হোম / স্বাস্থ্য / জীবনের জন্য তথ্য / শিশুর বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষা
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিশুর বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষা

শিশুর বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার সম্পর্কে তথ্য জানা এবং মানা কেন প্রয়োজন

শিশুর বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার সম্পর্কে তথ্য জানা এবং মানা কেন প্রয়োজন

  • শিশুকালের প্রথম আট বছর অত্যন্ত জরুরী, বিশেষকরে প্রথম তিন বছর। এই সময়টা, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের ভিত্তি। এই সময়ে শিশুরা অন্য যে কোন সময়ের থেকে তাড়াতাড়ি শেখে। বাচ্চারা এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে এবং তাড়াতাড়ি শেখে যদি তারা ভালবাসা, দেখাশোনা, উত্সাহ এবং মানসিক উদ্দীপনা পায় এবং তার সাথে পুষ্টিকর খাদ্য এবং সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা।
  • সব শিশুর জন্মের সাথে সাথেই আইনগত ভাবে নথিভুক্তি, স্বাস্থ্যের যত্ন, ভাল পুষ্টি, শিক্ষা এবং কোনরকমের ক্ষতি, নির্যাতন এবং বৈষম্য থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। এটা পিতামাতা এবং সরকারের নিশ্চিত করার দায়ি্ত্ব যাতে শিশুদের অধিকার স্বীকার এবং রক্ষা করা হয়।

শিশুদের বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার ব্যপারে পরিবার এবং সম্প্রদায়ের যা জানার অধিকার আছে :

  • ১) জীবনের প্রথম ৮ বছর, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর, শিশুরা যে যত্ন ও ভালবাসা পায় তা অত্যন্ত জরুরী এবং তাদের সারা জীবনের উপর প্রভাব ফেলে।
  • ২) বাচ্চারা জন্মমূহর্ত থেকে তাড়াতাড়ি শিখতে থাকে ওরা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং শেখে ভালবাসা, দেখাশোনা এবং উদ্দীপনা পেলে, তার সাথে পুষ্টি এবং ভল স্বাস্থ্ যত্ন।
  • ৩) শিশুদের খেলতে এবং সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতে উৎসাহ-দান, ওদেরকে শেখা, সামাজিকতা, আবেগপ্রবনতা, শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিগতভাবে বিকশিত করে।
  • ৪) শিশুরা তাদের নিকটজনের নকল করে ব্যবহার শেখে।
  • ৫) সব পিতামাতার এবং যত্নদানকারীদের শিশুর বেড়ে ওঠা ও বিকাশ এর সম্পর্কে বিপদ সংকেত জানা উচিৎ।

সমর্থনকারী তথ্য

মূল বার্তা ১ঃ জীবনের প্রথম ৮ বছর, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর, শিশুরা যে যত্ন ও ভালবাসা পায় তা অত্যন্ত জরুরী এবং তাদের সারা জীবনের উপর প্রভাব ফেলে।

