ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

হলুদ

এখানে হলুদের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

হলুদের অপর নাম বর্ণবতী। বলবর্ধক, রক্তপরিষ্কারক, পিত্তনাশক, দাহ-নিবারক ইত্যাদি উপকারের কারণে হলুদ বিভিন্ন নামে পরিচিত, যেমন কাঞ্চনী, পীত, বরবর্ণিলী, যোষিৎপ্রিয়া ও বর্ণবিধায়িনী। এতে আছে কফ, বাত, পিত্ত, ব্রণ, চর্মরোগ, শোথ, পাণ্ডু, কৃমি, প্রমেহ, অরুচি, উদরী ও বিষদোষ প্রশমন করার ক্ষমতা। প্রাচীনকাল থেকে এটি ঘরোয়া ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটি ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদ ও হেকমিতে ব্যবহৃত। এটি ভেষজ ছাড়াও বর্ণ, রুচি ও দীপ্তির জন্য উপকারী হিসেবে চিহ্নিত। এর ভেষজ ব্যবহারগুলি হল :

পেটের বায়ু ও পুরনো ডায়েরিয়া

পেটে গ্যাস হলে ও পুরনো ডায়েরিয়ায় হলুদের গুঁড়ো বা রস জল সহ খেলে খুবই উপকার হয়।

পেটে ব্যাথা

পেটের সংক্রমণ রোধে হলুদ খুবই কার্যকর। মাখন বা দুধের সাথে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।

কৃমি

কাঁচা হলুদের রস ১৫-২০ ফোঁটা (বয়সানুপাতে) সামান্য লবণ মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেতে হয়। কৃমি দমনে কার্যকর ওষুধ, তাই একে কৃমিঘ বা কৃমিনাশকারীও বলে।

লিভারের দোষ

পাণ্ডু রোগে (জন্ডিস) গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে আসছে বুঝতে পারলে হলুদের রস ৫ থেকে ১০ ফোঁটা থেকে শুরু করে বয়সানুপাতে ১ চা চামচ পর্যন্ত একটু চিনি বা মধু মিশিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা বহু আগে থেকে চলে আসছে। আবার একটু হলুদ গুঁড়ো তার দ্বিগুণ পরিমাণ দইয়ে মিশিয়ে খেলে পিলে ও যকৃতের দোষ এবং জন্ডিস সারে। মধু সহ হলুদ খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

তোতলামি

ছোটবেলায় যাদের কথা আটকে যায় বা স্বাভাবিক ভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলার অভ্যাস, সে ক্ষেত্রে হলুদ গুঁড়ো করে (কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করতে হবে) তা দুই-তিন গ্রাম পরিমাণে এক চা চামচ ঘিয়ে একটু ভেজে সেটাকে দুই-তিনবার চেটে চেটে খাওয়াতে হয়। এতে তোতলামি কমে যায়।

হামজ্বর

  • ক) এই জ্বরে কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করে সাথে করলা পাতার রস ও অল্প মধু মিশিয়ে খাওয়ালে তা সারে।
  • খ) হলুদের শিকড় রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে এক চা চামচ মধু ও করলা পাতার রস মিশিয়ে খেলে হাম সারে।

পুরনো ঘুসঘুসে জ্বর, কোষ্ঠবদ্ধতা, হজমে দুর্বলতা, পুরনো কাশি

মধু মিশিয়ে হলুদের গুঁড়ো খেলে এ সব রোগে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

এলার্জি

খাদ্য বিশেষে অনেকের দেহ চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠে, চুলকায়, লাল হয়ে যায় তাকে চট্টগ্রামে পিঁড়ি বাত বলে। এ ক্ষেত্রে নিমপাতার গুঁড়ো এক ভাগ, কাঁচা হলুদ শুকিয়ে গুঁড়ো করে সেটা দুই ভাগ ও শুকনো আমলকীর গুঁড়ো তিন ভাগ এক সঙ্গে মিশিয়ে এক গ্রাম হারে তা সকালে খালি পেটে বেশ কিছু দিন খেতে হয়।

কফ, সর্দি ও ঠান্ডা লাগা

দুধে হলুদ সিদ্ধ করে বেঁটে চিনি মিশিয়ে খেলে সর্দি সারে। পুরনো কফ রোগ, গলা ফোলা ও গলা জ্বালায় আধা চা-চামচ হলুদের গুঁড়ো ৩০ মিলি গরম দুধে মিশিয়ে খেলে খুবই উপকার হয়। এতে বড় চামচে দুধ ঢেলে তাতে হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে অল্প আঁচে উৎরিয়ে নিতে হয়।

কাশি

খুব বেশি কাশির ঝোঁক হলে এক কাপ ঈষৎ উষ্ণ জলে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করলে কাশির উপশম হয়।

সর্দিজ্বর

গরম দুধে হলুদ গুঁড়ো ও গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে সর্দিজ্বর কমে।

ফোঁড়া

পোড়া হলুদের ছাই জলে গুলে লাগালে ফোঁড়া পাকে ও ফেটে যায়; আবার গুঁড়ো লাগালে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র : হেলথ বিডি সহ অন্যান্য সূত্র থেক সংগৃহীত

2.92857142857
তারকাগুলির ওপর ঘোরান এবং তারপর মূল্যাঙ্কন করতে ক্লিক করুন.
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top