ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

শিশুর বৃদ্ধির ধরন

শিশুর বৃদ্ধি পরিমাপ করার কিছু মাপকাঠি আছে। সেগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

বিভিন্ন বয়সে শিশুর বিকাশে তারতম্য হতে পারে। এই তারতম্য শরীরের ভিতরের কারণে বা বাইরের কারণেও হতে পারে। শিশুর বিকাশ একটি নির্দিষ্ট নকশা তথা পথ মেনে চলে এবং যা অ্যানথ্রোপোমেট্রিক্স পরিমাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিচে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। একটি সুস্থ, স্বাভাবিক ও পুষ্ট শিশুর দ্রুত বৃদ্ধি তার জীবনের প্রথম বছরেই হয়ে থাকে।

ওজন

জন্মের তিন-চার দিনে প্রায় সব শিশুরই ওজন বেশ খানিকটা কমে যায় এবং ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওজন খানিকটা ফিরে পায়। প্রথম তিন মাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম প্রতি দিন বাড়ে। তার পরে বৃদ্ধির এই গতি খানিকটা কমে যায়। সাধারণত পাঁচ মাসের শিশুর ওজন প্রায় দ্বিগুণ হয় এবং তা তিন গুণ হয় এক বছরের মধ্যে। তবে নিম্ন ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে ওজন এই হারে বাড়ে না।

নিম্ন ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে পাঁচ মাসের আগেই ওজন দ্বিগুণ হয় এবং এক বছরে তাদের ওজন বাড়ে চার গুণ। তবে এক বছর পর এই হারে ওজন বাড়ে না।

জন্মের পর প্রথম পাঁচ থেকে ছয় মাস ওজনের রেখাচিত্র খুব ভালো থাকে। এই সময়ের মধ্যে শিশুর ওজন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে থাকে। এই বয়সের পর ওজনের রেখাচিত্রটি ক্রমশ নিম্নমুখী হয়। এর কারণ হল, এই সময়ে শুধু বুকের দুধই শিশুর জন্য যথেষ্ট নয়। বুকের দুধের পাশাপাশি অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া দরকার, যা আগেই আলোচনা করা হয়েছে।

শিশুর ওজন নির্ভর করে তার উচ্চতার উপর। তাই শিশুটির ওজন স্বাভাবিক কিনা তা নির্ণয় করা জরুরি। উচ্চতা অনুযায়ী শিশুর ওজন কম বা বেশি হতে পারে। কম ওজন হলে বুঝতে হবে অপুষ্টি বা শীর্ণতাই এর কারণ।

উচ্চতা

উচ্চতা হল শিশুর বৃদ্ধির আরও একটি পরিমাপ। সদ্যোজাত শিশুর উচ্চতা সাধারণ ভাবে ৫০ সেমি (২০") হয়। প্রথম বছরে তার উচ্চতা বাড়ে ২৫ সেমি। দ্বিতীয় বছরে ১২ সেমি। তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম বছরে যথাক্রমে ৯ সেমি, ৭ সেমি এবং ৬ সেমি করে উচ্চতা বাড়ে। যদি বয়স অনুযায়ী উচ্চতা কম হয় তবে তা কম বৃদ্ধির দিকে আঙুল তুলছে। তবে ওজনের মতো কম উচ্চতার জন্য অপুষ্টি সরাসরি দায়ী নয়। অতীতে ধারাবাহিক অপুষ্টির ফলে শিশুর উচ্চতার উপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিয়মিত উচ্চতা রের্কড করা বাঞ্ছনীয়।

মাথার পরিধি এবং বুকের পরিধি

এগুলোও শিশুর বৃদ্ধির সূচক। জন্মের পর থেকে মাথার পরিধি বৃদ্ধির পরিমাপও জরুরি। সাধারণত এই সময় মাথার পরিধি হয় ৩৪ সেমি (১৪")। এটি বুকের পরিধির চেয়ে ২ সেমি বেশি হয়। তবে পরবর্তী কালে বুকের পরিধি বাড়ে এবং তা মাথার পরিধিকে ছাড়িয়ে যায়। যদি শিশুটি অপুষ্টিতে ভোগে তবে তার বুকের পরিধি মাথার পরিধিকে ছাড়িয়ে যেতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লেগে যায়।

মধ্য-বাহুর পরিধি

এটা খুব সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ। যখন শিশুটি দু’ হাত শরীরের দু’ পাশে রেখে বিশ্রাম নেয় তখন এর মাপ নেওয়া যায়। হাতের মাঝখানে মাপের ফিতেটি হালকা অথচ দঢ় ভাবে ধরে বাহুর নীচ দিয়ে গোল করে ঘুরিয়ে মধ্য-বাহুর পরিধি পরিমাপ করা যায়। জন্ম থেকে এক বছরের মধ্যে মধ্য-বাহুর পরিধির দ্রুত বৃদ্ধি হয়। এই সময় প্রায় ১১ থেকে ১২ সেমি পর্যন্ত বাড়ে। তার পর পঞ্চম জন্মদিন পর্যন্ত মোটামুটি একই রকম থাকে এবং পঞ্চম জন্মদিনে একটি পুষ্ট শিশুর মধ্য-বাহুর পরিধি ১৬-১৭ সেমিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এই সময়ে সদ্যোজাতের চর্বির পরিবর্তে পেশি জন্মায়। মধ্য-বাহুর পরিধির মাপ যদি স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০ শতাংশ কম হয় অর্থাৎ ১২.৮ সেমি মতো হয়, তা হলে বুঝতে হবে শিশু মাঝারি থেকে গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগছে। হাতের পরিধি মাপার জন্য একটি রঙিন ফালা পাওয়া যায়।

3.04651162791
সোনিয়া Nov 11, 2016 07:02 PM

আমার বাচ্চার ওজন পাঁচ মাস ওজন বারছেনা কি করবো

Anonymous Sep 14, 2016 01:51 PM

নব জাতকের স্বাভাবিক ওজন কত?

মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top