবারের দোকান তো আছেই। ভাঙা মেলাতেও থাকে লক্ষ মানুষের ভিড়। হারিয়ে যাওয়া বহু পুরনো মেলার ভিড়ে কোচবিহারের রাসমেলা উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। এর কৃতিত্ব কোচবিহার পুরসভার। পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার দিক থেকে এই মেলাকে পশ্চিমবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মেলা বললে অত্যুক্তি হবে না।

সুত্রঃ পোর্টাল কন্টেন্ট টিম

2.94366197183
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top