ভাগ করে নিন
ভিউজ্
  • অবস্থা সম্পাদনার জন্য উন্মুক্ত

প্রশ্নোত্তরে জনস্বাস্থ্য-2

প্রশ্নোত্তরে জনস্বাস্থ্য-2

প্রজনন তন্ত্রে সংক্রমণ কী ? কীভাবে এর প্রতিরোধ করা যায় ?

উঃ মূলত এই সংক্রমণ ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা, অপরিষ্কার জল ও কাপড় ব্যবহারের ফলে প্রজনন তন্ত্রে হয়ে থাকে। মহিলা ও পুরুষ উভয়েরই প্রজনন তন্ত্রে সংক্রমণ হতে পারে কিন্তু মহিলাদের মধ্যেই এই সংক্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অনেকসময় এই সংক্রমণ মহিলাদের গর্ভধারণে সমস্যা সৃষ্টি করে। প্রজনন তন্ত্রে ঘা, অতিরিক্ত ও গন্ধযুক্ত স্রাব এই সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পরিষ্কার জল ও কাপড় ব্যবহার করলে এই সংক্রমণ এড়ানো যায়।প্রজনন তন্ত্রে সংক্রমণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিহ্নিত করে যদি চিকিৎসা করা হয় তাহলে এই রোগ নিরাময় সম্ভব ।

যৌন রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় ?

উঃ যৌন রোগ আছে এমন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলন হলে যৌন রোগ হতে পারে। গনোরিয়া, সিফিলিস ইত্যাদি হল কয়েকটি যৌন রোগের নাম। একটু সচেতন থাকলে এবং স্বাস্থ্যবিধান / ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চললে যৌন রোগগুলি এড়িয়ে চলা সম্ভব। বেশির ভাগ যৌন রোগই যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে যায়, তাই গোপন না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা ও চিকিৎসা করানো দরকার। তবে বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, এইচআইভি/এইডস এর ক্ষেত্রে এখনো কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার হয়নি। এইচআইভি /এইডস সম্পর্কিত শিক্ষাই হচ্ছে এর একমাত্র প্রতিষেধক। এইচআইভি/এইডস মানুষের শরীরে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ নষ্ট করে দেয়, ফলে নানা রোগের সৃষ্টি হয় এবং রোগী মারাও যেতে পারে। মনে রাখতে হবে প্রজননতন্ত্রে সংক্রমণ কিন্তু যৌন রোগ নয়।

এইচ.আই ভি/এইডস কী? এই রোগ কীভাবে সংক্রামিত হয়?

এইডস হল একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। এই ভাইরাসটির নাম হল-হিউম্যান ইমিউনো-ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচ আই ভি)। এইডসের পুরো কথাটি হল-অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম।

কীভাবে এইচ. আই. ভি. সংক্রামিত হয় :

  • যৌন সংসর্গে সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন মিলনের মাধ্যমে।
  • রক্তের মাধ্যমে এইচ আই ভি সংক্রমিত ব্যক্তির রক্ত সুস্থ মানুষের শরীরে গেলে।
  • সুচ ও সিরিঞ্জের মাধ্যমে যে সুচ ও সিরিঞ্জ দিয়ে এইচ আই ভি-তে আক্রান্ত লোককে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়, সেই সংক্রমিত সুচ ও সিরিঞ্জ জীবাণুমুক্ত না করে তা দিয়ে অন্যকে ইঞ্জেকশন দিলে।
  • মায়ের থেকে গর্ভের শিশুর মধ্যে এইচ আই ভি- তে সংক্রামিত গর্ভবতী মহিলার থেকে গর্ভের শিশুর মধ্যে এইচ আই ভি. সংক্রামিত হতে পারে।

কিন্তু মনে রাখা দরকার নিম্নলিখিত উপায়ে এইচ. আই. ভি. ছড়ায় না :

  • হাচি, কাশি, খাবার ও মশার মাধ্যমে, একই ঘরে থাকলে বা একই বাথরুম ব্যবহার করলে  সামাজিক মেলামেশায় – হাতে হাত মেলালে, আলিঙ্গন করলে

এইচ. আই. ভি. / এইডস প্রতিকারের উপায় কী ?

