হোম / স্বাস্থ্য / বয়স্কদের স্বাস্থ্য / বয়স্কদের দেখভালের পরিষেবা বাড়ছে শহরে
ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

বয়স্কদের দেখভালের পরিষেবা বাড়ছে শহরে

একান্নবর্তী পরিবারের ধারণা যত লোপ পেতে বসছে, জোটবদ্ধ সংসার যত বাড়ন্ত হয়ে অণু-পরিবারের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে, ততই সেই ফাঁকা জায়গাটা ভরাট করার চেষ্টায় জন্ম নিচ্ছে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা৷

স্ট্রোকের ছোবলে পক্ষাঘাতের শিকার বেকবাগানের নীলিমা ঘোষ৷ হারিয়েছেন বাকশক্তিও৷ একমাত্র সম্বল ছেলেও মার্কিন প্রবাসী৷ সত্তরোর্ধ্ব এই বিধবার দেখভাল করবে কে? সত্তরোর্ধ্ব স্ত্রী অসীমা দেবীকে নিয়ে গড়ফায় দুজনের সংসার অশীতিপর অজিতকুমার দামের৷ দুই বিবাহিতা মেয়ের একজন থাকেন মুম্বইয়ে, অন্য জন বেঙ্গালুরুতে৷ অশক্ত দম্পতির নিঃসঙ্গ একাকী জীবনে ভরসা কে? হূদরোগী অনিল, আর হাঁটু নিয়ে কাহিল আল্পনা- সল্টলেকের সত্তরোর্ধ্ব সামন্ত দম্পতিরও পরিবারে আর কেউ নেই৷ রাতবিরেতে পড়ে গিয়ে কোমর ভেঙেছিল আল্পনার৷ আর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল আশি ছুঁইছুঁই অনিলের৷ কী হবে এ বার? হাসপাতাল ছুটি দিয়েছে বটে ষাটোর্ধ্ব অনিতা সমাদ্দারকে৷ কিন্ত্ত ডাক্তারবাবু বলে দিয়েছেন, বাড়িতেই এবার ব্যবস্থা করতে হবে অটো -অ্যাডজাস্টেবল এয়ার -বেড সমেত ফাউলার্স বেড, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশন, নেবুলাইজার ইত্যাদির৷ তা-ও কি সম্ভব? সবই সম্ভব৷ নিছক কল্পনায় যে নয়, বাস্তবেও, তা দেখিয়ে দিয়েছে কলকাতারই বেশ কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা৷ অনিতার বাড়িতেই এমন একটি সংস্থা বানিয়ে দিয়েছে মিনি আইসিইউ৷ সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার নার্স৷ বাড়িতে প্রায় হাসপাতালের সমতুল পরিষেবা দেওয়ার পরও ওই সংস্থার গ্যারান্টি -ইমার্জেন্সির সময়ে প্রয়োজনে নিকটবর্তী হাসপাতালে যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে তারাই৷ পক্ষাঘাতগ্রস্ত নীলিমার ফিজিয়োথেরাপি থেকে শুরু করে রাইলস টিউবের সাহায্যে খাওয়ানো -সবই করেন এমনই আর একটি হোমকেয়ার -এল্ডারকেয়ার’ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কর্মীরা৷ তাঁর মার্কিন প্রবাসী পুত্র নীল ঘোষও তাঁদের হাতে অশক্ত মায়ের স্বাস্থ্য আর সংসার ছেড়ে দিয়ে ঝেড়ে ফেলতে পেরেছেন দুশ্চিন্তা৷

