ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

প্রশ্নোত্তরে জনস্বাস্থ্য

প্রশ্নোত্তরে জনস্বাস্থ্য

শিশুর অপুষ্টি দূর করার উপায় কী ?

উঃ শিশুর অপুষ্টি দূর করার উপায়গুলি হল -

  • শিশুকে ঠিক বয়সে ঠিক পরিমাণে খাবার খাওয়াতে হবে ।
  • বাড়িতে যে খাবার সাধারণত পাওয়া যাবে, তা-ই স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে ও যত্ন করে খাওয়ালে শিশুর ওজন বাড়বে।
  • স্বাস্থ্যবিধানের নীতি অনুসরণ করে শিশুর পরিচর্যা করা প্রয়োজন এবং শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।
  • ভিটামিন ‘এ’ তেল নয় মাস বয়স থেকে প্রতি ছয় মাস অন্তর পাঁচটি ডোজ নিয়মিত খাওয়াতে হবে।
  • প্রয়োজনে শিশুকে আয়রন ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর কাছে আয়রন ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
  • যাতে শিশু নিয়মিত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যায় এবং পরিষেবাগুলি পায় তার জন্য চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জন্ম থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সাধারণ ভাবে শিশুর কী কী রোগ হতে পারে ?

উঃ জন্মের প্রথম মাসের মধ্যে - জন্ম আঘাতজনিত কারণে অঙ্গহানি হতে পারে, ঠান্ডা লাগতে পারে, সংক্রমণ হতে পারে, ডায়রিয়া হতে পারে বা জন্ডিস হতে পারে । সঠিক বয়সে টিকাগুলি না দিলে এই ছয়টি মারাত্মক রোগ হতে পারে - (ক) যক্ষ্মা, (খ) পোলিও, (গ) ডিপথেরিয়া, (ঘ) হুপিং কাশি, (ঙ) ধনুষ্টংকার এবং (চ) হাম । তাছাড়া যে কোনো বয়সে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

শিশুদের শ্বাসনালী সংক্রমণ জনিত অসুখ কীভাবে রোধ করা যায় ?

শ্বাসনালীর বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, বিশেষ করে নিউমোনিয়া শিশুদের অসুস্থতার ও মৃত্যুর একটি বড় কারণ । সাধারণত ঠান্ড লেগে শিশুদের এই ধরনের অসুখগুলি হয় । বাড়ি ও আশপাশের দূষিত পরিবেশ এবং যত্নের অভাব শিশুদের শ্বাসনালী সংক্রমণ জনিত অসুখের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় । শুরুতেই যদি রোগটি ধরা পড়ে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই ধরনের অসুখ সেরে যায় । তাই অসুস্থ শিশুকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে ।

শিশু-মৃত্যুর হার বলতে কী বুঝি ?

এক বছর সময়সীমার মধ্যে, ০ থেকে ১ এক বছর বয়সের (অর্থাৎ ৩৬৫ দিন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত) প্রতি এক হাজার জীবিত শিশুর মধ্যে যত জন শিশু মারা যায়, তাকে শিশু-মৃত্যুর হার বলা হয়।

মাতৃত্ন-জনিত মৃত্যুর হার বলতে কী বুঝি ?

গর্ভধারণ থেকে প্রসবের পর ৪২ দিন পর্যন্ত প্রতি এক লক্ষ প্রসূতি মায়ের মধ্যে এক বছরে যত জন মহিলা মাতৃত্ব-জনিত কারণে মারা যান, তাকে মাতৃত্ব-জনিত মৃত্যুর হার বলা হয়।

শিশু-মৃত্যুর প্রধান কারণগুলি কী কী ?

জন্মের এক মাসের মধ্যে যে সকল শিশু মারা যায় তাদের মৃত্যুর কারণগুলি বিশেষ ভাবে জানতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এই সময় মৃত্যুর কারণগুলি হল : সংক্রমণ, শিশুকে ঠিকভাবে গরম না রাখার জন্য শিশুর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া, সঠিক সময়ের আগে ভূমিষ্ঠ হওয়া, খুব কম ওজন ইত্যাদি। আর যে সব কারণে যে কোনো বয়সের শিশু মারা যেতে পারে তা হল – ঠিক বয়সে ঠিক টিকা না দেওয়া, অপুষ্টি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখা, ডায়রিয়া বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগ।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র কী ?

শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষা এবং শিশুর বিকাশ সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখাশোনার জন্য সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পের (আইসিডিএস) আওতায় একটি করে কেন্দ্র আছে - এটিই হল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। প্রতি ১০০০ জনসংখ্যা পিছু ১টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থাকার কথা। প্রত্যেক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও একজন সহায়িকা থাকেন।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মা ও শিশুর আসার দরকার কেন ? মা ও শিশু এখান থেকে কী কী পরিষেবা পেতে পারে ?

উঃ সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্প (আইসিডিএস) হল মা ও শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি চলে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল -

  • • শিশুদের জন্য যত রকম পরিষেবা আছে, সেগুলিকে একত্রিত ভাবে শিশুদের কাছে পৌছে দেওয়া
  • • শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার কমানো
  • • শিশুরা যাতে স্কুলে যেতে উৎসাহ পায় তার ব্যবস্থা করা
  • • শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উন্নতির ভিত শক্ত করা
  • • মায়েরা যাতে সঠিক ভাবে শিশুর যত্ব নিতে সক্ষম হন, তার ব্যবস্থা করা
  • • গর্ভবতী ও প্রসব হয়ে যাওয়ার পর প্রথম তিনমাস মায়েদের জন্য পরিপূরক খাদ্যের ব্যবস্থা করা

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে মা ও শিশু ছয় ধরনের পরিষেবা পেতে পারে।

যেমন - • শিশুদের জন্য পরিপূরক পুষ্টি • টিকাকরণের ব্যবস্থা • নিয়মিত ভাবে শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা • প্রয়োজনে অসুস্থ শিশুকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা • প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা • শিশুর পুষ্টি ও যত্নের ব্যাপারে মায়েদের শিক্ষা

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) ব্যক্তি কত ধরনের ?

উঃ প্রতিবন্ধী কথাটি শুনতে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বা তার পরিবারের কারুর কষ্ট বোধ হতে পারে। তাই প্রতিবন্ধী কথাটির পরিবর্তে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন’ কথাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সরকারি নীতি অনুযায়ী চার ধরনের প্রতিবন্ধ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ হতে পারে :

  • অস্থি জনিত প্রতিবন্ধ,
  • দৃষ্টিজনিত প্রতিবন্ধী,
  • মুক-বধির প্রতিবন্ধ, এবং
  • মানসিক প্রতিবন্ধ।

প্রত্যেক ধরনের প্রতিবন্ধকে আবার চার শ্রেণীতে ভাগ করা হয় :

  • মৃদু (৪০%-এর কম),
  • মাঝারি (৪০% ও তার বেশি কিন্তু ৭৫%- এর কম),
  • গুরুতর (৭৫% বা তার বেশি), এবং
  • পুরোপুরি (১০০%)।

 

জননী সুরক্ষা যোজনা কী ?

এন.ফ.বি.এস.(জাতীয় মাতৃত্বজনিত সহায়তা প্রকল্প)-এর পরিবর্তিত নাম জননী সুরক্ষা যোজনা। তফশিলী-জাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত এবং দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী যে কোনো পরিবারের ১৯ বছর বা তার উপরের বয়সের সন্তানসম্ভবা মাকে তার প্রথম দুটি জীবিত সন্তানের জন্মদান পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় এককালীন সহায়তা দেওয়া হয়। প্রসবের আগেই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মর মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থায় কম করে তিন বার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে তবেই এই সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে প্রসবের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা ঐ সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতাল থেকে প্রসবের ৭ দিনের মধ্যে পাওয়া যায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজন সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের খরচ বহন করার সুযোগ এই প্রকল্পের আওতায় আছে। প্রসবের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে যাওয়ার খরচ বাবদ এক জন গর্ভবতী মহিলা তার বাড়ি থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালের দূরত্ব অনুযায়ী রেফারেল ট্রান্সপোর্ট স্কিমের আওতায় আরো কিছু আর্থিক সহায়তা পান, যেমন - ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ১৫০ টাকা, ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২৫০ টাকা এবং ২০ কিলোমিটারের বেশি হলে ৩৫০ টাকা।

এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে (বা এই সহায়তা ঠিক মতো না পেলে) প্রথমে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বি.এম.ও.এইচ. - এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা কী ?

বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা হল সমাজ কল্যাণ বিভাগের একটি প্রকল্প। এই সহায়তা সিডিপিও-র অফিস থেকে সরাসরি পাওয়া যায়। দারিদ্র সীমার নীচে বসবাসকারী কোনো পরিবারের কন্যা সন্তানের জন্ম নিবন্ধীকরণের কাজ শেষ হলেই দুটি কন্যা সন্তানের জন্মদান পর্যন্ত এককালীন ৫০০ টাকা এই প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়। এই ৫০০ টাকা শিশুকন্যার নামে কাছাকাছি ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দেওয়া হয়। শিশুকন্যাটি যখন বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করে, তখন সে এই প্রকল্পের আওতায় স্কলারশিপ পায়। এই স্কলারশিপের টাকাটিও শিশুকন্যার নামে অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দেওয়া হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে সুদ সহ এই গচ্ছিত টাকাটি সেই বালিকা তার নিজের হাতে পেয়ে যাবে, যদি তার আগেই মেয়েটির বিয়ে না হয়ে যায়।

বছরে কত টাকা স্কলারশিপ বা বৃত্তি?

বালিক সমৃদ্ধি যোজনার আওতায় সহায়তা পাওয়ার জন্য স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ অনুযায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আবেদন করতে হয়। আবেদন পত্রটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের সুপারিশ সহ সিডিপিও-র অফিসে জমা দিতে হবে।

বয়ঃসন্ধিকাল বলতে কী বুঝি ?

উঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সকে বয়:সন্ধিকাল বলে। ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের, অর্থাৎ বয়:সন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের কিশোর-কিশোরী বলা হয়। এই সময় ছেলেদের এবং মেয়েদের দেহে, মনে ও আচরণে অনেক পরিবর্তন ঘটে।কশের কিশোরীদের মনে এই সময়

নানান ধরনের প্রশ্ন জাগে এবং তারা নানান সমস্যার মুখোমুখি হয়। কিন্তু প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও সমস্যা সমাধানের উপায় জানা না থাকায় তারা অসহায় বোধ করতে পারে। এই পরিবর্তনগুলি যে স্বাভাবিক তা বোঝানোর জন্য মা-বাবা, পরিবার ও সমাজের সকলের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।

কিশোরী শক্তি যোজনা কী ?

উঃ কিশোরী শক্তি যোজনা হল নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগের একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল বয়ঃসন্ধিকালীন (১১ - ১৮ বছর বয়স) কিশোরীদের ক্ষমতায়ন ও সার্বিক উন্নয়ন। এই প্রকল্পটি রূপায়ণ করা হয় সুসংহত শিশু বিকাশ প্রকল্পের মাধ্যমে।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলঃ

  • • বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোরীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো ।
  • • স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
  • • কিশোরীদের বিদ্যালয়মুখী করে তোলা।
  • • বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের মাধ্যমে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বন ও ক্ষমতায়ণে সহায়তা করা।
  • • বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ের উপরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
  • • সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপ্রথাগত শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষিত করে তোলা।

এই প্রকল্পের সহায়তা পাওয়ার জন্য অঙ্গনওয়াড়ী কর্মী অথবা ব্লকে সিডিপিও-র সাথে যোগায়োগ করতে হবে।

ঋতুস্রাব কী ?

প্রতি মাসে মেয়েদের যে রক্তস্রাব হয় সেটাই ঋতুস্রাব বা মাসিক। এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সে সাধারণত কিশোরীদের মাসিক শুরু হয়। ১৬ বছরের পরেও কোনো কিশোরীর মাসিক শুরু না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। মাসিক চলাকালীন কিশোরীদের নিয়মিত স্নান করা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার। তবে পুকুরে নেমে স্নান করলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে যে কাপড় ব্যবহার করা হয়, সেটি সাবান দিয়ে কেচে রোদে ভাল ভাবে শুকনো করে তবেই ব্যবহার করা উচিত। এই কাপড় পুকুরে ধোওয়া উচিত নয়। তা না হলে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।

বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের কী কী যত্ব নেওয়া প্রয়োজন ?

