ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

ম্যালেরিয়া

কেন ম্যালেরিয়া সম্বন্ধে তথ্য ভাগ করে নেওয়া ও সেই অনুসারে কাজ করা জরুরি৷

কেন ম্যালেরিয়া সম্বন্ধে তথ্য ভাগ করে নেওয়া ও সেই অনুসারে কাজ করা জরুরি৷

  • ম্যালেরিয়া মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ানো একটি কঠিন রোগ৷ প্রতি বছর সারা পৃথিবীতে 30 থেকে 50 কোটি ম্যালেরিয়ার আক্রমণ ও প্রায় 10 লক্ষ শিশুমৃত্যু ঘটে ৷ ম্যালেরিয়াবহুল এলাকায় তা ছোটো বাচ্চাদের বৃদ্ধির অভাব ও মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে৷
  • ম্যালেরিয়া গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ করে বিপজ্জনক৷ এর ফলে তীব্র রক্তশূন্যতা, গর্ভপাত, মৃত সন্তানপ্রসব, জন্মের সময় শিশুর কম ওজন ও প্রসূতিমৃত্যু ঘটে৷
  • ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধ ও শীঘ্র চিকিত্সার দ্বারা অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব৷

ম্যালেরিয়া সম্বন্ধে প্রত্যেক পরিবার ও সম্প্রদায়ের যা জানার অধিকার আছে৷

  • মশার কামড়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়ায়৷ মশার কামড় আটকানোর সব থেকে ভালো উপায় হল আনুমোদিত কীটনাশকে ডোবানো মশারির নিচে ঘুমনো৷
  • যে কোনো ম্যালেরিয়াবহুল এলাকাতেই শিশুদের বিপদসম্ভাবনা থাকে৷ জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা পরীক্ষা করাতে হবে ও যত শীঘ্র সম্ভব ম্যালেরিয়ার চিকিত্সা করতে হবে৷
  • গর্ভবতী নারীদের জন্য ম্যালেরিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ যে কোনো ম্যালেরিয়াবহুল এলাকাতেই, গর্ভবতী নারীরা ম্যালেরিয়া আটকানোর জন্য স্বাস্থ্যকর্মী অনুমোদিত ম্যালেরিয়ারোধক বড়ি খাবেন৷
  • ম্যালেরিয়া আক্রান্ত বা তা থেকে সেরে উঠতে থাকা শিশুর প্রচুর তরল ও খাবারের প্রয়োজন৷
  • মশার বংশবৃদ্ধি আটকাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিবার ও সম্প্রদায়গুলি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে৷

সহায়ক তথ্য

মুখ্য বক্তব্য 1: মশার কামড়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ছড়ায়৷ মশার কামড় আটকানোর সব থেকে ভালো উপায় হল আনুমোদিত কীটনাশকে ডোবানো মশারির নিচে ঘুমনো৷

সম্প্রদায়ের সকলকেই মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে, বিশেষতঃ ছোটো শিশু ও গর্ভবতী নারীদের, এবং বিশেষ করে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে, যখন মশারা সবথেকে সক্রিয় থাকে৷

অনুমোদিত কীটনাশকে ডোবানো মশারি, পর্দা বা চাটাইযে মশা বসলেই মরে যায়৷ বিশেষ, স্থায়ীভাবে প্রক্রিয়াকৃত চাটাই ব্যবহার করা উচিত, অথবা এমন জাল, পর্দা বা চাটাই ব্যবহার করা উচিত যা নিয়মিত কীটনাশকে ডোবানো হয়৷ সাধারণতঃ, বর্ষা শুরু হলে জালগুলিতে আবার প্রক্রিয়া করতে হয়, অন্ততঃ প্রত্যেক ছ মাস অন্তর এবং প্রতি তৃতীয় ধোলাইয়ের পরে৷ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ কীটনাশক ও পুনঃপ্রক্রিয়ার সময়সূচী সম্বন্ধে পরামর্শ দিতে পারবেন৷

