ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করার পথনির্দেশিকা

কী ভাবে সুনিশ্চিত করা হবে শিক্ষার অধিকার তারই পথনির্দেশিকা এখানে।

বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার (আরটিই) আইনের ব্যবস্থাগুলি চালু করার বিভিন্ন দিকের উপর নজর রাখার জন্য শিশুর অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় কমিশনকে (এনসিপিসিআর) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরটিই-র নির্দেশিকা অনুযায়ী স্কুলে পড়ুয়া ভর্তি করা

গোটা দেশে স্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়া যাতে বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা আইন,২০০৯ অনুযায়ী হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য এনসিপিসিআর অনেকগুলি পদক্ষেপ করেছে। এই পদক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে যখন দেখা যায় কয়েকটি রাজ্য বুনিয়াদি শিক্ষায় পড়ুয়া ভর্তির ক্ষেত্রে বাছাই প্রক্রিয়ার সাহায্য নিচ্ছে, যা এই আইনে নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে স্কুলে ভর্তির প্রক্রিয়া যাতে আরটিই আইন মেনে হয় তা নিশ্চিত করার জন্য এনসিপিসিআর সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ জারি করতে বলে। দিল্লি সরকারের শিক্ষা অধিকর্তা তাদের পরিচালিত রাজকীয় প্রতিভা বিকাশ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মার্চে নোটিশ জারি করার পর এনসিপিসিআর সক্রিয় হয়ে ওঠে।

দিল্লি সরকারের শিক্ষা দফতর তাদের ওয়েবসাইট ও প্রথম সারির দৈনিক সংবাদপত্রগুলিতে স্কুলে ভর্তির জন্য ২৫ টাকা দিয়ে ফর্ম কেনা ও ভর্তির পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরই এনসিপিসিআর এই পদক্ষেপ করে। কারণ আরটিই আইনে এই ধরনের বাছাই করার পরীক্ষা নেওয়া নিষিদ্ধ। কোনও বাছবিচার না করেই ছাত্র নেওয়ার কথা।

আরটিই প্রয়োগের নোডাল সংস্থা হিসেবে কমিশন দিল্লি সরকারের শিক্ষা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে চিঠি লিখে ভর্তির নোটিশ প্রত্যাহার করতে বলে এবং আরটিই-এর ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ফের নোটিশ জারি করতে বলে। আইনে যা আছে সে সম্পর্কে স্কুলগুলিকে অবহিত করতে এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি নির্দেশ জারি করার অনুরোধ করা হয়, যাতে তারা ভর্তির প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে।

শিক্ষা অধিকর্তা অনুরোধ না মানায়, কমিশন জুন মাসে তাঁকে ডেকে পাঠায় এবং জুলাইয়ের মধ্যে আরটিই অনুসারে নতুন করে ভর্তি নিতে বলে। যাতে একই ঘটনা অন্য রাজ্যেও না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কমিশন মুখ্যসচিবদের যে চিঠি লেখে, তাতে বলা হয়, যে সরকারি নির্দেশ তাঁরা স্কুলগুলিকে পাঠাবেন তাতে যেন কয়েকটি বিষয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে --

  • ১. ভর্তি প্রক্রিয়া আরটিই আইন অনুসারে হতে হবে,
  • ২. সকল ‘বিশেষ গোত্রের’ স্কুল এবং সরকারি সাহায্য না পাওয়া বেসরকারি স্কুলে পিছিয়ে থাকা অংশের জন্য ২৫% সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যে নিয়মগুলি আছে, তা মেনে চলতে হবে।

এ ছাড়াও সরকার স্বীকৃত বেসরকারি স্কুলগুলোকে এলাকা চিহ্নিত করে আরটিই আইনের সুযোগ এবং পদ্ধতি সম্পর্কে নোটিশ দিতে হবে, যাতে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের শিশুরা সেই স্কুলগুলিতে ভর্তির দাবি জানাতে পারে। আরটিই আইন অনুযায়ী রাজ্যের আইন তৈরির কাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হবে। নবোদয় স্কুল, যেগুলিকে আরটিই আইনে ‘বিশেষ গোত্রের’ স্কুল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে কমিশন পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, আরটিই আইনের ১৩ নম্বর ধারা ব্যতিক্রমহীন ভাবে সমস্ত স্কুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আইনের ১৩ নম্বর ধারায় প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থাগুলি হল:

কোনও স্কুল বা ব্যক্তি কোনও শিশুকে ভর্তির সময় ক্যাপিটেশন ফি নিতে পারবে না এবং শিশু বা তার বাবা, মা বা অভিভাবককে কোনও বাছাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না। কোনও স্কুল বা ব্যক্তি যদি আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে --

  • ১. ক্যাপিটেশন ফি নেয়, তা হলে তাকে জরিমানা দিতে হবে, যে জরিমানার পরিমাণ ক্যাপিটেশন ফি-র ১০ গুণ পর্যন্ত হতে পারে;
  • ২. কোনও শিশুকে বাছাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করলে, প্রথম অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানা ২৫০০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিটি ক্ষেত্রে ৫০০০০ টাকা করে জরিমানা হবে।
3.03092783505
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top