উঃ দুঃখের বিষয় এই যে, এখনো পর্যন্ত এইডসের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে, সরকারি হাসপাতালে কিছুটা চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি সরকারি জেলা হাসপাতালে ভিসিটিসি, কেন্দ্র আছে, এখানে পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

যে সমস্ত কারণে এইচ আই ভি সংক্রামিত হতে পারে, সেই সেই বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা বা সতর্ক কাই হল এইডস প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। এছাড়া সরকারের তরফে এইচ আই ভি/এইডস বা যৌনরোগ সংক্রান্ত বিষয়ে টেলিফোনেও পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। বিএসএনএল, টেলিফোন থেকে ১০৯৭ নম্বর ডায়াল করে উক্ত পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এই নম্বরে টেলিফোন করার জন্য কোনো খরচ হয় না। তাছাড়া, যে টেলিফোন করে, তার পরিচয় কঠোর ভাবে গোপন রাখা হয়।

একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কী কী করা দরকার ?

উঃ একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সাধারণভাবে যেগুলি করা দরকার সেগুলি হল :

  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
  • বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করা ইত্যাদি

নিরাপদ পানীয় জল বলতে কী বোঝায় ? কেন নলকূপের চাতাল/পাড় বাধানো আবশ্যক ?

উঃ মাটির উপরের জল নানাভাবে দূষিত হয়। মাঠে মলমূত্র ত্যাগ করলে বা আবর্জনা ফেললে বৃষ্টির জলে ওই সব ধুয়ে জলের সঙ্গে মিশে যায়। পুকুরের জলে জামা কাপড় কাচা হয়, গরু মোষ স্নান করানো হয়। এই রকম নানা ভাবে জল দূষিত হয়। আমাদের দেশে বেশির ভাগ রোগ ছড়ায় জলের মাধ্যমে।সেই জন্য পানীয় জল অবশ্যই নিরাপদ হতে হবে। পানীয় জলে কোনো রকম জীবাণু বা ক্ষতিকর খনিজ পদার্থ না থাকলেই তাকে নরাপদ পানীয় জল বলে। মাটির নীচের জল মোটামুটি নিরাপদ। মাটি ছাকনির কাজ করে। তবে কোনো নীচের জলেও আর্সেনিক - - বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে। সেই জন্য নিয়মিত জল পরীক্ষা করা উচিত।

মাটির নীচের নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার জন্য নলকূপ বসানো হয়। সরাসরি নলকূপের জলে কেউ কেউ কুলকুচি করেন, নাক ঝাড়েন, নোংরা ফেলেন। এখন নলকূপের চাতাল বাধানো না থাকলে মাটির উপরের জল নলকূপের পাইপের গা বেয়ে মাটির নীচে চলে যায় ও নীচের জলকে দূষিত করে। যেসব এলাকায় কুয়োর জল ব্যবহার করা হয় সেখানে কুয়োর পাড় উচু করে বাধাতে হয়, কুয়োর ওপরে জাল বা ঢাকা দিয়ে রাখতে হয় এবং মাঝে মাঝে টাটকা ব্রিচিং পাউডার দিয়ে জল শোধন করতে হয়।

পানীয় জলকে নিরাপদ করার উপায় কী ?

  • পানীয় জলকে অন্তত ২০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে খাওয়া
  • পানীয় জলকে পরিষ্কার পাত্রে ঢাকা দিয়ে রাখা
  • পানীয় জলে হাত না ডোবানো

প্রধান প্রধান জলবাহিত রোগ কী কী ?

উঃ ডায়রিয়া, জন্ডিস, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও - এগুলি হল কয়েকটি জলবাহিত রোগের নাম।

জলবাহিত রোগ প্রতিরোধের উপায়গুলি কী কী ?

  • সর্বদা নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করা নোংরা পুকুর, ডোবা ইত্যাদির জল দিয়ে বাসন না মাজা, রান্না না করা, হাত-পা না ধোওয়া বা জলশৌচ না করা পুকুর বা অন্যান্য জলের উৎসগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখা
  • পুকুরের চারপাশে মলমূত্র ত্যাগ না করা

ডায়রিয়া কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় ?

