হোম / স্বাস্থ্য / জীবনের জন্য তথ্য / স্তন্যদুগ্ধ পোষণ
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

স্তন্যদুগ্ধ পোষণ

স্তন্যদুগ্ধ দ্বারা প্রতিপালনের বিষয়ে তথ্য সকলকে জানানো কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

স্তন্যদুগ্ধ দ্বারা প্রতিপালনের বিষয়ে তথ্য সকলকে জানানো কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

  • যে সকল শিশুদের স্তন্যদুগ্ধ বা মায়ের দুধ খাোয়ানে হয় তারা অন্য সকল শিশুদের থেকে যাদের অন্যান্য দুধ বা খাবার খাওয়ানো হয় তাদের থেকে বেশি পোষণ পায় ও সাস্থ্যবান হয়ে ওঠে ৷যদি জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশুদের শুধু স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানো হয় তাহলে অন্তত 10 লাখ 50 হাজার শিশুদের বাঁচানো যাবে এবং লখ্য লখ্য শিশুদের সাস্থ্যের উন্নতি করা যাবে ৷
  • যদি মায়ের দুধ খাওয়ানো হয় তাহলে শিশুদের সাস্থ্যের ক্ষতি হবে না আর যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য না পাওয়া যায় যা অনেক সময় ব্যায়বহুল হতে পারে বা পরিষ্কার জল না পাওয়ার ফলে শিশুকে খাওয়ানো যায় না তখন মায়ের দুধ সবচেয়ে ভাল বিকল্প ৷
  • সব মায়েরা শিশুদের স্তন্যদুগ্ধ খাওয়াতে পারেন ৷যারা খাওয়াতে ভয় পান বা সাহস পান না তাদের উত্সাহ জোগাতে হবে বাড়ির লোকেদের দ্বারা, শিশুর পিতা বা অন্য আত্মীয়দের উচিত্‌‍ সাকে সাহস দেওয়া ৷ সাস্থ্যকর্মী বা মহিলা সংস্থার কর্মীরা বা গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা উত্সাহ দিয়ে পারেন ৷
  • সকলের কাছেই স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানোর সুবিধা ও লাভের সম্বন্ধে তথ্য পৌঁছোনো দরকার এবং প্রত্যেক সরকারের এই দায়িত্ব এই সকল তথ্য প্রদান করা ৷

প্রত্যেক পরিবার এবং সম্প্রদায়ের স্তন্যদুগ্ধ পানের সমেপর্কে সব তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে

  • স্তন্যদুগ্ধ একমাত্র খাদ্য যা শিশুর প্রয়োজন প্রথম ছয় মাসে৷ অন্য কোন খাদ্য বা পানিয় এই সময়ে প্রয়োজন হয় না এমন কি জন ও না ৷
  • যদি মায়ের HIV হয়ে থাকে তাহলে স্তন্যদুগ্ধের দ্বারা তার শিশুর শরীরেও এই ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে তাই যদি মায়ের শরীরে HIV র আশঙ্কা থাকে তাহলে কোন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার ৷সঠিক পরীক্ষা, পরামর্শ করা ও নেওয়া আবশ্যক যাতে শিশুকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচানো যায়৷
  • সদ্যজাত শিশুদের মায়ের কাছে রাখতে হবে এবং জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে ৷
  • ঘন ঘন স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ালে মায়েদের শরীরে দুগ্ধ উত্পাদন ক্ষমতা বেড়ে যায় ৷ প্রায় সব মায়েরাই স্তন্যদুগ্ধ খাওয়াতে পারেন ৷
  • স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ালে শিশুদের রোগ হওয়া থেকে বা অসুস্থ হওয়া থেকে বাঁচানো যায় এবং মায়ের সাথে শিশুর এক আন্তরিক বন্ধন তৈরি করে৷
  • বোতলের দুধ খাওয়ালে সেটা মৃত্য বা অসুস্থতার কারণ হত পারে তাই যদি মা শিশুকে না খাওয়াতে পারে তাহলে স্তন্যদুগ্ধ বা তার বিকল্প কোন পরিষ্কার কাপে খাওয়াতে হবে ৷
  • শিশুর ছয় মাস বয়স থেকে বিভিন্ন রকমের অন্যান্য খাবার দরকার হয় মায়ের দুধ ছারাও, তবে স্তন্যদুগ্ধ শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত থাওয়ানো দরকার ৷
  • যদি মা কে বাড়ির বাইরে কাজের জন্য থাকতে হয় তাহলে ফিরে এসে যখন সম্ভব তখনই শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারেন শিশুর সাথে থাকা কালিন ৷
  • যদি মা শিশুকে শুধু স্তন্যদুগ্ধ খাইয়ে রাখেন তাহলে মাকে ছয় মাস অবধি গর্ভবতি হওয়া থেকে আটকায়, তবে মায়ের রজঃস্রাব যদি শুরু না হয়ে থাকে এবং শিশু যদি সব সময়ে সায়ের দুধের উপর নির্ভর করে এবং তাকে শুধু স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানো হয় অন্য কোন খাদ্য না দিয়ে বা নিপল বা তার কোন প্রতিরূপ কিছু না দিয়ে ৷