  • প্রথম কয়েক বছরের যত্ন ও ভালবাসা শিশুর বিকাশে সাহায্য করে । তাকে ধরা, আদর করা এবং কথা বলা শিশুর বেড়েওঠায় উদ্দীপনা দেয় এবং আবেগজনিত বিকাশ ঘটায়। মায়ের কাছাকাছি রাখা এবং চাইলেই বুকের দুধ খওয়ানো শিশুর মধ্যে একটা নিরাপত্তার ধারনা তৈরী করে। বাচ্চাদের মায়ের দুধ চোষা পুষ্টি এবং আরাম, উভয়ের জন্যই প্রয়োজন।
  • ছেলে এবং মেয়েদের একই রকম শারীরিক, মানসিক, আবেগজিনত এবং সামাজিক প্রয়োজননীয়তা হয় এবং একই রকম ভালবাসা, মনোযোগ ও অনুমোদন দরকার। বাচ্চার(শিশুর) নিজের দরকার জানানোর জ্ন্য কান্না একটা পথ । কান্নার সাথে সাথে বাচ্চাকে(শিশুকে) ধরলে এবং ভাল করে তার সাথে কথা বললে বাচ্চার একটা বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার ধারনা জন্মায়।
  • যেসব বাচ্চারা(শিশুরা) রক্তশূন্য, অপুষ্ট বা প্রায়ই ভোগে, তারা সুস্থ বাচ্চাদের থেকে সহজে ভীত বা চকিত হয় এবং তাদের খেলাধূলোর, অনুসন্ধানের এবং অন্যদের সাথে মেলামেশার উৎসাহ থাকে না। এইসব বাচ্চাদের(শিশুদের) খাওয়ানোর জ্ন্য বিশেষ মনোযোগ বা উত্সাহদান দরকার হয়।
  • বাচ্চাদের আবেগ, বাস্তব এবং জোড়ালো। ওরা যদি কিছু চেয়ে না পায় বা করতে চেয়ে না করতে পারে তবে খুব নিরাশ হয়ে পড়ে।
  • বাচ্চারা প্রায়শঃ অচেনা লোক বা অন্ধকারে ভয় পায়। যে সব বাচ্চার প্রতিক্রিয়ায় উপহাস করা, শাস্তি দেওয়া বা অবহেলা করা হয় তারা দ্বিধান্বিত বা আবেগ প্রকাশে অক্ষম হয়ে বেড়ে ওঠে। যখন শিশু তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে তখন যদি যত্নদানকারীরা ধৈর্যশীল এবং সহানুভূতিশীল হন তবে শিশু সুখী, নিরাপদ ও সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠবে ।
  • শারীরিক শাস্তি বা উত্পীড়নের দৃশ্য শিশুর বিকাশের ক্ষতি করতে পারে । যে সব শিশুকে রেগে শাস্তি দেওয়া হয় তারা নিজেরাই চরম হয়ে যেতে পারে । পরিষ্কার করে বলা কী করা উচিত, দৃঢ় নিয়ম কী করা উচিত নয় এবং ভাল ব্যবহারের জন্য প্রশংসা করা শিশুদের পরিবারের ভাল সদস্য হতে উত্সাহিত করে।
  • বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্যরা, উভয়েরই বাচ্চার যত্ন করা উচিৎ । বাবার অংশ বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ন। বাবা বাচ্চার ভালবাসা, স্নেহ ও উদ্দীপনার প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং ভাল শিক্ষা, ভাল পুষ্টি ও স্বাস্থ্য-যত্ন নিশ্চিত করতে পারে। বাবা নিশ্চিত করতে পারে যেন পরিবেশ নিরাপদ এবং উত্পীড়ন মুক্ত থাকে। বাবা বাড়ীর কাজও করতে পারে, বিশেষ করে যখন মা বুকের দুধ খাওয়ায় বা গর্ভবতী হয় ।

মূল বার্তা ২: বাচ্চারা জন্ম মূহর্ত থেকে তাড়াতাড়ি শেখে। ওরা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং শেখে ভালবাসা, দেখাশোনা এবং উদ্দীপনা পেলে, তার সাথে পুষ্টি এবং ভল স্বাস্থ্-যত্ন।