উঃ ডায়রিয়া এমন একটি অসুখ যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। নানান জীবাণু, বিশেষত মলের জীবাণু পেটে গেলে ডায়রিয়া হয়। প্রধানত জলের মাধ্যমে রোগটি ছড়ায়। যদি প্রতিটি গ্রাম সংসদ এলাকায় সকলে মিলে উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে যে সব কারণে ডায়রিয়া হয়, তা রোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য গ্রাম সংসদ এলাকার প্রতিটি পরিবারকে শৌচাগার তৈরি করতে হবে এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে। শৌচাগার তৈরির ব্যাপারে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যেখানে সেখানে মলত্যাগ করা বন্ধ করতে হবে, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে। জলের উৎসকে মানুষ বা জন্তুর মলের সংস্পর্শ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। নলকূপের চাতাল বাধানো থাকতে হবে। মশা-মাছির প্রকোপ যাতে না বাড়তে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। খাদ্য ও পানীয় জল ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। সবার মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসগুলি (যেমন শোচের পর ও খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া ইত্যাদি) গড়ে তুলতে হবে। কোনো এলাকায় সকলে মিলে এরকম একটি প্রয়াস নিলে তবেই পুরো এলাকায় ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে অনেক জল বেরিয়ে যায়, তাই শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে। সেজন্য ডায়রিয়া হলে ও আরএস খেতে হয়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা ওষুধের দোকানে ও আরএস পাওয়া যায়। ও আরএসএর প্যাকেটে যেরকম নির্দেশ দেওয়া থাকে ঠিক সেই ভাবে ও আরএস, দ্রবণ তৈরি করতে হবে। জল ফুটিয়ে ঠান্ড করে এক চিমটে নুন, এক চামচ চিনি মিশিয়ে ঘরেই ও আরএস তৈরি করে নেওয়া সম্ভব।

পারিবারিক শৌচাগার তৈরি ও ব্যবহার করা প্রয়োজন কেন ?

মানুষের মলের মধ্যে দিয়ে অনেক ধরনের রোগ জীবাণুও বার হয়। কাজেই যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করলে সেই মল ও তার সঙ্গের জীবাণু আমাদের ব্যবহারের জলের মধ্যে মিশে যেতে পারে অথবা মাছির দ্বারা খাবারে মিশতে পারে। সেই দূষিত জল বা খাবার সুস্থ মানুষের শরীরে গেলে রোগ সংক্রমণ হয়। তাই, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে, জলবাহিত রোগের প্রকোপ হ্রাস করতে, মহিলাদের আব্রু বা সম্মান রক্ষা করতে এবং স্বাস্থ্যবিধান ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা শিক্ষার প্রসারের দ্বারা এলাকার জীবনযাত্রার মানের উন্নতি ঘটানোর জন্য পারিবারিক শৌচাগার তৈরি করা ও তা ব্যবহার করা প্রয়োজন।

খাওয়ার আগে এবং জলশোঁচের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া প্রয়োজন কেন?

আমাদের হাতে প্রচুর পরিমাণে রোগ জীবাণু, ধুলো-ময়লা লেগে থাকে - যা খালি চোখে দেখা যায় না। খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাতনা ধুলে ওইগুলি আমাদের অজান্তেই খাবারের সাথে শরীরে প্রবেশ করে নানান রোগের কারণ ঘটায়। একই রকম ভাবে শোচের পরে সাবান দিয়ে হাত না ধুলে মলের মধ্যে থাকা রোগ জীবাণু অথবা জলশোচের পর মাটিতে হাত ঘষলে কৃমি বা কৃমির ডিম আমাদের হাতে, বিশেষত নখের মধ্যে বাসা বাধে। পরে তা খাবারের সঙ্গে আমাদের শরীরে ঢোকে। তাই খাওয়ার আগে এবং শেীচের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।

মশার কামড়ে কী কী রোগ হয় মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া,ফাইলেরিয়া,ডেঙ্গি এনকেফেলাইটিস ইত্যাদি রোগ হয়। ম্যালেরিয়া কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

ম্যালেরিয়া একটি মারাত্মক অসুখ যা মশার কামড় থেকে ছড়ায়। মশারা যাতে প্রজননের মাধ্যমে বাড়তে না পারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরিবার এবং গ্রাম সংসদ এলাকার প্রত্যেক সদস্য ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারেন। জমে থাকা পরিষ্কার জলে মশাদের প্রজনন ভাল হয়। কাজেই বাড়ির কাছাকাছি জল জমে থাকে এমন জায়গা থেকে জল বের করে দিতে হবে, জলের পাত্র অথবাটাঙ্কের মুখ ঢেকে দিতে হবে, বাড়ির চারদিক পরিষ্কার রাখতে হবে। সকলে মিলে এরকম প্রচেষ্টা নিলে তবেই এলাকায় ম্যালেরিয়া এবং মশার কামড় থেকে হয় এমন অসুখ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর সঙ্গে সারা বছর মশারি ব্যবহার করা প্রয়োজন। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা শুরু করানো দরকার। জুর তাড়াতাড়ি সেরে গেলেও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে পূর্ণ চিকিৎসা করানো উচিত।

থ্যালাসেমিয়া কী ধরনের রোগ?