প্রয়োজনীয় তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 1 : স্তন্যদুগ্ধ একমাত্র খাদ্য যা শিশুর প্রয়োজন প্রথম ছয় মাসে৷ অন্য কোন খাদ্য বা পানিয় এই সময়ে প্রয়োজন হয় না এমন কি জল ও না ৷

স্তন্যদুগ্ধ শিশুর জন্য সবচেয়ে ভাল৷পশুর দুধ বা গুঁড়ো দুধ ,অন্য পানিয় যেমন চা,শরবত, খাদ্যশস্য জল এই সব কিছুর চেয়েও মায়ের দুধ ভাল ৷

স্তন্যদুগ্ধ শিশুর সহজেই হজম হয়ে যায় আর শিশুর বেড়ে ওঠা এবং সাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল যা শিশুকে রোগ থেকে বা অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে ৷

গরমে, শুক্ন অঞ্চলে স্তন্যদুগ্ধ শিশুর শরীরের তরল পদার্থের প্রয়োজন পূরন করে প্রথম ছয় মাস জল বা অন্য কোন পানিয়ের প্রয়োজন হয় না ৷ অন্য কোন পানিয় শিশুর শরীরে ডায়োরিয়ার বা অন্য অসুখের কারণ হতে পারে ৷

যে সকল শিশুদের খাদ্য পাওয়া যায় যে গুলির দাম অত্যন্ত বেশি৷ যেমন একটি শিশুর জন্য 40 কেজি (প্রায় 80 টিন) শিশু খাদ্য প্রয়োজন তাই সাস্থ্য কর্মির উচিত্ বলে দেওয়া যে মায়ের দুধ কমিয়ে শিশুদের খাদ্য খাওয়ালে সেটা ব্যায়বহূল ৷

যদি ছয় মাসের মধ্যে শিশুর ওজোন না বাড়ে তাহলে:

  • শিশুকে মায়ের দুধ অনেক বেশি খাওয়ানো দরকার ৷অন্তত 24 ঘন্টায় 12 বার ৷ প্রত্যেক 15 মিনিটে একবার খাওয়ানো দরকার৷
  • শিশুকে দুধ ঠিক ভাবে পান করানোর জন্য মায়ের সহায়তা দরকার যাতে মুখের ভেতরে দুধ ঠিক মত পৌঁছায় ৷
  • শিশু যদি ঠিক মত খেতে না পারে তাহলে সে অসুস্থ হতে পারে এবং সাস্থ্য কর্মি বা ডাক্তার দেখানো উচিত্ ৷
  • জল বা অন্য কোন পানিয় দুধ খাওয়ার পরিমান কমিয়ে দেয় ৷

