ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

এইচ আই ভি / এডস্

এইচ আই ভি এডস্ এর সম্পর্কে আলোচনা করা বা এর উপর কাজ করা কেন প্রয়োজন

এইচ আই ভি এডস্ এর সম্পর্কে আলোচনা করা বা এর উপর কাজ করা কেন প্রয়োজন

  • পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের মানুষ আজ এইচ আই ভি - আক্রান্ত। এটা ক্রমশ একটা বিশ্ব সঙ্কট হিসাবে দেখা দিচ্ছে।
  • বর্তমানে ৪০ মিলিয়ান মানুষ এইডস্ - এ আক্রান্ত এবং তাদের মধ্যে শিশু রোগীর সংখ্যাও কম নয়। প্রায় ১০.৪ মিলিয়ান শিশু, যাদের বয়স ১৫ বছরেরও নিচে, আজ তারা অনাথ, তাদের এইডস্- আক্রান্ত বাবা-মাকে হারিয়ে।
  • ২০০১ সালে প্রায় ৫ মিলিয়ান মানুষ নতুন ভাবে এইডস্ এ আক্রান্ত হয়েছেন যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ১৫ থেকে ২৪ এর মধ্যে।
  • মহিলারাই বেশি আক্রান্ত হন এই রোগে।
  • একটি সমীক্ষা অনুসারে, এইডস্-এ আক্রান্ত ১১.৮ মিলিয়ান মহিলা এবং ৪.৫ মিলিয়ান পুরুষ।
  • এইডস্- এর মুল কারন হল হিউম্যান ইমিউনু ডেফিসিএন্সি ভাইরাস নামক এক প্রকার সংক্রমন যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিনষ্ট করে।
  • ওষুধ দিয়ে এই রোগকে আয়ত্তে রাখা গেলেও পুরোপুরি সারিয়ে তোলা যায় না।
  • এইডস্ ছড়ানো বন্ধ করার উপায় হল প্রতিরোধক নেওয়া। প্রত্যেকটি দেশের প্রতিটি মানুষের জ়ানা উচিত এই রোগ থেকে কি করে বাঁচা যায়।
  • যৌন জীবনে কন্ডোম- এর ব্যবহার এই রোগের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
  • প্রত্যেক দেশের মানুষের-ই এইডস্ সম্পর্কে যথাযথ তথ্য জানা প্রয়োজন। এইচ আই ভি- র পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের দেহে এটি আছে কিনা জেনে তার জন্য যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
  • এইডস্ এ আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় যত্ন ও সহানুভুতি দেখান উচিত এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিকবা রাজনৈতিক সকল বাধা অতিক্রম করে এইডস্ এর ব্যাপারে প্রচার চালিয়া যাওয়া উচিত।