থ্যালাসেমিয়া হল এক ধরনের রক্তের রোগ। এই রোগ হলে রক্তে যথেষ্ট পরিমাণে হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না, ফলে রোগী তীব্র রক্তাল্পতায় ভোগে। এইটি একটি বংশগত রোগ। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃদু রক্তাল্পতা ছাড়া রোগীর শরীরে এই রোগের আর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণগুলি কী কী?

শিশুর জন্মের সময় বা শৈশবের প্রথম দিকে এই রোগের লক্ষণগুলি বোঝা যায়। থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণগুলি হল :

  • দুর্বল ভাব, ক্লান্ত লাগে ও মাথা ব্যথা হয়।
  • চামড়া ফ্যাকাসে হয়ে যায় বা জন্ডিসের মতো হলুদ হয়ে যায়।
  • পেট ও লিভার ফুলে যায়।
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
  • শরীরের স্বাভাবিক ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি ব্যহত হয়।

থ্যালাসেমিয়া রোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় ?

উঃ দুঃখের বিষয় এই যে, থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো প্রতিকার নেই। তবুও শিশুর জন্মের আগে বাবা-মার রক্ত পরীক্ষা করে এই রোগ চিহ্নিত করা সম্ভব। তাই কারুর যদি থ্যালাসেমিয়া থাকে, তাহলে তা নিজের শিশুর মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া রোগীর ক্ষেত্রে অবশ্যই নীচের যত্নগুলি নিতে হবে :

  • চিকিৎসা ঠিক মতো করাতে হবে এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • যদি নিয়মিত রক্ত নেওয়ার দরকার হয়, তাহলে অবশ্যই তা নিতে হবে।
  • ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে খাবার ও ওষুধ খাওয়াতে হবে।

থ্যালাসেমিয়া রোগ হলে সাধারণত নিয়মিত রক্ত নেওয়ার দরকার হয়। তাই যাতে প্রয়োজন মতো থ্যালাসেমিয়া রোগী হাসপাতালে বা ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত পায়, সেজন্য নিজের নিজের গ্রাম সংসদে ‘রক্তদান শিবির আয়োজন করা যেতে পারে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের রক্ত পাওয়া সুনিশ্চিত করা দরকার।

চর্মরোগ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় ?

উঃ আমাদের শরীরের চামড়া শরীরকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে, শরীরের তাপ ঠিক রাখে ও রোগ জীবাণু ঢোকার হাত থেকে রক্ষা করে। ব্যক্তিগত এবং পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতার অভাবে বেশ কয়েকটি চর্মরোগ হয়। যেমন - দাদ, চুলকানি, খোস, পাঁচড়া ইত্যাদি। সেই জন্য স্বাস্থ্যবিধান/ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা দরকার।

কুষ্ঠ হলে কীভাবে বোঝা যায় এই রোগটি কীভাবে ছড়ায়?

উঃ কুষ্ঠ রোগের প্রধান লক্ষণ হল দেহের কোনো কোনো অংশে সাড় বা অনুভূতি না থাকা, বিশেষ করে হাতে আর পায়ে। চামড়ার মধ্যে ফ্যাকাসে বা সাদা দাগ যেখানে সাড় থাকে না অথবা পুরোনো ঘা যাতে ব্যাথা নেই বা চুলকায় না - এগুলি কুষ্ঠের অন্যতম লক্ষণ। এই রোগ হলে কানের লতি মোটা হয়ে যেতে পারে এবং ভুরুর চুল প্রায় পড়ে যায়। কুষ্ঠ ছোয়াচে নয়। সব সময় সবার মধ্যে এই রোগের লক্ষণগুলি ফুটে ওঠে না।

কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা আছে কি ?

হ্যা, কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা আছে। নিয়মিত চিকিৎসা করালে এবং সময় মতো ওষুধ খেলে এই রোগ সেরে যায়। যদি ওষুধ ব্যবহার করার সময় অন্য প্রতিক্রিয়া, যেমন - হাতে পায়ে ব্যাথা, জুর ইত্যাদি হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও কুষ্ঠ রোগীদের কিছু সাধারণ সাবধানতা মেনে চলা দরকার। প্রত্যেক স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়।

কুষ্ঠ রোগীদের কী কী সাবধানতা নেওয়া উচিত?