অন্য কিছু না খাইয়ে শুধু মায়েদের স্তন্যদুগ্ধ শিশুকে খাওয়ানো উচিত্৷

ছয় মাসের চেয়ে বড় শিশুদের মায়ের দুধের চেয়ে অন্য খাদ্য দেওয়া প্রয়োজন এবং শিশু দু বছর হওয়া অবধি মায়ের দুধ বন্ধ করা ঠিক নয়৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 2

যদি মায়ের HIV হয়ে থাকে তাহলে স্তন্যদুগ্ধের দ্বারা তার শিশুর শরীরেও এই ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে তাই যদি মায়ের শরীরে HIV র আশঙ্কা থাকে তাহলে কোন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার ৷সঠিক পরীক্ষা, পরামর্শ করা ও নেওয়া আবশ্যক যাতে শিশুকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচানো যায়৷

এটা সবার জানা দরকার কি করে HIV ইনফেকশান থেকে দূরে থাকা যায় ৷ গর্ভবতি মায়েদের এটা জানা দকরার যে তাদের যদি HIV হয়ে থাকে তাহলে স্তন্যদুগ্ধের দ্বারা অথবা গর্ভবতি অবস্থায় শিশুর শরীরেও এই ভাইরাস আক্রমণ হতে পারে ৷

এই ইনফেকশান ছরানোর থেকে আটকাতে হবে৷ তাই যৌন ক্রিয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে সেটা সুরক্ষিত কিনা, কন্ডম ব্যবহার করে বা যাতে একের শরীর থেকে অন্যের শরীরে এটা না ছরায় তার খেয়াল রেখে ৷ যাদের এই ইনফেকশান হয়েছে তাদার অন্যের সাথে যৌন সম্পর্ক না রেখে ৷

যে মায়েদের HIV ইনফেকশান হয়েছে বা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের সঠিক পরীক্ষা, পরামর্শ করা ও নেওয়া আবশ্যক প্রশিক্ষিত সাস্থ্য কর্মী বা ডাক্তারের কাছ থেকে ৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 3: সদ্যজাত শিশুদের মায়ের কাছে রাখতে হবে এবং জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে ৷

  • যতখন সম্বভব সদ্যজাত শিশুর মায়ের গায়ের সাথে লেগে থাকে ভাল ৷মা ও শিশু একই বিছানায় বা ঘরে থাকতে পারলে উভয়ের জন্যেই এটা ভাল ৷ যথনই শিশুর খিদে পাবে তখনই মায়ের দুখ খাওয়ানো দরকার ৷
  • শিশুর জন্মের পরেই মা দুধ খাওয়াতে শুরু করলে মায়ের শরীরে দুধ তৈরী করতে শুরু করে যাতে শিশুর প্রয়োজন মেটানো যায় ৷ আর মায়ের ইউট্রাস বা জরায়ু কে বাড়তে দেয় না যার ফলে রক্তক্ষরণ বা ইনফেকশান এড়ানো যায় ৷
  • কলোসট্রাম বা স্তন্যদুগ্ধ যা গাঢ় হলুদ দুধ,শিশুর জন্মের পর থেকে মায়ের শরীরে তৈরী হয় যা শিশুর জন্য সবচেয়ে ভাল খাবার এটা সব চেয়ে পুষ্টিকর এবং শিশুকে ইনফেকশান থেকে রক্ষা করে যদি কখন মায়েদের কে বলা হয় যে শিশুকে স্তন্যদুগ্ধ পান না করাতে তাহলে এটা যেনে রাখা দরকার যে এই উপদেশ এক দম ভুল ৷
  • শিশুর এই সময়ে শুধু মায়ের দুধ ছারা অন্য কিছুর প্রয়োজন হয় না এবং স্তন্যদুগ্ধ খাওয়া বেড়ে যায় ৷
  • যদি শিশুর জন্ম হাসপাতালে হয়ে থাকে তাহলে ২৪ ঘন্টা মায়ের কাছে শিশুকে রাখতে মা আশা করতে পারেন, আর যদি তিনি শিশুকে স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ান তাহলে অন্য কোন শিশুখাদ্য বা জল দেওয়া হবে না৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 4: ঘন ঘন স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ালে মায়েদের শরীরে দুগ্ধ উত্পাদন ক্ষমতা বেড়ে যায় ৷ প্রায় সব মায়েরাই স্তন্যদুগ্ধ খাওয়াতে পারেন ৷