এইচ আই ভি এইডস্- এর সম্পর্কে পরিবার ও সমাজের কি কি জানার অধিকার আছে

  • ১)এইডস্ এমনই একটা রোগ যাকে প্রতিরোধ করা গেলেও সারানো সম্ভব নয়। এইডস্ হয় বিভিন্ন কারনে, যেমন- অসতর্ক যৌন জীবন, অশুদ্ধ রক্তের দেহে প্রবেশ, ইনজ়েক্সনের এর সিরিঞ্জ প্রভৃতি। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় এইডস্ আক্রান্ত মায়ের থেকে শিশুর দেহেও সংক্রমন ঘটতে পারে অথবা জন্মাবার পর স্তনদুগ্ধ পান করাবার সময়।
  • ২)সমস্ত মানুষ এমনকি শিশুদের ও যেহেতু এইডস্ হওয়ার সম্ভবনা থাকে সেহেতু এ সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা এবং আলোচনার মাধ্যমে এই রোগকে প্রতিরোধ করা উচিত।
  • ৩)যদি কারোর সন্দেহ হয় যে সে বা তারা এইডস্ এ আক্রান্ত, অবিলম্বে নিক্টবর্তী সাস্থকেন্দ্রে যোগাযোগ করে পরিক্ষা করান উচিত।
  • ৪)যৌন জীবনে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে এইডস্ কে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • ৫)মহিলারা যেহেতু বেশি আক্রান্ত হন সেহেতু নিজেদের রক্ষা করার জন্য অসঙ্গত যৌন জীবন থেকে সাব্দান থাকা উচিত।
  • ৬)বাবা-মা এবং শিক্ষকদের উচিত তাদের বাচ্ছাদের এইডস্ এর ব্যাপারে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে সঠিক পধ্যতি অবলম্বন করতে শেখান।
  • ৭)যেহেতু গর্ভবস্থায় বা জন্মের পর স্তনদুগ্ধ পান করার সময় শিশুর দেহে মায়ের থেকে এ সংঙ্ক্রমনের সম্ভবনা থাকে সেহেতু যদি কোনো মায়ের সন্দেহ হয় যে তিনি এইডস্ এ আক্রান্ত, তাহলে স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ করে পরীক্ষা করান উচিত।
  • ৮)এইচ আই ভি ছড়িয়ে পরতে পারে ইনজেকসন সিরিঞ্জ,ব্যবহ্রত ছুরি,ব্লেড এর মাধ্যমে।
  • ৯)যৌনজীবণে বিভিন্ন সংক্রমন থেকে এইচ আই ভি ছরিয়ে পড়তে পারে। তাই সংক্রমন আছে এমন ব্যক্তিদের সঠিক চিকিতসার প্রয়োজন, এবং সতর্ক যৌন জীবনযাপন এর মাধ্যমে।

সহায়ক তথ্য

প্রধান তথ্য ১: এইডস্ একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ যাকে সারান না গেলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। এতি মুলত যে কারনের জন্য হয় তা হল- অসতর্ক যৌন জীবন, ব্যভহ্রত- অসুদ্ধ ইঞ্জেক্সনের সিরিঞ্জ, অসুদ্ধ রক্তের দেহে প্রবেশ ইত্যাদি। এ ছারা গর্ভাবস্থায় বা জন্মের পর স্তনদুগ্ধ পান করার সময় মায়ের দেহ থেকে শিশুর দেহে এর সংক্রমন ঘটতে পারে।

  • হিউম্যান ইমুনু ডিফেন্সি ভাইরাস এর প্রভাবে এডস্‌ হয় যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিনিষ্ট করে।
  • এইচ আই ভি এ আক্রান্ত মানুষ কোন উপসর্গ ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারেন সুস্থ্য শরীরে। কিন্ত তাদের থেকে সংক্রমন ঘটতে থাকে-অন্য সুস্থ্য মানুষের মধ্যে।
  • এইচ আই ভি এর সংক্রমনের শেষ পর্যায়ে এডস্‌ হয় এবং এর ফলে মানুষ দূর্বল হতে থাকে কারন তার দেহের সমস্থ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। মধ্য বয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমনের ৭ থেকে ১০ বছর পর এডস্‌ হয়। কিন্ত কম বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি দ্রুত হয়। তবে একে পুরোপুরি সারানো না গেলেও ওষুধের মাধ্যমে বহু দিন সুস্থ্য থাকা যায়।
  • বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে অসর্তক যৌন জীবের ফলে অথবা এডস আক্রান্ত রোগীর রক্ত একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহে সঞ্চালনের ফলে এইচ আই ভি ছড়িয়ে পড়ে।
  • ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্লেড, ছুড়ি বা অশুদ্ধ রক্তের দেহে প্রবেশ ইত্যাদির মাধ্যমেও এডস্‌ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • অন্যেকে স্পর্শ করার মাধ্যমে বা অন্যের স্পর্শ করা জিনিস স্পর্শ করলে এডস্‌ হয় না। এডস্‌ আক্রান্ত রোগীর সাঙ্গে গলা বা হাত মেলালে ও এডস্‌ ছড়ায় না। এডস্‌ আক্রান্ত রোগীর কাশীতে বা ছিঁকলে এডস্‌ ছড়ায় না।
  • এইচ আই ভি বা এডস্ কোন মশা, মাছি বা অন্য পতঙ্গ বাহিত রোগ নয়।

প্রধান তথ্য ২: সমস্ত মানুষের এমন কি শিশুদের ও এডস্ হতে পারে তাই যথাযত শিক্ষা ও সর্তকতা অবঅলম্বন করা উচিত