যেহেতু কুষ্ঠ হওয়া জায়গায় ব্যথা লাগে না, তাই লোকে ঐ জায়গাগুলির যথেষ্ট যত্ন নেন না। ফলে, সেগুলিতে সংক্রমণ হয় আর ধীরে ধীরে তা হাড়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই জন্যই কারো কারো অঙ্গ বিকৃতি ঘটে। কিন্তু কয়েকটি সাধারণ সাবধানতাগুলি অবলম্বন করলে একজন কুষ্ঠ রোগী সহজেই স্বাভাবিক থাকতে পারেন আর অঙ্গ বিকৃতি এড়াতে পারেন।

কুষ্ঠ রোগীর জন্য কয়েকটি সাধারণ সাবধানতা

  • কুষ্ঠ হওয়া জায়গায় যাতে ঘষা না লাগে, কেটে বা থেতলে না যায় বা ফোস্কা যাতে না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।
  • সব সময় চটি বা জুতো ব্যবহার করতে হবে। যাতে ঘষা না লাগে তার জন্য পরিষ্কার নরম কাপড় লাগিয়ে বা জড়িয়ে নিতে হবে।
  • রান্না করার সময় দস্তানা ব্যবহার করতে হবে, যাতে গরম না লাগে বা ফোস্কা না পড়ে। ধূমপান করা চলবে না।
  • শরীরে কোনো কাটা, থেতলানো বা ফোস্কা বা ঘা হয়ে গিয়ে থাকলে পুরো স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেই জায়গাটি বিশ্রামে বা সাবধানে রাখতে হবে।

যক্ষ্মা বা টিবি কী?কীভাবে রোগটি ছড়ায়

যক্ষ্মা একটি সংক্রমিত রোগ। এই রোগ প্রধানত মানুষের ফুসফুসে হয়। অনেকসময় স্নায়ু, হাড় ও চামড়াতে এই রোগ হতে পারে। এই রোগ বাতাসের মাধ্যমে চড়ায়। সংক্রমিত ব্যক্তির হাচি, কাশি, থুতু, কফের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণগুলি কী? কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

  • বুকে ব্যথা
  • কফের সাথে রক্ত
  • তিন সপ্তাহ ধরে টানা কাশি
  • জুর ও মাথা ব্যথা
  • খিদে কমে যাওয়া ও বমি বমি ভাব
  • ওজন কমে যাওয়া
  • ক্লান্ত ভাব

স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র, হাসপাতালে এই রোগের চিকিৎসা হয়। লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্তপরীক্ষা করে ওষুধ (DOT) খেতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে যক্ষ্মা রোগের টিকা জন্মের সাথে সাথে বা ২০দিনের মধ্যে দেওয়া হলে শিশুটি এই রোগের হাত থেকে রক্ষা পায়।

যক্ষ্মা রোগীদের কী কী সাবধানতা নেওয়া উচিত ?

উঃ যেহেতু যক্ষ্মার জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় তাই এই রোগ খুব দ্রুত একজন সংক্রামিত রোগীর থেকে সুস্থ মানুষের দেহে ছড়ায়। যক্ষ্মা রোগীদের জন্য কয়েকটি সাধারণ সাবধানতা -

  • হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত যোগাযোগ করা
  • কফ পরীক্ষা করা
  • ডটস (DOT) চিকিৎসা করা

এই রোগীকে আলাদা ঘরে রাখতে হবে ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে কথা বলার সময়, কাশির এবং কফ তোলার সময় মুখে কাপড় চাপা দিতে হবে ঠান্ডা লাগানো চলবে না  এটা মনে রাখতে হবে, যক্ষ্মা কখনোই হাতে হাত মেলালে, একই শৌচাগার ব্যবহার করলে, একই থালা বাটিতে খেলে এই রোগ ছড়ায় না।

বিষাক্ত সাপের কামড় কীভাবে চেনা যায় ?

