ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

নিরাপদ মাতৃত্ব

নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে জানা এবং মেনে চলা কেন জরুরী.

নিরাপদ মাতৃত্ব সম্পর্কে জানা এবং মেনে চলা কেন জরুরী.

  • প্রায় ১৪০০ জন মহিলা রোজ মারা যান গর্ভাবস্থা ও প্রসব জনিত সমস্যায়। আরও অনেকগুণ বেশীজন এমন সব সমস্যার সন্মুখীন হনযার অনেকগুলোই মহিলাদের এবং তাদের শিশুদের জীবন নিয়ে নিতে পারে- বা তাদের গুরুতরভাবে অক্ষম করে দিতে পারে।
  • সন্তানধারণের বিপদ অনেক কমে যেতে পারে যদি মহিলা স্বাস্থ্যবতী হন, যদি গর্ভবতী হওয়ার আগে পুষ্টি ঠিক থাকে, যদি তিনি শিক্ষিত স্বাস্থ্য-কর্মীর দ্বারা গর্ভাবস্থায় অন্ততঃ চারবার পরীক্ষা করান, এবং যদি প্রসব একজন পারদর্শী সহায়ক- যেমন দাক্তার, নার্স বা মিড্ওয়াইফের তত্বাবধানে হয়। প্রসবের ১২ঘন্টা পরে এবং ছয় সপ্তাহ পরেও স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাতে হবে।
  • প্রসবের পূর্ব ও পরবর্তী সেবা উপলব্ধ করা, প্রসবকালে সাহায্য করার জন্য স্বাস্থ্য-কর্মীদের পরিশিক্ষা দেওয়া, যেসব মহিলার গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালে গুরুতর সমস্যা থাকে তাদের জন্য বিশেষ যত্ন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যবস্থা করা সরকারের বিশেষ দায়িত্ব।
  • বেশীর ভাগ সরকার, মহিলাদের বিরুদ্ধে সবরকম বৈষম্যদুরীকরণের একটি আন্তর্জাতিক সমঝোতা, যার মধ্যে গর্ভবতী মহিলাদের প্রয়োজনীয় সেবাদানের আইনানুগ অঙ্গীকারও আছে, অনুমোদন করেছে।

প্রতিটি পরিবারের এবং সম্প্রদায়ের নিরাপদ মাতৃত্বের সম্পর্কে যা জানার আছে

  • ১) এটা জরুরী যে সব পরিবার গর্ভাবস্থার এবং প্রসবকালীন সমস্যার বিপদসংকেতসমূহ বুঝতে পারে এবং সমস্যা হলে তাদের পারদর্শী সাহায্য পাওয়ার ব্যাবস্থা ও সামর্থ্য থাকে।
  • ২) একজন পারদর্শী প্রসবসহায়ক যেমন ডাক্তার, নার্স্ বা পরিশিক্ষিত মিড্ওয়াইফ গর্ভবতী মহিলাকে প্রতি গর্ভাবস্থায় অন্ততঃ চারবার পরীক্ষা করবে এবং প্রতিবার প্রসবে সাহায্য করবে।
  • ৩) সব মহিলার গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা পুষ্টিকর খাদ্য এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বিশ্রাম প্রয়োজন
  • ৪) ধুমপান, মদ, নেশার অষুধ, বিষ এবং দুষণকারী বস্তু গর্ভবতীমহিলা এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
  • ৫)মহিলা ও শিশুদের শারীরিক নির্যাতন অনেক সম্প্রদায়ে একটা গুরুতর সার্বজনিক সমস্যা। গর্ভাবস্থায় নির্যাতন মহিলা ও ভ্রুণ উভয়ের বিপজ্জনক।
  • ৬) শিক্ষিত সুস্থ মেয়েরা, যারা ছোট্টবেলায় এবং কৈশোরে ভাল পথ্য পায়, তাদের গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালে কম সমস্যা হয়।
  • ৭) প্রত্যেক মহিলার স্বাস্থ্য-যত্নের অধিকার আছে, বিশেষতঃ গর্ভাবস্থা ও প্রসবকালে। স্বাস্থ্য-যত্ন দানকারীর প্রায়োগিকভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া দরকার।

সমর্থনকারী তথ্য

মূল বার্তা ১: এটা জরুরী যে সব পরিবার গর্ভাবস্থার এবং প্রসবকালীন সমস্যার বিপদসংকেতসমূহ বুঝতে পারে এবং সমস্যা হলে তাদের পারদর্শী সাহায্য পাওয়ার ব্যাবস্থা ও সামর্থ থাকে।