নতুন মায়েদের কোন কোন সময় উত্সাহ এবং সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে শিশুকে স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানোর আগে অন্য কোন মহিলা যিনি আগে নিজের শিশুকে খাইয়েছেন পরিবারের কোন মহিলা সদস্য বা কোন বন্ধু অথবা মহিলা স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানোর গোষ্ঠীর সদস্য মায়ের অসুবিধা এবং ভয় দূর করতে পারেন ৷

মা কি করে শিশুকে ধরবেন এবং শিশু কি করে মায়ের দুধ খাবে সেটা জানা দরকার,মা যদি শিশুকে ঠিক মত তুলে ধরেন তাহলে শিশুর মুখে মায়ের সেতন ঠিক করে ঢুকতে পারে এবং দুধ খেতে শিশুর সুবিধা হয় ৷

শিশুকে সঠিকভাবে ধরা জরুরি স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানোর জন্য:

  • শিশুর শরীর মায়ের দিকে ঘুরিয়ে রাখতে হবে
  • শিশুর শরীর মায়ের খুব খাছে থাকতে হবে
  • শিশুকে খুশি এবং আরামে রাখা দরকার

শিশুকে যদি ঠিক মত না ধরা হয় দুধ খাওয়ার সময় তাহলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে :

  • স্পর্সকাতর এবং ফেটে যাওয়া স্তন-বৃন্ত
  • কম দুধ
  • খাওয়াতে অনিচ্ছা

শিশু যদি ঠিক মত দুধ পান করে :

  • শিশুর মুখ খোলা দরকার ঠিক করে
  • শিশুর থুতনি মায়ের ম্তন কে ছোঁয়া দরকার
  • মায়ের স্তনের কালো যায়গাটা শিশুর মুখের উপরে থাকা ভাল নিচে থাকার থেকে
  • শিশু অনেকক্ষন ধরে লম্বা টান দিয়ে দুধ খাওয়া
  • মায়ের স্তন-বৃন্তে কোন ব্যাথা অনুভব না করা

প্রায় সব মায়েরাই যখন দরকার দুধ খাওয়াতে পারেন :

  • শুধু স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ান
  • শিশু ঠিক ভাবে মায়ের স্মন মুখে নিয়ে দুধ খেতে পারে
  • ষখন খিদে পায় তখনই শিশু দুধ খায় অনেকক্ষন ধরে এমন কি রাতে ঘুমের মধ্যেও

জন্মের পর থেকে শিশুর যখনই ইচ্ছে শিশুকে স্তন্যদুগ্ধ পান করাতে হবে যদি শিশু তিন ঘন্টার বেশি ঘুমায় তখন তাকে আলতো করে ঘুম থেকে তুলে খাওয়াতে পারেন ৷

সব সময়ে কান্না খিদে পাওয়ার চিহ্ন হয় না ৷শিশুকে আদর করলে কান্না থেমে যেতে পারে ৷কোন কোন শিশু মায়ের স্তন চুষলে আরামে থাকে আর বেশি চুষলে বেশি দুধ তৈরী হবে ৷

মায়েরা যারা ভয় পেয়ে কম দুধ হওয়ার ফলে শিশুদের অন্য শিশুখাদ্য বা পানিয় দেন তাতে শিশু মায়ের স্তন্যদুগ্ধ কম খায় এবং সায়ের শরীরে দুধ কম তৈরী হয় ৷ যদি শিশু শুধু মায়ের দুধ খায় তাহলে মায়ের শরীরে বেশি দুধ তৈরী হয় ৷