  • চামড়ার সাথে চামড়ার সংযোগ ও বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের ভাল বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে এবং মায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে।
  • স্পর্শ, গন্ধ এবং দৃষ্টি হচ্ছে শিশুর শেখার হাতিয়ার , যা দিয়ে সে তার চারপাশের দুনিয়াতে খোঁজে।
  • শিশুদের সাথে কথা বললে, স্পর্শ করলে, জড়িয়ে ধরলে বা যখন ওরা পরিচিত মুখ দেখে, পরিচিত গলা শোনে এবং বিভিন্ন জিনিষ নাড়াচাড়া করে, ওদের মন বিকশিত হয় । ওরা, ভালবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি পেলে এবং পরিবারের সভ্যদের সাথে মেলামেশা করলে, তাড়াতাড়ি শেখে। যে সব শিশুরা নিরাপদ বোধ করে তারা সহজেই স্কুলে এবং জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতে ভাল করে মানিয়ে নেয়।
  • প্রথম ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়ানো, ছয় মাস বয়স থেকে সময়মত নিরাপদ বিকল্প খাদ্য দেওয়া এবং দু বছর বয়স বা তারপরও বুকের দুধ খাওয়ানো, শিশুর পুষ্টি ও শরীরের উপকার কর, স্নেহের অনুভূতি যোগায় ও যত্নকারীর সাথে যোগাযোগ করায়।
  • শিশুর শিক্ষা ও বিকাশের জন্য সবচাইতে প্রয়োজন অন্যদের সাথে মেলামেশা। পিতামাতা এবং অন্য যত্নকারীরা বাচ্চার সাথে যত বেশী কথা বলবে, তত তাড়াতাড়ি বাচ্চা শিখবে। পিতামাতা বা যত্নকারীর উচিৎ বাচ্চার সাথে কথা বলা, কিছু পড়া বা গান গাওয়া। শিশুরা সবসময় কথার মানে বুঝতে না পারলেও এই প্রারম্ভিক কথোপকথন শিশুর ভাষা ও লেখার ক্ষমতার বিকাশ করে। শিশুদের নতুন এবং আকর্ষক জিনিষ দেখতে শুনতে বা ধরতে এবং খেলতে দিয়ে যত্নকারী ওদের শিখতে সাহায্য করতে পারে। শিশু এবং ছোট ছেলেমেয়েদের অনেকক্ষণ একা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ না। এতে ওদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হয়।
  • বাচ্চা মেয়েদেরও ছেলেদের মতো একইরকম খাবার, মনযোগ, ভালবাসা ও যত্ন দরকার হয়। নতুন কিছু করতে বা বলতে শিখলে সব বাচ্চাকেই উৎসাহ দেওয়া এবং প্রশংসা করা দরকার। শিশু শারীরিক বা মানসিকভাবে ভাল না বাড়লে বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য-কর্মীর পরামর্শ নেওয়া দরকার। শিশুদের প্রথমে মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, শিশুর ভাববার ও প্রকাশ করবার ক্ষমতা বাড়ায়। বাচ্চারা গান, পারিবারিক গল্প, ছড়া এবং খেলার মাধ্যমে তাড়তাড়ি ভাষা শেখে এবং সহজে। .
  • যে বাচ্চার টীকাকরণ সময় মতো হয় এবং ঠিকমত পূষ্টি পায় তার বাঁচার, মেলামেশার, খেলার ও শেখার উৎসাহ বেশী হয়। এতে তার স্বাস্থ্য-যত্নের জন্য খরচ, অসুস্থতার জন্য স্কুলে অনুপস্থিতি এবং তাকে দেখাশোনার জন্য পিতামাতার আয়ের ক্ষতি কমায়।

মূল বার্তা ৩ঃশিশুদের খেলতে এবং সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতে উৎসাহ-দান, ওদেরকে শেখা, সামাজিকতা, আবেগপ্রবনতা, শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিগতভাবে বিকশিত করে।

  • বাচ্চারা খেলে কারণ তাতে মজা পায়, কিন্তু খেলা তাদের শেখা এবং বিকাশের মুলেও থাকে। খেলা শিশুদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা গঠন করে এবং তাদের অনুসন্ধিৎসা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
  • শিশুরা শেখে কিছু করার চেষ্টা ক’রে, ফলের তুলনা ক’রে, প্রশ্ন ক’রে এবং অজানার মুখোমুখি হ’য়ে। খেলা ভাষার দক্ষতা, চিন্তাশক্তি, ছক করা, সংগঠণ ও সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা বিকাশ করায়। খেলা এবং উদ্দীপনা বিশেষ করে জরুরী যে সব ছেলের কোনরকম অক্ষমতা আছে।
  • মেয়ে এবং ছেলেদের খেলাধূলার এবং পরিবারের সকলের সাথে মেলামেশার একইরকম সুযোগ দরকার। বাবার সাথে খেলা ও কথাবার্তা বলা, বাবা এবং শিশুর সম্পর্ক জোরদার করে।
  • পরিবারের লোকেরা বা অন্য যত্নকারীরা শিশুদের পরিস্কার নির্দেশসহ ছোটছোট কাজ দিয়ে, খেলার জিনিষপত্র দিয়ে এবং মতুন কোন ক্রিয়াকলাপের পরামর্শ দিয়ে, কিন্তু অদের খেলাধূলার উপর আধিপত্য না করে, শিখতে সাহায্য করতে পারে। শিশুকে নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করুন এবং ওর ধারনাসমূহকে অনুসরণ করুন।
  • যত্নকারীদের ধৈর্য্যশীল হওয়া দরকার যখন একটা ছোট শিশু নিজে নিজে কিছু করতে চায়। বিপদ থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় নতুন ও কষ্টকর কিছু করার চেষ্টা শিশুর বিকাশের জন্য ইতিবাচক। শিশুরা খেলার জন্য খুব সাধারণ জিনিষ চায় যা ওদের স্তরে বিকাশের জন্য উপযুক্ত। জল, বালি কার্ডবোর্ডের বাক্স, ইঁট, পাত্র এবং ঢাকনা ইত্যাদি ওদের কাছে দোকানের কেনা খেলনার মতই জরুরী।
  • বাচ্চাদের ক্রমাগত পরিবর্তন হয় এবং নতুন ক্ষমতা অর্জন করে। যত্নকারীদের উচিৎ ওদের পরিবর্তন লক্ষ্য করা এবং গতিবিধি অনুসরণ ক’রে আরও দ্রুত বিকাশে সাহায্য করা।