  • যে সব শিশুর দেহে এইচ আই ভি র উপস্থিতি আছে তাদের যথেষ্ট যত্ন, প্রয়োজনীয় খাদ্য অসুস্থতা কাটিয়ে উঠতে পারে, না হলে পরে তা ভয়ংকর হতে পারে। যে সব শিশুর দেহে এইচ আই ভি আছে তার বাবা অথবা মা এই রোগের শিকার।
  • প্রতিটি পরিবারেই এ বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত।
  • এবং যে সব দেশে এইচ আই ভি সংক্রমের পরিমান বেশি সেখানে শুধু শিশু নয় অন্যান্যদের ও এইচ আই ভি সংক্রমের সম্ভবনা থাকে।
  • যদি কোন শিশু এডস্ এর কারনে তার বাবা-মা, শিক্ষক বা তার কাছের মানুষেকে হারায় তাহলে তার প্রকৃত কারনটা জানা উচিত।
  • এডস্ অক্রান্ত শিশুরা আবহেলিত না হয় তার জন্য সমাজের প্রত্যেকেরই যথাযথ শিক্ষার প্রয়োজন।
  • এইচ আই ভি অক্রান্ত পরিবার বা অনাথ শিশুদের দূরে সরিয়ে না রেখে তাদের সাথে বন্ধুর মতো ব্যবহার করা উচিত যাতে তারা সুস্থ ও ভয়মুক্ত থাকে।
  • যৌন জীবনে প্রবেশের অগে প্রত্যেককে সঠিক তথ্য প্রদান করা উচিত। এবং যাতে তারা এডস্ কে প্রতিরোধের ব্যাপারে সর্তক থাকে সেদিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন।
  • যে সব শিশুরা হোস্টেল, রাস্তায় অথবা রিফিউজী ক্যাম্পে থাকে তাদের যথাযথ শিক্ষার প্রয়োজন।

প্রধান তথ্য ৩ :যদি কেউ সন্ধেহ করেন যে তাঁর এইচ আই ভি সংক্রমন ঘটেছে তাহলে অবিলম্বে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া এবং পরীক্ষা করানো উচিত

  • এইচ আই ভি এর পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত মানুষ তার প্রয়োজনীয় সাহায্য পেতে পারেন এবং অন্যকে সংক্রমিত না করে সুস্থ ভাবে বাঁচতে পারেন।
  • পরামর্শ এবং পরীক্ষার মাধ্যমে, আক্রান্ত নন এমন মানুষ সুস্থ ভাবে এবং কোনভাবে অক্রান্ত না হয়ে বাঁচতে পারেন।
  • যদি এইচ আই ভি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হয় তাহলে বোঝা যায় যে সেই ব্যক্তির সংক্রমন হয় নি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এইচ আই ভি সনাক্ত করা যায় না অনেক সময়। তাই ৬মাস পরে পরীক্ষা করানো উচিত।এবং এই সময়ে সর্তক থাকা উচিত যাতে এটি অন্য কারো দেহে ছড়িয়ে না পড়ে এবং তার জন্য রতীক্রীয়ার সময় কন্ডোম ব্যবহার করা উচিত।
  • পরিবার এবং প্রতিবেশী প্রত্যেকেরই এইচ আই ভি প্রতিরোধের জন্য পরীক্ষা করা উচিত এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • স্বামী-স্ত্রী মধ্যে কোন একজনের দেহে যদি এইচ আই ভি থাকে তাহলে সন্তানের জন্ম দেওয়ার আগে সর্তক থাকা উচিত। কারন এটি অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • পরর্বতী প্রজন্মকে এডস্ এর কবল থেকে বাঁচতে এই প্রজন্মকে এই রোগ সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

প্রধান তথ্য ৪ : যৌন জীবনে বিভিন্ন সাবধানতা অবলম্বন যেমন একাধিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করা,যৌন রোগে আক্রান্ত নয় এমন মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন, কনডোম ব্যাবহার করা ইত্যাদির মাধ্যমে এডস এড়ানো সম্ভব।