উঃ সাপের কামড়ের দাগ খুব একটা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। তবে বিষাক্ত সাপে কামড়ালে একজোড়া বিষদাঁতের দাগ, তার সঙ্গে কখনো কখনো সাধারণ দাতের দাগও থাকে। যে সাপের বিষ নেই সেই সাপ কামড়ালে বিষদাঁতের দাগ থাকে না, তবে দুই সারি সাধারণ দাতের দাগ পড়তে পারে।

বিষাক্ত সাপে কামড়ালে সাধারণত কামড়ের জায়গায় যন্ত্রণা হয় বা জায়গাটি ফুলে যায়, তার চারদিকের চামড়ার রং বদলে যেতে পারে। অনেক সময় যাকে সাপে কামড়েছে তার ঘুম ঘুম ভাব আসে বা গা বমি বমি করে, বা কাশির সঙ্গে রক্তও পড়তে পারে। সাপে কামড়ানো রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিষহীন সাপের উপরের চোয়ালের দাতের দাগ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

সাপে কামড়ানো রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কী ?

মনে রাখা দরকার যে সাপের কামড়ে টােটকা বা ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুক ইত্যাদি কাজ করে না। বিষাক্ত সাপের কামড় খুবই বিপজ্জনক। সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার প্রয়োজন। তবে চিকিৎসা শুরু না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবে। এই প্রসঙ্গে নীচের কথাগুলি কাজে লাগতে পারে :

ভয় পেলে বা উত্তেজিত হলে রোগীর ক্ষতি হতে পারে।কামড়ানোর জায়গাটা নাড়াবেন না। এতে বিষ তাড়াতাড়ি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। কটু উপরে কাপড় দিয়ে এমন করে বাঁধুন, যাতে সেই বাধনের ভিতর দিয়ে একটা আঙ্গুল টব্রেডকে আগুনের শিখায় জীবাণুমুক্ত করে বিষদাঁতের দাগের মধ্যে ১ সেন্টিমিটার লম্বা আধ সেন্টিমিটার গভীর করে চিরে বিষ রক্ত বার করে দিন।

মোটা কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ মুড়ে কামড়ের চারপাশে গুজে দিন। এবার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে নিয়ে যান।রোগ প্রতিকারের জন্য প্রয়োজন চিকিৎসার, আর চিকিৎসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে টাকা খরচ, সময় দেওয়া। একই প্রসঙ্গে এসে যায় রোগীর ও তার পরিজনের কয়েক দিনের জন্য কর্মহীন/উপার্জনহীন হয়ে পড়া। কিন্তু আসলে আমরা যত রকম অসুখে ভুগি, তার অধিকাংশই অপরিচ্ছন্নতা ও খারাপ অভ্যাসের জন্য হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে সচেতন থাকলে স্বাস্থ্য - ভালো রাখা সম্ভব এবং সহজে = অসুখ এড়ানো যায়। রোগ - প্রতিরোধের জন্য এলাকার ; অসুখগুলির প্রকোপ সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখা দরকার এবং । কোন সময়ে কোন রোগ বাড়ে | সে সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। তাই রোগে পড়ার আগে তার মোকাবিলা বা প্রতিরোধ করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকে আর অর্থ এবং সময়ের অপচয় বন্ধ হয়।

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো কী আছে ?

গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রতি ৫০০০ জনসংখ্যা পিছু (পার্বত্য এলাকায় প্রতি ৩০০০ জনসংখ্যা পিছু একটি করে স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র (সাব সেন্টার) থাকে এবং প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি সদর স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র থাকে। এছাড়াও ব্লক স্তরে প্রতি ৩০০০০ জনসংখ্যা পিছু একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র (পি এইচ সি) বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র (বি পি এইচ সি) থাকে। এই স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র, সদর স্বাস্থ্য উপ কেন্দ্র, থমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় সরকারি । স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকাকরণ, সাধারণ অসুখের ওষুধ, ইত্যাদি পাওয়া যায়।

কোথায় কতদিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্ত করা দরকার ? কেন ?

গ্রাম পঞ্চায়েতে ২১ দিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্ত করতে হয়। জন্ম ও মৃত্যু নাথভুক্ত করা কেবল মাত্র পরিসংখ্যানের বিষয় নয়। এই তথ্য

কার বর্তমান অবস্থা বুঝতে ও ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করে। এর থেকে নীচের বিষয়গুলি স্বচ্ছ ভাবে উঠে আসে।

  • এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার - যা থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করা যায়।
  • বিভিন্ন বয়সে মৃত্যুর তথ্য - যা বিশ্লেষণ করে এলাকার কোনো বিশেষ রোগ চিহ্নিত করা ও তার প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।
  • শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃত্ব-জনিত মৃত্যুর হার ও তার কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
  • শিশুর জন্মের সময় মায়ের বয়স এবং এর সম্ভব হয়। আগে ওই মায়ের কয়টি সন্তান হয়েছে তা নির্ধারণ করা

কীভাবে খাদ্যের পুষ্টিগুণ বজায় রাখা যায় ?