  • যে কোন গর্ভাবস্থায় বিপদের সম্ভাবনা থাকে যে কিছু ভুল হয়ে যেতে পারে। এইসব জটিলতার বেশীর ভাগেরই পূর্বানুমান করা যায় না। প্রথম প্রসব মা এবং বাচ্চার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। গর্ভবতী মহিলার প্রতিবার গর্ভাবস্থায় অন্ততঃ চারবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরীক্ষা করানো দরকার। একজন প্রসব-সহায়ক(যেমন ডাক্তার, নার্স বা মিড্‌ওয়াইফ)এর থেকে পরামর্শ নেওয়া দরকার-কোথায় প্রসব হওয়া উচিৎ।
  • যেহেতু গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে বা জন্মের ঠিক পরে বিপজ্জনক সমস্যা দেখা দিতে পারে, সব পরিবারের নিকটবর্তী হাসপাতাল বা
  • চিকিৎসাকেন্দ্রের অবস্থান জেনে রাখা দরকার এবং যে কোন সময়ে তাড়াতাড়ি মহিলাকে সেখানে নিয়ে যাবার জন্য অর্থ ও বন্দোবস্ত থাকা দরকার। সম্ভব হলে হবু মার অস্থায়ীভাবে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রের কাছাকাছি চলে যাওয়া উচিৎ, যাতে সে চিকিৎসা সাহায্যের কাছাকাছি থাকে।
  • যদি কোন পরিবার জানে যে প্রসব কষ্টকর বা বিপজ্জনক হতে পারে, তাহলে প্রসব হাসপাতালে বা প্রসূতি-সদনে হওয়া
  • উচিৎ। সব প্রসব, বিশেষতঃ প্রথমবার, হাসপাতালে বা প্রসূতি-সদনে বেশী নিরাপদ।
  • বিপদের কারণ এবং সংকেত সম্পর্কে সব পরিবারের জানা উচিৎ।
  • গর্ভাবস্থার আগে বিপদের কারণ :
    • পূর্ববর্তী প্রসবের পর দুবছরের কম ব্যবধান
    • মেয়েটির ১৮ বছরের কম বয়স বা মহিলার ৩৫ বছরের বেশী বয়স
    • মহিলার চারটি বা তার বেশী বাচ্চা আছে
    • মহিলার আগে একটা, সময়ের পূর্বে প্রসব হয়েছে বা ২কেজির কম ওজনের বাচ্চা হয়েছে
    • আগে মহিলার একবার কষ্টকর বা সিজারীয়ান প্রসব হয়েছে
    • মহিলার আগে একবার গর্ভপাত বা মরাবাচ্চা হয়েছে
    • মহিলার ওজন ৩৮ কেজির কম
    • মহিলার ইনফিবুলেশন হয়েছে ব জননেন্দ্রিয় কাটা হয়েছে
    গর্ভাবস্থায় বিপদ সংকেত:
    • ওজন না বাড়া (গর্ভকালে অন্ততঃ ৬ কেজি ওজন বাড়া উচিৎ)
    • রক্তশূন্যতা, চোখের পাতার ভিতরের দিকটায় বিবর্ণভাব (সুস্থ লোকের লাল বা গোলাপী হয়), খুব দুর্বলতা বা সহজে হাঁপিয়ে ওঠা
    • পা হাত বা মুখ অস্বাভাবিক ফোলা
    • ভ্রুণ কম নড়াচড়া করা বা একেবারেই না করা
    যে সব সংকেত দেখা দিলে সঙ্গেসঙ্গে সাহায্য নেয়া উচিৎ:
    • গর্ভকালে যোনিদ্বার থেকে রক্তপাত বা প্রসবের পরে খুব বেশী রক্তপাত
    • খুববেশী মাথাব্যাথা বা পেটব্যাথা
    • খুব বেশী বা বারবার বমি
    • বেশী জ্বর
    • হিসাব অনুযায়ী সময়ের আগেই জল ভেঙে যাওয়া
    • শরীরে প্রচন্ড খিঁচ বা ঝাঁকুনি
    • তীব্র যন্ত্রনা
    • অনেক সময় ধরে প্রসবব্যাথা

মুল বার্তা ২: একজন পারদর্শী প্রসবসহায়ক যেমন ডাক্তার, নার্স্ বা পরিশিক্ষিত মিড্ওয়াইফ গর্ভবতী মহিলাকে প্রতি গর্ভাবস্থায় অন্ততঃ চারবার পরীক্ষা করবে এবং প্রতিবার প্রসবে সাহায্য করবে।