নকল নিপল বা বোতল শিশুদের দেওয়া ঠিক না কারণ স্মন্যদুগ্ধ খাওয়া আর এই সব চোষার মধ্যে পার্থক্য আছে তাই শিশুর স্মন্যদিগ্ধ পান করায় অসুবিধা হতে পারে আর মা কম দুধ খাওয়ানোতে সক্ষম হতে পারে কারণ শরীরে কম দুধ তৈরীর ফলে ৷

মায়েদের এই আশ্বাস দিতে হবে যে কোন অসুবিধা ছারাই শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারেন এবং এটাই শিশুর পুষ্টির জন্য যথেষ্ট ৷ শিশুর পিতা অন্য পরিবারের সদস্যদের উত্সাহ চাই মহিলা স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানোর গোষ্ঠীর সদস্য বা সাস্থ্য কর্মীর সাহায্য দরকার হতে পারে ৷

স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ালে মায়ের বিশ্রাম ও হতে পারে ৷ পিতা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা মাকে এই সময়ে বিশ্রাম করতে দিয়ে সাহায্য করতে পারেন ৷ এই সময়ে মায়ের সাস্থ্যের খেয়াল রাখতে হবে ঠিক ঠাক খাওয়া দাওয়া করতে হবে ৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 5:স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ালে শিশুদের রোগ হওয়া থেকে বা অসুস্থ হওয়া থেকে বাঁচানো যায় এবং মায়ের সাথে শিশুর এক আন্তরিক বন্ধন তৈরি করে৷

  • স্তন্যদুগ্ধ শিশুর প্রথম শক্তি তৈরী করে রোগের সাথে লড়ার জন্য পেটের অশুখ, কান বা বুকে ইনফেকশান বা অন্য অশুখ বা সমস্যার সাথে লড়াই করার জন্য সাহায্য করে শুধু মায়ের দুধ খেলে শরীর সবচেয়ে ভাল থাকে স্তন্যদুগ্ধ একমাত্র খাদ্য যা শিশুর প্রয়োজন প্রথম ছয় মাসে৷ অন্য কোন খাদ্য বা পানিয় এই সময়ে প্রয়োজন হয় না এমন কি জল ও না ৷
  • যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয় তারা বেশী আদর এবং জোর পায় সেই সকল শিশুদের থেকে যারা বোতলের দুধ খেয়ে বড় হয় আদর এবং মায়ের সাথে বেশি সময় কাটালে শিশুরা ভাল মত বড় হয় এবং তারা বেশি সুরক্ষিত বোধ করে ৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 6: বোতলের দুধ খাওয়ালে সেটা মৃত্য বা অসুস্থতার কারণ হত পারে তাই যদি মা শিশুকে না খাওয়াতে পারে তাহলে স্তন্যদুগ্ধ বা তার বিকল্প কোন পরিষ্কার কাপে খাওয়াতে হবে ৷

