হোম / শক্তি / নানা খবর / বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রেলমন্ত্রী ‘টাইগার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা সূচনা করলেন
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রেলমন্ত্রী ‘টাইগার এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা সূচনা করলেন

বিশেষ এই ট্রেনটি দিল্লি থেকে মুম্বাই পর্যন্ত চলবে।

২০১৬-১৭ বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী রেলমন্ত্রী শ্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু রবিবার মুম্বাই থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নয়াদিল্লির সফদরজং স্টেশন থেকে টাইগার ট্রেল সার্কিট ট্রেনের যাত্রা সূচনা করেন। বিশেষ এই ট্রেনটি দিল্লি থেকে মুম্বাই পর্যন্ত চলবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টাইগার এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা সূচনার উদ্দেশ্য হল – মানবজীবনে পরিবেশের গুরুত্বকে তুলে ধরা। এ ধরণের একটি ট্রেন চালু করার পিছনে রেলমন্ত্রী স্বয়ং আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এই পর্যটক ট্রেনটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়ছে ভারতীয় রেলের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান রেলোয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (আই আর সি টি সি)।

নয়াদিল্লির সফদরজং স্টেশন থেকে যাত্রা সূচনা করে পাঁচদিন-ছয় রাত্রি সফরে বিশেষ এই ট্রেনটি কাটানি, জব্বলপুর, বান্ধবগড়, কান্‌হা হয়ে মুম্বাই পৌঁছবে। সফররত পর্যটকদের নিয়ে আধা-বিলাসবহুল ট্রেনটি মধ্যপ্রদেশের বিশ্ববিখ্যাত বান্ধবগড় ও কান্‌হা জাতীয় উদ্যানে যাবে। এছাড়াও, জব্বলপুরের কাছে বেধাঘাটে যাবে ধূয়াধার জলপ্রপাত দেখতে।

এই উপলক্ষে, রেলমন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত বিষয়গুলির সমাধানে ভারতীয় রেল পুরোপুরি দায়বদ্ধ। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি মন্ত্রকে পরিবেশ সংক্রান্ত একটি পৃথক বিভাগ চালু করার উদ্যোগ নেন। তাঁর মন্ত্রক পরিবেশ-বান্ধব বহু উদ্যোগ গ্রহণ করছে। টাইগার এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনার কথা উল্লেখ করে শ্রী প্রভু বলেন, বাঘ সমগ্র খাদ্য-শৃঙ্খলের একেবারে উপরের দিকে রয়েছে। তাই, এর পরিবেশগত প্রভাবও প্রচুর। সেদিক থেকে বাঘ’কে কেন্দ্র করে ট্রেন চালু করা নিঃসন্দেহে যথাযথ। রেলমন্ত্রী আরও জানান, আই আর সি টি সি-এর মাধ্যমে ভারতীয় রেল এলিফ্যান্ট সার্কিট, ডেসার্ট সার্কিট-এর মতো আরও পর্যটন সার্কিট ট্রেন চালু করবে।