যে কোন গর্ভাবস্থাতেই যত্ন লাগে, যেহেতু সবসময়েই কিছু না কিছু বেঠিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক বিপদ এড়ানো যায় যদি মহিলা গর্ভাবস্থা সন্দেহ হলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা পারদর্শী প্রসব সহায়কের কাছে যায়, তারপর চারবার পরীক্ষা করায় এবং প্রসবের ১২ ঘন্টায় ও ছ’সপ্তাহ পরে পরীক্ষা করায়।

যদি গর্ভকালে রক্তক্ষরণ হয় পেটে ব্যাথা থাকে অথবা ওপরে লিখিত সতর্কীকরণ সংকেতের কোনোটা থাকে, সঙ্গেসঙ্গে প্রসবসহায়কের সাথে পরামর্শ করা উচিৎ ।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবসহায়কের সাহায্যে প্রসব এবং তার ১২ ঘন্টা পর মায়ের অবস্থার পরীক্ষা, মা বা বাচ্চার অসুস্থ হওয়ার বা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

একজন প্রসবসহায়ক (যেমন ডাক্তার, নার্সবা পরিশিক্ষিত মিড্‌ওয়াইফ) নিরাপদ গর্ভকাল ও প্রসব নিশ্চিত করবে নিম্নলিখিতভাবে :

  • গর্ভাবস্থার অগ্রগতি পরীক্ষা করে যাতে কোন সমস্যা দেখা দিলে মহিলাকে হাসপাতালে পাঠানো যায়
  • উচ্চরক্তচাপের জন্য পরীক্ষা করা, যা মা বাচ্চা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে
  • রক্তশূন্যতার জন্য পরীক্ষা করা ও নিয়মিত আয়রন/ ফলেট বিকল্প দেওয়া
  • উপযুক্ত পরিমানে ভিতামিন’এ’র বিধান দেওয়া মা এবং শিশুর সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য(ভিটামিন’এ’ কম থাকা অঞ্চলে)
  • গর্ভাবস্থায় কোন সংক্রমণের জন্য পরীক্ষা, বিশেষতঃ মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং যৌনক্রিয়া দ্বারা ছড়ানো সংক্রমণ, এবং এ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যে তার চিকিৎসা
  • গর্ভবতী মহিলাকে দুটো ইঞ্জেকশন্‌ দেওয়া, তাকে এবং তার নবজাত সন্তানকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য
  • সব গর্ভবতী মহিলাকে উৎসাহ দিতে হবে খাবার তৈরীকরার সময় আয়োডিনযুক্ত নুন ব্যবহার করতে – যাতে তাদের গোদ না হয় এবং তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা থেকে রক্ষা পায়
  • ভ্রুণ ঠিকমত বাড়ছে কী না লক্ষ্য রাখা
  • প্রয়োজন হলে ম্যালেরিয়া নিরোধক ট্যাবলেট দেওয়া
  • মাকে প্রসবের অভিঞ্জতার জন্য প্রস্তুত করা, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং নিজের ও নবজাত বাচ্চার যত্নের ব্যাপারে উপদেশ দান
  • গর্ভবতী মহিলা ও তার পরিবারকে উপদেশ দেওয়া যে প্রসব কোথায় হওয়া ভাল এবং প্রসবের সময় বা পরেই কোন সমস্যা হলে কি ভাবে সাহায্য পাওয়া যাবে
  • যৌনক্রিয়া দ্বার সঞ্চারিত রোগ কি করে এড়ানো যায় তার উপদেশ
  • স্বেচ্ছায় এবং গোপনীয়তা বজায় রেখে এইচ্আইভি র পরীক্ষা এবং পরামর্শ দান। সব মহিলার স্বেচ্ছায় এবং গোপনে এইচ্আইভি পরীক্ষা করানো এবং পরামর্শ পাওয়ার অধিকার আছে। সংক্রামিত গর্ভবতী বা নতূন মা বা যারা সংক্রামিত হয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করেন তাদের পরিশিক্ষিত স্বাস্থ্য-কর্মীর সাথে পরামর্শ করা উচিৎ কি করে তাদের সন্তানদের সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা কমানো যায় এবং কি করে নিজেদের যত্ন করতে হয়।
প্রসবকালে শিক্ষিত সহায়করা জানে:
  • কখন প্রসব ব্যথা অতিরিক্ত সময় ধরে হচ্ছে (বারো ঘন্টার বেশী) এবং কখন হাসপাতালে স্থানান্তর দরকার
  • চিকিৎসা সাহায্য কখন দরকার এবং কি করে তা পাওয়া যায়
  • সংক্রমনের আশংকা কি করে কমানো যায়। হাত, যন্ত্রপাতি এবং প্রসবের জায়গা পরিষ্কার রাখা
  • বাচ্চার অবস্থান যদি ভুলভাবে থাকে তবে কী করতে হয়
  • মায়ের যদি অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হয় তবে কী করনীয়
  • কখন নাড়ী কাটতে হয় এবং কী করে তার যত্ন নিতে হয়
  • বাচ্চা যদি সাথে সাথে নিশ্বাস নিতে শুরু না করে কী করণীয়
  • বাচ্চাকে কী করে মোছাতে এবং গরম রাখতে হয়
  • প্রসবের পর বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য কী করে পরিচালিত করতে হয়
  • প্রসবের পর যা করণীয়, কী করে নিরাপদে করতে হয় এবং এবং মায়ের যত্ন কী করে করতে হয়
  • অন্ধত্ব রোধ করার জন্য চোখের অষুধ কী করে দিতে হয়
প্রসবের পর পারদর্শী সহায়কের উচিৎ :
  • প্রসবের পর ১২ ঘন্টা এবং ছয় সপ্তাহ পর মহিলার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
  • আর একটা প্রসব পরিহার বা বিলম্বিত করার উপায় উপদেশ দেওয়া।
  • কী করে যৌনক্রিয়া দ্বারা সঞ্চারিত রোগ, যেমন এইচআইভি এড়ানো যায় বা সন্তানের সংক্রমন সম্ভাবনা কমানোযায় সেই উপদেশ দেওয়া।