  • যে কোন মানুষেরই এডস্ থাকতে পারে।তবে আলোচনা এবং সমঝোতা এডস্ প্রতিরোধ বিশেষ সহায়ক।
  • একাধিক যৌন সম্পর্ক থেকে এডস হতে পারে।তবে এটা বলা যায় না যে শুধুমাত্র একাধিক যৌন সম্পর্কই এডস এর মুল কারন।
  • রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই সঠিক ভাবে সম্ভব,কার দেহে এইচ আই ভি আছে কারন একটি সংক্রমিত ব্যক্তি ও বাহ্যিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারেন।
  • এইচ আই ভি এর বাহক না হলেও যৌন জীবনে যথাযথ সতর্ক থাকা উচিত। একাধিক বার একই কনডোম ব্যাবহার করা উচিত নয়।
  • দুজন সম্পুর্ন সুস্থ মানুষের অসতর্ক যৌন জীবন যাপন এর ফলে যেকোন একজন এডস-এ আক্রান্ত হতে পারেন।
  • এইচ আই ভি এর সংক্রমন বন্ধ করতে সবসময় কনডোম ব্যাবহার করা উচিত।
  • যৌন জীবনে সঠিক ভাবে কনডোম ব্যাবহার করা উচিত। তা না হলে এডস-এর ভয় থাকে।
  • স্ত্রি-পুরুষ উভয়ের-ই কনডোম-এর ব্যাবহার জানা উচিত।
  • কনডোম ছাড়া যৌন সংসর্গ মানুষের দেহে সংক্রমন ঘটাতে পারে।
  • সতর্ক যৌন সংসর্গ এইচ আই ভি এর সংক্রমনের মাত্রা কমালেও অন্যান্য যৌন রোগের সম্ভাবনা থেকে যায়।
  • অ্যালকোহলিস্ট অথবা ড্রাগস্ নেওয়ার পর যৌন মিলনে অসর্তক হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায় ফলে ক্ষতি হতে পারে।

প্রধান তথ্য ৫ : মহিলারাই বেশী করে এডস্ আক্রাত্ন হয় তাই তাদের উচিত সঠিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবলম্বন করা

বিভিন্ন দেশে আল্প বয়সী ছেলেদের থেকে মেয়েরাই বেশী আক্রান্ত হয় তার কারন গুলি হলঃ-

  • মেয়েরা নিজেদেরকে রক্ষা করার উপায় জানে না এবং এর গুরুত্ব বুঝতে পারে না।
  • বিভিন্ন কারনে মেয়েদের সংক্রমনের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • বয়স্ক মানুষদের দ্বারা অনেক সময় মেয়েরা ব্যবহৃত হয়।কারন তাদের থেকে সংক্রমনের আশঙ্কা কম থাকে।
  • মহিলাদের পূর্ণ অধিকার আছে নিজেদের রক্ষা করার। তাই প্রত্যেকের উচিত এই বিষয়ে সকলকে সাবধান করা, মেয়েদের সম্মান দেওয়া এবং মেয়েদের সুস্থ জীবন যাপন করতে সাহায্য করা।

প্রধান তথ্য ৬ : বাবা মা এবং শিক্ষকদের উচিত যুব সমাজ কে এডস্ সম্পর্কে যথাযত শিক্ষা দেওয়া যাতে তারা এই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে পারে

যুব সমাজ কে এইচ আই ভি/এডস্ এবং অন্যান্য যৌনরোগ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা এবং তাদের সঠিক পথে চলতে শেখান বড়োদের কর্তব্য। যাতে তারা বুঝতে পারে এগুলি কতটা বিপদজ্জনক।

ছোটদের সাথে এই সব ব্যাপারে আলোচনা করতে অসুবিধা বোধ করলে তাদের প্রশ্ন করা উচিত তারা এই বিষয়ে কি জানে এবং এই ভাবে তারা ভুল কিছু বলে তাকে ঠিক করে দিতে হবে। যাদের সঙ্গে আলোচনায় বাচ্ছা বেশী সাবলীল তাদেরই এই দ্বায়িত্ব পালন করা উচিত।