টাইগার এক্সপ্রেস ট্রেনটির কিছু বৈশিষ্ট্য

  • ২০১৬-১৭’র রেল বাজেট অনুযায়ী টাইগার এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা। জাতীয় পশু ‘বাঘ’ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই ট্রেন চালু করার উদ্দেশ্য।
  • টাইগার এক্সপ্রেস ভারতীয় রেলের অভিনব একটি পর্যটন পরিষেবা। এ ধরণের পরিষেবা ভারতে এই প্রথম।
  • ভারতীয় বাঘ সর্বদাই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট ও বিমুগ্ধ করেছে। আধা-বিলাসবহুল এই ট্রেনটি যাত্রীদের বিশ্বখ্যাত বান্দবগড় ও কান্‌হা জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যাবে।
  • কান্‌হা জাতীয় উদ্যান বাঘ, সম্বর হরিণ ও বারাশিঙ্গা শ্রেণীর হরিণের আবাসস্থল হিসেবে সুপরিচিত। বিশ্ববিখ্যাত লেখক রুডিয়ার্ড কিপলিং-এর জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দ্য জাঙ্গল বুক’-এর সৃষ্টির মূল উৎসই ছিল কান্‌হা জাতীয় উদ্যান।
  • বান্ধবগড় জাতীয় উদ্যান তাঁর জীব-প্রাচুর্য্যের জন্য বিখ্যাত ভারতের বিভিন্ন জাতীয় উদ্যানের সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বান্ধবগড়ই বাঘের ঘণত্ব সবচেয়ে বেশি। চিতা বাঘ ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণের বংশবিস্তারের দিক থেকেও এই উদ্যান অদ্বিতীয়।
  • টাইগার এক্সপ্রেস ট্রেনে পাঁচদিন – ছয় রাত্রির যাত্রা সফরে বাঘেদের তিনটি আবাসনস্থলে যাবে। যেখানে পর্যটকরা রাজকীয় এই বন্য বেড়ালের জগতে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিতে পারবেন এবং বন্যপ্রাণীর এক অভাবণীয় দৃশ্যের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন।
  • ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে টাইগার এক্সপ্রেস-এর উদ্বোধনী যাত্রা ছিল। আগামী অক্টোবর থেকে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনের যাত্রা মাসিক পর্যায়ে নিয়মিতভাবে শুরু হচ্ছে।
  • বন্যপ্রাণী বিশেষ করে, বাঘ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই ট্রেন চালানোর মূল উদ্দেশ্য। এই ট্রেনে যাত্রার আরও একটি আকর্ষণীয় দিক হল – জব্বলপুরের কাছে বেদঘাটের বিখ্যাত ধূয়াধার জলপ্রপাত দর্শন করা।
  • ট্রেন পরিচালনা ও সফর করানোর পুরো দায়িত্ব আই আর সি টি সি-র। রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চল এবং উত্তর ভারতের হেরিটেজ অঞ্চলে ভ্রমণ কর্মসূচি পরিচালনার মতো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই আই আর সি টি সি-র হয়েছে। তবে, এটাই প্রথমবার, যখন ভারতীয় রেল চমকপ্রদ বন্যপ্রাণী পর্যটনের উদ্যোগ নিয়েছে।
  • সফরসূচি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে পর্যটকরা আরামদায়ক যাত্রার অভিজ্ঞতাই লাভ করার সঙ্গে সঙ্গে বন্য প্রকৃতির মাঝেও অনেকটা সময় কাটাতে পারেন। সফরকালে পর্যটকরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় যাওয়ার পাশাপাশি থ্রি-স্টার হোটেলের সমতুল্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকবেন। এর মধ্যে বান্ধবগড়ে এক রাত্রি এবং কান্‌হা’তে দুই রাত্রি। এছাড়াও, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে চড়ে জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো, খাবার-দাবার, এক শহর থেকে অন্য শহরে যাওয়া এবং ভ্রমণ বিমার সুবিধাও রয়েছে।
  • টাইগার এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি ডাইনিং-কার বা রাত্রিতে সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়ার কামরা রয়েছে। উদ্দেশ্য হল – সফররত পর্যটকদের নিয়মিত মেলামেশা ও গল্পগুজবের সুযোগ করে দেওয়া। আধা-বিলাসবহুল অন্য কোনও এ ধরণের ট্রেনে এই ব্যবস্থা নেই।

ভাড়া

এই ট্রেনে সফরের ভাড়া শুরু হচ্ছে ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে। সিঙ্গল এসি’তে একজনের খরচ ধার্য হয়েছে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা, দু’জনের ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং তিন জনের ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য শয্যা সহ ভাড়া ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা।

এসি-টু টিয়ারে একজনের ভাড়া ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা, দু’জনের ৩৯ হাজার টাকা, তিনজনের ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা। এই শ্রেণিতে শিশুদের ক্ষেত্রে ভাড়া স্থির হয়েছে ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। অবশ্য, ভাড়ার এই হার কেবল ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য। বান্ধবগড় ও কান্‌হা জাতীয় উদ্যানে সাফারির জন্য বিদেশি পর্যটকদের অতিরিক্ত চার হাজার টাকা দিতে হবে।

টিকিট বুকিং

আই আর সি টি সি-র পর্যটন সংক্রান্ত পোর্টাল –www.irctctourism.com বা tourism@irctc.com থেকে এই ট্রেনের টিকিট বুক করা যায়। এ সংক্রান্ত বিশদ তথ্যের জন্য টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০-১১-০১৩৯ বা ৯৭১৭৬৪৫৬৪৮, ৯৭১৭৬৪৭১৮, ৯৭১৭৬৪০২১৯, ৯৭১৭৬৪৪০৮৪ এবং ৯৭১৭৬৪৫৬২৫ – এ ফোন করা যেতে পারে।

সুত্র: পিএইবি

2.80555555556
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top