মূল বার্তা ৪ঃনিকটজনের নকল করে শিশুরা ব্যবহার শেখে।

শিশুরা তাদের নিকটজনের নকল করে ব্যবহার শেখে। ওরা শেখে কী ধরণের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য বা নয়

  • বড়দের বা অপেক্ষাকৃত বড়শিশুদের তৈরী উদাহরণ শিশুদের ব্যবহার গঠণে খুব জোরালো প্রভাবশালী হয়। শিশুরা অন্যদের নকল করে শেখে, ওদেরকে কী করতে বলা হচ্ছে, সেটা শুনে নয়। যদি বড়রা চীৎকার করে বা চরম বযবহার করে, শিশুরাও ওইরকম ব্যবহার শিখবে। বড়রা যদি অন্যদের সাথে সদয়তা , সন্মান এবং ধৈর্য্যের সাথে ব্যবহারকরে, শিশুরাও অনুসরণ করবে।
  • শিশুরা ভান করতে ভালবাসে। এটাতে উৎসাহদান দরকার যেহেতু এটা শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ায়। অন্যেরা কেমন ব্যবহার করে বুঝতে ও গ্রহণ করে নিতে সাহায্য করে।

মূল বার্তা ৫ঃসব পিতা-মাতার এবং যত্নকারীদের বাচ্চাদের বেড়ে ওঠা ও বিকাশ এর সম্পর্কে বিপদ সংকেত জানা দরকার

  • পিতা-মাতা ও যত্নকারীদের প্রয়োজনীয় পরিমাপ-ফলক জানা দরকার, যা জানাবে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ হচ্ছে কী না। ওদের এটাও জানা দরকার যে কখন সাহায্য চাইতে হবে এবং কী করে শারীরিক বা মানসিকভাবে অসমর্থ শিশুর জন্য যত্ন ও ভালবাসার পরিবেশ তৈরী করা যাবে। সব শিশু একইরকমভাবে বড় হয় ও বিকশিত হয়, কিন্তু প্রতি শিশুর বিকাশের গতি বিভিন্ন হয়। স্পর্শ, শব্দ এবং দৃশ্যে বাচ্চাদের কেমন প্রতিক্রিয়া হয় তা লক্ষ্য করে পিতামাতারা বুঝতে পারবেন যে বাচ্চার বিকাশের সমস্যা বা অসামর্থ্য আছে কী না। যদি বিকাশ ধীরে হয়, পিতা-মাতা ও যত্নকারীরা তারসাথে বেশী সময় দিয়ে, কথা বলে বা মাসাজ্‌ করে সাহায্য করতে পারেন।
  • যদি শিশু এইসব মনযোগ ও উদ্দীপনায় সাড়া না দেয়, পিতা-মাতা বা যত্নকারীর সাহায্য নেওয়া দরকার। অসমর্থ শিশুদের পূর্ণতায় পৌছোনোর জন্য তাড়তাড়ি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। পিতামাতা এবং যত্নকারীর, শিশুর সামর্থ্য অনুযায়ী সবচাইতে বেশী বিকাশের জন্য, উৎসাহ দেওয়া দরকার।
  • কোনরকম অসমর্থ ছেলে বা মেয়ের একটু বেশী ভালবাসা ও সুরক্ষা দরকার। অন্য ছেলেমেয়েদের মত এদেরও জন্মের সময় বা পরেই নথিভুক্ত করতে হয়, বুকের দুধ খাওয়াতে, টীকাকরণ করতে ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হয়, এবং নির্যাতন ও মারধোর থেকে বাঁচাতে হয়। অসমর্থ শিশুদের খেলতে এবং অন্য শিশুদের সাথে মেলামেশা করতে উৎসাহ দিতে হয়।
  • যে শিশুর আবেগজনিত সমস্যা আছে বা অসুখী, সে অস্বাভাবিক ব্যবহার করতে পারে। যেমন হঠাৎ করে প্রতিকুল ভাবাপন্ন হওয়া, দুঃখিত, অলস, দুষ্টামী করা, কান্না, অন্য বাচ্চাদের সাথে ঝগড়া, অন্যদের সাথে না খেলে একা একা বসে থাকা, বা হঠাৎ করে স্বাভাবিক কাজকর্মে, স্কুলের কাজ, ক্ষিদে ইত্যাদিতে উৎসাহ হারানো।
  • পিতামাতাকে বোঝাতে হবে শিশুর সাথে কথা বলতে ও শুনতে। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষক বা স্বাস্থ্য-কর্মীর পরামর্শ নিতে হবে।
  • যদি কোন শিশুর মানসিক বা আবেগজনিত সমস্যা থাকে, নির্যাতিত হয়ে থাকে, তাকে পরামর্শদান করাতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা না হয়।