মূল বার্তা ৩: সব মহিলার গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা পুষ্টিকর খাদ্য এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী বিশ্রাম প্রয়োজন

  • একজন গর্ভবতী মহিলার প্রয়োজন পরিবারের সবচাইতে ভাল খাদ্যঃ, দুধ, ফল, শাকসব্জী, মাছ, মাংস, ডিম, শস্য, মটরশুটি এবং বিনস্‌। এইসব খাদ্য খাওয়া গর্ভাবস্থায় নিরাপদ।
  • মহিলারা গর্ভকালে আয়রন, ভিটামিন’এ’ এবং ফলিক এ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে জোর পাবে এবং সুস্থ বোধ করবে। এর মধ্যে পড়ে মাংস, মাছ, ডিম, সবুজ শাকসব্জী, এবং কমলালেবু বা হলুদ রঙের ফল ও সব্জী। এ্যানিমিয়া প্রতিহত করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা মহিলাদের আয়রন ট্য্যাবলেট দিতে পারে। ভিটামিন’এ’ কম আছে এমন অঞ্চলে উপযুক্ত পরিমানে ভিটামিন’এ’ দিতে পারে সংক্রমণ রোধ করার জন্য। গর্ভবতী মহিলার দিনে ১০,০০০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট(আইইউ) বা সপ্তাহে ২৫০০০ আইইউর বেশী ভিটামিন নেওয়া ঠিক নয়।
  • নুন আয়োডিন সমৃদ্ধ হওয়া উচিৎ। যেসব মহিলার পথ্যে যথেষ্ট আয়োডিন থাকে না তাদের গর্ভপাতের সম্ভাবনা অথবা শারীরিক বা মানসিকভাবে বিকলাংগ বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী হয়। গোদ, ঘাড়ের সামনের দিকটা ফোলা, একজন মহিলার আয়োডিনের অভাবের পরিস্কার নিদর্শন।
  • যদি এ্যানিমিয়া, ম্যালেরিয়া বা হুকোয়র্ম হয়েছে বলে সন্দেহ হয়, গর্ভবতী মহিলার উচিৎ স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে পরামর্শ করা।

মূল বার্তা ৪ : ধুমপান, মদ, নেশার অষুধ, বিষ এবং দুষণকারী বস্তু গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

  • গর্ভবতী মহিলার নিজের এবং ভ্রুণের ক্ষতি হবে ধুমপান করলে বা এমন জায়গায় থাকলে যেখানে অন্যেরা ধুমপান করছে; মদপান করলে বা নেশার অষু্ধ নিলে। গর্ভাবস্থায় শিক্ষিত স্বাস্থ্য-কর্মীর বিধান ছাড়া কোন অষুধই খাওয়া উচিৎ নয়।
  • একজন গর্ভবতী মহিলা ধুমপান করলে বাচ্চার ওজন কম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং সর্দি-কাশি, ঠান্ডালাগা, ক্রোউপ, নিউমোনিয়া বা অন্য শ্বাসকষ্ট-রোগের সম্ভাবনা বাড়ে। বাচ্চার ওজন কম হওয়ার বেশী হয়। বাচ্চার স্বাস্থ্য এবং মানসিক উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য গর্ভবতী মহিলা এবং ছোট বাচ্চাদের, তামাকের বা রান্নার আগুনের ধোঁয়া, কীটনাশক, গাছপালার পোকা মারার ওষুধ, অন্য বিষ, এবং দুষণকারক বস্তু যেমন সীসা, যা সীসার পাইপবাহিত জলে পাওয়া যায়, গাড়ীর ধোঁয়া এবং কিছু ধরণের রঙ থেকে বাঁচানো দরকার।