ছোটো বাচ্চা ও অন্যান্য ছোটো শিশুদের প্রক্রিয়াকৃত মশারির ভেতরে ঘুমোনো উচিত৷ মশারিগুলি বেশি দামি হলে প্রতিটি পরিবারের অন্তঃএকটি বড় মশারি কেনা উচিত, যার ভেতরে ছোটো বাচ্চারা ঘুমোতে পারে৷ বুকের দুধ খাওয়া বাচ্চাদের তাদের মায়ের সঙ্গে এক মশারিতে ঘুমোতে হবে৷

প্রক্রিয়াকৃত মশারি সারা বছর ধরেই ব্যবহার করতে হবে, এমন কি মশা কম থাকার সময়েও৷

মশারি ব্যবহার করা না গেলে, অন্যান্য উপায় সাহায্য করতে পারে :

  • দরজা ও জানালায় অনুমোদিত কীটনাশক দিয়ে সুসিক্ত করা পর্দা বা চাটাই টাঙানো য়েতে পারে
  • দরজা জানালায় জাল লাগানো যেতে পারে
  • মশার কয়েল বা অন্যান্য ধোঁয়া ব্যবহার করা যেতে পারে
  • অন্ধকার হতে শুরু করলেই পুরো হাত ও পা ঢাকা জামাকাপড় (পুরো হাতা ও ফুল প্যাণ্ট বা ঘাগরা) পরা যেতে পারে৷ শিশু ও গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে জরুরি৷

মুখ্য বক্তব্য 2: যে কোনো ম্যালেরিয়াবহুল এলাকাতেই শিশুদের বিপদসম্ভাবনা থাকে৷ জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা পরীক্ষা করাতে হবে ও যত শীঘ্র সম্ভব ম্যালেরিয়ার চিকিত্সা করতে হবে৷

পরিবারের কারো জ্বর হলে ম্যালেরিয়া সন্দেহ করা যেতে পারে, বা যদি ছোটো শিশুরা খেতে না চায়, বমি করে বা খিঁচুনি হয়৷

ম্যালেরিয়ার দরুণ জ্বরাক্রান্ত শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী অনুমোদিত ম্যালেরিয়া রোধক চিকিত্সা করা প্রয়োজন৷ ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে একদিনের মধ্যে চিকিত্সা করা না হলে তার মৃত্যু হতে পারে৷

কী ধরণের চিকিত্সা সবথেকে ভালো ও কতদিন ধরে তা চালাতে হবে সে সম্বন্ধে একজন স্বাস্থ্যকর্মী পরামর্শ দিতে পারবেন৷ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত শিশুর সম্পূর্ণ চিকিত্সা করা উচিত, জ্বর দ্রুত সেরে গেলেও৷ চিকিত্সা পূর্ণ না হলে ম্যালেরিয়া আরো তীব্র হতে পারে ও তা সারানো আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে৷

যদি চিকিত্সার পরেও ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলি বিদ্যমান থাকে, তবে শিশুটিকে সহায়তার জন্য কোনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়েযেতে হবে ৷ সমস্যার সম্ভাব্য কারণ:

  • শিশুটির পর্যাপ্ত ওষুধ না পাওয়া
  • শিশুটির ম্যালেরিয়া না হয়ে অন্য কোনো রোগ হওয়া
  • ম্যালেরিয়াটিতে প্রদত্ত ওষুধ কাজ করছে না এবং অন্য ওষুধ প্রয়োগ প্রয়োজন৷

জ্বর না ছাড়া পর্যন্ত জ্বরাক্রান্ত শিশুকে শীতল রাখতে হবে:

  • শীতল (কনকনে ঠাণ্ডা নয়) জলে গা মুছিয়ে দিয়ে বা স্নান করিয়ে দিয়ে
  • শিশুটির গায়ে সামান্য কয়েকটি কাপড় বা একটি কম্বল চাপা দিয়ে৷

মুখ্য বক্তব্য 3: গর্ভবতী নারীদের জন্য ম্যালেরিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ যে কোনো ম্যালেরিয়াবহুল এলাকাতেই , গর্ভবতী নারীরা ম্যালেরিয়া আটকানোর জন্য স্বাস্থ্যকর্মী অনুমোদিত ম্যালেরিয়ারোধক বড়ি খাবেন৷