এই নির্দেশ পিতামাতাকে একটা ধারনা যে দেয় শিশুদের বিকাশ কী করে হয়। সব শিশুদের বড় হওয়া এবং বিকাশের মধ্যে তফাৎ থাকে। দেরী করে অগ্রগতি, কম পুষ্টি, খারাপ স্বাস্থ্য বা উদ্দীপনার অভাবের বা অন্য গুরুতর সমস্যার জন্য হতে পারে। পিতা-মাতা মনে করলে বাচ্চার বিকাশ সম্পর্কে শিক্ষক অথবা স্বাস্থ্য-কর্মীর সাথে আলোচনা করতে পারেন।

শিশুদের কেমন করে বিকাশ হয়

এক মাস বয়স পর্যন্ত

একটি শিশুর পারা উচিৎঃ

  • গালে বা মাথায় হাত বোলালে সেদিকে মাথা ঘোরানো
  • উভয় হাত মুখের দিকে আনা
  • পরিচিত গলার আওয়াজ বা শব্দ শুনলে সেদিকে ঘোরা
  • স্তন চোষা এবং হাত দিয়ে ছোঁয়া

পিতা-মাতা এবং যত্নকারীগণের জন্য উপদেশঃ

  • বাচ্চাকে এমনভাবে ধরুন যাতে চামড়ার সাথে চামড়ার সংস্পর্শ হয় রবং জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ান
  • বাচ্চাকে যখন খাড়া করে ধরবেন মাথায় সাপোর্ট দিন
  • প্রায়ই বাচ্চাকে মাসাজ্‌ করুন এবং জড়াজড়ি করে আদর করুন
  • সবসময় বাচ্চাকে মৃদুভাবে ধরুন ক্লান্ত বা অশান্তি থাকলেও
  • প্রায়ই বুকের দুধ খাওয়ান, অন্ততপক্ষে চারঘন্টা পরপর
  • যতবার সম্ভব বাচ্চার সাথে কথা বলুন, কিছু পড়ুন বা গান করুন
  • জন্মের ৬ সপ্তাহ পরে বাচ্চাকে নিয়ে স্বাস্থ্য-কর্মীর কাছে যান

যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

  • দুর্বল্ভাবে স্তন চোষা বা চুষতে আপত্তি করা
  • জোরে আওয়াজ বা উজ্বল আলোয় কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়া
  • অনেকক্ষণ ধরে কান্না
  • বমি ও পায়খানা, যার ফলে শরীরে জলের ভাগ কমে যেতে পারে

৬ মাস বয়সে

শিশুর যা পারা উচিৎ

  • উবু হয়ে শুলে মাথা ও বুক উপরে তোলা
  • ঝুলছে এমন জিনিষ ধরার চেষ্টা
  • বিভিন্ন জিনিষ ধরা এবং ঝাঁকানো
  • দুদিকে ফেরা
  • সাহায্য নিয়ে বসা
  • হাত ও মুখ দিয়ে সব জিনিষ যাচাই করা
  • শব্দ এবং মুখের ভাব নকল করতে শুরু করা
  • নিজের নাম শুনলে বা পরিচিত মুখ দেখলে প্রতিক্রিয়া হওয়া