  • অপরিষ্কার বোতল এ খাওয়ালে ডাইরিয়া বা কানে ইফেকশান হওয়ার সম্ভবনা থাকে ৷ এতে শিশুদের খুব ক্ষতি হতে পারে প্রাণ নাসের ভয় ও থাকে ৷ যদি জলে ফুটিয়ে বোতল বা নিপল পরিষ্কার না করা হয় তাহলে ডাইরিয়া হতে পারে আর যে সব শিশুদের বোতলে খাওয়ানো হয় তাদের ডাইরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ৷
  • যদি মা স্তন্যপান না করাতে পারেন তাহলে মায়ের থেকে দুধ নিয়ে পরিষ্কার কাপে নিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে অথবা কোন সুস্থ্য মায়ের থেকে দুধ নিয়ে খাওয়াতে পারেন ৷শিশুকে বোতোলের থেকেও বাটিতে খাওয়া সুবিধাজনক এবং সেটা পরিষ্কার করা সুবিধে ৷সদ্যজাত শিশুকেও বাটিতে করে দুধ থাওয়াতে পারেন ৷
  • যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না সে ক্ষেত্রে সব চেয়ে ভাল উপায় অন্য মায়ের থেকে দুধ নিয়ে খাওয়ানো ৷
  • স্তন্যদুগ্ধ যদি না পাওয়া যায় তাহলে তার পরিবর্তে শিশু খাদ্য পরিষ্কার বাটিতে খাওয়াতে হবে ৷ যে সব শিশুদের শিশুখাদ্য খাওয়ানো হয় তাদের অসুখ হওয়ার বা মৃত্যুর সম্ভবনা বেশি থাকে ৷
  • অন্য শিশুখাদ্যের জন্য রোগ দেখা দিতে পারে বা শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষথি হতে পারে ৷ জল যদি কম মেশানো হয় বা জল যদি অপরিষ্কার হয় তাহলে রোগ দেখা দিতে পারে ৷ জল ভালো করে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে তার পরে শিশুর খাদ্য মেশানো উচিত্ ৷
  • পশুর দুধ যদি খাদ্যের সাথে মেশানো হয় তাহলে সেটা খারাপ হয়ে যেতে পারে ৷ স্তন্যদুগ্ধ আট ঘন্টা পর্যন্ত ঠিক থাকে যদি ঘরে পরিষ্কার পাত্রে রাখা হয় ৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 7: শিশুর ছয় মাস বয়স থেকে বিভিন্ন রকমের অন্যান্য খাবার দরকার হয় মায়ের দুধ ছারাও, তবে স্তন্যদুগ্ধ শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত থাওয়ানো দরকার ৷

যদিও শিশুদের মায়ের দুধ দরকার তা ছারাও অন্যান্য খাদ্য দরকার হয় ছয় মাস পরে প্রোটিন এনারেজি নিউট্রাশন দরকার হয় যেমন ভিটামিন এ, এবং আইরন ৷ স্তন্যদুগ্ধ যতক্ষন শিশুকে দেওয়া হয় শিশুকে রোগ থেকে বাঁচানো যায় ৷ ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো ভাল অন্য খাবার শুরু করার আগে প্রচুর পরিমানে মায়ের দুধ খাওয়ানো দরকার ৷শিশুর খাবারে সেদ্ধ করা সবজি চাল ডাল এবং ফল অল্প তেল এবং কখন কখন মাংশ ডিম খাওয়ানো দরকার ৷জন্মের দু বছর পরে খাবারের পরে মায়ের দুধ খাওয়ানো যেতে পারে এবং অন্য মসয়েও খাওয়াতে পারেন যখনই শিশু খেতে চাইবে৷

পরিপূরক স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানোর নিয়মাবলিগুলি হল :

৬ থেকে ১২ মাস অবধি:

স্তন্যদুগ্ধ ঘন ঘন খাওয়ান আর অন্যান্য খাবার তিন থেকে চার পাঁচ বার খাওয়ান

১২ থেকে ২৪ মাস অবধি :

বার বার স্তন্য দুগ্ধ খাওয়ান এবং অন্য খাবার দিনে পাঁচ বার খাওয়ান

২৪ মাস খেকে :

যদি শিশু ওবং মা চায় তাহলে মায়ের দুধ খাওয়ানো জারি রাখুন এবং অন্য খাবার দিনে পাঁচ বার খাোয়ান

যখন শিশু হামা দিতে, হাঁটতে এবং খেলতে শুরু করে এবং যখন মায়ের দুধ কমিয়ে দিয়ে অন্য খাবার দেওয়া হয় তখন শিশুরা অনেক সময়ে অসুস্থ হয়ে পরে ৷ এই সময়ে শিশু অসুস্থ থাকলে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াবেন কারণ এটা সহজেই হজম হয় এবং এতে পুষ্টিও থাকে৷ শিশুর খিদে নষ্ট হয়ে গেলে একমাত্র মায়ের দুধ সবচেয়ে ভাল খাদ্য এবং এতে শিশুর সুস্থ বোধ করে ৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 8: যদি মা কে বাড়ির বাইরে কাজের জন্য থাকতে হয় তাহলে ফিরে এসে যখন সম্ভব তখনই শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারেন শিশুর সাথে থাকা কালিন