বয়ঃসন্ধিকালের মেয়েদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার। এই বয়সে যেহেতু প্রতি মাসে শরীর থেকে নিয়মিত রক্ত বেরিয়ে যায়, তাই সবুজ শাকসক্তি বেশি বেশি খাওয়া দরকার। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর কাছ থেকে আয়রন বড়ি নিয়ে খাওয়া দরকার।

প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে আমরা কী বুঝি ?

মানুষের প্রজনন তন্ত্র একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মানুষের বংশবৃদ্ধি ঘটে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রজনন অঙ্গগুলির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রোগ সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা এবং রোগ সংক্রমিত হলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ থাকাটাই প্রজনন স্বাস্থ্য। প্রজনন স্বাস্থ্য বলতে বোঝায় নিরাপদ যৌন জীবন, নিরাপদ ও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পক্ষে গ্রহণযোগ্য পরিবারকল্যাণ পদ্ধতি গ্রহণ এবং নিরাপদে গর্ভধারণ, নিরাপদ প্রসব ও সুস্থ সবল সন্তানের জন্মদান। ছেলেদের বিয়ের বয়স কত ? দেশের আইন অনুসারে ছেলেদের বিয়ের বয়স অন্তত ২১ বছর হওয়া দরকার।

মেয়েদের বিয়ের এবং মা হওয়ার বয়স কত ? কেন ?

মেয়েদের বিয়ের বয়স অন্তত ১৮ বছর হওয়া দরকার। দেশের আইন অনুসারে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যায় না। ১৮ বছর বয়সের আগে মেয়েরা বিয়ের জন্য শারীরিক ও মানসিক ভাবে পরিণত হয় না। বিয়ের সঙ্গে গর্ভধারণের বিষয়টি জড়িত ৷ ১৯ বছরের আগে, মা হওয়ার জন্য যে শারীরিক অবস্থা দরকার, তা থাকে না এবং আঠারোর পরে বিয়ে হয়ে প্রজনন অঙ্গগুলি পরিপুষ্ট হয় না। বিশেষ করে জরায়ুটি গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হয় না। ১৯ বছরের আগে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে প্রসবকালীন সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, কম ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে । তাই ১৯ বছর বয়সের আগে মা হওয়া, মা ও শিশু, দুই জনের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে।

সক্ষম দম্পতি বলতে আমরা কী বুঝি ?

একুশে হলে মা ও শিশুর প্রাণের ঝুঁকি মোটেই রবে না সক্ষম দম্পতি বলতে এমন স্বামী-স্ত্রীকে বোঝানো হয়ে থাকে, যাদের মধ্যে স্ত্রীর বয়স ১৫ বছর থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। এই বিষয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করেন যে, যেহেতু ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে হওয়া অনুচিত ও বেআইনি, অতএব ১৫ বছর বয়সী স্ত্রীকে সক্ষম দম্পতির আওতায় রাখা হবে কেন ? উত্তরে বলা যায় যে, ১৫ বছরে বা তার আগে কোনো কিশোরীর বিয়ে হলে তা বেআইনি ও অনুচিত হলেও সমাজে এই রকম ঘটনা অজস্র ঘটে থাকে। ফলে, অল্প বয়সেও তার সন্তান-সম্ভবা হওয়ার সুযোগ থেকে যায়। এই জন্য তাকে সক্ষম দম্পতির আওতায় রাখা হয়।

দুইটি সন্তানের জন্মের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান প্রয়োজন ? কেন ?

প্রথম সন্তানের জন্ম থেকে দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের ব্যবধান কম করে তিন বছর হওয়া প্রয়োজন। কারণ, একটি সন্তান প্রসবের তৈরি হতে কম করে ৩ বছর সময় লাগে।

অধিক সন্তানের মা হওয়া কেন বিপদজনক ?