পিতা-মাতা এবং যত্নকারীগণের জন্য উপদেশঃ

  • বাচ্চাকে একটা পরিস্কার, নিরাপদ সমতলে রাখুন, যাতে মুক্তভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং জিনিষপত্র ধরতে পারে
  • বাচ্চাকে তুলে ধরুন এমনভাবে, যেন সে আশপাশে কী হচ্ছে দেখতে পায়
  • দিনে রাত্রে, চাইলেই বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন, তার সাথে অন্য খাবারও দিতে শুরু করুন(৬থেকে ৮ মাস বয়স পর্যন্ত দিনে দুবার, ৮ থেকে ১২ মস পর্যন্ত দিনে তিন থেকে চারবার)।
  • যতবার সম্ভব শিশুর সাথে কথা বলুন, পড়ুন বা গান শোনান

যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

  • আড়ষ্টতা বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়াচড়ায় অসুবিধা
  • অনবরত মাথানাড়া (এটা কানে সংক্রমন থেকেও হোতে পারে, চিকিৎসা না হলে বধিরতা হতে পারে)
  • শব্দে, পরিচিত মুখ দেখে বা স্তন দেখে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়া বা অল্প হওয়া
  • স্তন বা অন্য খাবার ফিরিয়ে দেওয়া

১২ মাস বয়সে

শিশুর যা পারা উচিৎঃ

  • সাহায্য ছাড়া বসা
  • হামাগুড়ি দেওয়া এবং দাড়িয়ে ওঠা
  • কিছু ধরে পা বাড়ানো
  • শব্দ এবং কথা নকল করার চেষ্টা করা এবং কিছু বললে বোঝা
  • খেলতে এবং হাততালি দিতে ভালবাসা
  • কোন শব্দ বা ভঙ্গীর পুনরাবৃত্তি করা
  • বুড়ো আঙুল এবং তর্জনী দিয়ে কোন জিনিষ তোলা
  • কোন জিনিষ ধরা, যেমন কাপ, চামচ, এবং নিজে নিজে খাওয়ার চেষ্টা করা

পিতা-মাতা এবং যত্নকারীগণের জন্য উপদেশঃ

  • জিনিষের দিকে দেখিয়ে তার নাম বলুন, শিশুর সাথে প্রায়ই খেলুন ও কথা বলুন
  • খাবার সময় সবার সাথে মেলামেশায় উৎসাহ দিন
  • যদি শিশুর বিকাশ ধীরে হয় বা কোন অসামর্থ্য থাকে, যেসব সামর্থ্য আছে তাতে জোর দিন এবং বাড়তি উদ্দীপনা ও বেশী মেলামেশা করুন
  • বাচ্চাকে এক জায়গায় অনেকক্ষণ ছেড়ে রাখবেন না
  • দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য বাচ্চার আশপাশ যতটা সম্ভব নিরাপদ রাখুন
  • বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন এবং খেয়াল রাখুন যেন পর্যাপ্ত খাবার থাকে। অনেকরকম বাড়ীর খাবারও যেন যথেষ্ট পরিমানে থাকে
  • শিশুকে কাপ ও চামচ দিয়ে নিজে খাওয়ার পরীক্ষা করতে দিন
  • শিশুর সব টীকাকরণ এবং পরামর্শ মত সব মাইক্রোনিউট্রিয়েণ্ট বিকল্প দেওয়া নিশ্চিত করুন

যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

  • অন্যদের শব্দের প্রতিক্রিয়ায় শিশু শব্দ করে না
  • নড়াচড়া করা বস্তুর দিকে শিশু তাকায় না
  • শিশু অষহিষ্ণু এবং যত্নকারীর প্রতি প্রতিক্রিয়া নেই
  • শিশুর ক্ষিদেবোধ নেই বা খাবার ফিরিয়ে দেয়

দুই বছর বয়স পর্যন্ত

শিশুর যা পারা উচিৎঃ

  • হাটা, ঊঁচুতে চড়া এবং দৌড়োনো
  • কোন জিনিষ বা ছবির নাম বললে সেটার দিকে দ্যাখানো (যেমন নাক, কান)
  • কয়েকটা শব্দ একসাথে বলা (১৫ মাস বয়স থেকে)
  • সাধারণ নির্দেশ পালন করা
  • একটা পেন্সিল বা রঙপেন্সিল দিলে আঁকিবুকি করা
  • সাধারণ গল্প বা গানে মজা পাওয়া
  • অন্যদের ব্যবহার নকল করা
  • নিজে নিজে খাওয়া শুরু করা

