হোম / প্রভাবসম্পন্ন খবর / অন্য ভারতবর্ষের স্বপ্ন
ভাগ করে নিন

অন্য ভারতবর্ষের স্বপ্ন

যারা গড়ে উঠছে তারা ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছে অন্য ভারতের স্বপ্ন।

রাষ্ট্রের কি ভূমিকা নেই? আছে, কিন্তু করুণ ভাবে যান্ত্রিক। সেখানে মন নেই, মানুষ নেই। আর সে কারণেই সমাজের ভূমিকা এত জরুরি। তার অঙ্কুরোদগম আপনি দেখতে পারেন। হৃদয় ও বুদ্ধির অপূর্ব সংমিশ্রণে অত্যুজ্জ্বল সব মানুষের সঙ্গেই আপনার দেখা হবে, যাঁরা ‘দিব্যজ্ঞানের চেয়ে কাণ্ডজ্ঞানের উপর ভর করে’ নিজেদের কাজটা করে চলেছেন।

এক দিকে রাষ্ট্রীয় যান্ত্রিকতার বাধা, অন্য দিকে পরিচিতজনদের তাচ্ছিল্য ও ব্যঙ্গবিদ্রুপ উপেক্ষা করে। এঁদের কর্মক্ষেত্র বাংলা। কিন্তু যাদের তাঁরা গড়ে উঠতে সাহায্য করছেন, তারা ইতিমধ্যেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে অন্য ভারতবর্ষের। চেঁচাইতে শিশুদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে সমবেত উপলব্ধি : ‘ওয়ান লিটল, টু লিটল, থ্রি লিটল ইন্ডিয়া’। ‘টেন লিটল ইন্ডিয়াতে পৌঁছে তা আবার ফিরে আসছে ‘ওয়ান’–এ। স্কুলে একটা মাইক আছে। সারা গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় লাউডস্পিকার, যেমনটা চিনা উপন্যাসে পড়ি। তবে সে দেশে লাউডস্পিকারের বাণী নিয়ন্ত্রণ করত পার্টির লোকাল কমিটি, এখানে সে কাজ করেন গ্রামের মানুষ নিজেরাই। শিশুদের অনেক ভারত থেকে এক ভারতের কল্পসংগীত ধ্বনিত হয় গোটা গ্রামে।

আপনি এবং আমরা, যারা লোকসমাজের তুচ্ছাতিতুচ্ছ প্রতিনিধি, তারা সকলেই এই অসামান্যের অনুশীলনে কিছু না কিছু যোগ করার সুযোগটা যেন না হারাই। পরশপাথর খুঁজে ফেরা খ্যাপাদের দলাটই তো পরশপাথর, তার পরশ পাওয়াটাই এক বিপুল আত্মসমৃদ্ধি।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

Back to top