যুব সমাজের জানা উচিত যে এই রোগ পুরোপূরি সারানো সম্ভব নয়। তাই একে প্রতিরোধ করাই একমাত্র উপায়। এই বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বাচ্ছাদের জানা উচিত যে সাধারন মেলামেশার মাধ্যমে এডস্ ছড়িয়ে পরে না।

এডস্ অক্রান্তদের সাহায্য করা উচিত এবং তাদের প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়া উচিত, এটাও জানা উচিত যুব সমাজের।

প্রধান তথ্য ৭: গর্ভাবস্থায় বা জন্মের পর বিভিন্ন কারনে শিশুর দেহে এইচ আই ভি আক্রান্ত মায়ের থেকে রোগ ছড়াতে পারে। তাই মায়ের উচিত স্বাস্থকর্মীর সাহায্যে পরীক্ষা করিয়ে যথাযথ ব্যাবস্থা নেওয়া

মহিলাদের দেহে এইচ আই ভি ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করার মাধ্যমে শিশুকে সংক্রমনের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।

ঠিক সময়ে পরীক্ষা করিয়ে ঠিক ঠাক সিদ্ধান্ত নিয়ে মহিলারা অনেক বেশী সুরক্ষিত থাকে। এইচ আই ভি পসিটিভ মহিলাদের যথেষ্ট যত্ন ও সহানুভুতি প্রয়োজন। সে যাতে ভবিষ্যতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে তার জন্য সামাজিক সাহায্য এবং বিভিন্ন এন জি ও র কর্মীরা সাহায্য করে থাকেন।

গর্ভাবতী মহিলাদের যেগুলি জানা উচিত তা হলঃ-

  • সঠিক ওসুধ ও চিকিৎসা বাচ্ছার সংক্রামিত সম্ভবনা কমতে পারে। এই সময় মেয়েদের সঠিক যত্ন প্রয়োজন যাতে বাচ্ছার ক্ষতি না হয়।
  • নতুন মায়েদের জানা উচিত কিভাবে খাওয়ালে সে এইচ আই ভি থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থভাবে বাঁচতে পারে। এক্ষেত্রে স্বাস্থকর্মীদের সাহায্য নেওয়া জেতে পারে।
  • এইচ আই ভি যুক্ত মায়েরা যাহারা গর্ভাবস্থায় ওসুধ ব্যবহার করেননা তাদের প্রায় ১/৩ অংশের বাচ্ছা এইচ আই ভি নিয়ে জন্মায় এবং ২/৩ অংশ বাচ্ছা ৫ বছরের মধ্যে মারা যায়।

প্রধান তথ্য ৮ : অশুদ্ধ ইঞ্জেকসনের সিরিঞ্জ, ব্যবহ্রত ব্লেড, ছুরি প্রভৃতি ব্যবহার করলে এইচ আই ভি ছড়িয়ে পড়তে পারে

ব্যবহৃত ইঞ্জেকসনের সিরিঞ্জ, ব্লেড, ছুরি প্রভৃতি থেকে এইচ আই ভি ছড়িয়ে পড়তে পারে তাই এগুলি ব্যবহার করা উচিত নয়।

যারা ড্রাগস্ ব্যবহার করেন তারা যদি ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার করেন তাহলে তিনি এবং তার সাথে দৈহিক সম্পর্কযুক্ত অন্যান্যরাও এইচ আই ভি এর শিকার হতে পারেন।

শিক্ষিত স্বাস্থকর্মীর কাজ থেকে ইঞ্জেকশন নেওয়া উচিত। এবং দেখা উচিত সিরিঞ্জ টা যেন বিশুদ্ধ হয়।সিরিঞ্জটা ভাল করে ফুটিয়ে নেওয়া উচিত।

নিজের পরিবারের লোকের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার করা উচিত নয়।স্বাস্থকর্মীকে প্রশ্ন করা উচিত সিরিঞ্জটি নতুন কিনা তা জানার জন্য।

অন্যের ব্যবহার করা ছুরি, ব্লেড ব্যবহার করার আগে সেগুলিকে জীবানুমুক্ত করা উচিত এমনকি নিজের পরিবারের লোকের ব্যাপারেও একই ব্যাবস্থা অবলম্বন করা উচিত ব্যাবহার করার আগে এগুলি ভাল করে ফুটিয়ে নেওয়া উচিত।