পিতা-মাতা এবং যত্নকারীগণের জন্য উপদেশঃ

  • বাচ্চার সাথে পড়ুন, গান করুন বা খেলুন
  • বাচ্চাকে বিপজ্জনক জিনিষ এড়িয়ে যেতে শেখান
  • বাচ্চার সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন, বাচ্চাদের মত করে কথা বলবেন না
  • বুকের দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন এবং নিশ্চিত করুন যেন বাচ্চা যথেষ্ট খাবার পায় এবং বাড়ীর খাবারও
  • বাচ্চাকে খেতে উৎসাহ দিন, জোর করবেন না
  • সাধারণ কিছু নিয়ম এবং জুক্তিসংগত কিছু প্রত্যাশা বলে দিন
  • বাচ্চার করা কাজের জন্য প্রশংসা করুন

যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

  • অন্যদের প্রতি প্রতিক্রিয়ার অভাব
  • হাঁটার সময় ভারসাম্য ঠিক রাখতে অসুবিধা(একজন পরিশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে যান)
  • আঘাত এবং ব্যবহারের অবোধগম্য রকম পরিবর্তন(বিশেষতঃ যদি শিশু অন্যদের দ্বারা প্রতিপালিত হয়ে থাকে)
  • ক্ষিদের অভাব

তিন বছরের সময়

শিশুর যা পারা উচিৎঃ

  • সহজে হাঁটা, দৌড়োনো, চড়া, পা ছোঁড়া এবং লাফানো
  • সাধারণ বস্তুসমূহ ও ছবি চেনা এবং আঙুল দিয়ে চিহ্নিত করা
  • দুই বা তিন শব্দ দিয়ে বাক্য রচনা করা
  • নিজের নাম ও বয়স বলা
  • রঙের নাম বলা
  • সংখ্যা বোঝা
  • খেলায় মিছিমিছি জিনিষ ব্যবহার করা
  • নিজেকে খাওয়ানো
  • ভালবাসা প্রকাশ করা

পিতা-মাতা এবং যত্নকারীগণের জন্য উপদেশঃ

  • বাচ্চার সাথে বই পড়ুন ও দেখুন এবং ছবিগুলো নিয়ে কথা বলুন
  • বাচ্চাকে গল্প বলুন এবং ছড়া ও গান শেখান
  • শিশুকে তার নিজের আলাদা খাবারের প্লেট বা বাটি দিন
  • শিশুকে খেতে উৎসাহ দিন, তার নিজের প্রয়োজন মত সময় নিয়ে
  • শিশুকে পোষাক পরতে, হাত ধুতে এবং শৌচাগার ব্যবহার করতে সাহায্য করুন

যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

  • খেলাধুলায় উৎসাহের অভাব
  • বারবার পড়ে যাওয়া
  • ছোট ছোট জিনিষকে সামলাতে অসুবিধা
  • সাধারণ কথা বুঝতে না পারা
  • বেশ কয়েকটা শব্দ দিয়ে কথা বলতে অসমর্থতা
  • খাবারে উৎসাহ না থাকা বা কম থাকা

পাঁচ বছর বয়সে

শিশুর যা পারা উচিৎঃ

  • সুসমঞ্জসভাবে চলাফেরা করতে
  • সম্পূর্ণ বাক্যে কথাবলতে এবং অনেক বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করতে
  • বিপরীত অর্থ বুঝতে(যেমন মোটা এবং পাতলা, লম্বা এবং বেটে)
  • অন্য শিশুদের সাথে খেলতে
  • সাহায্য ছাড়াই পোষাক পড়তে
  • সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে
  • পাঁচ থেকে দশটা জিনিষ গুনতে
  • নিজের হাত ধুতে .

পিতা-মাতা এবং যত্নকারীগণের জন্য উপদেশঃ

  • বাচ্চার কথা শুনুন
  • বাচ্চার সাথে প্রায়ই কথাবার্তা বলুন
  • যদি বাচ্চা তোতলায়, ধীরে ধীরে কথা বলতে উপদেশ দিন
  • গল্প পড়ুন এবং বলুন
  • বাচ্চাকে খেলতে এবং খুঁটিয়ে দেখতে উৎসাহ দিন .
  • যে সব বিপদসংকেতের জন্য লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

    • খেলার সময়ে বাচ্চা কেমন করে অংশ নেয় লক্ষ্য করুন। যদি সে ভীত হয়, রাগারাগি করে বা মারামারি করে সেটা আবেগজনিত সমস্যা বা নির্যাতনের চিহ্ন হতে পারে

    সুত্রঃ UNICEF

2.9765625
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top