অধিক সন্তানের মা হলে মায়ের শরীর ভেঙ্গে যায়, বাকি জীবন মা নানারকম রোগে ভোগেন। বেশি সন্তান হলে অপুষ্ট শিশু জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়া সন্তানের যত্ন যথেষ্ট হয় না, আর সংসার খরচের উপর চাপ পড়ে।

দুটির বেশি কভি ভি নেহি পরিকল্পিত পরিবার বলতে কী বুঝি ? ছেলে না মেয়ে কুছ পরোয়া নেহি

পরিকল্পিত পরিবার বলতে বোঝায়

  • দুইটির বেশি সন্তান না নেওয়া,
  • দুইটি সন্তানের মধ্যে কম করে তিন বছরের ব্যবধান বা ফারাক রাখা,
  • কম ব্যবধান বা ফারাকে যাতে সন্তান না আসে বা অধিক সন্তান যাতে না হয় তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী বা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মর নিকট জন্ম নিরোধক উপকরণ (খাওয়ার বড়ি, কন্ডোম, কপার-টি ইত্যাদি) পাওয়া যায়।

বন্ধ্যাকরণ ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য কী কী পদ্ধতি আছে ?

বন্ধ্যাকরণ একটি স্থায়ী পদ্ধতি। পুরুষদের জন্য স্থায়ী পদ্ধতি হল ভ্যাসেকটমি। ভ্যাসেকটমির জন্য যে কোনো সরকারি স্বাস্থ্য উপমা-বাপ হওয়া মুখের কথা । কেন্দ্রে/স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যেতে পারে। অনেকের মধ্যে চাই ধারণা আছে যে, ভ্যাসেকটমির ফলে পুরুষদের কর্মক্ষমতা বা যৌনক্ষমতা চলে যায়। এইটি খুবই ভুল ধারণা। এইটি খুবই ছোট্ট পণ করেছি এক জুটিতে অপারেশন। এতে কর্মক্ষমতাও কমে যায় না বা যৌনসুখও হ্রাস থাকবো খুশি দু-একটিতে পায় না। মহিলাদের জন্য বন্ধ্যাকরণের স্থায়ী পদ্ধতিহল টিউবেকটম।

কন্ডোম। আর মহিলাদের জন্য জন্ম-নিয়ন্ত্রক বড়ি, আইইউডি (কপার-টি) ইত্যাদি। এই সব জিনিস বা পরিষেবা বিনা পয়সায় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রে পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে পরামর্শের

জন্য স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর কাছ থেকেও এ বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

গর্ভপাত কি বৈধ নাকি বেআইনি ?

উঃ গর্ভপাত সম্পর্কে অনেকের মধ্যে সংশয় বা একটা ভাসা ভাসা ধারণা আছে। কিন্তু জেনে রাখা দরকার যে ১৯৭১ সালে গর্ভপাত আইন চালু হয়েছে। এখন গর্ভপাত নারীর আইনগত অধিকার। তবে বৈধ গর্ভপাতের কয়েকটি শর্তআছে। বৈধ গর্ভপাতের শর্তগুলি হল - • গর্ভবতী মহিলা নিজের ইচ্ছায় কোনো রেজিস্টার্ড ডাক্তার দিয়ে বা সরকার স্বীকৃত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বৈধ গর্ভপাত করাতে পারেন।

  • যদি কোনো কারণে গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মহিলার কোনো বিপদের সম্ভাবনা থাকে, তাহলে ডাক্তার গর্ভপাতের নির্দেশ দিতে পারেন। এজন্য যারা যোগাযোগ করে বা প্রমাণিত হলে আইন অনুসারে তারা শাস্তি পেতে পারে।অবৈধ গর্ভপাত মারা ঘটায় এবং
  • যদি ধর্ষণের ফলে গর্ভসঞ্চার হয় এবং মহিলা গর্ভপাত করাতে চান, তাহলে গর্ভপাত করানো যায়।
  • অবিবাহিতা নারীও গর্ভপাত ঘটাতে পারে। তবে ১৮ বছরের কম বয়সী নারীর গর্ভপাতের ক্ষেত্রে অভিভাবককে সঙ্গে থাকতে হবে।
2.95238095238
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top