  • যদি মা কাজের সময় শিশুকে দুধ না খাওয়াতে পারেন তাহলে পরে যখনই শিশুর সাথে থাকবেন তখন ঘন ঘন খাওয়াবেন যত বেশি দুধ খাওয়াবেন তত বেশি দুধ তৈরি হবে ৷
  • যদি মা কাজে থাকার জন্য শিশুকে দুধ না খাওয়াতে পারেন তাহলে দিনে তিন চার বার দুধ বার করে পরিষ্কার পাত্রে সেটা রেখে দিতে পারেন ঘরের তাপমাত্রাতে এই দুধ আট ঘন্টা পর্যন্ত ভাল থাকে ৷ সেটা পরে একটা পরিষ্কার বাটি করে শিশুকে খাওয়াতে পারবেন ৷
  • অন্যকেন খাবারের সাথে এই দুধ খাওয়ানো উচিত্ নয় ৷
  • পরিবার এবং সম্প্রদায়ের এটা খেয়াল রাখা দরকার যাতে মায়েরা মাইনে সহ ছুটি পান এই সময়ে এবং ঠিক ঠাক যায়গায় যাতে মায়েরা শিশুকে খাওয়াতে পারেন এবং দুধ বার করতেন পারেন৷

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা 9: যদি মা শিশুকে শুধু স্তন্যদুগ্ধ খাইয়ে রাখেন তাহলে মাকে ছয় মাস অবধি গর্ভবতি হওয়া থেকে আটকায়, তবে মায়ের রজঃস্রাব যদি শুরু না হয়ে থাকে এবং শিশু যদি সব সময়ে সায়ের দুধের উপর নির্ভর করে এবং তাকে শুধু স্তন্যদুগ্ধ খাওয়ানো হয় অন্য কোন খাদ্য না দিয়ে বা নিপল বা তার কোন প্রতিরূপ কিছু না দিয়ে ৷

মা যত বেশি শিশুকে খাওয়াবেন তত দেরি করে তাঁর রজঃস্রাব শুরু হবে যদি মা ২৪ ঘন্টায় ৮ বারের কম নিজের দুধ না খাইয়ে অন্য শিশু খাদ্য খাওয়ান বা নিপল দিয়ে রাখেন তাহলে মায়ের তারাতারি রজঃস্রাব শুরু হয়ে যায় ৷

রজঃস্রাব শুরু হওয়ার আগেই ছয় মাসের মধ্যে আবার গর্ভবতি হয়ে যেতে পারেন

মহিলা যদি গর্ভবতি হওয়া এড়াতে চান তাহলে পরিবার পরিকল্পনা করা দরকার যদি এই সকল পদ্ধতি তঁর পক্ষে সম্ভব:

  • তাঁর রজঃস্রাব ফিরে এসেছে
  • তাঁর শিশুরে অন্য শিশুআহার দেওয়া হচ্ছে অথবা নিপল বা বোতলের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে
  • তাঁর শিশুর ছয় মাস বয়স হয়েছে

যদি মা প্রথম শিশুর দু বছর বয়স হওয়া অবধি গর্ভবতি না হন তাহলে তাঁর এবং তাঁর শিশুর পক্ষে সেটা ভাল সকল পিতা মাতার পরিবার পরিকল্পনা সম্বন্ধে তথ্য নেওয়া উচিত্ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মীর থেকে ৷

গর্ভাবস্থা এড়ানোর বেশিরভাগ পদ্ধতির কারণে মায়ের দুধের কোন রকম পরিবর্তন ঘটে না তবুও গর্ভনিরোধক বড়ি খেলে স্তন্যদুগ্ধের পরিমান কমে যেতে পারে৷ প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মি বলে দিতে পারে এই সময়ে মা কি বড়ি নিতে পারবেন ৷

সুত্রঃ UNICEF

2.94573643411
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top