একান্নবর্তী পরিবারের ধারণা যত লোপ পেতে বসছে, জোটবদ্ধ সংসার যত বাড়ন্ত হয়ে অণু-পরিবারের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে, ততই সেই ফাঁকা জায়গাটা ভরাট করার চেষ্টায় জন্ম নিচ্ছে বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা৷ নিঃসঙ্গ মা -বাবাকে ছেড়ে কর্মসূত্রে প্রবাসী হতে বাধ্য হয়েছেন একমাত্র ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ের পর একাকীত্বে ভুগছেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অথবা একসঙ্গে থেকেও ব্যস্ত ছেলে -বউয়ের পক্ষে প্রবীণ মা -বাবা -শ্বশুর -শাশুড়ির খেয়াল রাখা বাস্তবে সম্ভব হচ্ছে না ইচ্ছা থাকলেও - দুনিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কলকাতা কিংবা শহরতলিতে এমন নজির দিন দিন বাড়ছে উল্কাগতিতে৷ আর সময়ের দাবি মেনে সেই তাগিদ থেকে এই মহানগরেই জন্ম নিয়েছে ট্রাইবেকা কেয়ার, উই কেয়ার, সাপোর্ট এল্ডার্স, কেয়ার কন্টিন্যুয়ামের মতো সংস্থা৷ এরা রীতিমতো পেশাদার ঢঙে অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার দৈনন্দিন জীবনচর্যার পাশাপাশি নিরন্তর খেয়াল রেখে চলেছে তাঁদের স্বাস্থ্যেরও৷ আর দিন দিন বেড়ে চলেছে এদের কাজের বহরও৷ প্রায় মাঝরাতে স্ত্রী পড়ে গিয়ে যখন আর উঠতে পারছেন না, তখন এমনই একটি সংস্থা সাপোর্ট এল্ডার্সেরর পরিষেবা নিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা অনিল এসওএস অ্যালার্ট পাঠিয়েছিলেন সংস্থার সার্ভারে৷ তথ্যপ্রযুক্তির অ -আ -ক -খ না -জেনেও, স্রেফ তাঁদের দেওয়া এমইএএস (মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম) ডিভাইসের বোতাম টিপে সহজেই তিনি যোগাযোগ করে উঠতে পেরেছিলেন ওই সংস্থার কন্ট্রোল রুমে৷ বাদবাকি ঝক্কির পুরোটা, একেবারে পরিবারের মতোই সামলেছিলেন আমাদের সংস্থার কর্মীরা,’ জানাচ্ছেন ওই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর অপ্রতিম চট্টোপাধ্যায়৷ মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই একটি গ্যাজেটের কথা বলছিলেন ট্রাইবেকা -র কো -সিইও প্রতীপ সেনও৷ তাঁর কথায়, ‘আপত্কালীন পরিস্থিতিতে ছোট্ট এই যন্ত্রটির বোতাম টিপলেই আমাদের কন্ট্রোল রুমে খবর চলে যাবে নিমেষে - কিছু একটা গণ্ডগোল নিশ্চয়ই হয়েছে৷ সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফোন করি৷ যন্ত্রটি তখন ফোনের মতোই আচরণ করতে শুরু করে৷ কোনও জবাব পেলে ভালো৷ অন্যথায়, সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাম্বুল্যান্স পাঠিয়ে দিই৷’তবে বয়স্কদের শুধু শরীর -স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখাই নয়, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য, একাকিত্ব ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখাটাও সমান জরুরি৷ আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে সে কাজটাই করার চেষ্টা করি,’ মন্তব্য কেয়ার কন্টিন্যুয়ামের অধিকর্তা সোমা ভট্টাচার্যের৷ ঠিক যেমন, অজিত -অসীমাদের বাড়িতে ট্রাইবেকা -র তরফে ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে পরিচারিকা ও নার্সের৷ এখন তাঁরাই নিত্য খেয়াল রাখেন দাম দম্পতির যাবতীয় ভালোমন্দের৷ আর সব কিছুর দেখভাল করেন ওই সংস্থা নিযুক্ত যে কেয়ার ম্যানেজার’ তরুণ, জীবনসায়াহ্নে পৌঁছে তাঁকেই এখন ঘরের ছেলে’ আখ্যা দিচ্ছেন খোদ দাম দম্পতি৷ কারণ, এই ছেলেটির কাজে পেশাদারিত্ব যেমন আছে, তেমনই রয়েছে মানবিক পরশও৷ আমার নাতি থাকলে, সেও এমনটাই হত৷ তাই নিশ্চিন্ত আমার দুই প্রবাসী মেয়েও,’ মন্তব্য অজিতের৷ ইউরোপ-আমেরিকায় বহু পুরোনো হলেও এ দেশে এমন পরিষেবার ধারণা একেবারেই নতুন৷ দিল্লি-মুম্বই-বেঙ্গালুরুতে তবু যদি বা মেড -ওয়েল, পোর্টিয়া, ডাবরের মতো সংস্থা এই পরিষেবা শুরু করে দিয়েছে গত পাঁচ -সাত বছর আগেই, কলকাতা ও শহরতলিতে এমন পরিষেবাকে হালের বললে অত্যুক্তি করা হবে না৷ কিন্ত্ত গত দু’-আড়াই বছরে সব সংস্থারই ক্লায়েন্টের সংখ্যা বেড়েছে লক্ষ্যণীয় ভাবে৷ অধিকাংশই মূল কলকাতায় পরিষেবা দিতে শুরু করেছিল দুবছর আগে৷ আর বর্তমানে তাদের অনেকে পরিষেবা সম্প্রসারণ করে ফেলেছে উত্তর শহরতলিতে বারাসত পর্যন্ত, দক্ষিণে সুভাষগ্রাম পর্যন্ত কিংবা গঙ্গার উল্টোপাড়ে হাওড়া শহর আর হুগলির চুঁচুড়া -চন্দননগর পর্যন্তও৷ ১৯৮৮ থেকে এ শহরে কাজ করে চলছে সিএমআইজি (ক্যালকাটা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট অফ জেরেন্টোলজি) নামের যে প্রতিষ্ঠান, তার প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী জানাচ্ছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ৮০০ প্রশিক্ষিত ছেলে -মেয়ে বেরিয়েছে৷ কেউ বসে নেই৷ সকলেই পেশাগত ভাবে কোনও না কোনও সংস্থায় কর্মরত৷ কেননা, সামাজিক কারণেই প্রবীণদের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া জীবনে রং ঢালার চাহিদা বাড়ছে এ শহরে৷

সুত্রঃ এই সময়

3.0
তারকাগুলির ওপর ঘোরান এবং তারপর মূল্যাঙ্কন করতে ক্লিক করুন.
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top