ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

ফোনের ইতিহাস

রেডিওর উদ্ভাবন হতে না হতেই বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা উঠে পড়ে লেগেছিলেন রেডিও-র প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি চলমান ফোন ব্যবস্থা তৈরি করতে। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল মোবাইল ফোনের ভাবনা।

তেরো চোদ্দ বছর আগেও মোবাইল ফোন সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল খুবই সীমিত। পত্র-পত্রিকায় এই বস্তুটির খবর মাঝেমধ্যে থাকত। আমাদের দেশেও ফোনটা আসছে -- এইটুকুই সাধারণ লোকে জানত। আজকে সে চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে যে এই অগ্রগতি ঘটবে, তা মোবাইল ফোনের সাফল্য সম্পর্কে আশাবাদীরাও অনেকে ভাবেননি!

মোবাইল ফোন নিয়ে কিছু বলার আগে প্রথমেই টেলিফোন আর রেডিওর কথা বলে নেওয়া দরকার। ১৮৭৬ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে টেলিফোন উদ্ভাবন করেন অ্যালেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। তার এক বছর বাদে বেল টেলিফোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টেলিফোন পরিষেবা দেওয়া শুরু করেন। রেডিও আসে টেলিফোনের অনেক পরে। প্রথম রেডিও স্টেশন চালু হয় ১৯২২ সালে। কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। রেডিওর যেটা মস্ত বড় সুবিধা সেটা হল এটি চলে বেতারে। ঘরে বাইরে যে কোনও জায়গা থেকেই রেডিও শুনতে অসুবিধা নেই। এই সুবিধা যদি টেলিফোনে থাকত অর্থাৎ যে কোনও জায়গা থেকে যদি টেলিফোন ব্যবহার করা যেত, তা হলে এর উপযোগিতা যে আরও অনেক গুণ বাড়ত তাতে কোনও সন্দেহ নেই। রেডিওর উদ্ভাবন হতে না হতেই বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা উঠে পড়ে লাগলেন রেডিও-র প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি একটি চলমান টেলিফোন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। সাধারণ ভাবে রেডিও আর টেলিফোনের মধ্যে তফাৎ হল যে, রেডিও একমুখী। অর্থাৎ এতে শক্তিশালী প্রেরকযন্ত্র বা ট্র্যান্সমিটার দিয়ে গান-বাজনা-কথা ইত্যাদি সম্প্রচার করা যায়; গ্রাহকযন্ত্র বা রিসিভার-এর মাধ্যমে যে কেউ বহু দূর থেকেও তা শুনতে পায়। এই ভাবে সবার জন্য একমুখী প্রচার করাকে বলা হয় ‘ব্রডকাস্ট’ করা। অন্য পক্ষে টেলিফোনের কথাবার্তা সব সময়ে দুমুখী। টেলিফোনের মাধ্যমে দু’জনে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে পারে – বিশ্বশুদ্বু লোককে তা না শুনিয়ে। এই তফাতটা চিন্তা করলে বোঝা যায় যে, এই দুই প্রযুক্তিকে মেলানো খুব একটা সহজসাধ্য ব্যাপার নয়।

মনে হতে পারে, প্রত্যেকের কাছে যদি একটা করে ট্র্যান্সমিটার আর রিসিভার থাকে তা হলেই তো দু’জনে কথাবার্তা বলতে পারে। কথাটা ভুল নয়, তবে বাস্তবে সমস্যা অনেক। ভেবে দেখো, রেডিওতে একটা স্টেশন ধরতে আমাদের টিউনিং নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে(এ যুগে বোতাম টিপেই) সেই স্টেশন যে কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সিতে অনুষ্ঠান প্রচার করছে, সেই ফ্রিকোয়েন্সিতে পৌঁছতে হয়। তা হলেই অনুষ্ঠানটা শুনতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন রেডিও স্টেশন বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে তাদের অনুষ্ঠান প্রচার করে - যাতে এক জনের প্রচারিত অনুষ্ঠান অন্যের অনুষ্ঠানে কোনও বাধার সৃষ্টি না করে। রেডিও দিয়ে মোবাইল ফোন করতে হলে - প্রত্যেকটি গ্রাহককে আলাদা আলাদা করে একটা ফ্রিকোয়েন্সি দিতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোককে আলাদা আলাদা ফ্রিকোয়েন্সি দেওয়ার মত অত ফ্রিকোয়েন্সি পৃথিবীতে নেই। এ ছাড়া আরও বহু সমস্যা আছে। রেডিও স্টেশনের ট্র্যান্সমিটার দেখেছো কি - উঁচু উঁচু টাওয়ার আর কী রকম ভারী? সেটা বইবে কী করে? তার ওপর ঐ শক্তিশালী ট্রান্সমিটারের কাছে সেন্সেটিভ রিসিভার রাখলে সেটা মুহূর্তের মধ্যে অকেজো হয়ে পড়বে।

সূত্র : মোবাইল ফোন খুঁটিনাটি, মোজাহিদুল ইসলাম ঢেউ, সিসটেক পাবলিকেশন্স, ঢাকা

3.14285714286
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top