মূল বার্তা ৫: মহিলা ও শিশুদের শারীরিক নির্যাতন অনেক সম্প্রদায়ে একটা গুরুতর সার্বজনিক সমস্যা। গর্ভাবস্থায় নির্যাতন মহিলা ও ভ্রুণ উভয়ের বিপজ্জনক।.

গর্ভবতী মহিলা যদি নির্যাতিত হয়, তার এবং ভ্রুণের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। শারীরিকভাবে নির্যাতিত গর্ভবতী মহিলা আবার সন্তানের জন্মদিতে অক্ষম হয়ে যেতে পারেন। তার পরিবারের সকলের এই বিপদের কথা জানা দরকার এবং তাকে নির্যাতকের হাত থেকে রক্ষা করা দরকার।

মূল বার্তা ৬: শিক্ষিত সুস্থ মেয়েরা, যারা ছোট্টবেলায় এবং কৈশোরে ভাল পথ্য পায়, তাদের গর্ভাবস্থা এবং প্রসবকালে কম সমস্যা হয়।

  • পড়তে এবং শিখতে পারা মহিলারা নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে। যে সব মেয়েরা কম করে সাতবছর স্কুলে পড়াশুনো করেছে তাদের কৈশোরে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং তাদের শিক্ষাহীন মেয়ের তুলনায় দেরীতে বিয়ের সম্ভাবনা বেশী।
  • শিশুকালে এবং কৈশোরে পুষ্টিকর পথ্য গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পর সমস্যা কমায়। পুষ্টিকর পথ্যের মধ্যে পড়ে বিনস্ এবং অন্যান্য ডাল, শষ্য, শাকসব্জী এবং লাল, হলু্‌দ, কমলা রঙ এর সব্জী ও ফল। যখনই সম্ভব দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য, ডিম,মাছ, মুরগী ও মাংস খাওয়া উচিৎ। মেয়ে বা মহিলাদের যৌনাঙ্গ কাটলে যোনিতে বা মূ্ত্রনালীতে গুরুতর সংক্রমন হতে পারে যা থেকে বন্ধ্যাত্ব বা মৃত্যু হতে পারে। যৌনাংগ কাটলে প্রসবে বিপজ্জনক সমস্যা, মানসিক ও শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

মূল বার্তা ৭: প্রত্যেক মহিলার স্বাস্থ্য-যত্নের অধিকার আছে, বিশেষতঃ গর্ভাবস্থা ও প্রসবকালে। স্বাস্থ্য-যত্ন দানকারীর প্রায়োগিকভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া দরকার।

  • যদি মহিলাদের স্বাস্থ্য-যত্ন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণের উপায় থাকে, গর্ভাবস্থা ও প্রসবকালে অনেক বিপদ এড়ানো যায়।
  • পারদর্শী প্রসব-সহায়ক, যেমন ডাক্তার, নার্স বা মিড্‌ওয়াইফ, এবং জরুরী অবস্থায় ধাত্রী-সেবা পাওয়ার অধিকার সব মহিলার আছে। ভাল স্বাস্থ্য-যত্ন মহিলাদের, তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে, জ্ঞানসম্পন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে।
  • মাতৃত্ব-সেবা প্রয়োজন থাকা মহিলাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌছানো সহজ হওয়া দরকার এবং খরচের চিন্তা তাদের পক্ষে ঐ সুযোগ গ্রহণের পথে বাধা হওয়া উচিৎ নয়। স্বাস্থ্য-যত্ন-দানকারীর ভাল যত্ন নেওয়ার পারদর্শীতা থাকা উচিৎ। সব মহিলার সাথে সন্মান এবং তাদের সংস্কৃতি ও অভ্যাসের প্রতি সহানুভুতিশীল ব্যাবহার করার এবং তাদের গোপনীয়তা রক্ষার শিক্ষা দেওয়া উচিৎ ।

সুত্রঃ UNICEF

2.91919191919
তারকাগুলির ওপর ঘোরান এবং তারপর মূল্যাঙ্কন করতে ক্লিক করুন.
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top