অন্য মহিলাদের তুলনায় গর্ভবতী নারীদের ম্যালেরিয়ায় ভোগার সম্ভাবনা বেশি৷ রোগটি গর্ভাবস্থায় বেশি বিপজ্জনক, বিশেষ করে প্রথম গর্ভাবস্থায়৷ এর ফলে তীব্র রক্তশূন্যতা(পাতলা রক্ত), গর্ভপাত, অকালপ্রসব বা মৃতশিশু প্রসব হতে পারে৷ গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া আক্রান্ত মায়েদের সন্তানদের কম ওজন হবার সম্ভাবনা বেশি এবং তাদের জীবনের প্রথম বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি৷

পরামর্শ দেওয়া হলে গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া রোধক বড়ি খেতে হবে৷

গর্ভাবস্থায় সব ম্যালেরিয়াl রোধক বড়ি নিরাপদ নয়৷ স্বাস্থ্যকর্মী বলতে পারবেন কোন ম্যালেরিয়া রোধক বড়ি সব থেকে ভালো হবে৷

মশার কামড় থেকে বাঁচতে গর্ভবতী নারীর নিয়মিত কীটনাশকে ডোবানো হয় এমন মশারির ভেতরে ঘুমোনো উচিত৷

ম্যালেরিয়ার চিহ্ন ও লক্ষণযুক্ত গর্ভবতী নারীর মৃত্যু রুখতে তাত্ক্ষণিক ও যথাযথ চিকিত্সা প্রয়োজন৷

ম্যালেরিয়া আক্রান্ত গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে লোহা ও ভিটামিন এ পরিপূরক সম্বন্ধে জানতে চাওয়া উচিত৷

মুখ্য বক্তব্য 4: ম্যালেরিয়া আক্রান্ত বা তা থেকে সেরে উঠতে থাকা শিশুর প্রচুর তরল ও খাবারের প্রয়োজন৷

  • ম্যালেরিয়া শক্তি পোড়ায়, এবং শিশু ঘামের মাধ্যমে প্রচুর দেহ তরল হারায়৷ অপুষ্টি ও জলশূন্যতা এড়াতে শিশুটিকে ঘন ঘন খাবার ও পানীয় দিতে হবে৷
  • ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ালে জলশূন্যতা রোধ করা যায় এবং শিশুটির ম্যালেরিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণের সঙ্গে লড়তে সুবিধা হয়৷ ম্যালেরিয়া আক্রান্ত শিশুদের যত ঘন ঘন সম্ভব বুকের দুধ খাওয়াতে হবে৷
  • ঘন ঘন ম্যালেরিয়া সংক্রমণ শিশুদের বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ বিলম্বিত করতে পারে এবং রক্তাল্পতার জন্ম দিতে পারে৷অনেক বার ম্যালেরিয়া হয়েছে এমন শিশুর রক্তাল্পতার পরীক্ষা করা প্রয়োজন৷

মুখ্য বক্তব্য 5: মশার বংশবৃদ্ধি আটকাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিবার ও সম্প্রদায়গুলি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারে৷

স্থির জল থাকলেই মশা বংশ বিস্তার করে — যেমন, পুকুর, জলা, ডোবা, গর্ত, নর্দমা এবং লম্বা ঘাস ও ঝোপে জমা জলে৷ তারা বহতা জলের স্রোতের ধারে এবং জলপাত্র, চৌবাচ্চা ও ধান ক্ষেতেও বংশ বিস্তার করতে পারে৷

মশার সংখ্যা কমানো যায় :

  • জল জমা হয় এমন জায়গা ভরাট করে বা জল বার করে দিয়ে
  • জল পাত্র ও জলাধার ঢেকে রেখে
  • বাড়ির চারপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে

ম্যালেরিয়া সম্পূর্ণ সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে৷ মশার বংশবৃদ্ধির জায়গা কম করার জন্য ও মশারিতে নিয়মিত কীটনাশক দেবার ব্যবস্থা করার জন্য প্রত্যেকেই একযোগে কাজ করতে পারেন৷ সম্প্রদায়গুলির উচিত তাদের এলাকার সকল স্বাস্থ্যকর্মী ও রাজনৈতিক নেতার কাছে ম্যালেরিয়া রোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করা৷

সুত্রঃ UNICEF

2.96460176991
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top