শরীরে পুষ্টি বজায় রাখার জন্য সতেজ ও টাটকা শাকসক্তি খাওয়া উচিত। কাটার আগে শাকসক্তি ধুয়ে নেওয়া উচিত। পরে | ধুলে অনেক ভিটামিন ও খনিজ লবণ নষ্ট হয়ে যায়। কোনো সক্তির খোসা ছাড়াতে হলে খুব পাতলা করে ছাড়ানো উচিত। কারণ ভিটামিন, খনিজ লবণের বেশির ভাগ খোসার ঠিক নিচে থাকে। আলু, বীট ইত্যাদি সক্তি খোসা সুদ্ধ সেদ্ধ করে পরে খোসা ছাড়ালেই ভালো। সক্তি যতটা সম্ভব বড় বড় করে কাটা উচিত। ছোট ছোট করে কেটে রান্না করলে পুষ্টি মান কমে যায়। শাকসক্তি সব সময় ঢাকা দিয়ে রান্না করা উচিত। শস্য জাতীয়, ডাল জাতীয় খাবার এক সঙ্গে রান্না করে খেলে তাতে পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়। আটার সঙ্গে আলুসেদ্ধ কিম্বা শাক সেদ্ধ কিম্বা ডালের গুড়ে মিশিয়ে রুটি তৈরি করলে তার খাদ্যগুণ বেড়ে যায়।

জন-উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য মানে কী ?

‘জন-উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য’ কথাটির অর্থ হল – এলাকার জনসাধারণের স্বাস্থ্য রক্ষা ও তার উন্নয়নের জন্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের এক সঙ্গে এক জোট প্রচেষ্টা নেওয়া। এই জন্য সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরো বেশি ব্যবহারের পাশাপাশি জনগণকেও কিছু দায়িত্ব নিতে হবে। এলাকায় জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলতে হবে এবং স্বনির্ভর দলগুলিকে এই কাজে যুক্ত করতে হবে। তাদের কাজ হবে পাড়ার প্রত্যেকটি পরিবারের, বিশেষ করে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে নজর রাখা।

স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস কীভাবে ক্ষতি করে ?

দেখা যায়, ওষুধের সঙ্গে মনের জোর বা বিশ্বাস থাকলে মানুষের রোগ তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। কারণ স্বাস্থ্যের সঙ্গে বোঝার ক্ষমতা আর ভয় না পাওয়ার সম্পর্ক আছে। কিন্তু কোনো কিছুর উপর কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস থাকলে উল্টো ফলও হতে পারে। যদি কেউ বিশ্বাস করে কেউ তার ক্ষতি করতে পারে বা ক্ষতি করছে তাহলে সে সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। আবার যদি কেউ ভাবে কোনো ওঝা বা তাবিজ বা কবচ তাকে সুস্থ করে দিতে পারে, তাহলে ভুল চিকিৎসায় বা সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে,এমনকি মারাও যেতে পারে। তাই যে কোনো রোগের ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা করা দরকার।

গ্রামের মানুষের মনে এখনও যে সকল কুসংস্কার আছে তার মধ্যে কয়েকটি হল - ওঝা বা গুনিন দিয়ে ঝাড়-ফুক করানো, ডাইনি প্রথা, কবচ বা মাদুলি পরে রোগ আটকানো, তুকতাক করা বা নজর লাগা বা গুন করা বা বান মারার ভয়। কিন্তু অসুখ করা বা সুস্থ হয়ে ওঠার সঙ্গে এই সব কুসংস্কারের কোনো সম্পর্কই নেই। অসুখ করলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

সু্ত্র: পঞ্চায়েত এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, ওয়েস্টবেঙ্গল

3.14285714286
মন্তব্য যোগ করুন

(ওপরের বিষয়বস্তুটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মন্তব্য / পরামর্শ থাকে, তাহলে দয়া করে আমাদের উদ্দেশ্যে পোস্ট করুন).

Enter the word
ন্যাভিগেশন
Back to top