ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

মুসলিম উৎসব

ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নবম মাসটি রমজান মাস।

ইদ-উল-ফিতর

ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নবম মাসটি রমজান মাস। মনে করা হয় এই মাসেই নবি হজরত মহম্মদ স্বর্গ থেকে পবিত্র কোরান লাভ করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রমজান মাসের প্রতি দিন উপবাস বা রোজা পালন করেন এবং দিনের শেষে ‘ইফতার’-এর মাধ্যমে উপবাস ভঙ্গ করা হয়। মাসের শেষ সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা দিলে ইমাম সে কথা ঘোষণা করেন এবং পরের দিন ইদ-উল-ফিতর পালিত হয়। এক মাসের কৃচ্ছসাধনের পুরস্কার এই ইদ। মসজিদে মসজিদে ইদ-এর নমাজ পড়া হয়। নতুন জামাকাপড় পরা, উপহার বিনিময়, কোলাকুলির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় -- সব কিছু নিয়েই সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে ইদ উল ফিতর।

ইদ-উল-জুহা

রমজান মাসের মোটামুটি সত্তর দিন পরে ইসলামি বছরের ধুল হিজ্জা মাসের দশম দিনটি ‘ইদ-উল-জুহা’ বা ‘ইদ-উল-আঝা’ বা ‘বকর-ইদ’ হিসেবে পালিত হয়। ঈশ্বর আব্রাহামকে ঈশ্বরের প্রতি তাঁর আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে পুত্র ইসমায়েলকে বলি দিতে বলেন। আব্রাহাম পরমপিতার উদ্দেশে নিজের পুত্রকে বলি দিতে উদ্যত হলে ঈশ্বর তাঁর এই আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হন এবং ইসমায়েল-এর পরিবর্তে একটি ভেড়াকে বলি হিসেবে নির্বাচিত করেন। আব্রাহামের এই মহান আত্মত্যাগের স্মরণেই বকর-ইদ পালিত হয়। নমাজ আদা করার পাশাপাশি এই দিন সম্পন্ন মুসলমান উট, গরু বা ভেড়া — কোনও একটি পশু বলি দেন এবং সেই মাংসের দুই-তৃতীয়াংশ দু:স্থ বা গরিবদের দান করেন।

ইদ-ই-মিলাদ

হিজরী বছরের তৃতীয় মাসের দ্বাদশ দিনে পয়গম্বর হজরত মহম্মদের জন্ম ও মৃত্যু সংঘটিত হয়। এই উভয় ঘটনাকে স্মরণ করেই ইদ-ই-মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। মৃত্যুর আগে নবি ১২ দিন অসুস্থ ছিলেন। তাই এই সমেয় ১২ দিন ধরে মসজিদে মসজিদে ধর্মীয় আলোচনা, পবিত্র কোরান পাঠের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়।

লাইলাত-উল-বরাত বা শব-ই-বরাত

হিজরী বছরের অষ্টম ত্রয়োদশ অথবা চতুর্দশ দিনটিতে শব-ই-বরাত পালিত হয়। একে এক কথায় আলোর উত্সব বা রাত্রির উত্সবও বলা হয়। ফতিহা আবৃত্তির পাশাপাশি নবি এবং তাঁর কন্যা ফতিমা ও জামাতা আলির উদ্দেশে খাদ্য পানীয় উত্সর্গ করা হয়।

মহরম

হজরত মহম্মদের দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেনের কারবালার যুদ্ধে এজিদের হাতে সপরিবার নৃশংস মৃত্যুর স্মরণে শিয়া সম্প্রদায় মহরম উদযাপন করেন। হিজরী বছরের প্রথম মাস ‘মহরম’ এর প্রথম দশ দিন ধরে এই উত্সব পালিত হয়। মাসের প্রথম দিনের সূত্রপাতেরর পরই কালো পোশাক পরিধান করা হয় আর যে নিদারুণ তৃষ্ণায় ইমাম হোসেন ও তাঁর পরিবার কষ্ট পেয়েছিলেন তার স্মরণে জল বিশেষ করে শরবত সম্বন্ধীয় শোকগাথা গীত হয়। ‘আশুরা’ বা দশম দিনে ইমাম হোসেনের তাজিয়া নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। হোসেনের ঘোড়া ‘দুলদুল’-এর স্মরণে একটি ঘোড়া শোভাযাত্রার সামনে থাকে। লাঠি খেলা, ছুরি খেলা ইত্যাদির মাধ্যমে কারবালার যুদ্ধের অভিনয় করা হয়। ইমাম হোসেন যে অকথ্য অত্যাচার সহ্য করেছেন তার স্মরণে শিয়া পুরুষরা নিজেদের দেহে আঘাত করেন, খালি পায়ে জ্বলন্ত কয়লার ওপর হাঁটেন এবং আর্তনাদ করেন।

সুত্রঃ পোর্টাল কন্টেন্ট টিম

3.03614457831
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top