ভাগ করে নিন

প্রসঙ্গ : ২০০৯ আইনের ঘটনা পরম্পরা

২০০৯–এ আইনটি তৈরি হওয়ার ঘটনা পরম্পরা কী ছিল ?

২০০২ সালের ডিসেম্বরে ৮৬তম সংবিধান সংশোধনী পাস হওয়ার পর নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি ঘটে --

  • ২০০৩ - শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিল ২০০৩ (এনডিএ সরকার)
  • ২০০৪ - শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা বিল ২০০৪ (এনডিএ সরকার)
  • ২০০৫ - শিক্ষার অধিকার বিল, ২০০৫ (জুন) (সিএবিই বিল) (ইউপিএ ১ সরকার)
  • ২০০৫ - শিক্ষার অধিকার বিল, ২০০৫ (আগস্ট) (ইউপিএ ১ সরকার)
  • ২০০৬ - কেন্দ্রীয় আইন বাতিল করা হল। আদর্শ শিক্ষার অধিকার বিল, ২০০৬-এর ভিত্তিতে নিজস্ব বিল তৈরির জন্য রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হল। (ইউপিএ ১ সরকার)
  • ২০০৮/৯ - কেন্দ্রীয় আইনকে পুনর্জীবিত করা হল। শিশুদের বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার বিল, ২০০৮ লোকসভা ও রাজ্যসভায় পেশ/পাস করানো হল। ২০০৯-এর আগস্টে রাষ্ট্রপতি বিলে অনুমোদন দিলেন। যদিও গেজেট অফ ইন্ডিয়ায় আইন ও ৮৬তম সংশোধনীর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হল ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। তাতে বলা হল আইনটি ২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্রযুক্ত হবে, যা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ৮ মাস পর। (ইউপিএ ২ সরকার)

মনে রাখতে হবে, বিলের প্রথম দুটি খসড়ায় ‘অধিকার’ শব্দটি ছিল না। এই শব্দটি ২০০৫ সালের সিএবিই বিল থেকে লেখা শুরু হয়। আদর্শ বিলের খসড়ার ভিত্তিতে রাজ্যগুলিকে আইন প্রণয়ণ করতে বলে ২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় আইনটিকে বাতিল করা হয় ‘কেন্দ্রের অর্থের অভাব’-এর সেই চেনা যুক্তিতে। কিন্তু নিরপেক্ষ আর্থিক জমা খরচের হিসেবের ভিত্তিতে জনগণের দাবি তীব্র হয়ে ওঠায় ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় বিলটিকে পুনর্জীবিত করে ফিরিয়ে আনা হয়।

নিম্নলিখিত কারণে ভারতীয় আইনটি অন্যান্য দেশের এই ধরনের অনেক আইনের থেকে আলাদা :

  • ‘ফ্রি’ বা ‘বিনামূল্যে’ শব্দটির অর্থ শুধু টিউশন ফি-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়
  • ‘কমপালশন’ বা ‘বাধ্যবাধকতা’র দায় বাবা-মায়ের উপর নয়, সরকারের উপর
  • বৈষম্য দূর করা এবং সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার ঊপর জোর দেওয়া হয়েছে
  • শিক্ষক-শিক্ষণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উন্নত গুণমানের নীতি তৈরির নির্দেশিকা
  • আইনটির নজরদারি করার জন্য একটি সাংবিধানিক সংস্থা, যেটি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে স্কুলগুলির ন্যূনতম শর্ত ও মান সংজ্ঞায়িত করা
  • শিশুর আবেগ, মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার দিকগুলির দিকে নজর দেওয়া।
  • এই আইনটি আরও একটি কারণেও ঐতিহাসিক। কারণ এটি বাস্তবায়িত হতে একশো বছরেরও বেশি সময় লাগল। যদি আমরা ধরে নিই, ভারতের স্বাধীনতার লড়াই ১৮৫৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে, তবে তা বাস্তব হতে ৯০ বছর সময় লেগেছিল (১৯৪৭)। কিন্তু শিক্ষার অধিকার পেতে আরও ১০ বছর বেশি সময় লাগল, যার মধ্যে ৬২ বছর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর। এর জন্য এই আইনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর।

    2.95535714286
    মন্তব্য যোগ করুন

    (ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

    Enter the word
    ন্যাভিগেশন
    Back to top