বাচ্ছার জন্মের সময় যথাযত সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন।বাচ্চার সমস্ত কাজ গ্লাভস পরে করা উচিত।

শরীরের বিভিন্ন অংশের পরিচর্যা করার সময় দেখা উচিত যেন কোনভাবে রক্ত বেরিয়ে না যায়।

প্রধান তথ্য ৯ : যাদের দেহে বিভিন্ন রকম যৌনরোগ আছে তাদের এইচ আই ভি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাদের সতর্কতার সাথে যৌন জীবন যাপন করা উচিত।কারন এটি এক দেহ থেকে অন্য দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দৈহিক সম্পর্ক, রক্তের আদান প্রাদান প্রভৃতির মাধ্যমে সংক্রমন হতে পারে।

অনেক সময় শারীরিক কোন ক্ষত থেকেও এটা হতে পারে।

বিভিন্ন যৌনরোগ যেমন-গোনোরহা, সেফিলিস প্রভৃতি এইচ আই ভি র সংক্রমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন কারন হিসাবে দেখা দিতে পারে। তাই অসতর্ক যৌন জীবনযাপন করা উচিত নয়।

যৌনজীবনে সতর্কতা অবলম্বন করে এবং কনডোম ব্যাবহার করে এইচ আই ভি বিভিন্ন যৌনরোগকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যে সব ব্যক্তি যৌনরোগে অক্রান্ত তাদের সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। তা না হলে সুস্থ ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে যেতে পারে সংক্রমনের মাধ্যমে। তবে অনেক যৌন রোগই পুরোপরি সারিয়ে ফেলা সম্ভব সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে।

এই ধরনের রোগের অনেক রকম উপসর্গ দেখা যেতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ ছাড়াই এগুলি ছড়িয়ে পরে।

তবে অনেক সময় শুধুমাত্র সাধারন সংক্রমন-ই অসুস্থতার কারন হতে পারে।

এই ধরনের রোগ সনাক্ত করতে মূলত বিভিন্ন পরীক্ষার দরকার হয় যা অনেক সময় অসম্ভব বা খরচ সাপেক্ষ হয়ে যেতে পারে।

১৯৯০ সালে হু “সিনড্রমিক ম্যানেজমেন্ট” প্রকাশ করেছে যাতে এই সব রোগের সাধারন উপসর্গ বোঝা যায়।

সেগুলি হলঃ-

  • সঠিক ভাবে জীবানু সনাক্তকরন।
  • সনাক্তকরনের সময় সঠিক পদ্বতি অবলম্বন।
  • সঠিক চিকিত’সা।
  • যৌনসঙ্গীর রোগকে সনাক্ত করে তার চিকিত’সা করানো।
  • খরচসাপেক্ষ কোন পরীক্ষা না করিয়ে সঠিক পদ্বতি অবলম্বন।
  • এই পদ্বতিগুলি অনেক বেশী কার্যকর এবং অনেক কম খরচসাপেক্ষ।

সুত্রঃ UNICEF

2.9619047619
মাসুদ Sep 07, 2016 05:01 PM

একই বেলেট ১০ মনিট পরে কেউ যদি ব্যবহার করে তাহলে কি এইডস হওয়ার সম্ববনা আছে কি

riad Jul 14, 2016 11:19 PM

কনডম ছাড়া অনিরাপদ সেক্স করলে কয় দিন পর রক্ত পরিক্ষা করলে HIV ধরা পরবে? ??? response plzz early

arko Nov 29, 2015 08:32 AM

খুব কাজের টপিক। ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। ।আপনার এই পোস্ট অনেক উপকারে আসবে আমার বিশ্বাস । এর আগেও একটা নিউজ পেয়েছিলা এই নিউজ ও অনেক উপকারী। যার দরকার হবে দেখতে পারেন। তবে আপানার এটা বাশি ভাল হইছে তাই আবারো লেখককে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না। তবে এরকম আরো একটি লেখা পড়েছিলাম এখানে> http://muktomoncho.com/archives/2975

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top